শিরোনাম

  টেকনোক্র্যাট মন্ত্রীদের পদত্যাগের পর চার মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব বণ্টন   আগামী ২৪ ডিসেম্বর জেএসসি ও প্রাথমিক সমাপনীর ফল প্রকাশ   নির্বাচনকালীন ইউএনও-ডিসির স্বাক্ষরে শিক্ষকদের বেতন-ভাতা : শিক্ষা মন্ত্রণালয়   খালেদার মনোনয়ন বাতিলের বিরুদ্ধে হাইকোর্টের বিভক্ত আদেশ   'তিন পার্বত্য জেলায় ৩৮ টি ভোটকেন্দ্রে হেলিকপ্টার ব্যবহার করা হবে'   সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ন নির্বাচন নিশ্চিত করার আহ্বান ইউরোপীয় দেশগুলোর   তরুণ ও নারী ভোটাররাই আওয়ামী লীগের বিজয়ের প্রধান হাতিয়ারঃ কাদের   গত ৫ বছরে জেএসএস এমপি উন্নয়ন করতে পারেনি, যা করেছে আওয়ামীলীগ করেছে : দিপংকর তালুকদার   এখন থেকে সরকারি চাকরিতে যোগ দেওয়ার আগে মাদক পরীক্ষা বাধ্যতামূলক   'বান্দরবানে বিদেশি পর্যটকদের ভ্রমণে কোনো নিষেধাজ্ঞা নেই'   'নির্বাচনী প্রচারণায় রঙিন পোস্টার বা ব্যানার ব্যবহার করা যাবে না'   ৫৮টি নিউজ পোর্টাল খুলে দিয়েছে বিটিআরসি   বুধবার থেকে নির্বাচনী প্রচারণা শুরু করবেন প্রধানমন্ত্রী   বিএনপি ক্ষমতায় এলে শান্তি চুক্তি বাস্তবায়ন করার চেষ্ঠা করবো: মনি স্বপন দেওয়ান   তিন পাহাড়ে নৌকা নিয়ে মাঠে দৌড়াবেন যারা   আগামীকাল খালেদা জিয়ার অগ্নিপরীক্ষা   হিরোকে জিরো বানানো এত সহজ নয়, সফল হিরো আলমের চ্যালেঞ্জ   খাগড়াছড়িতে বনের রাজা পেয়েছেন ইউপিডিএফের প্রার্থী নতুন কুমার চাকমা   বিশ্বের প্রথম উঁচু ভাস্কর্য 'চীনের স্প্রিং টেম্পল বুদ্ধ'   আন্তর্জাতিক মানবাধিকার দিবস || আদিবাসীদের মানবাধিকার প্রতিষ্ঠায় এগিয়ে আসার অাহ্বান
প্রচ্ছদ / সোশ্যাল মিডিয়া / এই রাষ্ট্র কি মিঠুনের জন্য নাকি রমেলের জন্য : মন্টি চাকমা

এই রাষ্ট্র কি মিঠুনের জন্য নাকি রমেলের জন্য : মন্টি চাকমা

প্রকাশিত: ২০১৮-০১-০৭ ১৭:৩৮:১৯

অনলাইন ডেস্ক

ফেসবুক,বিভিন্ন মিডিয়ায় মিঠুন চাকমা হত্যার নিউজ এসেছে। প্রতিবাদের জোয়ার তুলেছে।বাম সংগঠন, প্রগতিশীল,সুশীল সমাজ,ছাত্র সমাজ মিঠুন চাকমা হত্যার বিচার চেয়েছে সরকারের কাছে বা প্রতিবাদ করেছে। ঠিক তেমনি গত বছর ২০১৭ সালে ১৯ এপ্রিল রমেল হত্যায় ফেসবুক,মিডিয়া ছিল গরম। কই অামরা তো সেই এইচএসসি পরীক্ষার্থী রমেল হত্যার বিচার এখনো পাইনি! এর থেকে অামাদের শিক্ষা হয়নি!

এই রাষ্ট্র কি মিঠুনের জন্য নাকি রমেলের জন্য?

অামাদের দেখতে তো অার কোনোকিছু বাকী নেই।সবকিছু দিনের অালোর মতো পরিষ্কার।যেখানে মানবতার কথা বলা দরকার ছিল, সেখানের দমন- পীড়নের মধ্যে অামাদের সেই হতভাগা মিঠুন দার দাহ করলাম।

রমেল চাকমা যখন চট্টগ্রাম হসপিটাল থেকে লাশ হয়ে ফিরে অাছে। প্রশাসন তার লাশ পর্যন্ত রমেলের পরিবারকে দাহ করতে দেইনি।

বাবা - মাকে সেনাবাহিনী রমেলের লাশ দেয়নি। অনেক রাষ্ট্রে সেটা নিয়ে প্রতিবাদ করেছে দেখেছি।কিন্তু প্রকৃত হত্যাকারী মেজর তানভীর আর নান্যাচর জোন কমান্ডার বাহালুল অালমের শাস্তি হয়নি।প্রশাসন পক্ষ থেকে তাদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্হা না নিয়ে বাহবা দিয়ে গেছে। এভাবে প্রকৃত দোষীদের অাড়াল করার কারনে দোষীরা দ্বিগুন উৎসাহের সাথে অনেক অপরাধ করার সুযোগ পায়।

মিছিলের সময় নারী নেত্রীকে মামলা দেয়ার হুমকী দিতে বাহালুলের মতো জোন কমান্ডাররা সাহস পায়! যখন দেখা যায় রমেলের ঘটনা নিয়ে কয়েকটা দেশে কিংবা বাংলাদেশে সচেতন ব্যক্তিরা কিংবা কয়েকটা সংগঠন প্রতিবাদের জোয়ার সৃষ্টি করলো,তখন রমেল হত্যার ঘটনা ধামা- চাপা দেয়ার জন্য লংগদুতে সেটলারদের উস্কে দিয়ে অারেকটা ইস্যু সৃষ্টি সেনাবাহিনী করলো। শত শত পাহাড়ি বাড়ি ঘরে অগ্নিসংযোগ করলো ।নিভিয়ে গেল রমেলের ঘটনা।অামরা অার কেউ মনে করিনি রমেলকে।

২০১৭ সালে শেষের দিকে ১৫ ই ডিসেম্বর ইউপিডিএফ থেকে বহিষ্কৃত বর্মা,তরুদের নিয়ে খাগড়াছড়ি "খাগড়াপুর কমিউনিটি সেন্টারে " সেনা প্রহরায় নতুন পার্টি ইউপিডিএফ( গণতান্ত্রিক) নাম দিয়ে জুম্ম দিয়ে জুম্ম ধ্বংসের নীল নক্সা বাস্তবায়ন করলো সেনাবাহিনী।

গঠনের মধ্যে দিয়ে একেরপর এক হত্যা,সন্ত্রাস হলো শুরু।সাধারণ জনগণ তাদের ভয়ে অাতঙ্গে অনেকে বাড়ি- ঘর ছেড়ে অন্যত্র লুকিয়ে রয়েছে।বর্মারা জনপ্রতিনিধিদের মোটা টাকা দেয়ার হুমকী দিতে অব্যাহত রয়েছে।যেখানে জনগনের সাথে অস্ত্র দেখিয়ে মিটিং করে তাদের পাশাপাশি অার্মিরা টহল দিতে থাকে। তখন অনুভুটিতা হিংস্র থেকে হিংস্র পরিনত হয়।

অথচ নান্যাচরে সেনাবাহিনী যখন থলচাপ তপোবন অরণ্য কুটিরে মুর্তির কাপড় খুলে দেয়,জুতা পায়ে বুদ্ধের অাসনে প্রবেশ করে।নান্যাচর জনগণ সেটার প্রতিবাদে হাজার হাজার নারী পুরুষ মিছিল করে।মিছিলের সময় শত শত নারী - পুরুষের ওপর হামলা করে,অাহত হয় অনেকে।

যাক সেটার বিস্তারিত সবার জানা।

মিঠুন দা শহীদ হয়েছেন ৪ দিন অতিবাহিত হলো অপরাধীদের এখানো গ্রেফতার করতে পারেনি,নাকি করেনি প্রশাসনের কাছে সেটা প্রশ্ন থেকে যায়? কারণ অামরা সেই পরিস্হিতির স্বীকার। অপরাধীদের গ্রেফতার না করে প্রশাসন অপরাধীদের কাজটি নিজ হাতে করে এটা জুম্ম জনগনের না বোঝার বিষয় নয়।

গত কালকে মিঠুন দা হত্যার প্রতিবাদে অবরোধের সময় বিনা উস্কানিতে রাবার বুলেট নিক্ষেপ করে পুলিশ। দেখেছি একজন অাহত ও হয়েছে।বুঝতে তো বাকী নেই অামাদের মিঠুন দা হত্যার ইন্ধনকারী, মূলহোতা তারাই।

সেনা- প্রশাসন পাবর্ত্য চট্টগ্রামের জুম্ম জনগনকে এতই কি ভয় পায়! মিঠুন দাকে শেষ শ্রদ্ধা জানানোর সময় বিভিন্ন জেলা কিংবা এলাকা থেকে অাসা লোকজনদের অাটকিয়ে দেয় তখন জনগন জিজ্ঞেস করলে??? অার্মিরা কখনো বলে গাড়িতে কাগজ পত্র নাই কেন?অার কখনো বলে এত গাড়ি ভর্তি লোকজন যেতে পারবেনা। এগুলো বলে জনগনকে গাড়িতেই সময় কাটিয়ে দেয়।অার কেনইবা মিঠুন দার লাশ স্বনির্ভর পার্টির অফিসে নিয়ে যেতে দেয়না প্রশাসন???

এই মহুর্তে চিন্তা জগতে শুধু মিথুন দা ভাসছে অার একজন ছাত্র রমেলকে নির্যাতন করে হত্যা করা হয়েছে তার কথা অামরা এতদিন সবাই ভুলে গেছি। অাসুন অামরা তার বিচার ও চাই।

পার্বত্য চট্টগ্রামে সেনাসৃষ্ট নব্য মুখোশ সন্ত্রাসী কর্তৃক মিঠুন দা অার নান্যরাচর সেনাবাহিনী কর্তৃক রমেলের মতো মানুষদের হত্যাকারীদের বিচার হবে কি?

লেখতে লেখতে ভাষা হারিয়ে যায়। নিরবতায় ভেসে যাই।তবুও তো প্রতিবাদ করতে হবে।

অশ্রুবিজরিত অনুভূতি থেকে---(যারা দেশ ও জাতির জন্য প্রাণ দেয়, তারা অমর)।

 হিল উইমেন্স ফেডারেশন কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক মন্টি চাকমার ফেসবুক থেকে নেওয়া।

আপনার মন্তব্য

এ বিভাগের আরো খবর



আলোচিত