আজ শুক্রবার, | ১৫ ডিসেম্বর ২০১৭ ইং

শিরোনাম

  সন্তুু লারমার কুশপুত্তলিকা দাহ করার প্রতিবাদে ও স্বেচ্ছায় বাঘাইছড়িতে আ. লীগের অর্ধশত পাহাড়ী নেতা-কর্মীর পদত্যাগ   পার্বত্য চট্টগ্রাম শান্তি চুক্তিতে যেসব বিষয় অবাস্তবায়িত রয়ে গেছে   অনাদী রঞ্জন চাকমা হত্যাকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের দাবিতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বরাবর স্মারকলিপি   রাংগামাটি বাঘাইছড়ি পৌরসভা ও ইউনিয়নে স্বেচ্ছায় আরো ২১ জন পাহাড়ি আ. লীগ নেতার পদত্যাগ   এবার আয়ারল্যান্ড থেকে সু চির \'ফ্রিডম অব ডাবলিন সিটি’ পুরস্কার প্রত্যাহার   শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস আজ   রোহিঙ্গাদের জন্য ১৪ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলার অনুদান দিবে যুক্তরাষ্ট্র   ২০ হাজার ভিক্ষু নিয়ে মান্দালয়ে অনুষ্ঠিত হবে থাইল্যান্ড এবং মিয়ানমারের মহাদান অনুষ্ঠান   মিয়ানমারে রয়টার্সের দুই সাংবাদিক আটক, দোষী সাব্যস্ত হলে ১৪ বছর কারাদন্ড হতে পারে   ত্রিপুরা রাজ্যে মায়েদের সন্তান পালনের জন্য ছুটি দুই বছর   প্যারিসে শীর্ষক গণশুনানি ও জলবায়ু পরিবর্তনের প্রতিবাদে বিক্ষোভ সমাবেশ   আন্তর্জাতিক বৌদ্ধ কনফেডারেশন মহাসচিব হিসেবে নির্বাচিত হলেন ত্রিপুরা বৌদ্ধ ভিক্ষু   জালালাবাদ এসোসিয়েশন অফ টরোন্টোর ট্রাস্টী এবং উপদেষ্টামণ্ডলীর পরিচিতি সভা অনুষ্ঠিত   ত্রাণের উপর ঘুমাচ্ছে রোহিঙ্গারা , শীতে কেমন আসে লংগদুর পাহাড়িরা?   পার্বত্য এলাকায় আইন শৃঙ্খলা রক্ষার প্রাথমিক দায়িত্ব আঞ্চলিক ও জেলা পরিষদের ওপর ন্যস্ত করার সুপারিশ   হামলার অভিযোগে আটককৃত ব্যক্তিরা রাঙ্গাপানি ও ভেদভেদী এলাকার অটোরিক্সা চালক, ছাত্র ও দিনমজুর   তিব্বতীয় মুসলমানরা দালাই লামাকে এখনো নেতা হিসেবে মনে করে   রাঙ্গামাটিতে ৬৯ গ্রামবাসী ও জেএসএস সদস্যের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা, নিরীহ ১৯ জনকে গ্রেফতার, ১২ জনকে হয়রানির অভিযোগ   নিউইয়র্কে হামলাকারী সন্দেহভাজন ব্যক্তি চট্টগ্রাম থেকে, পরিবার আতঙ্কিত   বঙ্গবন্ধুর ৭ই মার্চ ভাষণের বিশ্ব স্বীকৃতিতে কানাডার অটোয়ায় বাংলাদেশ হাইকমিশনের আনন্দ শোভাযাত্রা

পাহাড়ি এলাকায় এরা কারা ? জনমনে আতঙ্ক বিরাজ

ঘর ভাড়া নিতে চায় বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র পরিচয়ে

প্রকাশিত: ২০১৭-০৫-১৩ ১৪:২০:৩৩

   আপডেট: ২০১৭-০৬-১২ ০০:৩১:০৫

অনলাইন ডেস্ক/সমকাল

তারা সবাই যুবক। কখনও একা আসেন, কখনও কয়েকজন মিলে দল বেঁধে আসেন। এলাকার লোকজনের কাছ থেকে ঘরভাড়া নিতে চান। পরিচয় দেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র, এলাকার পাহাড় ও বন নিয়ে গবেষণা করতে এসেছেন। কক্সবাজার সদর উপজেলার ঈদগাঁও, রামু উপজেলার ঈদগড়, গর্জনিয়া, কচ্ছপিয়াসহ আশপাশের পাহাড়ি এলাকায় কয়েকদিন ধরে এভাবে অপরিচিতদের আনাগোনা এবং বাসাভাড়া নিতে অতি আগ্রহ প্রকাশ করায় এলাকায় আতঙ্ক দেখা দিয়েছে।

এলাকার জনপ্রতিনিধিরা বিষয়টি জেলা ও উপজেলা প্রশাসনকে অবহিত করেছেন। এ নিয়ে গত বৃহস্পতিবার ঈদগড় ইউনিয়নে বিশেষ মতবিনিময় সভা করেছেন কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপারসহ কর্মকর্তারা। সভায় উপস্থিত ছিলেন এলাকার চেয়ারম্যান, মেম্বার, মসজিদের ইমাম, শিক্ষক, জনপ্রতিনিধিসহ গণ্যমান্য ব্যক্তি।

রামু উপজেলার পাহাড়ি এলাকা ঈদগড় ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ফিরোজ আলম ভুট্টো জানিয়েছেন, এক সপ্তাহ ধরে এলাকায় অপরিচিত লোকজনের আনাগোনা বেড়েছে। তারা বিভিন্ন এলাকায় লোকজনের বাড়িতে গিয়ে বাসাভাড়া নিতে চান। এ নিয়ে এলাকাবাসীর মধ্যে আতঙ্ক দেখা দেওয়ায় তিনি বিষয়টি জেলা ও উপজেলা প্রশাসনকে অবহিত করেছেন।

কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক আলী হোসেন বলেন, ঈদগাঁও, ঈদগড়সহ আশপাশের এলাকায় অপরিচিত লোকজনের উপস্থিতির কথা জানিয়ে চেয়ারম্যান-মেম্বাররা অভিযোগ করেছেন।

স্থানীয় লোকজনের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করায় বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্ব সহকারে নিয়েছে প্রশাসন। তিনি জানান, এলাকায় আইন প্রয়োগকারী সংস্থার নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। এ ব্যাপারে খোঁজ-খবর নেওয়া হচ্ছে। এলাকার লোকজনকে সচেতন করার জন্য ঈদগড়ে মতবিনিময় সভা করা হয়েছে।

ঈদগড় ইউনিয়ন পরিষদ চত্বরে অনুষ্ঠিত সভায় সভাপতিত্ব করেন রামু উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শাজাহান আলী। প্রধান অতিথি ছিলেন জেলা প্রশাসক এবং বিশেষ অতিথি ছিলেন পুলিশ সুপার ড. ইকবাল হোসেন। সভায় বক্তব্য রাখেন জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি অ্যাডভোকেট সিরাজুল মোস্তফা, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট খালেদ মাহমুদ, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আফরাজুর রহমান টুটুল, রামু উপজেলা চেয়ারম্যান রিয়াজ উল্লাহ, বিজিবি-৫০ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লে. কর্নেল তানভির, র‌্যাব কমান্ডার মেজর রুহুল আমিন প্রমুখ।

সভায় ঈদগড় ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান ও মুক্তিযোদ্ধা নুরুল ইসলাম বাঙ্গালী বলেন, 'বাইশারী ইউনিয়নের ছাগলখাইয়া এলাকায় কিছু অপরিচিত লোক আস্তানা গেড়েছে বলে এলাকার লোকজনের মাধ্যমে শুনেছি।' দুর্গম পাহাড়ি ওই এলাকায় আইন প্রয়োগকারী সংস্থার দ্রুত অভিযান চালানোর দাবি জানান তিনি।

মতবিনিময় সভায় জেলা প্রশাসক বলেন, এলাকার লোকজন সচেতন থাকলে সন্ত্রাসী ও জঙ্গিরা কোনো রকম নাশকতার সুযোগ পাবে না। তিনি এ ব্যাপারে সবাইকে সজাগ থাকার আহ্বান জানান।

পুলিশ সুপার ইকবাল হোসেন বলেন, ঈদগড় এবং আশপাশের এলাকা পাহাড়ি বনভূমি হওয়ায় এখানে সন্ত্রাসী-জঙ্গিদের লুকিয়ে থাকার আশঙ্কা রয়েছে। স্থানীয় লোকজন আইন প্রয়োগকারী সংস্থাকে তথ্য দিয়ে সহযোগিতা করলে অপরাধীদের ধরা সহজ হবে।

রামু উপজেলার ঈদগড় এবং আশপাশের এলাকাকে সন্ত্রাসের জনপদ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা জানান, এলাকার পাহাড়ে সন্ত্রাসী ও ডাকাত দলের গোপন আস্তানা রয়েছে। বিভিন্ন স্থান থেকে লোকজনকে অপহরণ করে এ এলাকায় পাহাড়ি আস্তানায় রেখে মুক্তিপণ আদায় করা হয়। পাহাড়ে রয়েছে অস্ত্র তৈরির বেশ কিছু কারখানা। আইন প্রয়োগকারী সংস্থা এর আগে অস্ত্র কারখানায় অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ অস্ত্র উদ্ধার করেছে। অভিযানে গিয়ে পুলিশের এক কর্মকর্তা নিহত হয়েছেন।

ঈদগড়, গর্জনিয়া, কচ্ছপিয়া এবং নাইক্ষ্যংছড়ি এলাকার কিছু লোকজন নব্য জেএমবিসহ বিভিন্ন জঙ্গি সংগঠনের সঙ্গে জড়িত বলে জানা গেছে। সম্প্রতি সীতাকুণ্ড ও সিলেটে নিহত কয়েক জঙ্গির বাড়ি এ এলাকায় বলে পুলিশ স্বীকার করেছে। এলাকার লোকজন বলেন, বিভিন্ন স্থানে আইন প্রয়োগকারী সংস্থার অভিযান চালানোয় জঙ্গিরা এ এলাকায় আত্মগোপনে করতে পারে।

আপনার মন্তব্য

এ বিভাগের আরো খবর




আলোচিত