শিরোনাম

  ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর জন্য মাতৃভাষায় পুস্তক প্রকাশনার বিধান রেখে খসড়ার চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা   সরকারী চাকরিতে ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী ও পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর জন্য কোটা না হলেও সমস্যা হবে না   রুয়েটে ভর্তি পরীক্ষার আবেদন শুরু   দুই আদিবাসী কিশোরী ধর্ষণের ঘটনায় অভিযুক্তদের সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি   দেশের বিভিন্ন স্থানে বৃষ্টি অথবা বজ্রবৃষ্টি ও ভারী বর্ষণ হতে পারে   আদিবাসী মানবাধিকার সুরক্ষাকর্মীদের সম্মেলন ২০১৮ উদযাপন   ব্লগার বাচ্চু হত্যার সঙ্গে ‘জড়িত’ ২ জঙ্গি নিহত   জুমের বাম্পার ফলনে রাঙ্গামাটির চাষিদের মুখে হাসি   সরকারি চাকরিতে আদিবাসী কোটা বহাল দাবি জানাল আদিবাসীরা   আয়ারল্যান্ড প্রবাসী বাংলাদেশের এক মন্ত্রী দ্বারা হেনস্ত হওয়াতে হিন্দু, বৌদ্ধ ও খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের নিন্দা   শেখ হাসিনার জনপ্রিয়তা উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি পেয়েছে   মিয়ানমারে রয়টার্সের দুই সাংবাদিককে সাত বছরের কারাদণ্ড দিয়েছে আদালত   শহীদ আলফ্রেড সরেন হত্যার ১৮ বছর: হত্যাকারীদের দ্রুত বিচারের দাবি জাতীয় আদিবাসী পরিষদের   ভারতের কাছে ১-০ গোলে হেরেছে বাংলাদেশের মেয়েরা   সরকারী চাকরিতে নিয়োগের ক্ষেত্রে মুক্তিযোদ্ধা ছাড়া সব কোটা বাতিল হচ্ছে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী   জাতিসংঘের সাবেক মহাসচিব কফি আনান মারা গেছেন   ঈদের ছুটি কাটানো হলোনা টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ার নিরীহ ধীরাজ চাকমার   খাগড়াছড়িতে পৃথক ঘটনার জন্য জেএসএস(সংস্কারবাদী) ও নব্য মুখোশ বাহিনীকে দায়ী করেছে : ইউপিডিএফ   নানিয়ারচর থেকে খাগড়াছড়ি   খাগড়াছড়িতে ৬ জনকে গুলি করে হত্যা !
প্রচ্ছদ / আন্তর্জাতিক / রাখাইনে মংডু জেলায় রোহিঙ্গা শরণার্থীদের পুনর্বাসন না করার আহ্বান

রাখাইনে মংডু জেলায় রোহিঙ্গা শরণার্থীদের পুনর্বাসন না করার আহ্বান

প্রকাশিত: ২০১৮-০৪-০৪ ১৯:২৭:৪৩

   আপডেট: ২০১৮-০৪-০৪ ১৯:৩৪:৫৫

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

রাখাইন দক্ষিণ মংডুতে রোহিঙ্গা শরণার্থীদের পুনর্বাসন না করার সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন আরাকান ন্যাশনাল পার্টির (এএনপি) আইন প্রণেতা ইউ টুন অং।

মঙ্গলবার ৩ এপ্রিল রাজ্য আইন পরিষদে একটি প্রস্তাব পেশ করেন তিনি।

আজ বুধবার মিয়ানমার সংবাদ মাধ্যম ইরাবতির সূত্রে জানা গেছে গেল বছর আগস্ট মাসের শেষের দিকে মংডু জেলার রোহিঙ্গা স্যালভেশন সন্ত্রাসী সংগঠন নিরাপত্তার চৌকিতে সবচেয়ে বড় ধরণের হামলা চালায়। এই ঘটনায় সেখানকার সেনাবাহিনী সন্ত্রাসীদের ধরতে কয়েকমাস অপারেশন চালায়। এতে ৬৮০,০০০ রোহিঙ্গা মুসলিম প্রতিবেশী রাষ্ট্র বাংলাদেশে অনুপ্রবেশ করেছে।

সেনাবাহিনী কর্তৃক অগ্নিসংযোগ, ধর্ষণ ও হত্যা সম্পর্কে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে ব্যাপক প্রতিবেদন প্রকাশের ফলে জাতিসংঘ মানবাধিকার কমিশন ইতোমধ্যে ‘জাতিগত নির্মূলের পাঠ্যপুস্তকীয় দৃষ্টান্ত’ বলে আখ্যা দিয়েছে।

ন্যাশনাল পার্টির (এএনপি) আইন প্রণেতা ইউ টুন অং এর প্রস্তাবটি নতুন নয়। তিনি বলেছেন ফেরত আসা রোহিঙ্গাদের তাদের নিজ নিজ এলাকায় যাচাই-বাছাই করে পুনর্বাসন করা হবে।

তিনি আরো বলেন, রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবর্তন প্রকল্পে স্বদেশে ফিরে এনে পুনর্বাসন করতে তাঁরা বাঁধা প্রয়োগ করবে না। তবে মংডু জেলাতে পূর্বের পরিস্থিতি ও সেখানকার জনসাধারণের নিরাপত্তার কথা চিন্তা করে দক্ষিণ মংডুতে পুনর্বাসন করা যেতে পারে।

গত বছরের ২৫ আগস্ট রাখাইনের কয়েকটি নিরাপত্তা চৌকিতে হামলার পর পূর্ব-পরিকল্পিত ও কাঠামোবদ্ধ সহিংসতা জোরালো করে মিয়ানমারের সেনাবাহিনী। হত্যা-ধর্ষণসহ বিভিন্ন ধারার সহিংসতা ও নিপীড়ন থেকে বাঁচতে বাংলাদেশে পালিয়ে এসেছে রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর প্রায় ৭ লাখ মানুষ। মিয়ানমারের সরকারি বাহিনীর রোহিঙ্গাদের ওপর নির্যাতনের ঘটনাকে জাতিসংঘ মানবাধিকার কমিশন ইতোমধ্যে ‘জাতিগত নির্মূলের পাঠ্যপুস্তকীয় দৃষ্টান্ত’ বলে আখ্যা দিয়েছে। জাতিসংঘ মহাসচিব প্রশ্ন তুলেছেন, দুই-তৃতীয়াংশ মানুষ দেশ ছাড়তে বাধ্য হলে তাকে ‘জাতিগত নিধনযজ্ঞ’ ছাড়া আর কী নামে ডাকা হবে। মিয়ানমারের বিরুদ্ধে যৌন নিপীড়ন ও সংঘবদ্ধ ধর্ষণকে রোহিঙ্গা তাড়ানোর অস্ত্র হিসেবে ব্যবহারের অভিযোগও এনেছে জাতিসংঘ।

এর আগে ২০১২ সালে মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা ছড়িয়ে পড়ার পর লাখো রোহিঙ্গাকে সাগরপথে বিভিন্ন দেশের উদ্দেশে পালাতে দেখা গেছে। অনেকে আবার তখন মানব পাচারকারীদের কবলেও পড়েছিলেন। ২০১৫ সালে সাগরপথে দলবদ্ধভাবে রোহিঙ্গাদের বিভিন্ন দেশে পাড়ি জমানোর প্রবণতা বেড়ে যায়। সে সময় আন্দামান সাগর হয়ে ২৫ হাজার রোহিঙ্গা থাইল্যান্ড,মালয়েশিয়া ও ইন্দোনেশিয়ায় পালিয়ে গিয়েছিল। মালয়েশিয়ায় এক লাখেরও বেশি রোহিঙ্গার বসবাস। রোহিঙ্গা প্রশ্নে বরাবরই সোচ্চার ভূমিকা পালন করে আসছে মালয়েশিয়া। রোহিঙ্গাদের সুরক্ষা দিতে না পারায় মিয়ানমার সরকারের সমালোচনা করে আসছে দেশটি। গত বছরের সেপ্টেম্বরে মালয়েশিয়ার কোস্ট গার্ড অঙ্গীকার করে, রোহিঙ্গা পরিস্থিতি পালিয়ে আসা কোনও শরণার্থী নৌকাকে ফেরত পাঠানো হবে না।

মিয়ানমার সরকারের পক্ষ থেকে দাবি করা হচ্ছে, তখনও প্রথমে আরসা সেনাবাহীনির ৩০টির বেশি চৌকিতে হামলা চালিয়েছিল৷ এরপরে রাখাইনে সেনা অভিযান শুরু করা হয়৷ এর জেরে লক্ষ লক্ষ মানুষ প্রাণভয়ে প্রতিবেশী বাংলাদেশে ঢুকে পড়েছে৷ 

এছাড়া চলতি বছর (৫ জানুয়ারী) উপকূলের উত্তরের অংশে মংডু থেকে প্রায় ৩০ কিলোমিটার দূরে আরাকানিজ গ্রামে ২০ জন জঙ্গি একসঙ্গে ঘরে তৈরি মাইন ও ছোট আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে আক্রমণ চালিয়েছে৷ এসময় মিলিটারি ট্রাকে হামলা চালিয়ে কয়েকজন সেনাকর্মী মারাত্মকভাবে জখম হয়।

মিয়ানমার সরকার ইতিমধ্যে রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে। তবে চুক্তি ও শর্তঅনুযায়ী তাদের ফিরিয়ে নেওয়া হবে বলে রাষ্ট্রীয় বিবৃতিতে এমনতাই দাবি করা হচ্ছে।

আপনার মন্তব্য

আলোচিত