শিরোনাম

  আগামী ২৪ ডিসেম্বর জেএসসি ও প্রাথমিক সমাপনীর ফল প্রকাশ   নির্বাচনকালীন ইউএনও-ডিসির স্বাক্ষরে শিক্ষকদের বেতন-ভাতা : শিক্ষা মন্ত্রণালয়   খালেদার মনোনয়ন বাতিলের বিরুদ্ধে হাইকোর্টের বিভক্ত আদেশ   'তিন পার্বত্য জেলায় ৩৮ টি ভোটকেন্দ্রে হেলিকপ্টার ব্যবহার করা হবে'   সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ন নির্বাচন নিশ্চিত করার আহ্বান ইউরোপীয় দেশগুলোর   তরুণ ও নারী ভোটাররাই আওয়ামী লীগের বিজয়ের প্রধান হাতিয়ারঃ কাদের   গত ৫ বছরে জেএসএস এমপি উন্নয়ন করতে পারেনি, যা করেছে আওয়ামীলীগ করেছে : দিপংকর তালুকদার   এখন থেকে সরকারি চাকরিতে যোগ দেওয়ার আগে মাদক পরীক্ষা বাধ্যতামূলক   'বান্দরবানে বিদেশি পর্যটকদের ভ্রমণে কোনো নিষেধাজ্ঞা নেই'   'নির্বাচনী প্রচারণায় রঙিন পোস্টার বা ব্যানার ব্যবহার করা যাবে না'   ৫৮টি নিউজ পোর্টাল খুলে দিয়েছে বিটিআরসি   বুধবার থেকে নির্বাচনী প্রচারণা শুরু করবেন প্রধানমন্ত্রী   বিএনপি ক্ষমতায় এলে শান্তি চুক্তি বাস্তবায়ন করার চেষ্ঠা করবো: মনি স্বপন দেওয়ান   তিন পাহাড়ে নৌকা নিয়ে মাঠে দৌড়াবেন যারা   আগামীকাল খালেদা জিয়ার অগ্নিপরীক্ষা   হিরোকে জিরো বানানো এত সহজ নয়, সফল হিরো আলমের চ্যালেঞ্জ   খাগড়াছড়িতে বনের রাজা পেয়েছেন ইউপিডিএফের প্রার্থী নতুন কুমার চাকমা   বিশ্বের প্রথম উঁচু ভাস্কর্য 'চীনের স্প্রিং টেম্পল বুদ্ধ'   আন্তর্জাতিক মানবাধিকার দিবস || আদিবাসীদের মানবাধিকার প্রতিষ্ঠায় এগিয়ে আসার অাহ্বান   বনের রাজা সিংহকে নিয়ে রাঙ্গামাটিতে দৌড়াবেন ঊষাতন তালুকদার
প্রচ্ছদ / আন্তর্জাতিক / তিব্বতীয় মুসলমানরা দালাই লামাকে এখনো নেতা হিসেবে মনে করে

তিব্বতীয় মুসলমানরা দালাই লামাকে এখনো নেতা হিসেবে মনে করে

প্রকাশিত: ২০১৭-১২-১২ ১৭:২৭:২৯

   আপডেট: ২০১৮-১২-০৯ ১৪:২৭:৩৬

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তিব্বতের আধ্যাত্মিক নেতা দালাই লামা প্রায় সময় বলে থাকেন মুসলিম বা খ্রিস্টান জঙ্গি বলে আসলে কিছু হয় না। কেউ যখন সন্ত্রাসকে আঁকড়ে ধরে, তখন তার কোনো ধর্ম থাকে না। যখন কেউ সন্ত্রাসী হয়ে যায়, সেই মুহূর্ত থেকে সে মুসলিম, খ্রিস্টান বা অন্য যে ধর্মেরও হোক না কেন, তা থেকে বিচ্যুত হয়।

তাঁর মতে, যখনই কোনও ব্যক্তি সন্ত্রাসের সঙ্গে যুক্ত হচ্ছে, তখনই সে ধর্মচ্যুত হচ্ছে। তাই মুসলিম বা খ্রিস্টান জঙ্গি বলে কিছু হয় না। কারণ সন্ত্রাসীর কোনও ধর্ম হয় না। তার বক্তব্য, পৃথিবীর সমস্ত সমস্যার মূলে আসলে মানুষই।

তিব্বতে মুসলিম সম্প্রদায় প্রায় ১০০০ বছর ধরে সেখানে বাস করে আসছে। কথিত আছে, প্রায় ১০০০ বছর আগে ১২ শতকের মাঝামাঝি এক দল মুসলিম সম্প্রদায় কাশ্মীর এবং লাদা থেকে বণিক হিসেবে সেখানে তাঁদের আগমন ঘটে। পরে তিব্বতের সরকার কর্তৃক তাঁরা নাগরিক ও বসবাসের স্বীকৃতি পান।

সেই থেকে এসব মুসলিম সম্প্রদায়ের ব্যবসায়ীরা তিব্বতে বসতি স্থাপন করে এবং তিব্বতিয়ান নারীদের বিয়ে করে স্থায়ী হয়। পরে অবশ্য তিব্বতের নারীরা স্বামীর আড়ালে ধর্মান্তরিত হয়েছে। ফলে মসজিদ নির্মাণ করা, স্কুল এবং তাদের নিজস্ব জীবন-জীবিকার সুব্যবস্থা ইত্যাদি মেলে।

তিব্বতে মুসলমানরা স্থানীয় তিব্বতি অধিবাসীদের সাথে বহু বছর ধরে শান্তিপূর্ন সহিত বসবাস করে আসছে। এই কারণে মুসলিম হিসেবে সেখানে তাদের নিজস্ব পরিচয় বজায় রাখতে সক্ষম হয়েছে।

চীনা আগ্রাসনের পরও তিব্বতে মুসলিম সম্প্রদায় জাতীয় সংকটের একই ভাগ্যকে মোকাবিলা করেছে।

চীনা আগ্রাসনের সময় তারা তিব্বতের কাছাকাছি পালিয়েছে । পরে ভারতে কাশ্মীরে তাদের পূর্বপুরুষ রাষ্ট্রতে স্থায়ীভাবে বসবাসের জন্য আশ্রয় খোঁজে।

লক্ষ্যণীয় বিষয় যে, তিব্বতে মুসলমানরা আধ্যাত্মিক নেতা দালাই লামাকে তাদের নেতা হিসাবে সম্মান করে। তাঁদের বিশ্বাস একমাত্র দালাই লামা একজন পবিত্রতাবাদী হিসেবে গুণী ব্যক্তি।

সেসময় ঐতিহাসিকভাবে দালাই লামা মুসলিম বণিকদের তিব্বতে থাকার অনুমতি দিয়েছিলেন এবং তাদেরকে মসজিদ ও কবরস্থানের জন্য লাসায় ভূমি দান করার সুযোগ দিয়েছিলেন।

তবে সেখানে বেশীরভাগ বৌদ্ধ বিধি মেনে চললেও মুসলিমদের কিছু সুবিধা বা ছাড় দেওয়া হত। যেমন- মাংস খাওয়া, জবাই করা ইত্যাদি।

দালাই লামাও এখনো সেসব সম্প্রদায়ের প্রতি অটল ভালবাসা দেখিয়েছেন এবং সর্বদা তাদের কথা বলে থাকেন। এজন্য তাঁকে তীব্বতীয়-কাষ্মীর মুসলিম সম্প্রদায় ও এখনো ভুলতে পারেনি। তাঁকে নেতা হিসেবে সম্মান করে।

তিব্বত আন্দোলনের সময় তিব্বতীয় মুসলিম সম্প্রদায় সংগ্রামে নিবিড়ভাবে অংশগ্রহণ করেছিলেন।তারা তিব্বত যুব কংগ্রেসের সম্মেলনগুলোতে ও অংশগ্রহণ করেছিলেন এবং সেখানে তারা নিজেদের প্রতিনিধি পার্লামেন্টে দাঁড়ানোর সক্ষমতার সুযোগ পেয়েছিলেন।

বেশিরভাগ তিব্বতি মুসলিম জনগণ তাদের কাশ্মীরের নিজস্ব সম্প্রদায়ের মধ্যে লালিত নিজস্ব ভাষা এবং পরিচয় সংরক্ষণ করে, তিব্বতকে তাদের প্রাথমিক ভাষা হিসাবে ব্যবহার করে থাকে।

এর আগে তিব্বতের আধ্যাত্মিক নেতা দালাই লামা বলেছেন, তিনি মনে করেন তিনিই হয়ত শেষ দালাই লামা। তাঁর মৃত্যুর পর দালাই লামা পদে নতুন কারও আসার বিষয়টি ভবিষ্যত পরিস্থিতি ও তিব্বতের সাধারণ মানুষের ওপর নির্ভর করবে।

তথ্য সূত্রঃ তিব্বতিয়ান জার্নাল ।

আপনার মন্তব্য

আলোচিত