শিরোনাম

  গত ৫ বছরে জেএসএস এমপি উন্নয়ন করতে পারেনি, যা করেছে আওয়ামীলীগ করেছে : দিপংকর তালুকদার   এখন থেকে সরকারি চাকরিতে যোগ দেওয়ার আগে মাদক পরীক্ষা বাধ্যতামূলক   'বান্দরবানে বিদেশি পর্যটকদের ভ্রমণে কোনো নিষেধাজ্ঞা নেই'   'নির্বাচনী প্রচারণায় রঙিন পোস্টার বা ব্যানার ব্যবহার করা যাবে না'   ৫৮টি নিউজ পোর্টাল খুলে দিয়েছে বিটিআরসি   বুধবার থেকে নির্বাচনী প্রচারণা শুরু করবেন প্রধানমন্ত্রী   বিএনপি ক্ষমতায় এলে শান্তি চুক্তি বাস্তবায়ন করার চেষ্ঠা করবো: মনি স্বপন দেওয়ান   তিন পাহাড়ে নৌকা নিয়ে মাঠে দৌড়াবেন যারা   আগামীকাল খালেদা জিয়ার অগ্নিপরীক্ষা   হিরোকে জিরো বানানো এত সহজ নয়, সফল হিরো আলমের চ্যালেঞ্জ   খাগড়াছড়িতে বনের রাজা পেয়েছেন ইউপিডিএফের প্রার্থী নতুন কুমার চাকমা   বিশ্বের প্রথম উঁচু ভাস্কর্য 'চীনের স্প্রিং টেম্পল বুদ্ধ'   আন্তর্জাতিক মানবাধিকার দিবস || আদিবাসীদের মানবাধিকার প্রতিষ্ঠায় এগিয়ে আসার অাহ্বান   বনের রাজা সিংহকে নিয়ে রাঙ্গামাটিতে দৌড়াবেন ঊষাতন তালুকদার   আজ বিশ্ব মানবাধিকার দিবস   নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থীদের জন্য যেসব মার্কা দেওয়া হচ্ছে...   নির্বাচনে প্রচার-প্রচারণায় সকল প্রার্থীদের যা যা মেনে চলতে হবে   নির্বাচনে গাড়ি প্রতীক পেয়েছেন স্বতন্ত্র প্রার্থী ইমরান এইচ সরকার   দেশে ৫৮টি নিউজ পোর্টাল বন্ধের নির্দেশ দিয়েছে বিটিআরসি   পার্বত্য চট্টগ্রামে শান্তি ফিরিয়ে আনার জন্য শেখ হাসিনাকে শান্তিতে নোবেল পুরস্কার দেওয়া উচিত
প্রচ্ছদ / সোশ্যাল মিডিয়া / আমার স্বামী একজন আদিবাসী আর আমি বাঙালি

আমার স্বামী একজন আদিবাসী আর আমি বাঙালি

প্রকাশিত: ২০১৮-০৩-১৩ ২১:৩৭:৪১

   আপডেট: ২০১৮-০৩-১৬ ২১:২০:১৩

সোশ্যাল মিডিয়া ডেস্ক

আমার স্বামী একজন আদিবাসী এবং হিন্দু ধর্মাবলম্বী আর আমি বাঙালি এবং বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বী। আমাদের গল্পটা শুরু হয় আমরা চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে দ্বিতীয় বর্ষে থাকাকালে। পরিবারকে মানিয়ে এতোদূর আসাটা ছিল একটা মেয়ে হিসেবে আমার জন্য অনেক বড় একটা সংগ্রাম। বাঙালি নারীরা সাধারণত বিয়ের পর স্বামীর নামের পদবি ধারণ করে কিন্তু আমি তা দূরে থাক, এমনকি ধর্মও পরিবর্তন করিনি। আমি মনে করি নারীদের স্বতন্ত্র হওয়া উচিত।

মেয়ে হিসেবে পরিবারে সামান্য কিছু সীমাবদ্ধতা থাকলেও অধিকাংশ ক্ষেত্রেই আমি স্বাধীনতা পেয়েছি। স্কুলে থাকতে আমি গার্লস গাইডে ছিলাম, এছাড়া মোস্তাফিজুর রহমান স্যারের সাথে থেকে নব্বই এর দশকে দীর্ঘ পাঁচ বছর মার্শাল আর্ট শেখার সুযোগ পাই। আমি এরশাদের আমলে বড় হয়ে উঠেছি, সেসময় অনেক টিভি প্রোগ্রাম ও ছোটদের গানের অনুষ্ঠান করেছি।

আমার বাবা একজন আবেগপ্রবণ এবং আদর্শ মানুষ। আমি যখন বিশ্ববিদ্যালয় জীবনে পরিবার থেকে দূরে থাকি তখন বাবা আমার জন্যে খুব কাঁদতেন। তিনি আমার মাকে ভীষণ সাহায্য করেন।

মাছ কাটা থেকে নিয়ে নাস্তা তৈরি করা পর্যন্ত সব বাবা করেন। অপরদিকে আমার স্বামী কখনো আমাকে জিজ্ঞেস করে না আমার ফিরতে দেরি হচ্ছে কেন। কিন্তু আমাদের দেশে এটা একটা নিয়মে দাঁড়িয়েছে যে ঘরের যাবতীয় কাজ শুধু মেয়েরাই করবে কিংবা কাজে দেরি হলে স্বামীর কাছে হাজার কৈফিয়ত দিতে হয়। সেদিক থেকে আমি অনেক ভাগ্যবতী বলে মনে করি।

আমাকে একবার ক্লাসে একটা ছেলে বলেছিল মেয়েরা যাকিছুই হোক না কেন তারা শারীরিকভাবে দূর্বল! আমি ছেলেটাকে জিজ্ঞেস করেছিলাম 'তোমাকে মেরি কমের সাথে ফাইট করতে দেয়া হলে পারবে?' সে বলেছিল 'মেরি কমের সাথে আমি কেন, একটা পুরুষ বক্সারকে ফাইট করতে দেয়া হোক'; তখন আমি তাকে একটা কথা বলেছিলাম যে 'প্রাণিজগতে হাতির থেকে পিঁপড়া যথেষ্ট ছোট হতে পারে কিন্তু সেটা কিন্তু তার অস্তিত্বের গুরুত্বকে মোটেও প্রভাবিত করে না, কারণ পিঁপড়ার উপর যে প্রাণিটা নির্ভর করে বেঁচে থাকে সে বিলুপ্ত হয়ে যাবে, যদি পিঁপড়া না থাকে।'

নটরডেম কলেজে প্রভাষক হিসেবে যোগদান করা ছিল আমার জীবনের একটি অন্যতম আনন্দের বিষয়। এখন আমি নটরডেম ইংলিশ ক্লাবের মডারেটর হিসেবে দায়িত্ব পালন করছি যেটি তার সাত বছরের পথচলায় দেশের স্বনামধন্য ও জনপ্রিয় ক্লাবগুলোর মধ্যে অন্যতম।

আমার ছাত্ররা আমার সবচেয়ে বড় অনুপ্রেরণা। তাদের কাছ থেকে আমি অনেক কিছু শিখি। আমি তাদের সাথে ঘনিষ্ঠ হবার চেষ্টা করি যেন তারা আমাকে আপন ভেবে তাদের সমস্যার কথা আমাকে বলতে পারে। কলেজের একটা ছেলে আছে আমাকে মা বলে ডাকে, কিছুদিন আগে সে আমাকে চিঠি লিখেছে যে সে আমাকে মায়ের চোখে দেখে, তার জীবনে আমার প্রভাব রয়েছে ইত্যাদি। আমাকে দ্বারা যেমন সে অনুপ্রাণিত হয়েছে, তেমনি আমিও অনুপ্রাণিত হয়েছি তার দ্বারা। তবে সে তার এই অনুভূতি তার সহপাঠীদের বলতে চায় না পাছে তারা ঠাট্টা বিদ্রূপ করে!

একটা জিনিস চিন্তা করে দেখো একশ'টা ছাত্রকে যদি জিজ্ঞেস করা হয় তোমার প্রিয় টিচার কে? কয়জন কোনো স্যারের নাম বলবে আর কয়জন কোনো ম্যাডামের নাম বলবে! এর কারণ হচ্ছে তারা স্যার-ম্যাডাম আলাদা করে দেখে। কিন্তু আমিও সবসময় চেষ্টা করি ক্লাসে ছাত্রদের লিঙ্গ বৈষম্য না করার জন্য অনুপ্রাণিত করতে।

আমরা দেশের নারীদের যথাযথ মর্যাদা দিতে পারছি না। সাম্প্রতিক সব ঘটনা থেকে তা স্পষ্টত। সমাজে লিঙ্গ সমতা নিশ্চিত করা আবশ্যক। মনে কর খাবার টেবিলে একজন বৃদ্ধ, একজন গর্ভবতী, একজন যুবক আছে, তাদের সবাইকে একটা করে মাছ-ডিম দেয়াটা সমতা নয় বরং গর্ভবতী মেয়েটাকে একটু বেশি যত্ন করাটাই সমতা।

আর জীবন নিয়ে একটা কথাই বলতে চাই। পানিতে অর্ধপূর্ণ একটা গ্লাস দেখে কেউ বলে এটা অর্ধেক খালি, আবার কেউ বলে এটা অর্ধেক পূর্ণ। তুমি জীবনকে কীভাবে দেখবে সেটাই সব। জীবনে অনেক প্রতিকূলতা আসলেও জীবন সুন্দর, এর প্রতিটা মুহূর্ত উপভোগ করো। ''

সুরঞ্জিতা বড়ুয়া
প্রভাষক, ইংরেজি বিভাগ
নটরডেম কলেজ, ঢাকা

Humans of NDC থেকে সংগৃহীত পোস্ট।

আপনার মন্তব্য

এ বিভাগের আরো খবর



আলোচিত