শিরোনাম

  ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর জন্য মাতৃভাষায় পুস্তক প্রকাশনার বিধান রেখে খসড়ার চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা   সরকারী চাকরিতে ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী ও পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর জন্য কোটা না হলেও সমস্যা হবে না   রুয়েটে ভর্তি পরীক্ষার আবেদন শুরু   দুই আদিবাসী কিশোরী ধর্ষণের ঘটনায় অভিযুক্তদের সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি   দেশের বিভিন্ন স্থানে বৃষ্টি অথবা বজ্রবৃষ্টি ও ভারী বর্ষণ হতে পারে   আদিবাসী মানবাধিকার সুরক্ষাকর্মীদের সম্মেলন ২০১৮ উদযাপন   ব্লগার বাচ্চু হত্যার সঙ্গে ‘জড়িত’ ২ জঙ্গি নিহত   জুমের বাম্পার ফলনে রাঙ্গামাটির চাষিদের মুখে হাসি   সরকারি চাকরিতে আদিবাসী কোটা বহাল দাবি জানাল আদিবাসীরা   আয়ারল্যান্ড প্রবাসী বাংলাদেশের এক মন্ত্রী দ্বারা হেনস্ত হওয়াতে হিন্দু, বৌদ্ধ ও খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের নিন্দা   শেখ হাসিনার জনপ্রিয়তা উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি পেয়েছে   মিয়ানমারে রয়টার্সের দুই সাংবাদিককে সাত বছরের কারাদণ্ড দিয়েছে আদালত   শহীদ আলফ্রেড সরেন হত্যার ১৮ বছর: হত্যাকারীদের দ্রুত বিচারের দাবি জাতীয় আদিবাসী পরিষদের   ভারতের কাছে ১-০ গোলে হেরেছে বাংলাদেশের মেয়েরা   সরকারী চাকরিতে নিয়োগের ক্ষেত্রে মুক্তিযোদ্ধা ছাড়া সব কোটা বাতিল হচ্ছে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী   জাতিসংঘের সাবেক মহাসচিব কফি আনান মারা গেছেন   ঈদের ছুটি কাটানো হলোনা টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ার নিরীহ ধীরাজ চাকমার   খাগড়াছড়িতে পৃথক ঘটনার জন্য জেএসএস(সংস্কারবাদী) ও নব্য মুখোশ বাহিনীকে দায়ী করেছে : ইউপিডিএফ   নানিয়ারচর থেকে খাগড়াছড়ি   খাগড়াছড়িতে ৬ জনকে গুলি করে হত্যা !
প্রচ্ছদ / আন্তর্জাতিক / মিয়ানমারের সেনাবাহিনীর সাথে দুই জাতিগত সশস্ত্র গ্রুপের মধ্যে গোলাগুলি

মিয়ানমারের সেনাবাহিনীর সাথে দুই জাতিগত সশস্ত্র গ্রুপের মধ্যে গোলাগুলি

প্রকাশিত: ২০১৮-০১-০৯ ১২:০১:২৬

   আপডেট: ২০১৮-০১-০৯ ১২:১৩:২৫

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

মিয়ানমারে 'কারেন রাজ্যে' দুইটি জাতিগত সশস্ত্র দল 'ডেমোক্রেটিক কারেন বুড্ডিস্ট আর্মি(ডি কেবিএ) ও কারেন ন্যাশনাল ইউনিয়ন (কেএনইউ) মিয়ানমার (থাদমাদো) সেনাবাহীনিদের সাথে যুদ্ধ এখনো অব্যাহত রয়েছে।

সোমবার (৮ জানুয়ারী) থেকে এই যুদ্ধ শুরু হয়েছে বলে জানিয়েছে সংবাদ মাধ্যম ইরাবতি ।

(ডি কেবিএ) দাবি করেছে, থাদমাদো সেনাবাহিনীরা ৯০৫ ব্যাটেলিয়ন বিশিষ্ট জোট হয়ে তাদের উপর আক্রমণ চালাচ্ছে। এবং গেল বছর ১৬ অক্টোবর থেকে ধাপে ধাপে সরকারের সীমান্ত রক্ষী বাহিনী এবং কারেন ন্যাশনাল ইউনিয়ন (কেএনইউ) মধ্যে যুদ্ধ ছড়িয়ে পড়েছে।

ক্যাপ্টেন 'হিলা সান' বলেন, থাদমাদো এবং (কেএনইউ) সোমবার থেকে প্রত্যন্ত অঞ্চল (মা থাও গ্রাম) ও (হিলাং বোই) এলাকায় একে অপরের অতর্কিত হামলা চালাচ্ছে। আজ মঙ্গলবার সকাল ১১ টায় ও গুলিবর্ষণ ঘটনা ঘটেছে এবং তাঁরা সপ্তাহ জুড়ে বিভিন্ন আগ্নেয় অস্ত্র ব্যবহার করে যুদ্ধ করছে।

'ডেমোক্রেটিক কারেন বুড্ডিস্ট আর্মির' কর্নেল সাও সাং অং জানান, 'কারেন ন্যাশনাল ইউনিয়ন' এবং 'থাদমাদো' জোট হয়ে আমাদের খাদ্য পরিবহন রুট অবরুদ্ধ করেছে সেই সাথে ফসলের জমিগুলো ধ্বংস করে দিয়েছে।

সুত্র জানায়, ২০০৮ সালের সরকারের সংবিধানের খসড়াতে (ডি কেবিএ) কঠোর বিরোধিতা করেছিল । সরকারের সাথে সাতটি সশস্ত্র গোষ্ঠী বিশিষ্ট দলটি দেশব্যাপী যুদ্ধবিরতি চুক্তির স্বাক্ষর করেনি। যেহেতু সরকারের এই সিদ্ধান্তকে তাঁরা মানতে রাজি হননি। তবে 'কারেননি ন্যাশনাল প্রগ্রেসিভ' (কেএনপিপি) সশস্ত্র পার্টিকে সংক্ষেপে - খা, কিয়া,কিনা ইত্যাদি নামে অভিহিত করা হয়।

মিয়ানমারে বার্মাতে পূর্বাঞ্চলীয় কায়াহ প্রদেশে (কেরানি রাজ্য নামেও পরিচিত) এ অঞ্চল নিয়ন্ত্রণ করে। ২০১২ সালে ৭ ই মার্চ জাতিসংঘের শরণার্থী কমিশন, ব্রিটিশ কাউন্সিল এবং আমেরিকান দূতাবাস থেকে আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের উপস্থিতিতে মিয়ানমার সরকার (কেএনপিপি'র) সাথে একটি যুদ্ধবিরতি চুক্তি স্বাক্ষর করে।

কিন্তু চুক্তি স্বাক্ষরের পর আবার তিন মাসের মধ্যে তা অকার্যকর হয়ে উঠে। এই দলটির মধ্যেও সম্প্রতি মিয়ানমার সেনাবাহিনী দ্বারা সদস্যরা হত্যাকান্ডের স্কীকার হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এমনকি বিচারের জন্য উচ্চ আদালতে ও দাখিল করা হয়েছে।

(কেএনপিপি) গ্রুপের ২ং সেক্রেটারি 'ইউ শওয়ে মায়ো থন্ত' বলেন এই ঘটনাটি হওয়ার সেনাবাহিনীদের প্রতি আমাদের বিশ্বাস হারিয়ে গেছে। আমরা আমাদের দলের পার্টির সাথে আলোচনা করেছি। কিন্তু আমরা রহস্য উদ্ঘাতনে সমঝোতার সংকেত সেনাদের কাছ থেকে এখনো পাইনি।

এর আগে মিয়ানমারের ডি ফ্যাক্টো নেত্রী ও দেশটির রাষ্ট্রীয় উপদেষ্টা অং সান সু চি মিয়ানমার কায়া রাজ্যের রাজধানী লোইকোতে এক শান্তি সভায় দুই সপ্তাহের মধ্যে জাতিগত সশস্ত্র গ্রুপের চারজন প্রগ্রেসিভ পার্টির সশস্ত্র গ্রুপের সদস্যকে হত্যার অভিযোগের বিষয়টি সুরাহা করার প্রতিশ্রুতি দেন।

এদিকে, জাতিগত সশস্ত্র দল 'ডেমোক্রেটিক কারেন বুড্ডিস্ট আর্মি(ডি কেবিএ) কর্নেল সাও সাং অং অভিযোগ করে বলেন- সর্বশেষ দুই গ্রুপের সংঘর্ষে ল্যান্ডমাইন আক্রমণ, আগ্নেয় অস্ত্র প্রয়োগ ও গেরিলা কৌশল অবলম্বন করেছিল সেনাবাহিনীরা।

তিনি আরো বলেন, সেনাবাহিনীরা 'কারেন ন্যাশনাল ইউনিয়ন (কেএনইউ) ও 'ডেমোক্রেটিক কারেন বুড্ডিস্ট আর্মি(ডি কেবিএ) দুই জাতিগত গ্রুপের সাথে যুদ্ধ করার উৎসাহ দেয়। যাতে এক দলকে পরাজিত করতে পারলে সেই অঞ্চল দখল করে জলবিদ্যুৎ বাঁধ নির্মাণ করা যায় এমনতাই অভিযোগ করেছেন জাতিগত দলের নেতা।

তাদের এই বাঁধ প্রকল্প পরিকল্পনা আগে থেকে করা হয়েছিল এবং নির্মাণের জন্য প্রস্তুত করা হচ্ছে। কিন্তু ডেমোক্রেটিক কারেন বুড্ডিস্ট আর্মি সম্পূর্ণ বাঁধের বিষয়ে বিরোধিতা করে আসছে।

মুলত জাতিগত 'কারেন ন্যাশনাল লিবারেশন আর্মি 'সশস্ত্র দলটি থেকে বিভেদপন্থী দল প্রতিপক্ষ হিসেবে ডেমোক্রেটিক কারেন বুড্ডিস্ট আর্মি(ডি কেবিএ) জন্ম নিয়েছিল। (ডি কেবিএ) সন্দেহ প্রতিপক্ষ দলটি সেনাবাহিনীদের সাথে হাত মিলিয়ে তাদের প্রতিহত করার কাজে লিপ্ত। কিন্তু দলটি তাঁরা বার বার অভিযোগটি অস্কীকার করেছে।

সরকারের সাথে যখন দলটি চুক্তি হয়েছিল তখন সশস্ত্র বিদ্রোহী 'ডেমোক্রেটিক কারেন বুড্ডিস্ট আর্মি' চুক্তিতে স্বাক্ষর করেনি। এই নিয়ে বিরোধ থাকায় এখনো যুদ্ধ অব্যাহত রয়েছে।

আপনার মন্তব্য

আলোচিত