শিরোনাম

  নৌকার জয় সুনিশ্চিত : প্রধানমন্ত্রী   আজ ইউপিডিএফ’র ২০তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী   এবার থাইল্যান্ডে বৈধ হলো গাঁজা   ইউপিডিএফ প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে সকলকে সংগ্রামী শুভেচ্ছা জানালেন প্রসিত বিকাশ খীসা   চীনা শিশুরা আর স্কুল পালাতে পারবে না!   আবার ক্ষমতায় গেলে ভুল সংশোধন করা হবে : কাদের   প্রধানমন্ত্রী থেকে মাতৃভাষার বই পেয়েছে ক্ষুদ্র জনগোষ্ঠীর শিশুরা   শুভ বড়দিন আজ   রোহিঙ্গাদের জন্য শীতবস্ত্র পাঠাল ভারত   ইন্দোনেশিয়ায় সুনামির আঘাতে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৪০০ অধিক ছাড়িয়েছে   টাকার মালা উপহার পেলেন ফখরুল!   মধ্যরাত থেকে নির্বাচনী মাঠে সেনাবাহিনী   ভোটের দিন ২৪ ঘণ্টা সব যান চলাচল বন্ধ   সেনা মোতায়েনে ভোটারদের মধ্যে আস্থা ফিরে আসবে: সিইসি   পানছড়িতে ইউপিডিএফের নির্বাচনী অফিসে এলোপাতাড়ি ব্রাশ ফায়ারে ২ জন নিহত!   জেএসসি ও পিইসি পরীক্ষার ফল প্রকাশ   আগামী ৩০ তারিখ আমরা নৌকার বিজয় নিয়ে ঘরে ফিরবো: দীপংকর তালুকদার   ইন্দোনেশিয়ায় সুনামির আঘাতে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ২২২ জন   যারা মানুষ পুড়িয়ে মারে তাদের ভোট দেবেন নাঃ প্রধানমন্ত্রী   ২৮ ডিসেম্বর থেকে ১ জানুয়ারি মধ্যরাত পর্যন্ত ৪ দিন মোটরসাইকেল চলাচলে নিষেধাজ্ঞা
প্রচ্ছদ / খেলাধুলা / ক্রোয়েশিয়াকে কাঁদিয়ে বিশ্বকাপ শিরোপা জিতল ফ্রান্স

ক্রোয়েশিয়াকে কাঁদিয়ে বিশ্বকাপ শিরোপা জিতল ফ্রান্স

প্রকাশিত: ২০১৮-০৭-১৫ ২৩:০৩:১৭

   আপডেট: ২০১৮-০৭-১৫ ২৩:২৪:০৩

স্পোর্টস ডেস্ক

রাশিয়া বিশ্বকাপ ফাইনালে ক্রয়োশিয়াকে ৪-২ গোলে হারিয়ে ২য় বারের মত চ্যাম্পিয়ন হল ফ্রান্স।

বিশ্বকাপের ফাইনালে ক্রোয়েশিয়াকে ৪-২ গোলে হারিয়ে শিরোপা জিতেছে ফ্রান্স।
 
‘গ্রেটেস্ট শো অন আর্থ’র সবচেয়ে আকর্ষণীয় ম্যাচে মুখোমুখি হয়েছে একবারের চ্যাম্পিয়ন ফ্রান্স ও প্রথমবারের মত ফাইনালে ওঠা ক্রোয়েশিয়া। মস্কোর লুঝনিকি স্টেডিয়ামে বাংলাদেশ সময় রাত ৯টায় শুরু হয় ফাইনাল ম্যাচটি।

এক মাসের যুদ্ধ ও ৬৩ ম্যাচে লড়াই শেষে বিশ্বকাপ এখন আকর্ষনের শীর্ষে। ফাইনাল ম্যাচ। এই ম্যাচটির জন্য গেল এক মাস অধীর আগ্রহে ছিলো ফুটবলপ্রেমিরা। আশা ও আশা ভঙ্গের দোলাচলে আজ ফ্রান্স ও ক্রোয়েশিয়ার ফাইনাল দেখেছে পুরো বিশ্ব।

১৯৯৮ সালে প্রথম ও শেষবারের মত বিশ্বকাপ জয় করে ফ্রান্স। আর এবারই প্রথমবারের মত ফাইনালে উঠলো ৪৪ লাখ লোকসংখ্যার দেশ ক্রোয়েশিয়া।

আজ প্রথমার্ধে ২-১ গোলে এগিয়ে থাকার পর দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই পল পগবা ও এমবাপ্পের গোলে ৪-১ গোলে এগিয়ে যায় ফ্রান্স। এর ফলে দ্বিতীয়বারের মতো চ্যাম্পিয়ন হবার দিকে অনেকখানি এগিয়ে যায় ফরাসিরা।

বিরতির পর ৪-২ গোলে এগিয়ে যায় ফ্রান্স। পল পগবা ও এম্বাপ্পের গোলে ফ্রান্স শিরোপার কাছে। ডি-বক্সের প্রান্ত থেকে বাঁ-পায়ে জোরালো শট নেন পগবা। গোলরক্ষক সুবাসিচকে ফাঁকি দিয়ে বল চলে যায় জালে। এমবাপ্পে বক্সের বাইরে থেকে ৪ নাম্বার গোলটি করেন।ম্যাচে ক্রোয়েশিয়ার আত্মঘাতী গোলে শুরুতেই ১-০ গোলে এগিয়ে যায় ফ্রান্স। ১৮তম মিনিটে এই আত্মঘাতী গোলটি করেন মারিও মানজুকিচ। ডি-বক্সের কাছাকাছি জায়গায় ফ্রি-কিক পায় ফ্রান্স। ফ্রি-কিকটি নেন অ্যান্তোনি গ্রিজম্যান। ফ্রি-কিক থেকে উড়ে আসা বল হেড করে ক্লিয়ার করে দিতে চেয়েছিলেন মারিও মানজুকিচ। কিন্তু বলটি চলে যায় জালে।

আত্মঘাতী গোলে পিছিয়ে যাওয়ার পর কিছুক্ষণের মধ্যেই ম্যাচে ১-১ সমতা আনে ক্রোয়েশিয়া। ২৮তম মিনিটে গোলটি করেন ইভান পেরিসিচ। ফ্রি-কিকের সূত্র ধরে গোলটি করে ক্রোয়েশিয়া। ডি-বক্সের প্রান্ত থেকে দুর্দান্ত শটে বল জালে পাঠান পেরিসিচ। ৩৮তম মিনিটে পেনাল্টি থেকে গোল করে ফ্রান্সকে ২-১ ব্যবধানে এগিয়ে দেন অ্যান্তোনি গ্রিজম্যান।

বিরতির পর ৪৮তম মিনিটে ম্যাচে সমতা আনতে পারতো ক্রোয়েশিয়া। কিন্তু ইভান পেরিসিচের দুর্দান্ত শট স্পট জাম্প দিয়ে ক্রসবারের উপর দিয়ে তুলে দেন।

ম্যাচের ৬৫ মিনিটে আবারও এগিয়ে যায় ফরাসিরা। হারনান্দেজের পা থেকে বল পান এমবাপ্পে। এবং আবার দুর্দান্ত বুলেট গতির শটে এগিয়ে যায় ফ্রান্স। এর ফলে ম্যাচের এই মুহূর্তে ৪-১ গোলে এগিয়ে জিদানের উত্তরসূরিরা। তবে ম্যাচে আবারও টুইস্ট নিয়ে আসেন মানজুকিচ।

৬৮মিনিটে ব্যাক পাস থেকে বল পান লরিস। কিন্তু পেছনেই যে দৌড়ে আসছেন মানজুকিচ। বলের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার আগেই পেছন থেকে হালকা ছোঁয়ায় বলকে জালে জড়িয়ে ৪-২তে ব্যবধান কমিয়ে আনেন।

মুখোমুখি লড়াই :

 

** এই ম্যাচে মুখোমুখি হওয়ার আগে পাঁচবার দেখা হয়েছিল ফ্রান্স ও ক্রোয়েশিয়ার। আগের পাঁচবারের মুখোমুখিতে ফ্রান্স অবশ্য অজেয় রয়েছে। তারা জিতেছে তিনটিতে। দুটিতে ড্র হয়েছে। এর আগে দুইবার তারা বড় টুর্নামেন্টে মুখোমুখি হয়েছে।

** ১৯৯৮ বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে দেখা হয়েছিল দল দুটির। সেবার প্রথমে পিছিয়ে পড়েও ২-১ ব্যবধানে জিতেছিল ফ্রান্স। ফ্রান্সের হয়ে ১৪১ ম্যাচ খেলে কোনো গোল করতে না পারা লিলিয়ান থুরাম সেদিন তার ক্যারিয়ারের ১৪২তম ম্যাচে জোড়া গোল করে ফ্রান্সকে ফাইনালে তুলেছিলেন। শেষ পর্যন্ত শিরোপাও জিতেছিল ফরাসিরা।

** ২০০৪ ইউরোতে দেখা হয়েছিল ফ্রান্স-ক্রোয়েশিয়ার। সেবার অবশ্য কেউ জেতেনি। ২-২ গোলে ড্র হয়েছিল গ্রুপপর্বের ম্যাচটি।

**২০১১ সালে তারা একটি প্রীতি ম্যাচে মুখোমুখি হয়েছিল। সেবার গোলশূন্য ড্র হয়েছিল।

**২০১৮ সালে বিশ্বকাপে ৪-২ গোলে শিরোপা জয় পায় ফ্রান্স।

পরিসংখ্যানে ফ্রান্স :

 
 

** বিশ্বকাপের ইতিহাসে ফ্রান্স ষষ্ঠ দেশ হিসেবে তিন কিংবা তার বেশিবার ফাইনালে উঠেছে। জার্মানি ৮ বার, ব্রাজিল ও ইতালি ৬ বার, আর্জেন্টিনা ৫ বার ও নেদারল্যান্ডস ৩ বার করে ফাইনালে উঠেছে।

** ইউরো ও বিশ্বকাপ মিলিয়ে এটা হতে যাচ্ছে ফ্রান্সের ষষ্ঠ ফাইনাল। আগের পাঁচ ফাইনালে তারা তিনবার জিতেছে।

** বিশ্বকাপের ফাইনালে ফ্রান্সের করা চারটি গোলের তিনটিই এসেছে সেট পিচ থেকে। দুটি কর্নার থেকে, একটি পেনাল্টি থেকে।
 
** এবারের বিশ্বকাপে ফ্রান্সের যে পাঁচজন খেলোয়াড় গোল করেছেন তাদের তিনজনই রক্ষণভাগের খেলোয়াড় ( বেঞ্জামিন পাভার্ড, রাফায়েল ভারানে ও স্যামুয়েল উমতিতি)। এর আগে ১৯৯৮ সালে ফ্রান্সের তিনজন রক্ষণভাগের খেলোয়াড় গোল করেছিল। সেবার শিরোপাও জিতেছিল তারা।** ফ্রান্স নকআউট পর্বে তাদের সবশেষ ১৪ ম্যাচের মাত্র একটিতে হেরেছে। ২০১৪ বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে জার্মানির কাছে তারা ১-০ গোলে হেরেছিল।

** দিদিয়ের দেশমের সামনে ইতিহাস গড়ার সুযোগ রয়েছে। বিশ্বকাপের ইতিহাসে তৃতীয় কোনো ব্যক্তি হিসেবে খেলেয়াড় ও কোচ হিসেবে শিরোপা জয়ের সুযোগ রয়েছে তার সামনে। তার আগে ব্রাজিলের মারিও জাগালো ও জার্মানির ফ্রাঞ্জ বেকেনবাওয়ার খেলোয়াড় ও কোচ হিসেবে শিরোপা জিতেছেন। দেশম বিশ্বকাপে তার তত্ত্বাবধানে খেলা ১১ ম্যাচের ৮টিতেই জয় তুলে নিয়েছেন।

** এবারের বিশ্বকাপের নক আউট পর্বে ফ্রান্স কেবল ১১ মিনিট ১২ সেকেন্ড পিছিয়ে ছিল। বাকিগুলোতে তারা লিড নিয়ে জিতেছে। অন্যদিকে ক্রোয়েশিয়া নকআউট পর্বের তিন ম্যাচের তিনটিতেই পিছিয়ে পড়ে জিতেছে।

** পেলের রেকর্ড ছোঁয়ার সুযোগ রয়েছে ফ্রান্সের তরুণ তুর্কি কালিয়ান এমবাপের সামনে। পেলের পর দ্বিতীয় কোনো কিশোর ফুটবলার হিসেবে তার সামনে ফাইনালে গোল করার সুযোগ রয়েছে। ১৯৫৮ বিশ্বকাপে পেলে ফাইনালে করা গোলসহ মোট ৬ গোল করেছিলেন। এমবাপের বর্তমান গোল তিনটি।

** অ্যান্তোনিও গ্রিজমান বিশ্বকাপ ও ইউরোর নকআউট পর্বের ম্যাচে ১১টি গোলের সঙ্গে সম্পৃক্ত আছেন (গোল করা ও সহায়তা করা)। যা ফ্রান্সের সবশেষ ৫০ বছরের ইতিহাসে সর্বোচ্চ। তার আগে জিনেদিন জিদান আটটি ও মিশেল প্লাতিনি ছয়টি গোলের সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন।

ক্রোয়েশিয়ার পরিসংখ্যান :

 

** ক্রোয়েশিয়া ১৩তম ভিন্ন দেশ হিসেবে ফাইনালে উঠেছে। এর আগে ফ্রান্স ১৯৯৮ সালে ও স্পেন ২০১০ সালে প্রথমবারের মতো ফাইনালে উঠেছিল। প্রথমবার ফাইনালে উঠেই শিরোপা জিতেছিল তারা। এবার ক্রোয়েশিয়ার সামনে রয়েছে সেই সুযোগ।

** বিশ্বকাপের ইতিহাসে ক্রোয়েশিয়া একমাত্র দল যারা নকআউট পর্বের তিন ম্যাচেই পিছিয়ে পড়েও জয় তুলে নিয়েছে এবং ফাইনালে উঠেছে।

** আগের তিন ম্যাচের তিনটিতেই অতিরিক্ত সময়ে খেলেছে ক্রোয়েশিয়া। ফাইনাল ম্যাচটি অতিরিক্ত সময়ে গড়ালে বিশ্বকাপের ইতিহাসে প্রথম কোনো দল হিসেবে টানা চার ম্যাচে অতিরিক্ত সময় খেলার রেকর্ড গড়বে তারা।

** এবারের আসরে ক্রোয়েশিয়ার ভিন্ন আটজন খেলোয়াড় ১২টি গোল করেছেন। তাদের চেয়ে বেশি গোল করেছে বেলজিয়াম, ১৪টি। ৯ জন ভিন্ন খেলোয়াড় বেলজিয়ামের হয়ে ১৪টি গোল করেছেন।

** ক্রোয়েশিয়া বিশ্বকাপের সবশেষ ১০ ম্যাচেই গোল করেছে। ২০০৬ বিশ্বকাপে জাপানের সঙ্গে গোলশূন্য ড্রয়ের পর থেকে প্রত্যেক ম্যাচেই গোল পেয়েছে তারা।

** ক্রোয়েশিয়া এবারের বিশ্বকাপে পাঁচটি গোল হজম করেছে। তার চারটিই হয়েছে সেট পিচ থেকে। পেনাল্টি, থ্রো-ইন, ইনডিরেক্ট ফ্রি কিক ও ডিরেক্ট ফ্রি কিক থেকে গোল হজম করেছে তারা।

** এবারের বিশ্বকাপে ক্রোয়েশিয়া সবচেয়ে বেশি ফাউল করেছে (৯৯টি) এবং সবচেয়ে বেশি হলুদ কার্ডও তারা দেখেছে (১৪টি)।

** লুকা মদ্রিচ এবারের বিশ্বকাপে ১৬টি সুযোগ তৈরি করেছেন। যা তার যেকোনো সতীর্থের চেয়ে দ্বিগুণ।

** ইভান পেরিসিচ মেজর টুর্নামেন্টে ক্রোয়েশিয়ার দশ গোলের সঙ্গে সম্পৃক্ত আছেন। নিজে করেছেন ৬ গোল, আর অ্যাসিস্ট করেছেন আরো ৪টি গোলে।

আপনার মন্তব্য

আলোচিত