শিরোনাম

  ২৪ ডিসেম্বর থেকে পার্বত্য এলাকাসহ মাঠপর্যায়ে সশস্ত্র বাহিনী মোতায়েন করা হবে   গ্রাম আদালতের একটি সফল গল্প   টেকনোক্র্যাট মন্ত্রীদের পদত্যাগের পর চার মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব বণ্টন   আগামী ২৪ ডিসেম্বর জেএসসি ও প্রাথমিক সমাপনীর ফল প্রকাশ   নির্বাচনকালীন ইউএনও-ডিসির স্বাক্ষরে শিক্ষকদের বেতন-ভাতা : শিক্ষা মন্ত্রণালয়   খালেদার মনোনয়ন বাতিলের বিরুদ্ধে হাইকোর্টের বিভক্ত আদেশ   'তিন পার্বত্য জেলায় ৩৮ টি ভোটকেন্দ্রে হেলিকপ্টার ব্যবহার করা হবে'   সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ন নির্বাচন নিশ্চিত করার আহ্বান ইউরোপীয় দেশগুলোর   তরুণ ও নারী ভোটাররাই আওয়ামী লীগের বিজয়ের প্রধান হাতিয়ারঃ কাদের   গত ৫ বছরে জেএসএস এমপি উন্নয়ন করতে পারেনি, যা করেছে আওয়ামীলীগ করেছে : দিপংকর তালুকদার   এখন থেকে সরকারি চাকরিতে যোগ দেওয়ার আগে মাদক পরীক্ষা বাধ্যতামূলক   'বান্দরবানে বিদেশি পর্যটকদের ভ্রমণে কোনো নিষেধাজ্ঞা নেই'   'নির্বাচনী প্রচারণায় রঙিন পোস্টার বা ব্যানার ব্যবহার করা যাবে না'   ৫৮টি নিউজ পোর্টাল খুলে দিয়েছে বিটিআরসি   বুধবার থেকে নির্বাচনী প্রচারণা শুরু করবেন প্রধানমন্ত্রী   বিএনপি ক্ষমতায় এলে শান্তি চুক্তি বাস্তবায়ন করার চেষ্ঠা করবো: মনি স্বপন দেওয়ান   তিন পাহাড়ে নৌকা নিয়ে মাঠে দৌড়াবেন যারা   আগামীকাল খালেদা জিয়ার অগ্নিপরীক্ষা   হিরোকে জিরো বানানো এত সহজ নয়, সফল হিরো আলমের চ্যালেঞ্জ   খাগড়াছড়িতে বনের রাজা পেয়েছেন ইউপিডিএফের প্রার্থী নতুন কুমার চাকমা
প্রচ্ছদ / খেলাধুলা / বাবার সমর্থন পেয়ে এখন জাতীয় দলের ফরোয়ার্ড খেলোয়াড় রিতু পর্ণা চাকমা

বাবার সমর্থন পেয়ে এখন জাতীয় দলের ফরোয়ার্ড খেলোয়াড় রিতু পর্ণা চাকমা

প্রকাশিত: ২০১৮-০১-১২ ১৭:১৩:১৩

   আপডেট: ২০১৮-০১-১৫ ০০:৪১:৫২

রিতু পর্ণা চাকমা

স্পোর্টস ডেস্ক

তৃতীয় শেণিতে থাকা অবস্থায় ফুটবলে বড়জোর আলতো লাথি দেওয়া যায়। অথবা পাড়ার বড় মাঠের এক কোণায় ফুটবল নিয়ে সমবয়সীদের সঙ্গে ওয়ান-টু-ওয়ান খেলা যায়। বড় মাঠে যাওয়া কিন্তু নিষেধ! ঘাড়ের উপর যদি বড়দের নেওয়া শট উড়ে আসে! মেয়ে হলে, মাঠে কী কাজ? ‘সাথীদের’ সঙ্গে পুতুলের বিয়ে দেওয়াই মূল খেলা। সেখানে রিতু পর্ণা চাকমা ইতিহাস গড়েছেন। ওই বয়সেই মাঠ কাঁপিয়েছেন বঙ্গমাতা ফজিলাতুন্নেসা মুজিব গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্টে। সেখান থেকে তিনি এখন অনূর্ধ্ব-১৫ জাতীয় ফুটবল দলের স্বর্নালী ইতিহাসের অংশীদার।

কদিন আগেই শক্তিশালী ভারতকে হারিয়ে অনূর্ধ্ব-১৫ সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ জিতল বাংলাদেশের মেয়েরা। এই টুর্নামেন্ট দিয়েই প্রথমবারের মতো বয়সভিত্তিক জাতীয় দলে খেলেছেন রিতু পর্ণা চাকমা। চার ম্যাচে কোনো গোল করতে না পারলেও বাঁ পায়ের জাদুতে একাধিক গোলে অ্যাসিস্ট করেছেন এই ফরোয়ার্ড। নিজের ফুটবল কারিশমা প্রদর্শন করে নীরব ঘোষণা দিয়েছেন বড় পরিসরে নিজের আগমনী বার্তার।

‘পাঁচ পাহাড়ী বোন’ এর একজন এই রিতু। আনুচিং-আনাই, মনিকা, মারিয়ার সঙ্গে নিজের নামটা জুড়ে নিয়েছেন অনূর্ধ্ব-১৫ বাংলাদেশ নারী দলে। রাঙামাটি থেকে উঠে আসতে গিয়ে পাহাড়ের মতো চড়াই-উৎরাই পার হতে হয়েছে তাকে। সৌভাগ্য তার, সমর্থন পেয়েছেন পরিবার ও এলাকাবাসীর। অবশ্য শুরুতে সমর্থন মেলেনি।

যখন তার পুতুল খেলার সময়, তখন থেকে ফুটবল খেলছেন রিতু। ২০১৮ সালে ক্লাস নাইনে ওঠা মেয়েটি নিজের এলাকার সবাইকে দেখে আগ্রহী হয়েছেন ফুটবলে। আনুচিং-আনাইদের মতো তার ক্যারিয়ারেও মোড়ও ঘুরিয়েছে বঙ্গমাতা ফজিলাতুন্নেসা মুজিব স্কুল ফুটবল টুর্নামেন্ট। ২০১২ সালে তাক লাগিয়েছেন তিনি। রিতু তখন বগাইছড়ি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে তৃতীয় শ্রেণিতে পড়তেন।

রিতু বলেন, ‘আমি ২০১২ সাল থেকে ফুটবল খেলা শুরু করি। ওই বছরেই বঙ্গমাতা ফুটবল খেলি। তখন কেবল ক্লাস থ্রিতে পড়তাম। আমার স্কুলের প্রধান শিক্ষক আমাকে এ ব্যাপারে আগ্রহী করে তোলেন।’

বঙ্গমাতা ফজিলাতুন্নেসা মুজিব গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্টের পর ফুটবলকে আরও ‘সিরিয়াস’ ভাবে নেন ছোট্ট রিতু। অভাব অনটনের সংসারে ফুটবল খেলার মতো বিলাসিতা করাও যেন পাপ। সেই পাপকে পূণ্যে রুপান্তর করে পথটা এগিয়ে নিয়েছেন রিতু পর্ণা। সঙ্গী বাবা। এমনও হয়েছে, বাড়ি থেকে অনেক দূরে ঘাগড়া প্রাথমিক বিদ্যালয়ে অনুশীলন করতে যেতেন কিন্তু ভাড়ার টাকা থাকত না। বাবা ধার করে এনে দিতেন। কখনও কখনও যাওয়ার টাকা থাকলেও আসার টাকা থাকত না। তখন স্কুলে ফুটবলারদের জন্য যেখানে থাকার ব্যবস্থা করা হয়েছিল, সেখানেই থেকে যেতেন রিতু।

রিতুর ভাষায়, ‘বাবা কৃষক। অনেক সময় প্র্যাকটিসে যাওয়ার টাকা থাকত না। বাবা ধার করে এনে দিতেন। কিন্তু পুরোটা পারতেন না। তখন স্কুলে থাকতাম। অনেকবারই এমন হয়েছে। শুধু বাবা বলতেন, ভাল করে খেল। জাতীয় দলে খেলতে হবে। বাবার কথা রাখলাম, কিন্তু বাবা দেখে যেতে পারলেন না।’

২০১২ সালে ফুটবল শুরু করা রিতু ২০১৮ সালে এসে বয়সভিত্তিক জাতীয় দলে সুযোগ পেলেন। কিন্তু বাবা দেখে যেতে পারলেন না। এটাই তার বড় আক্ষেপ। সে কথা বলতে গিয়েই কণ্ঠটা খানিক কেঁপে উঠল, ‘বাবা মারা গেছেন ২০১৫ সালে। আমি জাতীয় (অনূর্ধ্ব-১৫ জাতীয় দল) দলে সুযোগ পেয়েছি গত বছর। বাবা বলতেন জাতীয় দলের কথা। আমি সুযোগ পেলাম কিন্তু বাবা দেখে যেতে পারলেন না।’

শুরুতে বাবা আর পরিবার এদের সমর্থনই পেয়েছেন। বাইরের লোকদের সেভাবে উৎসাহ পাওয়া হয়নি। রিতু জানালেন, এলাকার লোকজন শুরুর দিকে ফুটবল খেলার ব্যাপারে অনুৎসাহিত করতেন, ‘প্রথমে বাইরের লোকজন খুব ভালো কথা বলত না। মেয়ে মানুষ হয়েও ফুটবল খেলি এটা পছন্দ করত না সবাই। পরে অবশ্য খুব সমর্থন দিয়েছে, সাহায্য করেছে।’

প্রথমবারের মতো জাতীয় দলের ক্যাম্পে আসার স্মৃতি এখনও নাড়া দেয় রিতুকে। দলের মধ্যে সবচেয়ে ছোট ছিলেন, এখনও ছোট। বড়রা কীভাবে তাকে সাদরে গ্রহণ করেছিল সে কথা বলতে গিয়ে আপনমনেই হাসেন রিতু, ‘যখন ক্যাম্পে এলাম, সবাই বলত এতো ছোট একটা মেয়ে! কীভাবে খেলবে। সবাই আমাকে এখনও খুব আদর করে। কোচও উৎসাহ দেন।’

চার ভাই-বোনের পরিবারে রিতুর পর শুধুমাত্র ছোট ভাই। দুই বোন থাকে চট্টগ্রামে, বাকি দুজন পড়াশোনা করে। রাঙামাটির পথ ছেড়ে ঢাকায় এসে উঠেছেন ২০১৫ সালে। বাংলাদেশ ক্রীড়া শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে (বিকেএসপি) ক্যাম্প করার পর সেখানেই সুযোগ হয়ে যায় তার। তারপর? গল্পটা শুধুই ফুটবলকে ঘিরে। বর্তমান জাতীয় নারী দলের সাবিনা খাতুনকে আদর্শ মেন এগিয়ে যাচ্ছেন ফুটবলের আরও গভীরে।

লক্ষ্য, বাংলাদেশের সীমানা ছাড়িয়ে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে নিজেকে শীর্ষে নিয়ে যাওয়া।

 

সূত্রঃ প্রিয়.কম ।

আপনার মন্তব্য

আলোচিত