শিরোনাম

  বেসরকারি ইক্যুইটি আসছে ভুটানে   কক্সবাজারে হিন্দু সম্প্রদায়ের একই পরিবারের চারজনের মৃতদেহ উদ্ধার   ঢাকা সিটিতে নির্বাচন না হলে পেছাবে না এসএসসি পরীক্ষা   কুমিল্লায় উদ্ধার করা হলো ৩শ’ বছর পুরোনো মূল্যবান বৌদ্ধ মন্দির সদৃশ নকশা   নিউজিল্যান্ডের নতুন চমক বেন হুইলার   রাখাইনে সহিংসতার পর শত শত স্কুল বন্ধ   চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সম্মানসূচক ডি.লিট ডিগ্রি পেলেন প্রণব মুখার্জি   রোহিঙ্গাদের জন্য আশ্রয়কেন্দ্র বানাচ্ছে মিয়ানমার   ২ বছরের মধ্যে রোহিঙ্গারা ফিরে যাবে, রূপরেখা চূড়ান্ত   আগামী ১৬ ফেব্রুয়ারী ঢাকাতে ' কাচালং ওয়েলফেয়ার সোসাইটি'র' এক যুগপূর্তি উপলক্ষ্যে জুম্মদের পুনর্মিলনী ও বনভোজন   আদিবাসী নারীদের মধ্যে প্রথম পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করলেন রূপানন্দা   ১০ বছর পর বেনজির ভুট্টোর হত্যার দায় স্বীকার করেছে তালেবান   আজ চবিতে যাচ্ছেন প্রণব মুখার্জি   মানুষের মনের ও চিন্তার দূষণ দূর করতে হবে : প্রণব মুখার্জি   ২ এপ্রিল থেকে এইচএসসি পরীক্ষা শুরু   বড় মহাপূরম উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত   জিম্বাবুয়েকে ৮ উইকেটে হারিয়ে ত্রিদেশীয় সিরিজে উড়ন্ত সূচনা বাংলাদেশের   পার্বত্য অঞ্চলে পাহাড়িদের নতুন আতঙ্কের নাম, পাহাড়িরা 'বার্মাইয়া' : রুমা দেওয়ান   বাগদাদে ভয়াবহ দুই আত্মঘাতী বোমায় নিহত ২৬, আহত ৯০   ১০ হাজার কনস্টেবল নিয়োগ স্থগিত
প্রচ্ছদ / খেলাধুলা / বাবার সমর্থন পেয়ে এখন জাতীয় দলের ফরোয়ার্ড খেলোয়াড় রিতু পর্ণা চাকমা

বাবার সমর্থন পেয়ে এখন জাতীয় দলের ফরোয়ার্ড খেলোয়াড় রিতু পর্ণা চাকমা

প্রকাশিত: ২০১৮-০১-১২ ১৭:১৩:১৩

   আপডেট: ২০১৮-০১-১৫ ০০:৪১:৫২

রিতু পর্ণা চাকমা

স্পোর্টস ডেস্ক

তৃতীয় শেণিতে থাকা অবস্থায় ফুটবলে বড়জোর আলতো লাথি দেওয়া যায়। অথবা পাড়ার বড় মাঠের এক কোণায় ফুটবল নিয়ে সমবয়সীদের সঙ্গে ওয়ান-টু-ওয়ান খেলা যায়। বড় মাঠে যাওয়া কিন্তু নিষেধ! ঘাড়ের উপর যদি বড়দের নেওয়া শট উড়ে আসে! মেয়ে হলে, মাঠে কী কাজ? ‘সাথীদের’ সঙ্গে পুতুলের বিয়ে দেওয়াই মূল খেলা। সেখানে রিতু পর্ণা চাকমা ইতিহাস গড়েছেন। ওই বয়সেই মাঠ কাঁপিয়েছেন বঙ্গমাতা ফজিলাতুন্নেসা মুজিব গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্টে। সেখান থেকে তিনি এখন অনূর্ধ্ব-১৫ জাতীয় ফুটবল দলের স্বর্নালী ইতিহাসের অংশীদার।

কদিন আগেই শক্তিশালী ভারতকে হারিয়ে অনূর্ধ্ব-১৫ সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ জিতল বাংলাদেশের মেয়েরা। এই টুর্নামেন্ট দিয়েই প্রথমবারের মতো বয়সভিত্তিক জাতীয় দলে খেলেছেন রিতু পর্ণা চাকমা। চার ম্যাচে কোনো গোল করতে না পারলেও বাঁ পায়ের জাদুতে একাধিক গোলে অ্যাসিস্ট করেছেন এই ফরোয়ার্ড। নিজের ফুটবল কারিশমা প্রদর্শন করে নীরব ঘোষণা দিয়েছেন বড় পরিসরে নিজের আগমনী বার্তার।

‘পাঁচ পাহাড়ী বোন’ এর একজন এই রিতু। আনুচিং-আনাই, মনিকা, মারিয়ার সঙ্গে নিজের নামটা জুড়ে নিয়েছেন অনূর্ধ্ব-১৫ বাংলাদেশ নারী দলে। রাঙামাটি থেকে উঠে আসতে গিয়ে পাহাড়ের মতো চড়াই-উৎরাই পার হতে হয়েছে তাকে। সৌভাগ্য তার, সমর্থন পেয়েছেন পরিবার ও এলাকাবাসীর। অবশ্য শুরুতে সমর্থন মেলেনি।

যখন তার পুতুল খেলার সময়, তখন থেকে ফুটবল খেলছেন রিতু। ২০১৮ সালে ক্লাস নাইনে ওঠা মেয়েটি নিজের এলাকার সবাইকে দেখে আগ্রহী হয়েছেন ফুটবলে। আনুচিং-আনাইদের মতো তার ক্যারিয়ারেও মোড়ও ঘুরিয়েছে বঙ্গমাতা ফজিলাতুন্নেসা মুজিব স্কুল ফুটবল টুর্নামেন্ট। ২০১২ সালে তাক লাগিয়েছেন তিনি। রিতু তখন বগাইছড়ি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে তৃতীয় শ্রেণিতে পড়তেন।

রিতু বলেন, ‘আমি ২০১২ সাল থেকে ফুটবল খেলা শুরু করি। ওই বছরেই বঙ্গমাতা ফুটবল খেলি। তখন কেবল ক্লাস থ্রিতে পড়তাম। আমার স্কুলের প্রধান শিক্ষক আমাকে এ ব্যাপারে আগ্রহী করে তোলেন।’

বঙ্গমাতা ফজিলাতুন্নেসা মুজিব গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্টের পর ফুটবলকে আরও ‘সিরিয়াস’ ভাবে নেন ছোট্ট রিতু। অভাব অনটনের সংসারে ফুটবল খেলার মতো বিলাসিতা করাও যেন পাপ। সেই পাপকে পূণ্যে রুপান্তর করে পথটা এগিয়ে নিয়েছেন রিতু পর্ণা। সঙ্গী বাবা। এমনও হয়েছে, বাড়ি থেকে অনেক দূরে ঘাগড়া প্রাথমিক বিদ্যালয়ে অনুশীলন করতে যেতেন কিন্তু ভাড়ার টাকা থাকত না। বাবা ধার করে এনে দিতেন। কখনও কখনও যাওয়ার টাকা থাকলেও আসার টাকা থাকত না। তখন স্কুলে ফুটবলারদের জন্য যেখানে থাকার ব্যবস্থা করা হয়েছিল, সেখানেই থেকে যেতেন রিতু।

রিতুর ভাষায়, ‘বাবা কৃষক। অনেক সময় প্র্যাকটিসে যাওয়ার টাকা থাকত না। বাবা ধার করে এনে দিতেন। কিন্তু পুরোটা পারতেন না। তখন স্কুলে থাকতাম। অনেকবারই এমন হয়েছে। শুধু বাবা বলতেন, ভাল করে খেল। জাতীয় দলে খেলতে হবে। বাবার কথা রাখলাম, কিন্তু বাবা দেখে যেতে পারলেন না।’

২০১২ সালে ফুটবল শুরু করা রিতু ২০১৮ সালে এসে বয়সভিত্তিক জাতীয় দলে সুযোগ পেলেন। কিন্তু বাবা দেখে যেতে পারলেন না। এটাই তার বড় আক্ষেপ। সে কথা বলতে গিয়েই কণ্ঠটা খানিক কেঁপে উঠল, ‘বাবা মারা গেছেন ২০১৫ সালে। আমি জাতীয় (অনূর্ধ্ব-১৫ জাতীয় দল) দলে সুযোগ পেয়েছি গত বছর। বাবা বলতেন জাতীয় দলের কথা। আমি সুযোগ পেলাম কিন্তু বাবা দেখে যেতে পারলেন না।’

শুরুতে বাবা আর পরিবার এদের সমর্থনই পেয়েছেন। বাইরের লোকদের সেভাবে উৎসাহ পাওয়া হয়নি। রিতু জানালেন, এলাকার লোকজন শুরুর দিকে ফুটবল খেলার ব্যাপারে অনুৎসাহিত করতেন, ‘প্রথমে বাইরের লোকজন খুব ভালো কথা বলত না। মেয়ে মানুষ হয়েও ফুটবল খেলি এটা পছন্দ করত না সবাই। পরে অবশ্য খুব সমর্থন দিয়েছে, সাহায্য করেছে।’

প্রথমবারের মতো জাতীয় দলের ক্যাম্পে আসার স্মৃতি এখনও নাড়া দেয় রিতুকে। দলের মধ্যে সবচেয়ে ছোট ছিলেন, এখনও ছোট। বড়রা কীভাবে তাকে সাদরে গ্রহণ করেছিল সে কথা বলতে গিয়ে আপনমনেই হাসেন রিতু, ‘যখন ক্যাম্পে এলাম, সবাই বলত এতো ছোট একটা মেয়ে! কীভাবে খেলবে। সবাই আমাকে এখনও খুব আদর করে। কোচও উৎসাহ দেন।’

চার ভাই-বোনের পরিবারে রিতুর পর শুধুমাত্র ছোট ভাই। দুই বোন থাকে চট্টগ্রামে, বাকি দুজন পড়াশোনা করে। রাঙামাটির পথ ছেড়ে ঢাকায় এসে উঠেছেন ২০১৫ সালে। বাংলাদেশ ক্রীড়া শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে (বিকেএসপি) ক্যাম্প করার পর সেখানেই সুযোগ হয়ে যায় তার। তারপর? গল্পটা শুধুই ফুটবলকে ঘিরে। বর্তমান জাতীয় নারী দলের সাবিনা খাতুনকে আদর্শ মেন এগিয়ে যাচ্ছেন ফুটবলের আরও গভীরে।

লক্ষ্য, বাংলাদেশের সীমানা ছাড়িয়ে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে নিজেকে শীর্ষে নিয়ে যাওয়া।

 

সূত্রঃ প্রিয়.কম ।

আপনার মন্তব্য


আলোচিত