আজ বুধবার, | ১৮ অক্টোবর ২০১৭ ইং

শিরোনাম

  ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘ঘ’ ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষা শুক্রবার   চীনে বিশ্বের দীর্ঘতম ভাসমান রাস্তা   পাহাড়ে বিপর্যয়ের শঙ্কা:রোহিঙ্গা সংকট   ফ্রান্সস্থ লাকুরনভ ধাম্মাচাক্কা বিহারে কঠিন চীবর দান সম্পন্ন   চাকমাদের খাঁ, রায়, খীসা, দেওয়ান ও তালুকদার উপাদি   অষ্ট্রেলিয়া পৌঁছেছেন উপসংঘরাজ ভদন্ত ধর্মপ্রিয় মহাথের   ছাত্র জীবনে যে সময়টা সৎব্যবহার করবে, সে জীবনে ভালো কিছু করতে পারবেঃউষাতন তালুকদার   গৌতম বুদ্ধের কিছু গুরুত্বপূর্ণ বাণী   পাহাড়ি এলাকায় বন্যহাতির আক্রমণে চার রোহিঙ্গা নিহত   রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারে ফিরে আনার আহ্বান কফি আনানের   রাঙ্গামাটিতে ঘুষ ছাড়া পাসপোর্টের পুলিশ ভেরিফিকেশন হয়না!   বাংলাদেশী বৌদ্ধ সমিতি কুয়েতের ২০১৭-২০১৯ নব গঠিত কমিটির শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠান সম্পন্ন   খাগড়াছড়িতে মাতাল স্ত্রীর হাতে স্বামী খুন-স্ত্রী পলাতক   ঢাবি ‘ক’ ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষা সম্পন্ন   আজ ভুটান রাজ পরিবারের বিবাহ বার্ষিকী   খাগড়াছড়িতে আপন শ্যালিকাকে গণধর্ষন-দুলাভাইসহ তিন জন সেটেলার গ্রেফতার   প্রধান বিচারপতির দায় নেবে নাঃ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ   \'আলোময় চাকমার\' একটি অসাধারণ জুম পাহাড়ের কবিতা   রোহিঙ্গারা মিয়ানমারের নাগরিক নয়,তারা বাঙ্গালিঃ মিয়ানমার সেনাপ্রধান   কাল চট্টগ্রামে ফ্রি সিদ্ধ ডিম খাওয়ানো হবে

ব্লু হোয়েল সুইসাইড গেম খেলে ঢাকায় এক কিশোরীর আত্মহত্যা

প্রকাশিত: ২০১৭-১০-০৭ ১৭:০৫:৩৩

   আপডেট: ২০১৭-১০-০৮ ১৭:২৬:০২

অনলাইন রিপোর্ট

গত দু’মাস ধরে ভারতজুড়ে চলছে ব্লু হোয়েল আতঙ্ক। বিশ্বব্যাপী তুমুল সমালোচিত প্রাণঘাতী গেমস ব্লু হোয়েল বা নীল তিমির প্রভাবে এবার ঢাকার নিউ মার্কেট থানা এলাকার অপূর্বা বর্ধন স্বর্ণা নামের ১৩ বছর বয়সী এক কিশোরী আত্মহত্যা করেছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। ফার্মগেটের হলিক্রস স্কুলের অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থী স্বর্ণা বৃহস্পতিবার সেট্রাল রোডের ৪৪ নম্বর বাসায় আত্মহত্যা করে বলে জানিয়েছেন পরিবারের সদস্যরা।

মৃত কিশোরীর বাবা গণমাধ্যমকে বলেন, ইন্টারনেটভিত্তিক ডেথ গেমস নীল তিমির কবলে পড়ে স্বর্ণা আত্মহত্যা করেছে। মেয়ের লিখে যাওয়া একটা চিরকূট থেকে এমন তথ্য মিলেছে।

তিনি আরও বলেন, স্বর্ণা কয়েক বছর ধরে কম্পিউটার ও অ্যানড্রয়েড মোবাইল ব্যবহার করছিল। প্যারা, রচনাসহ বিভিন্ন বিষয় ডাউনলোড করা ছাড়াও ফেসবুক ব্যবহার করত সে। তার মোবাইল কেড়ে নিলেই সে অভিমান করত। তাই কিছুদিন আগে তার ইন্টারনেট ব্যবহার নিয়ে আমাদের মনে সন্দেহ জাগে।ছিল তুখোড় মেধাবী। স্কুলের ফার্স্ট গার্ল হিসেবেই পরিচিত ছিল সে। ওয়াইডব্লিউসিএ হাইয়ার সেকেন্ডারি গালর্স স্কুলে প্রথম থেকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত সম্মিলিত মেধা তালিকায় ছিল প্রথম। ষষ্ঠ শ্রেণিতে ভর্তি হয় ফার্মগেটের হলিক্রস স্কুলে। তার বয়স ছিল মাত্র তেরো। পড়ছিল অষ্টম শ্রেণিতে। হলিক্রস স্কুলে ভর্তির পর থেকে বদলে যেতে থাকে সে। পড়াশোনার জন্য সে ব্যবহার শুরু করে ইন্টারনেট।

তিনি আরও জানান, নীল তিমির কিউরেটরের নির্দেশ মতো লিখে যাওয়া একটি চিরকুট পাওয়া গেছে। যেখানে লেখা, আমার আত্মহত্যার জন্য কেউ দায়ী নয়। এছাড়া গেমসের নির্দেশনা মতো একটি হাসির চিহ্নও আঁকা ছিল।  

তবে নিউ মার্কেট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা(ওসি) মোহাম্মদ আতিকুর রহমান আত্মহত্যার বিষয়টি নিশ্চিত করলেও গেমের প্রভাবে মৃত্যু হয়েছে কিনা সেটা নিশ্চিত করতে পারেননি।

ইন্টারনেট ভিত্তিক ব্লু হোয়েল গেমটি ২০১৩ সালে রাশিয়ায় তৈরি হয়। ফিলিপ বুদেকিন নামে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বিতাড়িত এক মনোবিজ্ঞানের ছাত্র দাবি করে যে সেই এই গেমের আবিষ্কর্তা।

উল্লেখ্য, রাশিয়ায় অন্তত ৩০০ জন কিশোর-কিশোরী এই গেমে অংশ নিয়ে আত্মহত্যা করার পরে বুদেকিনকে গ্রেপ্তার করা হয়। সে তার দোষ স্বীকার করে নিয়েছে। যেসব ছেলেমেয়ের সমাজে কোনও দামই নেই, তাদেরকেই সে আত্মহত্যার মাধ্যমে পৃথিবী থেকে সরিয়ে দিয়ে 'সাফ' করতে চেয়েছিল বলে স্বীকারোক্তিতে জানায় সে।

এই গেমটি ৫০ দিন ধরে খেলতে হয়। একের পর এক ভয়ঙ্কর কাজ করার নির্দেশ আসে। একেকটি পর্যায় পেরনোর পরে আরও কঠিন 'টাস্ক' দেওয়া হয়।

কাজগুলির মধ্যে প্রথমে যেমন থাকে অন্ধকার ঘরে একা ভয়ের সিনেমা দেখা, তেমনই একেবারে শেষ কাজটি হল আত্মহত্যা করা।ইউরোপের বিভিন্ন দেশে কয়েকশো কিশোর-কিশোরী এই গেম খেলতে গিয়ে ইতিমধ্যেই আত্মহত্যা করেছে।

মূলত এটি একটি অনলাইন গেম। এই গেমে প্রতিযোগীদের মোট ৫০টি আত্মনির্যাতনমূলক লেভেল কমপ্লিট করতে হয়। সেই সমস্ত লেভেল ও তার টাস্কগুলি খুবই ভয়ংকর। গেম যত এগোতে থাকবে টাস্কগুলি অনেক বেশি ভয়ংকর হতে থাকবে। কিন্তু প্রথম দিকের ধাপগুলি অপেক্ষাকৃত কম ভয়ংকর হওয়ায় টাস্কগুলি বেশ মজার। আর সেই কারণেই এই গেমের প্রতি সহজেই আকৃষ্ট হয়ে পড়েন কিশোর-কিশোরীরা। পরে আত্মনির্যাতনমূলক বিভিন্ন টাস্ক সামনে এলেও কিশোর-কিশোরীরা এতটাই নেশাগ্রস্ত হয়ে পড়েন যে, গেম ছেড়ে বেরোতে পারে না।

• কেমন সেই আত্মনির্যাতনমূলক টাস্ক? কোনো লেভেলে হয়তো নির্দেশ দেওয়া হয় নিজের শরীরে একাধিক সূচ বিঁধতে। কোনো লেভেলে নির্দেশ দেওয়া হয় নিজের হাতকে রক্তাক্ত করতে। তবে গেমের শেষ ধাপ অর্থাৎ ৫০তম ধাপে ইউজারদের এমন কিছু টাস্ক দেওয়া হয়, যা সম্পূর্ণ করা মানেই আত্মহত্যা।

• এই টাস্কগুলিতে অংশগ্রহণের পর সেই ছবি পোস্ট করতে হয় এর গেমিং পেজে। প্রতিযোগিতার একেবারে শেষ পর্যায়ে, অর্থাৎ ৫০তম টাস্কের শর্তই হলো আত্মহনন।

• এই গেমিং অ্যাপ মোবাইলে একবার ডাউনলোড হয়ে গেলে তা আর কোনো ভাবেই মুছে ফেলা সম্ভব নয়। শুধু তাই নয়, ওই মোবাইলে ক্রমাগত নোটিফিকেশন আসতে থাকে যা ওই মোবাইলের ইউজারকে এই গেম খেলতে বাধ্য করে।

এই গ্যামটি অ্যাপ স্টোর থেকে ব্যান করে দেওয়া হয়েছে। আপনি গুগলে কোথাও সার্চ করলে এ গেইমটি পাবেন না। শুধু মাত্র বিশেষ কোন লিংক বা অপরিচিত ইমেল বার্তায় এ গেইমের লিংক পাওয়া যায়। আপনি যদি একবার গেইমটি ইন্সটল করেন তবে কখনো গেইমটি আনইন্সটল করতে পারবেন না। গেইম নিয়ন্ত্রণকারী এডমিনেরা বলে দিবে আপনি ৫০ লেভেল টাস্ক খেলে এই গেইম থেকে মুক্তি পাবেন বা আনইন্সটল করতে পারবেন।আপনাকে টাস্ক অনুযায়ী বিভিন্ন গান শুনতে দিবে।

যেগুলি তারা সিলেক্ট করে দেবে। আপনি গেইমটি ইনস্থল করার পর আপনার মোবাইলের সমস্ত তথ্য গেমের এডমিনদের কাছে চলে যাবে। যেমন আপনার লোকেশন,ফোন নাম্বার,ফটো,ফেসবুক আইডি,ইমেল,ব্যাংক একাউন্ট নাম্বার ইত্যাদি তথ্য। তাদের সার্ভারে আপনার মোবাইল পুরোপুরি হ্যাক হয়ে যাবে।গেইমটি যদি খেলতে খেলতে অর্ধেক লেভেল থেকে আপনি পরিত্রাণ চান তবে আপনাকে হ্যাকাররা হুমকি দিবে। আপনার গোপনীয়তা ফাঁস করে দেবে ,আপনার বাবা-মা-বা আপনজনকে মেরে ফেলার হুমকি ইত্যাদি।হ্যাকাররা দাবি করে যে আপনি যদি ইনস্থল করা গেইমের মোবাইলটি ভেঙ্গে বা নষ্ট করে ফেলেন তবুও তারা লোকেশন ট্রাক করে ঠিকিই বের করবে।তবে সবচেয়ে ভাল হবে আপনার গেইমটি কৌতুহলবশত হলেও যতদূর সম্ভব এড়িয়ে চলা।

গেইমের অফিশিয়াল একটি মিউজিক নিচে দেওয়া হল।

ভিডিও :

আপনার মন্তব্য

আলোচিত