শিরোনাম

  ২৪ ডিসেম্বর থেকে পার্বত্য এলাকাসহ মাঠপর্যায়ে সশস্ত্র বাহিনী মোতায়েন করা হবে   গ্রাম আদালতের একটি সফল গল্প   টেকনোক্র্যাট মন্ত্রীদের পদত্যাগের পর চার মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব বণ্টন   আগামী ২৪ ডিসেম্বর জেএসসি ও প্রাথমিক সমাপনীর ফল প্রকাশ   নির্বাচনকালীন ইউএনও-ডিসির স্বাক্ষরে শিক্ষকদের বেতন-ভাতা : শিক্ষা মন্ত্রণালয়   খালেদার মনোনয়ন বাতিলের বিরুদ্ধে হাইকোর্টের বিভক্ত আদেশ   'তিন পার্বত্য জেলায় ৩৮ টি ভোটকেন্দ্রে হেলিকপ্টার ব্যবহার করা হবে'   সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ন নির্বাচন নিশ্চিত করার আহ্বান ইউরোপীয় দেশগুলোর   তরুণ ও নারী ভোটাররাই আওয়ামী লীগের বিজয়ের প্রধান হাতিয়ারঃ কাদের   গত ৫ বছরে জেএসএস এমপি উন্নয়ন করতে পারেনি, যা করেছে আওয়ামীলীগ করেছে : দিপংকর তালুকদার   এখন থেকে সরকারি চাকরিতে যোগ দেওয়ার আগে মাদক পরীক্ষা বাধ্যতামূলক   'বান্দরবানে বিদেশি পর্যটকদের ভ্রমণে কোনো নিষেধাজ্ঞা নেই'   'নির্বাচনী প্রচারণায় রঙিন পোস্টার বা ব্যানার ব্যবহার করা যাবে না'   ৫৮টি নিউজ পোর্টাল খুলে দিয়েছে বিটিআরসি   বুধবার থেকে নির্বাচনী প্রচারণা শুরু করবেন প্রধানমন্ত্রী   বিএনপি ক্ষমতায় এলে শান্তি চুক্তি বাস্তবায়ন করার চেষ্ঠা করবো: মনি স্বপন দেওয়ান   তিন পাহাড়ে নৌকা নিয়ে মাঠে দৌড়াবেন যারা   আগামীকাল খালেদা জিয়ার অগ্নিপরীক্ষা   হিরোকে জিরো বানানো এত সহজ নয়, সফল হিরো আলমের চ্যালেঞ্জ   খাগড়াছড়িতে বনের রাজা পেয়েছেন ইউপিডিএফের প্রার্থী নতুন কুমার চাকমা
প্রচ্ছদ / আন্তর্জাতিক / মিয়ানমারে রোহিঙ্গা জঙ্গিদের হামলায় ৬ সেনা গুরুতর আহত , আরসার দায় স্বীকার

মিয়ানমারে রোহিঙ্গা জঙ্গিদের হামলায় ৬ সেনা গুরুতর আহত , আরসার দায় স্বীকার

প্রকাশিত: ২০১৮-০১-০৭ ১১:১২:০৪

   আপডেট: ২০১৮-০১-০৭ ২২:২৭:১৩

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

মিয়ানমার রাখাইনে জঙ্গি হামলায় ছয় সেনা আহত হয়েছে।

অন্তত ২০ জন জঙ্গি একসঙ্গে ঘরে তৈরি মাইন ও ছোট আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে আক্রমণ চালিয়েছে৷ আন্তর্জাতিক কয়েকটি সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে মিলিটারি ট্রাকে হামলা চালিয়ে কয়েকজন সেনাকর্মী মারাত্মকভাবে জখম হয়।

আল-জাজিরা জানায়,  আরাকান রোহিঙ্গা স্যালভেশন আর্মি (আরসা) জঙ্গিরা সেনাবাহিনীর উপর হামলার দায় নিয়েছে৷ মায়ানমারের সেনাবাহিনীর দাবি, বাংলাদেশ থেকে আসা রোহিঙ্গা জঙ্গি নেতৃত্ব এই হামলার পরিচালনা করেছে৷

বিস্ফোরণটি গত শুক্রবার জাতিগত আরাকানিজ গ্রাম, তোরেনের কাছে ঘটেছে। এটি উপকূলের উত্তরের অংশে মংডু থেকে প্রায় ৩০ কিলোমিটার দূরে।

সরকারের দাবি, তখনও প্রথমে আরসা জঙ্গিরা সেনা চৌকিতে হামলা চালিয়েছিল৷ এরপরে রাখাইনে সেনা অভিযান শুরু করা হয়৷ এর জেরে লক্ষ লক্ষ মানুষ প্রাণভয়ে প্রতিবেশী বাংলাদেশের চট্টগ্রামে ঢুকে পড়েছেন৷ বহু মানুষের মৃত্যু হয়েছে৷

আন্তর্জাতিক সংগঠনগুলির দাবি, জঙ্গি আক্রমণ ঠেকাতে রাখাইন প্রদেশে গণহত্যা চালাচ্ছে মায়ানমার সরকার৷ এর জেরে আন্তর্জাতিক মহলে তীব্র সমালোচিত হচ্ছে দেশটির সরকার৷

এদিকে হামলার পর থেকেই নতুন করে উত্তপ্ত হতে শুরু করেছে রাখাইন প্রদেশ৷ গত বছর অগস্ট মাস থেকে এলাকা রক্তাক্ত৷ রাখাইনের সংখ্যালঘু রোহিঙ্গা বিদ্রোহীরা বলেছেন, ‘রোহিঙ্গা সম্প্রদায়কে রক্ষা করার জন্য মিয়ানমারের রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায় যে সহিংসতা চলছে তার বিরুদ্ধে লড়াইয়ের কোনো বিকল্প নেই।

বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গা শরণার্থীদের ফিরিয়ে নিতে নিয়ে ঢাকা ও নেপিদের মধ্যে কূটনৈতিক তরজা চরমে উঠেছিল৷ সম্প্রতি রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নিতে রাজি হয়েছে মায়ানমার সরকার৷ ধাপে ধাপে এই প্রক্রিয়া চালু থাকবে বলেই জানানো হয়েছে৷

আরাকান আর্মি জানিয়েছে, রাখাইনে সহিংতার জেরে আমাদেরকে আন্তর্জাতিক ফাঁদে পরিণত করতে চেয়েছিল কিছু গোষ্ঠী। রাখাইনে যখন রোহিঙ্গাদের সাথে সংঘর্ষ হয় তখন মিয়ানমার সেনাবাহিনী এবং আরাকান আর্মিদের সাথে এসব মহল বিশ্বের মধ্যে একটি বিভাজক সম্বন্ধ তৈরি করতে চেয়েছিল।

তারা জানায়, মিয়ানমারে রাখাইন রাজ্যে সহিংস ঘটনায় 'আরাকান আর্মির' কোন জড়িত ছিলনা। সরকারী বাহিনীর চৌকির উপর হামলার ব্যাপারে সংগঠনটি বলেন, মিয়ানমার সামরিক নেতারাও সরকারের সদস্য ছিলেন। তারা বার বার দাবি করে যে আরাকান রোহিঙ্গা স্যালভেশন আর্মি (এআরএসএ) এর সাথে তাঁদের একটি জোট ছিল। যা গেল বছর আগস্ট মাসে সরকারি চৌকিদারদের বিরুদ্ধে হামলা্র ঘটনায় বিদ্রোহীদের সাথে রাখাইনের সর্বশেষ সংকটের সূত্রপাত হয়।

ইউ মগ জি টুন নামে এক ব্যক্তি বলেন , মিয়ানমার সেনাবাহিনীর ক্লিয়ারেন্স অপারেশনের সময় রাখাইনে অনেক ঘরবাড়ি দুর্বৃত্তদের হামলায় পুড়ে যায়।

'আরসা' সশস্ত্র অভিযানের সংঘর্ষের পর ও মংডু জেলাতে শত শত মুসলমান গ্রামবাসী থাকত। এছাড়াও বুডদং টাউনশিপের কাছাকাছি প্রায় ৭০০ গ্রামবাসী সেখানে আশ্রয় চেয়েছিল।

গেল বছর অক্টোবরের প্রথম দিকে মংডু শহরের একটি সরকারী কূটনৈতিক সফরের সংবাদ মাধ্যম ইরাবতিকে সেখানে আমন্ত্রণ জানানো হয়। কিছু হিন্দু ও আরাকান গ্রামবাসীরা জানায়, পূর্বে থেকে একটি রোহিঙ্গা সশস্ত্র গ্রুপ এই জায়গাতে বসবাসের জন্য হুমকি দিয়ে আসছে। 'আরসা' সমর্থকরা সেখানে গ্রামবাসীদের সতর্ক করে যে আগেবাগে গ্রাম ছাড়তে হবে না হলে যেকোন সময় মারাত্মক হামলা হতে পারে।

সে সময় মিয়ানমারের রাষ্ট্রীয় কাউন্সিলর ডি ফ্যাক্টো নেত্রী অংসান সুচি হুমকির ব্যাপারে জেনে এই অঞ্চলের দ্বন্দ্ব-সংঘাতপূর্ণ নিষ্পত্তির জন্য আন্তর্জাতিকভাবে আহ্বান জানান। তবে গেল বছর ২৭ নভেম্বর মিয়ানমার আরাকান রোহিঙ্গা স্যালভেশন আর্মি (আরসা)সংগঠনটি একটি বিবৃতি প্রকাশ করে যা এ ব্যাপারে তাদের উৎসাহ কম বলে বিবৃতি জানিয়ে দেয়।

এছাড়াও কূটনৈতিক ব্রিফিং এ টেলিভিশনের ভাষণে অং সান সুচি মুসলমান ধর্মীয় নেতাদেরকে রাখাইন রাজ্যের সরকারের সমন্বয় প্রচেষ্টায় অংশগ্রহণের পাশাপাশি জাতীয় যাচাইকরণ কার্ড (এনভিসি) জন্য মুসলমানদের আবেদন করতে আহ্বান জানান।

গ্রুপের বিবৃতিতে মিয়ানমারের মুসলমানদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলা হয়েছে যে বিদ্যমান আইন অনুযায়ী কর্তৃপক্ষ কর্তৃক প্রদত্ত অন্তত একটি পরিচয়পত্র সবাইকে দেখাতে হবে।

আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম অনুযায়ী, এজন্য সরকারের সাথে মত মতৈক্য না হওয়ার সেখানে দ্বন্ধ স্থাপন হয়েছে। বিগত বছর ২০১৬ অক্টোবর এবং আগস্ট ২০১৭ সালের মধ্যে সেখানে রোহিঙ্গা জঙ্গি গোষ্ঠী একের পর এক হামলা চালাতে থাকে। যা অনেক রক্তসংঘাতময় শিকার হয়েছেন।

ধর্মীয় নেতা উলামা আল হক জানান, আমরা (আরসা)সংগঠনের উপর আর ভরসা করিনা। তাদের দ্বারা এ সমস্যা সৃষ্টি হওয়ার পর থেকে এসব জগন্য ঘটনা ঘটেছে। তিনি অস্থিরতা সম্পর্কে বলেন, যার কারণে তাদের সংঘাতময় পরিস্থির জন্য বাংলাদেশে লক্ষ লক্ষ রোহিঙ্গা পালিয়ে যেতে বাধ্য হচ্ছে।

আপনার মন্তব্য

আলোচিত