শিরোনাম

  নৌকার জয় সুনিশ্চিত : প্রধানমন্ত্রী   আজ ইউপিডিএফ’র ২০তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী   এবার থাইল্যান্ডে বৈধ হলো গাঁজা   ইউপিডিএফ প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে সকলকে সংগ্রামী শুভেচ্ছা জানালেন প্রসিত বিকাশ খীসা   চীনা শিশুরা আর স্কুল পালাতে পারবে না!   আবার ক্ষমতায় গেলে ভুল সংশোধন করা হবে : কাদের   প্রধানমন্ত্রী থেকে মাতৃভাষার বই পেয়েছে ক্ষুদ্র জনগোষ্ঠীর শিশুরা   শুভ বড়দিন আজ   রোহিঙ্গাদের জন্য শীতবস্ত্র পাঠাল ভারত   ইন্দোনেশিয়ায় সুনামির আঘাতে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৪০০ অধিক ছাড়িয়েছে   টাকার মালা উপহার পেলেন ফখরুল!   মধ্যরাত থেকে নির্বাচনী মাঠে সেনাবাহিনী   ভোটের দিন ২৪ ঘণ্টা সব যান চলাচল বন্ধ   সেনা মোতায়েনে ভোটারদের মধ্যে আস্থা ফিরে আসবে: সিইসি   পানছড়িতে ইউপিডিএফের নির্বাচনী অফিসে এলোপাতাড়ি ব্রাশ ফায়ারে ২ জন নিহত!   জেএসসি ও পিইসি পরীক্ষার ফল প্রকাশ   আগামী ৩০ তারিখ আমরা নৌকার বিজয় নিয়ে ঘরে ফিরবো: দীপংকর তালুকদার   ইন্দোনেশিয়ায় সুনামির আঘাতে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ২২২ জন   যারা মানুষ পুড়িয়ে মারে তাদের ভোট দেবেন নাঃ প্রধানমন্ত্রী   ২৮ ডিসেম্বর থেকে ১ জানুয়ারি মধ্যরাত পর্যন্ত ৪ দিন মোটরসাইকেল চলাচলে নিষেধাজ্ঞা
প্রচ্ছদ / আন্তর্জাতিক / লাওস এমন একটি দরিদ্র রাষ্ট্র , বাইরের দেশের সাহায্য ছাড়া চলতে পারেনা

লাওস এমন একটি দরিদ্র রাষ্ট্র , বাইরের দেশের সাহায্য ছাড়া চলতে পারেনা

প্রকাশিত: ২০১৮-০৭-২৬ ১২:১৪:১০

   আপডেট: ২০১৮-০৭-২৭ ২১:২৪:০১

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

কমিউনিস্ট শাসিত দেশ লাওস। এটি ইন্দোচীনের অন্তর্ভুক্ত। এশিয়ার দরিদ্র দেশগুলোর অন্যতম এটি। সোভিয়েত ইউনিয়নের পতনের পর কমিউনিস্ট সরকার আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক পরিস্থিতির সাথে এখনো দেশটিকে ঠিকভাবে খাপ খাওয়াতে পারেনি। বন্ধু হয়ে উঠতে পারেনি প্রতিবেশী বিশাল দেশ চীনেরও। কেন যেন আপন করে নেয়নি তাদের মাও জে দংয়ের দেশ চীন।

লাওসের এই দেশটি সাধারণত বৈদেশিক ত্রাণ (সাহায্যের)উপর ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল। ২৪ জুলাই ব্রিটিশ সংবাদ মাধ্যম বিবিসির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, লাওসে বেশীরভাগ অধিবাসী গ্রামাঞ্চলে বসবাস করে। এবং ৮০% মানুষ কৃষির উপর নির্ভরশীল। জলবিদ্যুৎ বাঁধ প্রকল্পটি ১বিলিয়ন পাউন্ড মূল্যের নির্মিত হচ্ছে। দক্ষিণ কোরিয়া এবং লাউস কোম্পানির যৌথ উদ্যোগে এ কার্যক্রম শুরু হয়। ২০১৩ সালে এ নির্মাণ শুরু হয়ে আগামী বছর ২০১৯ সালের নাগাদ নির্মানাধীন শেষ হওয়ার কথা রয়েছে।

এ বাঁধের মূল উদ্দেশ্য ছিল, প্রতিবেশী থাইল্যান্ড এ ৯০% শক্তি রপ্তানির মাধ্যমে আয়ের একটি লাভজনক উৎস তৈরি করা।

সরকারের লক্ষ্য ছিল ২০২৫ সালের মধ্যে জলবিদ্যুৎ উৎপাদন করে ঘুরে দাঁড়ানো। বাঁধটি ভিয়েতনাম, থাইল্যান্ড এবং কম্বোডিয়া মেকং নদী বরাবর নির্মিত হচ্ছে। বর্তমানে লাউসের জনসংখ্যা ৬৭ লাখ। রাজধানী - ভিয়েনতিয়েন। প্রধান ভাষা : লাও, ফ্রেন্স। প্রধান ধর্ম : বৌদ্ধ। গড় আয়ু : ৬৫ বছর (পুরুষ), ৬৮ বছর (মহিলা)। মুদ্রা : নিউ কিপ(বিশ্ব ব্যাংক)। আয়তন : ৯১ হাজার ৪০০ বর্গমাইল।

লাউসের বর্তমান প্রেসিডেন্টের নাম ভোনহাং ভরাচিত। ২০১৬ সালে এপ্রিলে তাকে রাষ্টড়পতি হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। কমিউনিস্ট রাষ্ট্র লাওসে গণমাধ্যমের উপর কঠোর নিয়ন্ত্রণ হয়। শুধু পঞ্চাশ হাজার মানুষ ইন্টারনেট সেবা পায়। ২০১৪ সালে ইন্টারনেট নিয়ন্ত্রণ আইন চালু হওয়ায় সোশ্যাল মিডিয়াতে একাউন্ট খুলতে গেলে আসল পরিচয় পত্র দিয়ে তা খুলতে হয়। কারণ আসল আইডি কার্ড শো না করলে নিবন্ধন হয়না।

লাওসের ঐতিহাসিক দিনঃ

১-১৮৯৩ সালে ফ্রান্স লাওসকে আশ্রিত অঞ্চল হিসেবে স্বীকৃতি দেয়।

২-১৯৪৬ সালে ফরাসি নিয়ম-কানুন লাওসে চালু হয়।

৩-১৯৫০ সালে ফ্রান্স লাওসকে একটি স্বতন্ত্র রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দেয়।

৪-১৯৫৩ সালে লাওস যুদ্ধের মাধ্যমে ফরাসি শাসন পতন করে।

৫-১৯৭৫ সালে লাওস কমিউনিস্ট সরকারের সাথে রাজত্ব পরিবর্তন এনে লায়ো পিপলস ফ্রন্ট হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে।

৬-১৯৮৬ সালে লাওস বাজার সংস্কারের প্রবর্তন আনে।

৭-১৯৯৭ সালে লাওস অ্যাসোসিয়েশন অব সাউথ ইস্ট এশিয়ান নেশনস (আসিয়ান) -এর সদস্য হয়।

৮-২০১১ সালে ভিয়েনতিয়ানে প্রথম স্টক মার্কেট উদ্বোধন করে।

৯-২০১৩ সালে ওয়ার্ল্ড ট্রেড অর্গানাইজেশন (ডব্লুটিও) এর সদস্য হয়।

দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার এ দেশটির উত্তর-পশ্চিমে মিয়ানমার ও চীন। পূর্বে ভিয়েতনাম, দক্ষিণে কম্বোডিয়া এবং পশ্চিমে থাইল্যান্ড। সাগর-মহাসাগেরর সাথে কোনো সংযোগ নেই অর্থাৎ স্থলবেষ্টিত দেশ লাওস। প্রতিবেশী দেশগুলোর প্রভাবাধীনেই থেকেছে দেশটির ইতিহাসের বেশিরভাগ সময়। এ জন্য লাওস তাদের জাতীয় পরিচয়ের সঙ্কটে ভুগেছে। কম্বোডিয়া, বার্মা, ভিয়েতনাম, চীন এবং শ্যাম নামে পরিচিত থাইল্যান্ড এদের ওপর কর্তৃত্ব করেছে। লাওস নামের যে দেশটি তাদের আদি অধিবাসীরা মূলত দক্ষিন চীন থেকে আসে। একাদশ শতাব্দীর পর দেশের একটি অংশ খেমার সাম্রাজ্যের অন্তর্ভুক্ত হয়। ১৩৪৫ সালে প্রথম দেশীয় সরকার কায়েম হয়। ঐতিহাসিকদের মতে, দেশটির নাম ছিল তখন ‘ল্যান জেং’। এর ইংরেজি করলে দাঁড়ায় ‘ল্যান্ড অব মিলিয়ন এলিফ্যান্ট’। অর্থাৎ ল হাতির দেশ। উত্তর-পূর্বাঞ্চলের মানুষ তখন বশ্যতা স্বীকার করেনি। দেশটির নামে (ল্যান জেং) রাজবংশ লাওসের ক্ষমতায়।

ভিয়েতনামের যুদ্ধে লাওস ও জড়িয়ে পড়েঃ

ভিয়েতনাম যুদ্ধ শেষ হয়েছে আজ থেকে ৪৩ বছর আগে। দিনটি ছিল ১৯৭৫ সালের ৩০ এপ্রিল। ১৯৫৫ সালের ১ নভেম্বর থেকে শুরু করে ১৯ বছর ৫ মাস ৪ সপ্তাহ ১ দিন পর্যন্ত স্থায়ী হয় এই যুদ্ধ।

প্রায় দুই যুগ স্থায়ী এই যুদ্ধে প্রাণ হারায় ভিয়েতনামের ৩০ লাখ লোক (নিহতের সংখ্যা নিয়ে দ্বিমত আছে)। এই যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের ৫৮ হাজার সেনা নিহত হয়। আধুনিক পরাশক্তির কোনো দেশের জন্য তার সেনাদের এত বড় প্রাণহানির ঘটনা বিশ্বে এটিই প্রথম। এ ছাড়া পরাশক্তি যুক্তরাষ্ট্র কোনো একটি পক্ষে যুদ্ধ করে হেরে যাওয়ার নজিরও ভিয়েতনাম যুদ্ধ।

১৯৫০-এর দশকের শেষ বছরগুলোতে উত্তর ভিয়েতনাম ও দক্ষিণ ভিয়েতনামের সংঘর্ষ গৃহযুদ্ধে রূপ নেয়। তথাকথিত গণতন্ত্রকামী দক্ষিণ ভিয়েতনামের পক্ষে অবস্থান নেয় যুক্তরাষ্ট্র ও তার পশ্চিমা মিত্ররা। ফ্রান্স এই যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রকে সাহায্য করে। আর উত্তর ভিয়েতনামের পক্ষে দাঁড়ায় চীন, রাশিয়া ও বিশ্বের বাম ঘরানার রাষ্ট্রগুলো। যুক্তরাষ্ট্রের এই যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়ার স্লোগান ছিল ‘গণতন্ত্র বাঁচাও’। গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় তারা দক্ষিণ ভিয়েতনামের পক্ষে উত্তর ভিয়েতনামের বিরুদ্ধে যুদ্ধে অবতীর্ণ হয়। কিন্তু এর পেছনে যুক্তরাষ্ট্রের আরো একটি উদ্দেশ্য ছিল- দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় এবং চীনের প্রভাব বলয় ভেঙে দিয়ে আধিপত্য বিস্তার করা।

ভিয়েতনাম চীনের নাকের ডগার একটি দেশ। এই অঞ্চলে রাশিয়ারও প্রভাব রয়েছে। এর মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের প্রত্যক্ষ অংশগ্রহণ মেনে নিতে পারেনি চীন-রাশিয়াসহ আঞ্চলিক শক্তিগুলো। ফলে যুদ্ধের আন্তর্জাতিকতার পরিধি বেড়ে যায়। এই যুদ্ধে লাওস ও কম্বোডিয়াও জড়িয়ে পড়ে। ভিয়েতনাম যুদ্ধ পরিচিত হয় ‘আমেরিকার বিরুদ্ধে প্রতিরোধ যুদ্ধ’ হিসেবে।

এই যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র পরাজিত হয়। ৩০ এপ্রিল ১৯৭৫ সালে ভিয়েতনাম থেকে যুক্তরাষ্ট্রের সবশেষ সেনারাও চলে যায়। পতন হয় সাইগনের (যা বর্তমানে হো চি মিন সিটি)। তবে উত্তর ভিয়েতনাম ও দক্ষিণ ভিয়েতনাম একসঙ্গে যুক্ত হয়নি সেদিন। কমিউনিস্টপন্থি দুটি পৃথক দেশের আত্মপ্রকাশ ঘটে। অবশ্য পরের বছর দুই ভিয়েতনাম এক হয়ে যায়। এই এক হয়ে ওঠার জন্য লাখো ভিয়েতনামির রক্ত ঝরেছে, প্রাণ গেছে।

কিন্তু যুদ্ধ শেষের ৪৩ বছর পরে এসেও ভিয়েতনামিরা ভুলতে পারেনি যুক্তরাষ্ট্রের বর্বরতাকে। মার্কিন প্রশাসনের খুনি মুখটি ভিয়েতনামিদের স্মৃতিতে ঘৃণা হয়ে রয়েছে আজও। আধুনিকতার নামে, গণতন্ত্রের দোহাই দিয়ে যুক্তরাষ্ট্র যে হত্যাকাণ্ড চালায় ভিয়েতনামে, হয়তো ভিয়েতনামিরা কোনো দিন ভুলেও যেতে পারে তা, কিন্তু ইতিহাস কখনো যুক্তরাষ্ট্রকে ক্ষমা করবে না। ক্ষমা করেনি ভিয়েতনামের নতুন প্রজন্মও।

উত্তর ভিয়েতনামের যোদ্ধাদের দমনে জঙ্গলে তাদের অবস্থান লক্ষ্য করে যুক্তরাষ্ট্র যে রাসায়নিক অস্ত্র ব্যবহার করে, তার প্রভাব আজও বয়ে বেড়াতে হচ্ছে ভিয়েতনামিদের। মার্কিন বিমান থেকে ছিটানো ডাই-অক্সিন এজেন্ট অরেঞ্জের প্রভাব এখনো মানুষের মধ্যে পাওয়া যাচ্ছে। এই ক্ষত ভোলার মতো নয়।

তবে সময়ের প্রয়োজনে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপিত হয়েছে ভিয়েতনামের কিন্তু তা তত শক্তিশালী নয়। প্রতিবছর ৩০ এপ্রিল ‘বর্বর’ রাষ্ট্র হিসেবেই ভিয়েতনামিদের সামনে আসে যুক্তরাষ্ট্র।

আপনার মন্তব্য

আলোচিত