শিরোনাম

  ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর জন্য মাতৃভাষায় পুস্তক প্রকাশনার বিধান রেখে খসড়ার চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা   সরকারী চাকরিতে ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী ও পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর জন্য কোটা না হলেও সমস্যা হবে না   রুয়েটে ভর্তি পরীক্ষার আবেদন শুরু   দুই আদিবাসী কিশোরী ধর্ষণের ঘটনায় অভিযুক্তদের সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি   দেশের বিভিন্ন স্থানে বৃষ্টি অথবা বজ্রবৃষ্টি ও ভারী বর্ষণ হতে পারে   আদিবাসী মানবাধিকার সুরক্ষাকর্মীদের সম্মেলন ২০১৮ উদযাপন   ব্লগার বাচ্চু হত্যার সঙ্গে ‘জড়িত’ ২ জঙ্গি নিহত   জুমের বাম্পার ফলনে রাঙ্গামাটির চাষিদের মুখে হাসি   সরকারি চাকরিতে আদিবাসী কোটা বহাল দাবি জানাল আদিবাসীরা   আয়ারল্যান্ড প্রবাসী বাংলাদেশের এক মন্ত্রী দ্বারা হেনস্ত হওয়াতে হিন্দু, বৌদ্ধ ও খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের নিন্দা   শেখ হাসিনার জনপ্রিয়তা উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি পেয়েছে   মিয়ানমারে রয়টার্সের দুই সাংবাদিককে সাত বছরের কারাদণ্ড দিয়েছে আদালত   শহীদ আলফ্রেড সরেন হত্যার ১৮ বছর: হত্যাকারীদের দ্রুত বিচারের দাবি জাতীয় আদিবাসী পরিষদের   ভারতের কাছে ১-০ গোলে হেরেছে বাংলাদেশের মেয়েরা   সরকারী চাকরিতে নিয়োগের ক্ষেত্রে মুক্তিযোদ্ধা ছাড়া সব কোটা বাতিল হচ্ছে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী   জাতিসংঘের সাবেক মহাসচিব কফি আনান মারা গেছেন   ঈদের ছুটি কাটানো হলোনা টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ার নিরীহ ধীরাজ চাকমার   খাগড়াছড়িতে পৃথক ঘটনার জন্য জেএসএস(সংস্কারবাদী) ও নব্য মুখোশ বাহিনীকে দায়ী করেছে : ইউপিডিএফ   নানিয়ারচর থেকে খাগড়াছড়ি   খাগড়াছড়িতে ৬ জনকে গুলি করে হত্যা !
প্রচ্ছদ / সমগ্র দেশ / মাদকবিরোধী অভিযানে বন্দুকযুদ্ধে নিহত আরো ১১

মাদকবিরোধী অভিযানে বন্দুকযুদ্ধে নিহত আরো ১১

প্রকাশিত: ২০১৮-০৫-২২ ১৯:০০:১১

   আপডেট: ২০১৮-০৫-২২ ১৯:০১:১০

অনলাইন ডেস্ক

চলমান মাদকবিরোধী অভিযানের মধ্যে দেশের নয় জেলায় সোমবার রাত থেকে মঙ্গলবার সকাল পর্যন্ত বন্দুকযুদ্ধে আরো ১১ জন নিহত হয়েছে। নিহতদের সবাইকে মাদক ব্যবসায়ী বলে দাবি করেছে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী।

এদিকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল সোমবার আবারো বলেছেন, মাদক ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অভিযান অব্যাহত থাকবে। মাদক বিক্রেতারা সামাজিক ও রাজনৈতিকভাবে যতই ক্ষমতাধর হোক না কেন, তাদের বিচারের আওতায় আনা হবে।

মাদকাসক্ত নিয়ে পর্যবেক্ষণকারী নর্থ-সাউথ বিশ্বিবদ্যালয়ের অধ্যাপক এমদাদুল হক বলেছেন, বাংলাদেশে মাদক ব্যবসা এবং এর ব্যবহার এখন এক ভয়াবহ পর্যায়ে পৌঁছেছে এবং অনুমান অনুযায়ী এখন দেশে মাদকাসক্তের সংখ্যা প্রায় ৭০ লাখ এবং এর অধিকাংশই ইয়াবাসেবী।

নিহত ওই ১১ জনের মধ্যে র‌্যাব ও পুলিশের গুলিতে কুমিল্লা ও নীলফামারীতে দুইজন করে মোট চারজন এবং চুয়াডাঙ্গা, নেত্রকোণা, দিনাজপুর, চট্টগ্রাম, ফেনী, ব্রাহ্মণবাড়িয়া ও নারায়ণগঞ্জে নিহত হয়েছে একজন করে। পুলিশ ও র‌্যাবের দাবি, নিহতদের মধ্যে কারো কারো বিরুদ্ধে থানায় মাদক আইনে একাধিক মামলা রয়েছে।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কথিত বন্দুকযুদ্ধে গত চারদিনেই অন্তত ২৫ জনের মৃত্যু হয়েছে দেশের বিভিন্ন জেলায়। মে মাসের শুরু থেকেই এই মাদকবিরোধী অভিযান শুরু করেছে পুলিশ ও র‍্যাব।

মাদক নির্মূলের নামে ‘বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের’ অভিযোগ নাকচ করে দিয়ে আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেন, মাদক ব্যবসায়ীদের কাছে আগ্নেয়াস্ত্র থাকে। যখন আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তাদের গ্রেফতার করতে যায়, তখন তারা গুলি ছোড়ে। আত্মরক্ষার্থে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীও পাল্টা গুলি ছোড়ে। এ সময় দু-একটি নিহত হওয়ার ঘটনা ঘটে থাকে।

মন্ত্রী বলেন, সোমবার পর্যন্ত দুই হাজারের অধিক মাদক ব্যবসায়ীকে এক থেকে ছয় মাসের বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দিয়েছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। এর মধ্যে বন্দুকযুদ্ধের দু-একটা বিচ্ছিন্ন ঘটনায় নিহত হওয়ার ঘটনা ঘটেছে। সেটাই গণমাধ্যমের শিরোনাম হচ্ছে।

বিবিসি বাংলাকে দেয়া সাক্ষাৎকারে অধ্যাপক এমদাদুল হক বলেন, বাংলাদেশে এখন যে পরিস্থিতি তা অত্যন্ত উদ্বেগজনক ও ভয়াবহ। বাংলাদেশে মাদকাসক্তের সংখ্যা ফিলিপাইনের চেয়ে অনেক বেশি। ২০১৬ সালে দেশটিতে মাদকাসক্তের সংখ্যা ছিল ১৮ লাখ।

ফিলিপাইনের প্রেসিডেন্ট রদ্রিগো দুতার্তের সরকার গত বছর মাদকের বিরুদ্ধে যে সশস্ত্র অভিযান শুরু করে তাতে এ পর্যন্ত ৩ হাজার ৮০০’শরও বেশি মাদকাসেবী, বিক্রেতা বা পাচারকারী নিহত হয়েছে।

দেশ থেকে মাদক নির্মূলের প্রত্যয় জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা রবিবার এক অনুষ্ঠানে বলেছেন, জঙ্গি দমনের মতো মাদক ব্যবসায়ী দমনে বিশেষ অভিযান শুরু হয়েছে। আর এই দায়িত্ব মূলত দেয়া হয়েছে র‌্যাবকে।

বাংলাদেশে এ সরকারি অভিযানে যারা টার্গেট হচ্ছে তারা প্রধানত খুচরা বিক্রেতা। এখানে গডফাদার বা মূল হোতাদের যে বিষয়টা তারা অনেক সময়ই রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় থাকে। তাদের হাতে কোনো মাদক থাকে না, তাই এটা একটা আইনী সমস্যা যে কর্তৃপক্ষ তাদের পেছনে লাগলেও তাদের হাতে কিছু পায় না।

রাজধানীর মাদকাসক্তি নিরাময় কেন্দ্র ‘মুক্তি’র প্রধান কনসালটেন্ট ড. আলী আসকার কোরেশী বলেন, আমরা লক্ষ্য করছি, দিন যতই যাচ্ছে, মাদকাসক্তের সংখ্যা বেড়েই চলেছে। মাদক অত্যন্ত সহজলভ্য হয়ে পড়াটাই এর জন্য বেশি দায়ী বলে তিনি মনে করেন। একসময় যারা নেশা করতো, তারা এখন নেশার পাশাপাশি বিক্রির সাথেও জড়িয়ে পড়ছে।

প্রতিবেশী মিয়ানমার থেকে বাংলাদেশে ইয়াবা প্রবেশ করে। পরে নানা মাধ্যমে সেগুলো দেশের ভেতরে ছড়িয়ে দেয়া হয় বলে জানিয়েছেন গোয়েন্দা কর্মকর্তারা । সহজে বহনযোগ্য হওয়ার কারণে অনেকেই এই মাদক ব্যবসার সাথেও জড়িয়ে পড়ছে বলে তারা জানান।

বাংলাদেশে ২০১৭ সালে চার কোটির বেশি ইয়াবা আটক করা হয়েছে। এই মাদকটি এখন দেশে অন্যসব মাদককে ছাড়িয়ে গেছে বলে জানিয়েছে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতর।

সূত্রঃ ইন্টারনেট।

আপনার মন্তব্য

আলোচিত