শিরোনাম

  ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর জন্য মাতৃভাষায় পুস্তক প্রকাশনার বিধান রেখে খসড়ার চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা   সরকারী চাকরিতে ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী ও পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর জন্য কোটা না হলেও সমস্যা হবে না   রুয়েটে ভর্তি পরীক্ষার আবেদন শুরু   দুই আদিবাসী কিশোরী ধর্ষণের ঘটনায় অভিযুক্তদের সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি   দেশের বিভিন্ন স্থানে বৃষ্টি অথবা বজ্রবৃষ্টি ও ভারী বর্ষণ হতে পারে   আদিবাসী মানবাধিকার সুরক্ষাকর্মীদের সম্মেলন ২০১৮ উদযাপন   ব্লগার বাচ্চু হত্যার সঙ্গে ‘জড়িত’ ২ জঙ্গি নিহত   জুমের বাম্পার ফলনে রাঙ্গামাটির চাষিদের মুখে হাসি   সরকারি চাকরিতে আদিবাসী কোটা বহাল দাবি জানাল আদিবাসীরা   আয়ারল্যান্ড প্রবাসী বাংলাদেশের এক মন্ত্রী দ্বারা হেনস্ত হওয়াতে হিন্দু, বৌদ্ধ ও খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের নিন্দা   শেখ হাসিনার জনপ্রিয়তা উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি পেয়েছে   মিয়ানমারে রয়টার্সের দুই সাংবাদিককে সাত বছরের কারাদণ্ড দিয়েছে আদালত   শহীদ আলফ্রেড সরেন হত্যার ১৮ বছর: হত্যাকারীদের দ্রুত বিচারের দাবি জাতীয় আদিবাসী পরিষদের   ভারতের কাছে ১-০ গোলে হেরেছে বাংলাদেশের মেয়েরা   সরকারী চাকরিতে নিয়োগের ক্ষেত্রে মুক্তিযোদ্ধা ছাড়া সব কোটা বাতিল হচ্ছে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী   জাতিসংঘের সাবেক মহাসচিব কফি আনান মারা গেছেন   ঈদের ছুটি কাটানো হলোনা টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ার নিরীহ ধীরাজ চাকমার   খাগড়াছড়িতে পৃথক ঘটনার জন্য জেএসএস(সংস্কারবাদী) ও নব্য মুখোশ বাহিনীকে দায়ী করেছে : ইউপিডিএফ   নানিয়ারচর থেকে খাগড়াছড়ি   খাগড়াছড়িতে ৬ জনকে গুলি করে হত্যা !
প্রচ্ছদ / আন্তর্জাতিক / বাংলাদেশ সীমান্তে বাঙ্কার খনন, কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণ করছে মিয়ানমার

বাংলাদেশ সীমান্তে বাঙ্কার খনন, কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণ করছে মিয়ানমার

প্রকাশিত: ২০১৮-০৩-০৯ ২০:১৮:১৬

   আপডেট: ২০১৮-০৩-০৯ ২০:১৯:১৭

বাংলাদেশ সীমান্তে কাঁতাতারের বেড়ার ওপাশে মিয়ানমার সেনাদের টহল, ছবি: ঢাকা ট্রিবিউন

নিউজ ডেস্ক

আন্তর্জাতিক আচরণবিধি লঙ্ঘন করে মিয়ারমারের রাখাইন রাজ্যের মংডু টাউনশীপের কাছে তাউং পিও লেতউই এলাকায় বাঙ্কার খনন করছে মিয়ানমার সেনাবাহিনী। এ ছাড়াও সীমান্ত এলাকায় কাঁতাতারের বেড়া নির্মাণের কাজ চলছে। এলাকাটি তামব্রু নামে পরিচিতি, বাংলাদেশের বান্দরবান জেলার ঘুমধুম ইউনিয়ন সংলগ্ন।

স্থানীয় সংবাদ মাধ্যমের খবরে বলা হয়, তুমব্রুর কোনারপাড়া, চাকমাপাড়া থেকে শুরু করে সীমান্তের বিশাল অংশের কোথাও কোথাও নতুনভাবে দুই স্তরে কাঁটাতারের বেড়া দিচ্ছে মিয়ানমার। আর এ কাজে সাদা পোশাকের আড়ালে যোগ দিয়েছেন মিয়ানমার সেনাবাহিনীর সদস্যরা। আবার কোথাও চলছে কাঁটাতারের বেড়ার ওপর গোলাকার পেঁচানো তার বসানোর কাজ। নির্মাণকাজে নিয়োজিত সেনা সদস্যদের দেখভাল করার জন্য নিয়মিত টহল দিচ্ছেন সেনাবাহিনীর পেট্রল দলের সদস্যরা।

তুমব্রু সীমান্তের বাংলাদেশের ভূমি থেকে মিয়ানমার সেনাদের এসব তৎপরতা সুস্পষ্ট দেখা যায় বলে জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তবে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) সদস্যরা টহল ও নজরদারি বৃদ্ধি করায় তুমব্রু সীমান্তের পরিস্থিতি এখন আগের চেয়ে শান্ত রয়েছে। প্রত্যক্ষদর্শী স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, নাফ নদের ওপারের বিভিন্ন অংশে এবং তুমব্রু সীমান্তে নিয়মিতই টহল দিয়ে যাচ্ছে মিয়ানমার সেনাবাহিনী ও বর্ডার গার্ড পুলিশ। তাদের মতে, বাংলাদেশকে উসকে দিয়ে অপ্রীতিকর অবস্থার সৃষ্টি করতে চাইছে মিয়ানমার। কোনো ধরনের দ্বিপক্ষীয় বৈঠক নেই। বৈঠক হলেও যৌথ সিদ্ধান্ত লঙ্ঘন করে যাচ্ছে মিয়ানমার।

একগুঁয়ে মনোভাব নিয়ে দেশটি এখন সীমান্তের বিভিন্ন পয়েন্টে কাঁটাতারের বেড়া দ্বিগুণভাবে নির্মাণ করে যাচ্ছে। এদিকে অন্যান্য দিনের মতো বৃহস্পতিবারও মিয়ানমার সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে তুমব্রু সীমান্তের শূন্যরেখায় অবস্থানরত রোহিঙ্গাদের স্থানত্যাগের জন্য মাইকিং করা হয়েছে। গাছে মাইক টাঙিয়ে বলা হয়, ‘এখানে (জিরো পয়েন্ট) থাকা অবৈধ। তোমরা অন্য কোনো স্থানে চলে যাও।’

এ অবস্থায় প্রতিটি মুহূর্তে আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছে সীমান্তের রোহিঙ্গারা। তারা এপারে যেন অনুপ্রবেশ করতে না পারে সেজন্য বিজিবিও সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। মিয়ানমার সেনাবাহিনী স্থান ত্যাগ করতে আগের চেয়ে আরও বেশি হুমকি দিচ্ছে বলে জানান রোহিঙ্গা আবদুর রহিম।

তুমব্রু ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর আজিজ সংবাদ মাধ্যমকে জানান, সীমান্তের কাঁটাতারের বেড়া কোথাও কোথাও দ্বিগুণ করা হচ্ছে। এটা মূলত রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন ঠেকানোর নতুন কৌশল হিসেবে বেছে নিয়েছে মিয়ানমার সেনারা। রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন নিয়ে দেশি ও আন্তর্জাতিক অঙ্গন থেকে নানাভাবে চাপ আসতে থাকায় তারা আগে থেকেই তা ঠেকানোর কৌশল নিয়ে সীমান্তে উত্তেজনা বাড়াতে চায়।

বিষয়টি নিশ্চিত করে বিজিবি কক্সবাজারের সেক্টর কমান্ডার কর্নেল আবদুল খালেক বলেন, ‘সীমান্তে কয়েক দিন ধরে মিয়ানমার সেনাসংখ্যা বৃদ্ধি করেছে। তবে মিয়ানমার অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তার প্রয়োজনে সীমান্তে সেনা-বিজিপির টহল বাড়িয়েছে বলে আমাদের জানিয়েছে।’

তিনি বলেন, সীমান্ত পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে বিজিবি। এদিকে সীমান্ত পরিস্থিতি স্বাভাবিক থাকলেও মিয়ানমারের সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিজিপি কাঁটাতারের বেড়ার কাছেই অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে পাহারায় থাকার কারণে আতঙ্ক কমেনি শূন্যরেখার রোহিঙ্গা ও তুমব্রু সীমান্ত অঞ্চলের অধিবাসীদের।

গত বছর ২৫ আগস্ট থেকে পরবর্তী তিন মাসে মিয়ানমার সেনাদের নির্যাতনে আরাকান রাজ্য থেকে পালিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নেয় ১০ লাখের মতো রোহিঙ্গা। এ সময় তুমব্রু সীমান্তের কোনারপাড়া শূন্যরেখায় আশ্রয় নেয় সাড়ে ৬ হাজার রোহিঙ্গা। এদেরও বাংলাদেশে ‘পুশ ইন’ করতে মিয়ানমার সেনাবাহিনী ও বিজিপি প্রতিদিন নতুন করে নানাভাবে মানসিক চাপ সৃষ্টি করছে বলে জানান রোহিঙ্গা ক্যাম্পের মাঝি (নেতা) দিল মোহাম্মদ।

সূত্রঃ সাউট এশিয়ান মনিটর।

আপনার মন্তব্য

আলোচিত