শিরোনাম

  ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর জন্য মাতৃভাষায় পুস্তক প্রকাশনার বিধান রেখে খসড়ার চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা   সরকারী চাকরিতে ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী ও পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর জন্য কোটা না হলেও সমস্যা হবে না   রুয়েটে ভর্তি পরীক্ষার আবেদন শুরু   দুই আদিবাসী কিশোরী ধর্ষণের ঘটনায় অভিযুক্তদের সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি   দেশের বিভিন্ন স্থানে বৃষ্টি অথবা বজ্রবৃষ্টি ও ভারী বর্ষণ হতে পারে   আদিবাসী মানবাধিকার সুরক্ষাকর্মীদের সম্মেলন ২০১৮ উদযাপন   ব্লগার বাচ্চু হত্যার সঙ্গে ‘জড়িত’ ২ জঙ্গি নিহত   জুমের বাম্পার ফলনে রাঙ্গামাটির চাষিদের মুখে হাসি   সরকারি চাকরিতে আদিবাসী কোটা বহাল দাবি জানাল আদিবাসীরা   আয়ারল্যান্ড প্রবাসী বাংলাদেশের এক মন্ত্রী দ্বারা হেনস্ত হওয়াতে হিন্দু, বৌদ্ধ ও খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের নিন্দা   শেখ হাসিনার জনপ্রিয়তা উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি পেয়েছে   মিয়ানমারে রয়টার্সের দুই সাংবাদিককে সাত বছরের কারাদণ্ড দিয়েছে আদালত   শহীদ আলফ্রেড সরেন হত্যার ১৮ বছর: হত্যাকারীদের দ্রুত বিচারের দাবি জাতীয় আদিবাসী পরিষদের   ভারতের কাছে ১-০ গোলে হেরেছে বাংলাদেশের মেয়েরা   সরকারী চাকরিতে নিয়োগের ক্ষেত্রে মুক্তিযোদ্ধা ছাড়া সব কোটা বাতিল হচ্ছে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী   জাতিসংঘের সাবেক মহাসচিব কফি আনান মারা গেছেন   ঈদের ছুটি কাটানো হলোনা টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ার নিরীহ ধীরাজ চাকমার   খাগড়াছড়িতে পৃথক ঘটনার জন্য জেএসএস(সংস্কারবাদী) ও নব্য মুখোশ বাহিনীকে দায়ী করেছে : ইউপিডিএফ   নানিয়ারচর থেকে খাগড়াছড়ি   খাগড়াছড়িতে ৬ জনকে গুলি করে হত্যা !
প্রচ্ছদ / সোশ্যাল মিডিয়া / আমার স্বামী একজন আদিবাসী আর আমি বাঙালি

আমার স্বামী একজন আদিবাসী আর আমি বাঙালি

প্রকাশিত: ২০১৮-০৩-১৩ ২১:৩৭:৪১

   আপডেট: ২০১৮-০৩-১৬ ২১:২০:১৩

সোশ্যাল মিডিয়া ডেস্ক

আমার স্বামী একজন আদিবাসী এবং হিন্দু ধর্মাবলম্বী আর আমি বাঙালি এবং বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বী। আমাদের গল্পটা শুরু হয় আমরা চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে দ্বিতীয় বর্ষে থাকাকালে। পরিবারকে মানিয়ে এতোদূর আসাটা ছিল একটা মেয়ে হিসেবে আমার জন্য অনেক বড় একটা সংগ্রাম। বাঙালি নারীরা সাধারণত বিয়ের পর স্বামীর নামের পদবি ধারণ করে কিন্তু আমি তা দূরে থাক, এমনকি ধর্মও পরিবর্তন করিনি। আমি মনে করি নারীদের স্বতন্ত্র হওয়া উচিত।

মেয়ে হিসেবে পরিবারে সামান্য কিছু সীমাবদ্ধতা থাকলেও অধিকাংশ ক্ষেত্রেই আমি স্বাধীনতা পেয়েছি। স্কুলে থাকতে আমি গার্লস গাইডে ছিলাম, এছাড়া মোস্তাফিজুর রহমান স্যারের সাথে থেকে নব্বই এর দশকে দীর্ঘ পাঁচ বছর মার্শাল আর্ট শেখার সুযোগ পাই। আমি এরশাদের আমলে বড় হয়ে উঠেছি, সেসময় অনেক টিভি প্রোগ্রাম ও ছোটদের গানের অনুষ্ঠান করেছি।

আমার বাবা একজন আবেগপ্রবণ এবং আদর্শ মানুষ। আমি যখন বিশ্ববিদ্যালয় জীবনে পরিবার থেকে দূরে থাকি তখন বাবা আমার জন্যে খুব কাঁদতেন। তিনি আমার মাকে ভীষণ সাহায্য করেন।

মাছ কাটা থেকে নিয়ে নাস্তা তৈরি করা পর্যন্ত সব বাবা করেন। অপরদিকে আমার স্বামী কখনো আমাকে জিজ্ঞেস করে না আমার ফিরতে দেরি হচ্ছে কেন। কিন্তু আমাদের দেশে এটা একটা নিয়মে দাঁড়িয়েছে যে ঘরের যাবতীয় কাজ শুধু মেয়েরাই করবে কিংবা কাজে দেরি হলে স্বামীর কাছে হাজার কৈফিয়ত দিতে হয়। সেদিক থেকে আমি অনেক ভাগ্যবতী বলে মনে করি।

আমাকে একবার ক্লাসে একটা ছেলে বলেছিল মেয়েরা যাকিছুই হোক না কেন তারা শারীরিকভাবে দূর্বল! আমি ছেলেটাকে জিজ্ঞেস করেছিলাম 'তোমাকে মেরি কমের সাথে ফাইট করতে দেয়া হলে পারবে?' সে বলেছিল 'মেরি কমের সাথে আমি কেন, একটা পুরুষ বক্সারকে ফাইট করতে দেয়া হোক'; তখন আমি তাকে একটা কথা বলেছিলাম যে 'প্রাণিজগতে হাতির থেকে পিঁপড়া যথেষ্ট ছোট হতে পারে কিন্তু সেটা কিন্তু তার অস্তিত্বের গুরুত্বকে মোটেও প্রভাবিত করে না, কারণ পিঁপড়ার উপর যে প্রাণিটা নির্ভর করে বেঁচে থাকে সে বিলুপ্ত হয়ে যাবে, যদি পিঁপড়া না থাকে।'

নটরডেম কলেজে প্রভাষক হিসেবে যোগদান করা ছিল আমার জীবনের একটি অন্যতম আনন্দের বিষয়। এখন আমি নটরডেম ইংলিশ ক্লাবের মডারেটর হিসেবে দায়িত্ব পালন করছি যেটি তার সাত বছরের পথচলায় দেশের স্বনামধন্য ও জনপ্রিয় ক্লাবগুলোর মধ্যে অন্যতম।

আমার ছাত্ররা আমার সবচেয়ে বড় অনুপ্রেরণা। তাদের কাছ থেকে আমি অনেক কিছু শিখি। আমি তাদের সাথে ঘনিষ্ঠ হবার চেষ্টা করি যেন তারা আমাকে আপন ভেবে তাদের সমস্যার কথা আমাকে বলতে পারে। কলেজের একটা ছেলে আছে আমাকে মা বলে ডাকে, কিছুদিন আগে সে আমাকে চিঠি লিখেছে যে সে আমাকে মায়ের চোখে দেখে, তার জীবনে আমার প্রভাব রয়েছে ইত্যাদি। আমাকে দ্বারা যেমন সে অনুপ্রাণিত হয়েছে, তেমনি আমিও অনুপ্রাণিত হয়েছি তার দ্বারা। তবে সে তার এই অনুভূতি তার সহপাঠীদের বলতে চায় না পাছে তারা ঠাট্টা বিদ্রূপ করে!

একটা জিনিস চিন্তা করে দেখো একশ'টা ছাত্রকে যদি জিজ্ঞেস করা হয় তোমার প্রিয় টিচার কে? কয়জন কোনো স্যারের নাম বলবে আর কয়জন কোনো ম্যাডামের নাম বলবে! এর কারণ হচ্ছে তারা স্যার-ম্যাডাম আলাদা করে দেখে। কিন্তু আমিও সবসময় চেষ্টা করি ক্লাসে ছাত্রদের লিঙ্গ বৈষম্য না করার জন্য অনুপ্রাণিত করতে।

আমরা দেশের নারীদের যথাযথ মর্যাদা দিতে পারছি না। সাম্প্রতিক সব ঘটনা থেকে তা স্পষ্টত। সমাজে লিঙ্গ সমতা নিশ্চিত করা আবশ্যক। মনে কর খাবার টেবিলে একজন বৃদ্ধ, একজন গর্ভবতী, একজন যুবক আছে, তাদের সবাইকে একটা করে মাছ-ডিম দেয়াটা সমতা নয় বরং গর্ভবতী মেয়েটাকে একটু বেশি যত্ন করাটাই সমতা।

আর জীবন নিয়ে একটা কথাই বলতে চাই। পানিতে অর্ধপূর্ণ একটা গ্লাস দেখে কেউ বলে এটা অর্ধেক খালি, আবার কেউ বলে এটা অর্ধেক পূর্ণ। তুমি জীবনকে কীভাবে দেখবে সেটাই সব। জীবনে অনেক প্রতিকূলতা আসলেও জীবন সুন্দর, এর প্রতিটা মুহূর্ত উপভোগ করো। ''

সুরঞ্জিতা বড়ুয়া
প্রভাষক, ইংরেজি বিভাগ
নটরডেম কলেজ, ঢাকা

Humans of NDC থেকে সংগৃহীত পোস্ট।

আপনার মন্তব্য

এ বিভাগের আরো খবর



আলোচিত