শিরোনাম

  মিয়ানমার পাহাড়ী অঞ্চলে পাহাড় ধসে ৬ জনের মৃত্যু   বাঙালি জাতির মুক্তির জন্যই আ. লীগ প্রতিষ্ঠা হয়েছিল: প্রধানমন্ত্রী   উত্তর কোরিয়ার আচরণে এখনো ভীত ট্রাম্প !   আজ জার্মানির অগ্নি পরীক্ষা, মুখোমুখি হবে সুইডেনের সাথে   সুইজারল্যান্ড জয় পাওয়ায় এক ধাপ এগিয়ে গেল ব্রাজিল   সার্বিয়াকে হারিয়ে সুইজারল্যান্ডের জয়   ত্রিপুরা কিশোরীর ৫ ধর্ষককের মধ্যে ৩ জন স্বীকার করেছে   আইসল্যান্ডকে ২-০ গোলে হারালো নাইজেরিয়া   আইসল্যান্ডের পরাজয়ে দ্বিতীয় রাউন্ডের পথে আর্জেন্টিনার আশা   ধরা পড়েছেন নেইমার!   রোমারিওকে ছাড়িয়ে গেলেন নেইমার   রাঙ্গামাটি থেকে আসা পাহাড়িকা পরিবহনের বাস চট্টগ্রামে খাদে পড়ে নিহত ৪, আহত ২০   নেইমারের মনের আশা পূরণ হলো   নেইমার আর কৌতিনহোর গোলে ব্রাজিলের বিশাল জয়   খাগড়াছড়িতে ত্রিপুরা কিশোরীর ৫ ধর্ষককে ৫ দিনের রিমান্ড   গৃহযুদ্ধের এত বছর পর দুই কোরিয়ার মিলনমেলা   মেসিরা গোল করতে না পারায় কাঁদলেন ম্যারাডোনা   `উপেক্ষিত জনগোষ্ঠীর নাম আদিবাসী’- এমপি বাদশা   আজ আমরাই জিতবো : নেইমার   ক্রোয়েশিয়ার দুর্দান্ত খেলায় ডুবে গেল আর্জেন্টিনা , ম্যারাডোনা হতাশ
প্রচ্ছদ / আন্তর্জাতিক / যুদ্ধের কারণে মিয়ানমারে ১০০০ অধিক আদিবাসী জনগোষ্ঠী ঘরছাড়া হয়েছে

যুদ্ধের কারণে মিয়ানমারে ১০০০ অধিক আদিবাসী জনগোষ্ঠী ঘরছাড়া হয়েছে

প্রকাশিত: ২০১৮-০১-০৫ ২২:০৭:১৯

   আপডেট: ২০১৮-০১-০৫ ২২:১৭:১৪

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

কাচিন ও শান অঞ্চলে যুদ্ধ সংঘটিত হওয়ার পর থেকে ঘরছাড়া হয়েছেন সে অঞ্চলের বসবাসরত অনেক আদিবাসী তথা উপজাতি সম্প্রদায়। এদেরকে বিভিন্ন শরণার্থী শিবিরে আশ্রয় দেওয়া হয়েছে।

কাচিন রাজ্য, মানসি ক্যাম্পে শরণার্থীদের সাহায্যকারী স্বেচ্ছাসেবকরা জানান , তাদেরকে ঠিকঠাকভাবে আশ্রয় দিতে হলে প্রয়োজনীয় ত্রাণ সরবরাহ প্রয়োজন।   

(কিউকমি জিভিটা সামাজিক) সংগঠনের 'টিন মং টেন ' বলেন, চারটি ক্যাম্পে ১০০০ হাজার নতুন শরণার্থীদের জন্য জরুরি খাদ্য ও কম্বল প্রয়োজন।

বর্তমানে ১ হাজারের বেশী সংখ্যক 'কিউকমি'তে চারটি ক্যাম্পে উদ্বাস্তুরা আশ্রয় নিয়েছে। চ্যারিটি সংগঠনটি তাদেরকে প্রয়োজনীয় খাদ্য ও ত্রাণ সরবরাহ করে যাচ্ছে। তিনি 'মিজিমা' কে বলেন, প্রথমে শরণার্থীদের খাদ্য এবং কম্বল প্রয়োজন।

সংবাদ মাধ্যম মিজিমা জানায়, সে অঞ্চলে যুদ্ধের কারণে গেল বছর ২৪ ডিসেম্বর ২০১৭ থেকে এই পর্যন্ত হাজারের অধিক অধিবাসী পালিয়েছে এবং বিভিন্ন স্থানে আশ্রয় নিয়েছে।

'টিন মং টেন' আরো বলেন, (তা আং ন্যাশনাল লিবারেশন আর্মি) সে অঞ্চলে নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। তবে সরকারী দল (থাদমাদো) এবং (তা আং ন্যাশনাল লিবারেশন আর্মি)র সাথে যুদ্ধ তেমন কড়াকড়িভাবে হচ্ছেনা।  

শুধু মাত্র বন্দুকধারীরা তীব্র হয়ে উঠে, যাতে অধিবাসীরা সেখান থেকে পালিয়ে যায়। এতে ভয়ে গ্রামছাড়া হয়েছেন।

রিপোর্ট অনুযায়ী, ডিসেম্বরের শেষের দিকে উত্তরাঞ্চলের শান রাজ্যে নামসান, কিউমিকে, নামটু, নামখাম, মংটন টাউনশিপ ইত্যাদি গ্রামে দুই গ্রুপ যুদ্ধ অবস্থায় রয়েছে।

একইভাবে কাচিন রাজ্যে (কাচিন ইন্ডিপেন্ডেন্স আর্মি) ও মিয়ানমার সরকারী বাহিনীদের সাথে উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতি রয়েছে।


আরো পড়ুন,


মিয়ানমারে আদিবাসী অধিকার ও সরকারের বনভূমি পরিকল্পনা:

মিয়ানমারে স্থানীয় সামাজিক সংগঠন (সিএসও) চায় এই অঞ্চলে বসবাসরত আদিবাসী তথা উপজাতিদের ভূমির অধিকারসহ আনুষ্ঠানিকভাবে নাগরিকদের সাংবিধানিক স্বীকৃত দিয়ে সংস্কৃতি রক্ষা করা। মিয়ানমারে ৮ টি আদিবাসী জাতিগোষ্ঠী রয়েছে। তারমধ্যে প্রধান জাতিদের 'বামর' বলে আখ্যায়িত করা হয় এবং বাকীদের কাচিন, কেইন, কেয়াহ, শিন, মোন,শান,রাকিন বলে অভিহিত করা হয়।

সরকার কার্বন নিঃসরণ মোকাবেলার জন্য প্যারিসে জলবায়ু-পরিবর্তন শোধন সংক্রান্ত চুক্তির বাস্তবায়নের জন্য কর্ম পরিকল্পনা এবং যাতে আদিবাসীদের বনভূমি সংরক্ষণ করা যায় প্রকল্পগুলির জন্য পথ তৈরি করে দেওয়ার চেষ্ঠা চালাচ্ছে।

জাতিসংঘ জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক কনভেনশন (ইউএনএফসিসিসি) কর্তৃক আদিবাসীদের সর্বোত্তম সহায়তা এবং অধিকার হিসেবে অংশীদারিত্বের জন্য আইনত একটি প্ল্যাটফর্ম অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

এটি ২০১৫ সালে আন্তর্জাতিক সম্মেলনে প্যারিসে চুক্তির অংশ হিসেবে এটি অনুমোদিত হয় । এছাড়াও জার্মানীর বোন শহরে গেল বছর কৌশলগত পরিকল্পনা, পদ্ধতি এবং কাঠামো প্ল্যাটফর্ম সহ তা বাস্তবায়নের উদ্দেশ্য সুপারিশগুলি জমা দেওয়া হয়েছিল।

মিয়ানমারের সামাজিক সংগঠনের কিছু দলও তথা শিন জাতিগোষ্টীদের দ্বারা পরিচালিত (শিন হিউম্যান রাইটস অর্গানাইজেশন) গেল বছর জার্মানি বোন শহরে আদিবাসীদের সামাজিক জীবন-বৈচিত্র উন্নয়নের লক্ষ্যে গেল বছর ৬ নভেম্বর বন সম্মেলনে যোগদান করেছে ।

মিয়ানমারের সংবাদমাধ্যম ইরাবতির সাথে সম্মেলনে অংশগ্রহণ করা এক প্রতিনিধির সাক্ষাৎকারে (মাই টিন ইউ মুন) সে জানায়, মূলত আদিবাসীদের জীবন-মান উন্নয়ন সহ তথা তাদের চিরাচরিত ঐতিহ্যে লালিত বৈচিত্র এই জনগোষ্ঠি সমূহের জীবন ও সংস্কৃতি যাতে সংরক্ষণ করা যায় সেজন্য স্থানীয় সরকার এবং সামাজিক সংগঠগুলো দ্বিপার্শ্বিকভাবে কাজ করছে।

তিনি আরো জানান, (শিন হিউম্যান রাইটস অর্গানাইজেশন) এর প্রতিনিধি বহু বছর ধরে জাতিসংঘ জলবায়ু পরিবর্তন কনফারেন্সে অংশ নিচ্ছেন।

কার্বন নির্গমন কমানোর জন্য ২০১৫ সালে মিয়ানমার - ন্যাশনাল ডিট্রিমান্ড কমিটিমেন্ট (এনডিসি) কে একটি খসড়া দাখিল করে। যেখানে ভবিষ্যত বছরগুলির কথা চিন্তা করে জলবায়ু-পরিবর্তন শোধন এবং অভিযোজনগুলির উপর লক্ষ্যগুলির রূপরেখা প্রদান করা হয়। গ্লোবাল ফরেস্ট রিসোর্সেস অ্যাসেসমেন্টস ২০১৫ সালের রিপোর্ট অনুযায়ী মিয়ানমারের সম্পূর্ন বনভূমি ২৫ বছর আগে নাটকীয়ভাবে ৬০ শতাংশ নিচে নেমে এসেছে।  

২০১০ এবং ২০১৫ সালের মধ্যে মিয়ানমারের বার্ষিক বনের হার পূর্বাভাসে ছিল ১.৭ শতাংশ। যা বছরে প্রায় ৫৪৬০০০ হেক্টর বনের ক্ষতি হয়েছে। "এক দশকের মাঝামাঝি সময়ে পৃথিবীর তৃতীয় বৃহত্তম ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছে সেখানে।

এরপর মিয়ানমার সরকার বনভুমির উপর দেশব্যাপী একটি অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে এবং বাগো ইয়োমা অঞ্চলের এক দশক ধরে নিষেধাজ্ঞার জারি করে ২০১৪ সাল পর্যন্ত চলতে থাকে।

ফলে বর্তমানে রাজ্যে বনভূমির সম্পদ বৃদ্ধি পেয়েছে, যার মধ্যে- কৃষি আবাদ, বড় আকারের শিল্পকৌশল রেনেসমেন্ট যেমন(প্রধানত তেলের পাম এবং রাবার) কাঠের সংগ্রহস্থল, জ্বালানি কাঠের সংগ্রহ এবং কাঠকয়লা উৎপাদন ক্ষমতা বৃদ্ধি পেয়েছে।

মিয়ানমারের বনসংরক্ষণ পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়(এনডিসি) সেই অঞ্চলে বসবাসরত আদিবাসী তথা উপজাতিদের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে যে, যারা সেখানে চাষাবাদ করে জীবিকা নির্বাহ করে আসছে তাদের সম্পত্তি যাতে জাতিগতভাগে সংরক্ষণ করা যায় সে লক্ষে বিভিন্ন পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে।

তবে আদিবাসীদের অধিকার সংরক্ষণে রাজনৈতিক কোন্দলে উপদ্রব তথা ঝামেলাও রয়েছে। কারণ স্থানীয় সামাজিক সংগঠন এসব জনগোষ্টির জীবনমান উন্নয়নের জন্য কাজ করলেও কিছু কিছু সংক্রান্ত সরকারের উদাসীনতা রয়েছে।

মিয়ানমারের সংবাদ মাধ্যম ইরাবতি আরো জানায়, গেল বছর সেপ্টেম্বর মাসে স্থানীয় কাচিন অঞ্চলের বসবাসরত জনগোষ্টীর সাথে ভূমি মন্ত্রনালয় ভূমি অধিকার ও সংরক্ষণের জন্য বৈঠক করে । কর্তৃপক্ষ সিদ্ধান্ত অনুযায়ী স্থানীয়রা তখন ভবিষ্যতে ভূমি ক্ষতি সম্পর্কে উদ্বিগ্ন ছিল।

মিয়ানমার এনডিসি সংস্থা প্যারিসে আদিবাসীদের কল্যাণে যে চুক্তি সম্পাদিত হয়েছিল সেখানে , বনভূমি সংরক্ষণসহ, দীর্ঘমেয়াদী অগ্রাধিকার, কর্ম পরিকল্পনা এবং জীব বৈচিত্র্যে সংরক্ষণ সম্পর্কে লিপিবদ্ধ করা হয়েছিল। তা শর্তসাপেক্ষের বিষয়ও উল্লেখ ছিল। কিন্তু প্রোগ্রাম ব্যবস্থাপক 'হিলা ডোই' বলেন এখানে আদিবাসীদের চিরাচরিত অধিকারের কথা বলা হয়নি।

এছাড়াও একটি পয়েন্টভিত্তিক রিপোর্ট বিশ্লেষণ উদ্দেশ্যে প্রদান করা হয়। এটি মিয়ানমার মনিটর পরিচালনার অধীনে পরিকল্পনা অনুযায়ী রিপোর্টে এ বলা হয়েছে- দেশের স্থায়ী বনজ সম্পদের জন্য ৩০ শতাংশ এবং ১০ শতাংশ যথাক্রমে জমির আওতাধীন রক্ষিত বন ও সংরক্ষিত বনাঞ্চল হিসেবে থাকবে।

যা ২০২৫ এবং ২০৩০ সালের মধ্যে বনজনিত হ্রাসের ৩০% করার লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে যথাক্রমে ১০.১ মিলিয়ন এবং ১৬.৮৬ মিলিয়ন মেট্রিক টন হবে। বর্তমান গড় বিশ্বব্যাপী CO2 মূল্য প্রতি টন ৫ মার্কিন ডলার , মিয়ানমার ২০২৫ সালের মধ্যে প্রায় ৫১ মিলিয়ন মার্কিন ডলারে দাঁড়াবে ।

তবে পিপিয়াইয়ের রিপোর্টে বলা হচ্ছে, বনভুমির উপর নির্ভরশীল স্থানীয় জনগোষ্ঠী ও স্থানীয় সম্প্রদায়ের অধিকারকে এখনো স্বীকৃতি দেওয়া হয়নি।

এ বিষয়ে প্রতিনিধি হিলা ডোই বলেন, আদিবাসী মানুষেরা প্রাকৃতিক সম্পদ বনভূমির উপর নির্ভরশীল এজন্য ভূমি-দখল বন্ধ করতে হবে।তা না হলে জলবায়ু পরিবর্তনের মোকাবেলায় ব্যাঘাত ঘটবে।

আন্তর্জাতিক পর্যায়ে ধাক্কাঃ জলবায়ু পরিবর্তনের আন্তর্জাতিক আদিবাসী ফোরাম (আইআইএফসিসি), সারা বিশ্বে আদিবাসী মানুষের সমষ্টিগত অধিকার সংক্রান্ত গত সেপ্টেম্বরে কানাডায় এ বিষয়ে একটি খসড়া বিবৃতি তৈরি করেছে। আইআইএফএফসি ও সিএসও গ্রুপগুলি খসড়াটিকে কপোশে নিয়ে আসে এবং আদিবাসী প্ল্যাটফর্ম ও একটি বিস্তারিত পরিকল্পনার উপর চুক্তিতে পৌঁছানোর আশা নিয়ে সরকারি কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা করেছে।

এই ধরনের পদক্ষেপের দৃষ্টিভঙ্গি নিরবচ্ছিন্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে, বিশেষত এশিয়ায় কয়েকটি , যেখানে এই ধরনের জনগোষ্টির অধিকার রক্ষায় সরকারগুলো একটু আগ্রহ দেখিয়েছে।

এই সমস্যাটি মিয়ানমারে সংবিধানের ২০০৪ সালে "আদিবাসীদের" পরিবর্তে "জাতিগত লোক বা এথনিক" উল্লেখ করতে বলা হয়েছে।

হিল দোই বলেন, "সরকার স্বদেশীয় অধিকারগুলির মধ্যে খুব বেশি আগ্রহী নয় কারণ তারা তাদের আইনানুগ নীতি পরিবর্তন করতে চায় না,"

যাইহোক, বিশ্বে কিছু ধনী দেশ বিশেষ করে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং ইউরোপের লোকেরা, আদিবাসীদের জন্য অনায়াসসাধ্যতা একটি বিশ্বব্যাপী প্রক্রিয়া সমর্থন করেছে এমনকি আদিবাসী অধিকার বিশেষজ্ঞগণও এই বিষয়ে আলোচনা করার জন্য সরকারি প্রতিনিধিদের যোগদানের অনুমতি দিয়েছে।

মাই থিন ইউ বলেন, আমরা জাতিসংঘের অধীনে একটি আধিকারিক সংস্থা হিসাবে স্বীকৃত হতে চাই, যেখানে আদিবাসী জনগণের অধিকার সম্পর্কিত জাতিসংঘের সাথে সহজে পরামর্শ নিতে পারে।

সূত্রঃ মিজিমা ও ইরাবতি।

আপনার মন্তব্য

আলোচিত