শিরোনাম

  ব্রাজিলকে রুখে দিল সুইজারল্যান্ড   জার্মানিকে হারিয়ে মেক্সিকোর জয়   রাঙ্গামাটিতে সুরেন বিকাশ চাকমা নামে একজনকে গুলি করে হত্যা   বাবা বিশ্বকাপ খেলা দেখার সুযোগে মারমা কিশোরীকে ধর্ষণের পর হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা   আজ মেক্সিকোর বিপক্ষে মাঠে নামবে জার্মানি   আমিই এক নম্বর দাবি করলেন : নেইমার   আমি সব ধর্মের মানুষকে সম্মান করি : মমতা   নিখোঁজ দুই দিন পর কাপ্তাই হ্রদে ভেসে উঠল পাহাড়ী মেয়ের লাশ   আফগানিস্তানে বোমা হামলায় নিহত ২৫   আজ বিশ্ব বাবা দিবস   নাইজেরিয়াকে হারিয়ে শুরু ক্রোয়েশিয়ার   পেনাল্টি মিসে ডেনমার্কের কাছে হারল পেরু   মেসির পেনাল্টি মিস, আর্জেন্টিনা-আইসল্যান্ড ১-১   খাগড়াছড়িতে বিজয় ত্রিপুরা নামে একজনকে গুলি করে হত্যা   ফ্রান্সের কাছে ২-১ গোলে হেরেছে অস্ত্রেলিয়া   কাশ্মীরে লাদাখ প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ও বৌদ্ধ সংস্কৃতির জন্য বিখ্যাত   হ্যাটট্রিকে রোনালদোর রেকর্ড   আত্মঘাতী গোলে মরক্কোর পরাজয়   শেষ মুহূর্তে উরুগুয়ের কাছে হেরে গেল মিসর, উরুগুয়ে-১-মিশর-০   আওয়ামী লীগ নেতাকে গুলি করে হত্যা
প্রচ্ছদ / সমগ্র দেশ / রোহিঙ্গা সংকট || পাহাড় ও বন উজাড় হওয়ায় পরিবেশের বিভিন্ন ধরনের ক্ষতির আশঙ্কা

রোহিঙ্গা সংকট || পাহাড় ও বন উজাড় হওয়ায় পরিবেশের বিভিন্ন ধরনের ক্ষতির আশঙ্কা

প্রকাশিত: ২০১৭-১০-২৮ ১৮:৫৭:৪৯

নিউজ ডেস্ক

অনুপ্রবেশকারী রোহিঙ্গাদের আবাসস্থল নির্মাণে কক্সবাজারের উখিয়া ও টেকনাফের ১ হাজার ৬০০ একর বনাঞ্চল উজাড় করা হয়েছে। এতে করে বাংলাদেশকে মাশুল দিতে হয়েছে প্রায় দেড়শ কোটি টাকা। সম্প্রতি কক্সবাজার দক্ষিণ বনবিভাগের বরাত এ তথ্য জানা যায়।

স্থানীয় জনগণের সহায়তায় তিল তিল করে গড়া ওঠা এ বনাঞ্চল। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ‘আগামী বর্ষা মৌসুমের আগে রোহিঙ্গাদের ফেরত পাঠানো সম্ভব না হলে এবং ফের বনায়ন করা না গেলে মারাত্মক পরিবেশ বিপর্যয়ের আশঙ্কা রয়েছে। তাছাড়া পাহাড় ধসের ঝুঁকিও আছে।’

মিয়ানমারে নতুন করে সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ার পর এখন পর্যন্ত বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে ছয় লাখের বেশি রোহিঙ্গা। নতুন পুরনো সব মিলিয়ে রোহিঙ্গার সংখ্যা এখন ১০ লাখের বেশি। বিপুল সংখ্যক রোহিঙ্গাদের আশ্রয়ের জন্য উখিয়ার কুতুপালং ও বালুখালীতে ২ হাজার একর জমি নির্ধারণ করে সরকার। পরে যা বাড়িয়ে ৩ হাজার একর বরাদ্ধ করা হয়। এ কারণে সংকটের মুখে পড়েছে বনবিভাগের সামাজিক বনায়ন কর্মসূচি।

কক্সবাজার দক্ষিণ বনবিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা আলী কবির বলেন, ‘উখিয়া ও টেকনাফে গড়ে তোলা প্রায় ১৬০০ একর সামাজিক বনায়ন এরই মধ্যে ধ্বংস হয়ে গেছে। এতে দেড়শ কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে। এই ক্ষতির পরিমাণ স্থানীয় জনগণ ও বনবিভাগকে বহন করতে হবে। কারণ পাঁচ বছর মেয়াদে স্থানীয় জনগণের সঙ্গে চুক্তি করে এসব বনায়ন গড়ে তুলেছিল বনবিভাগ।’

তিনি আরো বলেন, ‘উখিয়া ও টেকনাফে নতুন নতুন বনাঞ্চল দখল করে নিচ্ছে রোহিঙ্গারা। সরকার নির্ধারিত জমিতে স্থান সংকুলান না হওয়ায় নতুন আসা রোহিঙ্গারা সামাজিক বনায়নের এসব জমিতে বসতি গড়ে তুলছে। এ অবস্থা চলতে থাকলে বনবিভাগের আরো অনেক জমি রোহিঙ্গাদের দখলে চলে যাবে।’

এনভায়রনমেন্ট কনজারভেশান ম্যানেজমেন্ট কনসালটেন্টস এর পরিচালক ও পরিবেশ বিজ্ঞানী ড. আনছারুল করিম বলেন, ‘পাহাড় ও বন উজাড় হওয়ায় পরিবেশের বিভিন্ন ধরনের ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে। তাৎক্ষণিকভাবে এই ক্ষতি বোঝা না গেলেও কিছুদিন পরে ঠিকই বোঝা যাবে।

অচিরেই উখিয়া ও টেকনাফের পাহাড়ি ছড়া ও খালের পানির ওপর নির্ভরশীল ২০ শতাংশ বোরো চাষ বন্ধ হয়ে যেতে পারে। শুধু স্থানীয় জনগণ কিংবা পরিবেশ নয়, এখন যেভাবে রোহিঙ্গা ক্যাম্প গড়ে উঠছে তাতে মারাত্মক পাহাড় ধসের ঝুঁকি রয়েছে। আগামী বর্ষার আগে পাহাড় থেকে রোহিঙ্গাদের সরাতে না পারলে বড় ধরনের বিপর্যয় ঘটতে পারে। যেখানে সেখানে গড়ে ওঠা রোহিঙ্গা বসতির অনেকগুলো এরইমধ্যে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। তবে ওইসব স্থানে নতুন করে বনায়ন না হওয়ায় তা বেদখল হয়ে যেতে পারে। এ পরিস্থিতিতে রোহিঙ্গাদের প্রতি মানবিক হওয়া এবং পরিবেশ রক্ষা উভয়দিকেই ভাবতে হবে।’

আপনার মন্তব্য

আলোচিত