শিরোনাম

  বেসরকারি ইক্যুইটি আসছে ভুটানে   কক্সবাজারে হিন্দু সম্প্রদায়ের একই পরিবারের চারজনের মৃতদেহ উদ্ধার   ঢাকা সিটিতে নির্বাচন না হলে পেছাবে না এসএসসি পরীক্ষা   কুমিল্লায় উদ্ধার করা হলো ৩শ’ বছর পুরোনো মূল্যবান বৌদ্ধ মন্দির সদৃশ নকশা   নিউজিল্যান্ডের নতুন চমক বেন হুইলার   রাখাইনে সহিংসতার পর শত শত স্কুল বন্ধ   চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সম্মানসূচক ডি.লিট ডিগ্রি পেলেন প্রণব মুখার্জি   রোহিঙ্গাদের জন্য আশ্রয়কেন্দ্র বানাচ্ছে মিয়ানমার   ২ বছরের মধ্যে রোহিঙ্গারা ফিরে যাবে, রূপরেখা চূড়ান্ত   আগামী ১৬ ফেব্রুয়ারী ঢাকাতে ' কাচালং ওয়েলফেয়ার সোসাইটি'র' এক যুগপূর্তি উপলক্ষ্যে জুম্মদের পুনর্মিলনী ও বনভোজন   আদিবাসী নারীদের মধ্যে প্রথম পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করলেন রূপানন্দা   ১০ বছর পর বেনজির ভুট্টোর হত্যার দায় স্বীকার করেছে তালেবান   আজ চবিতে যাচ্ছেন প্রণব মুখার্জি   মানুষের মনের ও চিন্তার দূষণ দূর করতে হবে : প্রণব মুখার্জি   ২ এপ্রিল থেকে এইচএসসি পরীক্ষা শুরু   বড় মহাপূরম উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত   জিম্বাবুয়েকে ৮ উইকেটে হারিয়ে ত্রিদেশীয় সিরিজে উড়ন্ত সূচনা বাংলাদেশের   পার্বত্য অঞ্চলে পাহাড়িদের নতুন আতঙ্কের নাম, পাহাড়িরা 'বার্মাইয়া' : রুমা দেওয়ান   বাগদাদে ভয়াবহ দুই আত্মঘাতী বোমায় নিহত ২৬, আহত ৯০   ১০ হাজার কনস্টেবল নিয়োগ স্থগিত
প্রচ্ছদ / আন্তর্জাতিক / তিব্বতীয় মুসলমানরা দালাই লামাকে এখনো নেতা হিসেবে মনে করে

তিব্বতীয় মুসলমানরা দালাই লামাকে এখনো নেতা হিসেবে মনে করে

প্রকাশিত: ২০১৭-১২-১২ ১৭:২৭:২৯

   আপডেট: ২০১৭-১২-১৩ ১৫:৫০:৩৩

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তিব্বতের আধ্যাত্মিক নেতা দালাই লামা প্রায় সময় বলে থাকেন মুসলিম বা খ্রিস্টান জঙ্গি বলে আসলে কিছু হয় না। কেউ যখন সন্ত্রাসকে আঁকড়ে ধরে, তখন তার কোনো ধর্ম থাকে না। যখন কেউ সন্ত্রাসী হয়ে যায়, সেই মুহূর্ত থেকে সে মুসলিম, খ্রিস্টান বা অন্য যে ধর্মেরও হোক না কেন, তা থেকে বিচ্যুত হয়।

তার মত, যখনই কোনও ব্যক্তি সন্ত্রাসের সঙ্গে যুক্ত হচ্ছে, তখনই সে ধর্মচ্যুত হচ্ছে। তাই মুসলিম বা খ্রিস্টান জঙ্গি বলে কিছু হয় না। কারণ সন্ত্রাসীর কোনও ধর্ম হয় না। তার বক্তব্য, পৃথিবীর সমস্ত সমস্যার  মূলে আসলে মানুষই।

চলুন জেনে নেওয়া যাক দালাই লামা আর তিব্বতের মুসলিম সম্প্রদায়ের মধ্যে সম্পর্ক।

তিব্বতে মুসলিম সম্প্রদায় প্রায় ১০০০ বছর ধরে সেখানে বাস করে আসছে। কথিত আছে, প্রায় ১০০০ বছর আগে ১২ শতকের মাঝামাঝি এক দল মুসলিম সম্প্রদায় কাশ্মীর এবং লাদা থেকে বণিক হিসেবে সেখানে তাঁদের আগমন ঘটে। পরে তিব্বতের সরকার কর্তৃক তাঁরা নাগরিক ও বসবাসের স্বীকৃতি পান।

সেই থেকে এসব মুসলিম সম্প্রদায়ের ব্যবসায়ীরা তিব্বতে বসতি স্থাপন করে এবং তিব্বতিয়ান নারীদের বিয়ে করে স্থায়ী হয়। পরে অবশ্য তিব্বতের নারীরা স্বামীর আড়ালে ধর্মান্তরিত হয়েছে। ফলে মসজিদ নির্মাণ করা, স্কুল এবং তাদের নিজস্ব জীবন-জীবিকার সুব্যবস্থা ইত্যাদি মেলে।

তিব্বতে মুসলমানরা স্থানীয় তিব্বতি অধিবাসীদের সাথে বহু বছর ধরে শান্তিপূর্ন সহিত বসবাস করে আসছে। এই কারণে মুসলিম হিসেবে সেখানে তাদের নিজস্ব পরিচয় বজায় রাখতে সক্ষম হয়েছে।

চীনা আগ্রাসনের পরও তিব্বতে মুসলিম সম্প্রদায় জাতীয় সংকটের একই ভাগ্যকে মোকাবিলা করেছে।

চীনা আগ্রাসনের সময় তারা তিব্বতের কাছাকাছি পালিয়েছে । পরে ভারতে কাশ্মীরে তাদের পূর্বপুরুষ রাষ্ট্রতে স্থায়ীভাবে বসবাসের জন্য আশ্রয় খোঁজে।

লক্ষ্যণীয় বিষয় যে, তিব্বতে মুসলমানরা আধ্যাত্মিক নেতা দালাই লামাকে তাদের নেতা হিসাবে সম্মান করে। তাঁদের বিশ্বাস একমাত্র দালাই লামা একজন পবিত্রতাবাদী হিসেবে গুণী ব্যক্তি।

সেসময় ঐতিহাসিকভাবে দালাই লামা মুসলিম বণিকদের তিব্বতে থাকার অনুমতি দিয়েছিলেন এবং তাদেরকে মসজিদ ও কবরস্থানের জন্য লাসায় ভূমি দান করার সুযোগ দিয়েছিলেন।

তবে সেখানে বেশীরভাগ বৌদ্ধ বিধি মেনে চললেও মুসলিমদের কিছু সুবিধা বা ছাড় দেওয়া হত। যেমন- মাংস খাওয়া, জবাই করা ইত্যাদি।

দালাই লামাও এখনো সেসব সম্প্রদায়ের প্রতি অটল ভালবাসা দেখিয়েছেন এবং সর্বদা তাদের কথা বলে থাকেন। এজন্য তাঁকে তীব্বতীয়-কাষ্মীর মুসলিম সম্প্রদায় ও এখনো ভুলতে পারেনি। তাঁকে নেতা হিসেবে সম্মান করে।

তিব্বত আন্দোলনের সময় তিব্বতীয় মুসলিম সম্প্রদায় সংগ্রামে নিবিড়ভাবে অংশগ্রহণ করেছিলেন।তারা তিব্বত যুব কংগ্রেসের সম্মেলনগুলোতে ও অংশগ্রহণ করেছিলেন এবং সেখানে তারা নিজেদের প্রতিনিধি পার্লামেন্টে দাঁড়ানোর সক্ষমতার সুযোগ পেয়েছিলেন।

বেশিরভাগ তিব্বতি মুসলিম জনগণ তাদের কাশ্মীরের নিজস্ব সম্প্রদায়ের মধ্যে লালিত নিজস্ব ভাষা এবং পরিচয় সংরক্ষণ করে, তিব্বতকে তাদের প্রাথমিক ভাষা হিসাবে ব্যবহার করে থাকে।

এর আগে তিব্বতের আধ্যাত্মিক নেতা দালাই লামা বলেছেন, তিনি মনে করেন তিনিই হয়ত শেষ দালাই লামা। তাঁর মৃত্যুর পর দালাই লামা পদে নতুন কারও আসার বিষয়টি ভবিষ্যত পরিস্থিতি ও তিব্বতের সাধারণ মানুষের ওপর নির্ভর করবে।

চলতি বছর ২ ডিসেম্বর বিশ্বের শান্তি কামনায় বারাক ওবামা ও আধ্যাত্মিক নেতা দালাই লামা দিল্লীতে সাক্ষাত করেছেন। উভয় নেতাই বিশ্বশান্তি আনয়নে উৎসাহিত করার উদ্দেশ্যে আলোচনা করেছেন।

উল্লেখ্য, ১৯৫৯ সালের ১০ মার্চ শুরু হয়েছিল তিব্বতে চীনা দখলদারির বিরুদ্ধে এক অভ্যুত্থান। তার পরিণতিতে দালাই লামা এবং হাজার হাজার তিব্বতীকে সীমান্ত পেরিয়ে ভারত পালাতে হয়েছিল।

সেই অভ্যুত্থানের সময় লাসায় তিব্বতীদের প্রতিরক্ষার আয়োজনের দায়িত্বে ছিলেন নাওয়াং টংডক নাকেট।

১০ই মার্চ ভোরবেলা। নাওয়াং টংডক নাকেট যাচ্ছেন নবলিংকায় দালাই লামার বাসভবনে, তাকে দেখা দেথা করার জন্য ডাক পাঠিয়েছেন তিব্বতীদের সর্বোচ্চ আধ্যাত্মিক গুরু।

তিনি দেখলেন, নবলিংকার পথে চলেছেন আরো হাজার হাজার লোক। তারা শ্লোগান দিচ্ছেন, "চীনারা চীনে ফিরে যাও।আমাদের চীনাদের কোন দরকার নেই।"

নাকেট ছিলেন দালাই লামার নেতৃত্বাধীন কাউন্সিলের একজন সদস্য। সেদিনই দালাই লামাকে চীনাদের প্রধান ঘাঁটিতে একটি নাটক দেখার জন্য আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কিন্তু তাকে বলা হয়েছে দেহরক্ষী নিয়ে না আসতে। তিব্বতীরা সন্দেহ করলেন - হয়তো এটা তাকে আটক করার জন্য পাতা একটা ফাঁদ।

দালাই লামা সবাইকে শান্ত থাকতে বললেন। তিনি নাকেটকে লাসায় ফেরত পাঠিয়ে দিলেন, আর বলে দিলেন, চীন যদি কোনভাবে লাসার বিক্ষোভকারীদের ওপর চড়াও হয় – তাহলে তা মোকাবেলার জন্য প্রস্তুতি নিতে।

লাসা শহরে দোকানপাট বন্ধ, রাস্তা ফাঁকা। শহরের গুরুত্বপূর্ণ ভবনগুলো চীনাদের দখলে। নাকেট এবং তার সাথীরা চীনা সামরিক অভিযান ঠেকানোর ব্যবস্থা গড়ে তুললেন। তারা বুঝতে পারছিলেন, আক্রমণ অবধারিত।

কয়েকদিন ধরে একটা অচলাবস্থা চললো। এরই মধ্যে দালাই লামা সীমান্ত পেরিয়ে ভারতে চলে গেলেন।

১৯ তারিখ এ খবর জানার পর চীনারা গুলি চালাতে শুরু করলো এবং তখনই সত্যিকার অর্থে শুরু হয়ে গেল তিব্বতীদের অভ্যুত্থান। চীনা বাহিনীর গুলিবর্ষণে বহু লোক নিহত হলো।

নাকেট তার চোখের সামনেই একটি হত্যাকান্ড দেখলেন।পরে তিনি নিজে দীর্ঘদিন ভারতে নির্বাসিত জীবন কাটালেন। চীনের সবকিছুই তখন নাকেট ঘৃণা করতেন। যদিও পরে ধীরে ধীরে তার সেই মনোভাবের পরিবর্তন হয়।

চীনের কমিউনিস্ট সরকার যুক্তি দিতো যে তিব্বতের পশ্চাৎপদ সামন্ততান্ত্রিক পদ্ধতির কারণে দরিদ্র তিব্বতীরা নিগৃহীত হচ্ছে, এবং তাদেরকে মুক্ত করা দরকার। কিন্তু স্বাধীনচেতা তিব্বতীরা চীনকে দেখতো দখলদার হিসেবে – যারা তিব্বতের সংস্কৃতি ও ধর্মের প্রতি হুমকি।

উল্লেখ্য যে, ১৯১১ খ্রিষ্টাব্দে চিং রাজবংশের পতন হলে চীনের নতুন সরকার তিব্বতের দিকে নজর দিতে ব্যর্থ হন।এই সময় তিব্বতীরা বিদ্রোহ ঘোষণা করে পুনরায় তিব্বতের অধিকার কেড়ে নিতে সক্ষম হন। ১৯১২ খ্রিষ্টাব্দে ত্রয়োদশ দলাই লামা ভারত থেকে যাত্রা করে লাসা শহরে প্রবেশ করে ১২ই ফেব্রুয়ারী চীনের সঙ্গে সমস্ত সম্পর্ক ছিন্ন করে তিব্বতকে একটি স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে ঘোষণা করেন। এই ঘোষণার পরিপ্রেক্ষিতে তিব্বতে অবস্থিত সমস্ত চীনা সৈন্যদের তিব্বত ছেড়ে চলে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়।

তথ্য সূত্রঃ তিব্বতিয়ান জার্নাল ।

আপনার মন্তব্য


আলোচিত