শিরোনাম

  ২৪ ডিসেম্বর থেকে পার্বত্য এলাকাসহ মাঠপর্যায়ে সশস্ত্র বাহিনী মোতায়েন করা হবে   গ্রাম আদালতের একটি সফল গল্প   টেকনোক্র্যাট মন্ত্রীদের পদত্যাগের পর চার মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব বণ্টন   আগামী ২৪ ডিসেম্বর জেএসসি ও প্রাথমিক সমাপনীর ফল প্রকাশ   নির্বাচনকালীন ইউএনও-ডিসির স্বাক্ষরে শিক্ষকদের বেতন-ভাতা : শিক্ষা মন্ত্রণালয়   খালেদার মনোনয়ন বাতিলের বিরুদ্ধে হাইকোর্টের বিভক্ত আদেশ   'তিন পার্বত্য জেলায় ৩৮ টি ভোটকেন্দ্রে হেলিকপ্টার ব্যবহার করা হবে'   সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ন নির্বাচন নিশ্চিত করার আহ্বান ইউরোপীয় দেশগুলোর   তরুণ ও নারী ভোটাররাই আওয়ামী লীগের বিজয়ের প্রধান হাতিয়ারঃ কাদের   গত ৫ বছরে জেএসএস এমপি উন্নয়ন করতে পারেনি, যা করেছে আওয়ামীলীগ করেছে : দিপংকর তালুকদার   এখন থেকে সরকারি চাকরিতে যোগ দেওয়ার আগে মাদক পরীক্ষা বাধ্যতামূলক   'বান্দরবানে বিদেশি পর্যটকদের ভ্রমণে কোনো নিষেধাজ্ঞা নেই'   'নির্বাচনী প্রচারণায় রঙিন পোস্টার বা ব্যানার ব্যবহার করা যাবে না'   ৫৮টি নিউজ পোর্টাল খুলে দিয়েছে বিটিআরসি   বুধবার থেকে নির্বাচনী প্রচারণা শুরু করবেন প্রধানমন্ত্রী   বিএনপি ক্ষমতায় এলে শান্তি চুক্তি বাস্তবায়ন করার চেষ্ঠা করবো: মনি স্বপন দেওয়ান   তিন পাহাড়ে নৌকা নিয়ে মাঠে দৌড়াবেন যারা   আগামীকাল খালেদা জিয়ার অগ্নিপরীক্ষা   হিরোকে জিরো বানানো এত সহজ নয়, সফল হিরো আলমের চ্যালেঞ্জ   খাগড়াছড়িতে বনের রাজা পেয়েছেন ইউপিডিএফের প্রার্থী নতুন কুমার চাকমা
প্রচ্ছদ / আন্তর্জাতিক / মিয়ানমার সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে যুদ্ধের বিকল্প নেই বলেছেন রোহিঙ্গা স্যালভেশন আর্মি(আরসা)

মিয়ানমার সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে যুদ্ধের বিকল্প নেই বলেছেন রোহিঙ্গা স্যালভেশন আর্মি(আরসা)

প্রকাশিত: ২০১৮-০১-০৭ ১৮:২২:১৫

   আপডেট: ২০১৮-০১-০৭ ২১:৩৫:৫১

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

রোহিঙ্গা বিদ্রোহীদের সংগঠন অারাকান রোহিঙ্গা স্যালভেশন আর্মির (আরসা) মিয়ানমার সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে যুদ্ধের বিকল্প নেই বলে জানিয়েছেন।

তাঁরা জানান, রোহিঙ্গা সম্প্রদায়কে রক্ষা করার জন্য মিয়ানমারের রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায় যে সহিংসতা চলছে তার বিরুদ্ধে লড়াইয়ের কোনো বিকল্প নেই।

পাঁচ বছর আগে, শুরুতে রোহিঙ্গাদের নিয়ে ছোট আকারের প্রতিরোধ গড়ে তোলে আরসা। স্থানীয়ভাবে হারাকাহ আল-ইয়াকিন বা ধর্মীয় আন্দোলন বলে পরিচিত এই আরসা। এরপর তারা মিয়ানমারের নিরাপত্তা বাহিনীর ওপর দু’টি বড় ধরনের হামলা চালিয়েছে। গেল বছরের ২৫ আগস্টের হামলারও আগে ২০১৬  সালে অক্টোবরেও বড় একটি হামলা চালায় তারা।

সর্বশেষ গেল শুক্রবার (৫ জানুয়ারী) অন্তত ২০ জন জঙ্গি একসঙ্গে ঘরে তৈরি মাইন ও ছোট আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে আক্রমণ চালিয়েছে৷ আন্তর্জাতিক কয়েকটি সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে মিলিটারি ট্রাকে হামলা চালিয়ে কয়েকজন সেনাকর্মী মারাত্মকভাবে জখম হয়েছে।

এদিকে, আরাকান রোহিঙ্গা স্যালভেশন আর্মি (আরসা) সেনাবাহিনীর উপর হামলার দায় নিয়েছে৷

সরকারের পক্ষ থেকে দাবি করা হচ্ছে, তখনও প্রথমে আরসা সেনাবাহীনির ৩০টির বেশি চৌকিতে হামলা চালিয়েছিল৷ এরপরে রাখাইনে সেনা অভিযান শুরু করা হয়৷ এর জেরে লক্ষ লক্ষ মানুষ প্রাণভয়ে প্রতিবেশী বাংলাদেশের চট্টগ্রামে ঢুকে পড়েছেন৷ বহু মানুষের মৃত্যু হয়েছে৷

মিয়ানমার সেনাবাহিনীর এই অভিযানকে জাতিগত নিধনের চেষ্টা হিসেবে চিহ্নিত করে নিন্দা জানিয়েছে জাতিসংঘ। বৌদ্ধ সংখ্যাগরিষ্ঠ মিয়ানমার সরকার জাতিসংঘের এ অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে।

মিয়ানমারের মুসলীম ধর্মীয় নেতা উলামা আল হক জানান, আমরা (আরসা)সংগঠনের উপর আর ভরসা করিনা। তাদের দ্বারা এ সমস্যা সৃষ্টি হওয়ার পর থেকে এসব জগন্য ঘটনা ঘটেছে। তিনি অস্থিরতা সম্পর্কে বলেন, সেনাবাহিনীদের উপর (আরসার) হামলা করার কারণে সংঘাতময় পরিস্থির জন্য বাংলাদেশে লক্ষ লক্ষ রোহিঙ্গা পালিয়ে যেতে বাধ্য হচ্ছে।

রাখাইনে বসবাসরত কিছু হিন্দু ও আরাকান গ্রামবাসীরা জানায়, পূর্বে থেকে একটি রোহিঙ্গা সশস্ত্র গ্রুপ এই জায়গাতে বসবাসের জন্য হুমকি দিয়ে আসছে। 'আরসা' সমর্থকরা সেখানে গ্রামবাসীদের সতর্ক করে যে আগেবাগে গ্রাম ছাড়তে হবে না হলে যেকোন সময় মারাত্মক হামলা হতে পারে।

সরকারের রাষ্ট্রীয় পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, সে সময় মিয়ানমারের রাষ্ট্রীয় কাউন্সিলর ডি ফ্যাক্টো নেত্রী অংসান সুচি হুমকির ব্যাপারে জেনে এই অঞ্চলের দ্বন্দ্ব-সংঘাতপূর্ণ নিষ্পত্তির জন্য আন্তর্জাতিকভাবে আহ্বান জানান। তবে আরাকান রোহিঙ্গা স্যালভেশন আর্মি (আরসা)সংগঠনটি একটি বিবৃতি প্রকাশ করে যা এ ব্যাপারে তাদের উৎসাহ কম বলে বিবৃতি জানিয়ে দেয়।

হামলার পর থেকেই নতুন করে উত্তপ্ত হতে শুরু করেছে রাখাইন প্রদেশ৷ মিয়ানমারের সেনাবাহিনীরাও থেমে নেই বলে সংবাদ সংস্থা এএফপি জানিয়েছেন।

বৌদ্ধ সংখ্যাগরিষ্ঠ মিয়ানমারে মুসলিম রোহিঙ্গারা সংখ্যালঘু। মিয়ানমারের সবচেয়ে দরিদ্র রাজ্য হচ্ছে রাখাইন। রোহিঙ্গাদের নতুন প্রজন্ম চরমপন্থার দিকে ঝুঁকে পড়ায় রাখাইনের পরিস্থিতি আরও জটিল আকার ধারণ করছে।

এছাড়া আরসার বিরুদ্ধে হিন্দু বা বৌদ্ধদের মতো রাখাইনের অন্যান্য জাতিগোষ্ঠীদের হত্যার অভিযোগ রয়েছে। মিয়ানমার সরকারের তথ্য অনুযায়ী, গেল বছর ২৫ আগস্টের পর থেকে ৩৭০ রোহিঙ্গা সদস্যর পাশাপাশি অন্তত কয়েকশ অ-রোহিঙ্গা বেসামরিক মানুষ নিহত হয়েছে।

জানা যায়, আতাউল্লাহ নামের এক রোহিঙ্গা ব্যক্তির দ্বারা প্রতিষ্ঠিত হয় আরসা। আতাউল্লাহর জন্ম পাকিস্তানে, বেড়ে ওঠা সৌদি আরবে। তবে এই মুহূর্তে আরসার কাছে খুব বেশি আগ্নেয়াস্ত্র নেই, যা এশিয়ার অন্যতম বড় মিয়ানমার সেনাবাহিনীর জন্য হুমকি হয়ে উঠতে পারে। গেল বছর ২৫ আগস্টের হামলায় কয়েক হাজার রোহিঙ্গা অংশ নিয়েছিল। কিন্তু মাত্র এক ডজনের মতো নিরাপত্তাবাহিনীর সদস্যকে হত্যা করতে পেরেছে তারা। এর আগে, ২০১৬ সালে অক্টোবরের হামলায় আরসা ৯ পুলিশ সদস্যকে হত্যা করেছিল।

সূত্রঃ এএফপি ও সিডনি মর্নিং।

আপনার মন্তব্য

আলোচিত