শিরোনাম

  আগামী ২৪ ডিসেম্বর জেএসসি ও প্রাথমিক সমাপনীর ফল প্রকাশ   নির্বাচনকালীন ইউএনও-ডিসির স্বাক্ষরে শিক্ষকদের বেতন-ভাতা : শিক্ষা মন্ত্রণালয়   খালেদার মনোনয়ন বাতিলের বিরুদ্ধে হাইকোর্টের বিভক্ত আদেশ   'তিন পার্বত্য জেলায় ৩৮ টি ভোটকেন্দ্রে হেলিকপ্টার ব্যবহার করা হবে'   সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ন নির্বাচন নিশ্চিত করার আহ্বান ইউরোপীয় দেশগুলোর   তরুণ ও নারী ভোটাররাই আওয়ামী লীগের বিজয়ের প্রধান হাতিয়ারঃ কাদের   গত ৫ বছরে জেএসএস এমপি উন্নয়ন করতে পারেনি, যা করেছে আওয়ামীলীগ করেছে : দিপংকর তালুকদার   এখন থেকে সরকারি চাকরিতে যোগ দেওয়ার আগে মাদক পরীক্ষা বাধ্যতামূলক   'বান্দরবানে বিদেশি পর্যটকদের ভ্রমণে কোনো নিষেধাজ্ঞা নেই'   'নির্বাচনী প্রচারণায় রঙিন পোস্টার বা ব্যানার ব্যবহার করা যাবে না'   ৫৮টি নিউজ পোর্টাল খুলে দিয়েছে বিটিআরসি   বুধবার থেকে নির্বাচনী প্রচারণা শুরু করবেন প্রধানমন্ত্রী   বিএনপি ক্ষমতায় এলে শান্তি চুক্তি বাস্তবায়ন করার চেষ্ঠা করবো: মনি স্বপন দেওয়ান   তিন পাহাড়ে নৌকা নিয়ে মাঠে দৌড়াবেন যারা   আগামীকাল খালেদা জিয়ার অগ্নিপরীক্ষা   হিরোকে জিরো বানানো এত সহজ নয়, সফল হিরো আলমের চ্যালেঞ্জ   খাগড়াছড়িতে বনের রাজা পেয়েছেন ইউপিডিএফের প্রার্থী নতুন কুমার চাকমা   বিশ্বের প্রথম উঁচু ভাস্কর্য 'চীনের স্প্রিং টেম্পল বুদ্ধ'   আন্তর্জাতিক মানবাধিকার দিবস || আদিবাসীদের মানবাধিকার প্রতিষ্ঠায় এগিয়ে আসার অাহ্বান   বনের রাজা সিংহকে নিয়ে রাঙ্গামাটিতে দৌড়াবেন ঊষাতন তালুকদার
প্রচ্ছদ / সোশ্যাল মিডিয়া / যারা মিঠুনকে হত্যা করেছে তাদের উদ্দেশ্যে যা বললেন ইমতিয়াজ মাহমুদ

যারা মিঠুনকে হত্যা করেছে তাদের উদ্দেশ্যে যা বললেন ইমতিয়াজ মাহমুদ

প্রকাশিত: ২০১৮-০১-০৪ ১০:০৯:১৩

সোশ্যাল মিডিয়া ডেস্ক

মিঠুন চাকমাকে কারা মেরেছে জানিনা, সকলেই অভিযোগ করছে ইউপিডিএফ ভেঙে সম্প্রতি যারা নতুন দল করেছেন ওরাই নাকি এই কাজটা করেছে। এটা তো ভাই খুবই অন্যায় হয়েছে। যেই করে থাকেন, এটা তো মেনে নেওয়া যায়না। প্রাণ ও প্রতিভার এইরকম অপচয়, এটা তো সহ্য করার মতো ব্যাপার না। চাকমা জাতি সহ জুম্ম আদিবাসীরা এমনিতেই এই দেশে সংখ্যালঘু। নানা দিক দিয়ে অনগ্রসর। এর মধ্যেও আবার সেটেলাররা ঢুকে পাহাড়িদেরকে নিজ দেশে পরবাসী বানিয়ে ফেলেছে প্রায়।

এই অবস্থার মধ্যে নিজ জাতির অল্প যে কয়েকজন নিবেদিতপ্রাণ শিক্ষিত নিষ্ঠাবান রাজনৈতিক নেতা কর্মী আছে ওদেরকে যদি একে একে মেরে ফেলেন তাইলে কি করে হবে? এতে করে চূড়ান্ত বিচারে কার লাভ হচ্ছে জানিনা, কিন্তু ক্ষতি যে আপনার নিজ জাতের হচ্ছে সেটা বুঝতে তো বিশেষজ্ঞ হওয়ার দরকার নাই আরকি।

মিঠুন ইউপিডিএফ করতেন। ইউপিডিএফের নেতা ছিলেন তিনি। ভালো সংগঠক। শিক্ষিত যুবক। নটরডেম কলেজে পড়েছে, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে উচ্চ শিক্ষা নিয়েছে। জেনেছি যে বিশ্ববিদ্যালয়ে ওর রেজাল্ট বেশ ভালো ছিল। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক হওয়ার যোগ্যতা ছিল। কিন্তু ব্যক্তিগত প্রতিষ্ঠার চেষ্টা না করে জাতির স্বার্থে রাজনীতি করতো খাগড়াছড়িতে থেকে। সহজ সরল জীবন যাপন করতো। তরুণরা ওকে বেশ পছন্দ করতো। অনেকেই তাঁকে জবিনের আদর্শ মনে করতো। এই যুবকটিকে কেন মেরে ফেললেন? কার স্বার্থে করলেন এই কাজটা?

রাজনৈতিক মতপার্থক্য তো থাকবেই। ইউপিডিএফএর রাজনীতি আপনার পছন্দ নাও হতে পারে। আমি নিজেও ইউপিডিএফের রাজনৈতিক লাইন সেইভাবে সমর্থন করি না। সেটা তো ভিন্ন কথা। কিন্তু ইউপিডিএফই হোক বা নতুন দলটিই হোক বা জেএসএস হোক বা সংস্কারপন্থী- এদের সকলের পথ ভিন্ন হতে পারে, মত ভিন্ন হতে পারে, কিন্তু শেষ বিচারে এরা সকলেই অন্তত মুখে তো জুম্ম জাতির মুক্তির কথাই বলে। আজকে আপনার সাথে ওদের মতপার্থক্য হচ্ছে, আদর্শগতভাবে সেটাকে মোকাবেলা করেন, আগামীকাল যে আপনাদের নিজেদের মধ্যে ঐক্য গড়ার পরিস্থিতি তৈরি হবে না সে কথা কি আপনি নিশ্চিত হয়ে বলতে পারেন?

আপনারা চারটা দলই যদি সক্রিয় থাকেন, সকলেই যদি সংগঠিত থাকেন তাইলে আপনাদের ঐক্যও একটা গুরুত্বপূর্ণ শক্তি হতে পারে। আর নিজেদেরকে নিজের একে অপরকে যদি মারতে থাকেন, তাইলে সকলেরই শক্তি ক্ষয় হবে আর এক সময় দেখা যাবে যে চারটি দলের ঐক্য করেও দশজন লোক জুটাতে পারবেন না।

শোনেন, সমতলের চেয়ে পাহাড়ে পাহাড়িদের সুস্থ্য রাজনীতি চর্চা বেশী জরুরী। কেন? কারণ পাহাড়ের মানুষ জাতীয় সব সমস্যার পাশাপাশি পাহাড়ের বিশেষ সমস্যারও মোকাবেলা করে। এজন্যে পাহাড়ের মানুষের জন্যে কথা বলার জন্যে আঞ্চলিক দলগুলির সাংগঠনিক দক্ষতা যোগ্যতা প্রজ্ঞা নেতৃত্ব সবকিছুই সমতলের নেতৃত্বের চেয়ে অগ্রসর হতে হবে। এখন আমরা যদি নিজেরাই নিজেদেরকে মারতে থাকি এইভাবে, আমাদের জাতির মেধাবী সন্তানদেরকে যদি মেরেই ফেলি, তাইলে ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব তো দুরে থাক, সাধারণ রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড করার জন্যে কর্মীও খুঁজে পাবেন না।

মিঠুন চাকমা আমার বয়ঃকনিষ্ঠ বন্ধু ছিল। অনলাইনেই যোগাযোগ। তিন চার বছর আগে বিবাহ করেছিল। আজ নাকি ওর ছেলের জন্মদিন ছিল। বলেন তো, এইরকম মৃত্যু মেনে নেওয়া যায়? মানুষ বয়স হয়ে বার্ধক্যে এসে মৃত্যুবরণ করে সেই কষ্টই সহ্য হয় না। আর জলজ্যান্ত একটা তরুণ প্রতিভাসম্পন্ন নেতা, যে কিনা উচ্চও শিক্ষা লাভের পর জাতির জন্যে লড়বে বলে ব্যক্তিগত প্রতিষ্ঠা ইত্যাদি ত্যাগ করেছিল, তাঁকে যদি এইভাবে মেরে ফেলেন আপনারা সেটা সহ্য হয়?

মিঠুনকে মেরে জুম্ম জাতির জন্যে কি ভালো কাজটা করলেন আপনারা?

ব্যক্তিগত শোকের মধ্যে এখন এইসব নিয়েও কথা বলতে হবে? শোনেন, পাহাড়ের আগামী প্রজন্মের ছেলেমেয়েরা, আপনারা মেহেরবানী করে একটা কিছু করেন। এইরকম ভাই ভাইকে মেরে ফেলার ইয়ে আর কতদিন চলবে? তরুণরা একটা কিছু করেন ভাই।

 

লেখকঃ ইমতিয়াজ মাহমুদ, এডভোকেট, বাংলাদেশ সুপ্রীম কোর্ট।

আপনার মন্তব্য

এ বিভাগের আরো খবর



আলোচিত