শিরোনাম

  মিয়ানমার পাহাড়ী অঞ্চলে পাহাড় ধসে ৬ জনের মৃত্যু   বাঙালি জাতির মুক্তির জন্যই আ. লীগ প্রতিষ্ঠা হয়েছিল: প্রধানমন্ত্রী   উত্তর কোরিয়ার আচরণে এখনো ভীত ট্রাম্প !   আজ জার্মানির অগ্নি পরীক্ষা, মুখোমুখি হবে সুইডেনের সাথে   সুইজারল্যান্ড জয় পাওয়ায় এক ধাপ এগিয়ে গেল ব্রাজিল   সার্বিয়াকে হারিয়ে সুইজারল্যান্ডের জয়   ত্রিপুরা কিশোরীর ৫ ধর্ষককের মধ্যে ৩ জন স্বীকার করেছে   আইসল্যান্ডকে ২-০ গোলে হারালো নাইজেরিয়া   আইসল্যান্ডের পরাজয়ে দ্বিতীয় রাউন্ডের পথে আর্জেন্টিনার আশা   ধরা পড়েছেন নেইমার!   রোমারিওকে ছাড়িয়ে গেলেন নেইমার   রাঙ্গামাটি থেকে আসা পাহাড়িকা পরিবহনের বাস চট্টগ্রামে খাদে পড়ে নিহত ৪, আহত ২০   নেইমারের মনের আশা পূরণ হলো   নেইমার আর কৌতিনহোর গোলে ব্রাজিলের বিশাল জয়   খাগড়াছড়িতে ত্রিপুরা কিশোরীর ৫ ধর্ষককে ৫ দিনের রিমান্ড   গৃহযুদ্ধের এত বছর পর দুই কোরিয়ার মিলনমেলা   মেসিরা গোল করতে না পারায় কাঁদলেন ম্যারাডোনা   `উপেক্ষিত জনগোষ্ঠীর নাম আদিবাসী’- এমপি বাদশা   আজ আমরাই জিতবো : নেইমার   ক্রোয়েশিয়ার দুর্দান্ত খেলায় ডুবে গেল আর্জেন্টিনা , ম্যারাডোনা হতাশ
প্রচ্ছদ / খেলাধুলা / আদিবাসী মেয়ে মারিয়া মান্দা ৩ দিন শ্রমিকের কাজ করে বুট কিনেছিল এখন জাতীয় দলের অধিনায়ক

আদিবাসী মেয়ে মারিয়া মান্দা ৩ দিন শ্রমিকের কাজ করে বুট কিনেছিল এখন জাতীয় দলের অধিনায়ক

প্রকাশিত: ২০১৭-১২-২৪ ১৮:৫৪:০১

   আপডেট: ২০১৭-১২-২৪ ১৮:৫৫:৫৭

স্পোর্টস ডেস্ক

গারো পাহাড়ের সবুজ উপত্যকা। দূর থেকে ঢেউ খেলানো অবারিত সৌন্দর্যের হাতছানি। গারো পাহাড়ের পাদদেশের নিভৃত একটি গ্রামের নাম কলসিন্দুর। গারো পাহাড় থেকে মাত্র ৬ কিলোমিটার উত্তরে নেতাই নদীর পাড়ের সমৃদ্ধ এক জনপদ কলসিন্দুর। ময়মনসিংহের ধোবাউড়া উপজেলার এ গ্রাম নতুন প্রজন্মের নারী ফুটবলারদের প্রতিভাগুণে নতুন করে বিখ্যাত হয়ে উঠেছে।

ময়মনসিংহের সীমান্তবর্তী ধোবাউড়া উপজেলার কলসিন্দুরের মেয়েরা এখন বাংলাদেশ ছাড়িয়ে বিদেশের মাটিতে ফুটবল খেলে সুনাম কুড়াচ্ছে। কলসিন্দুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও স্কুল অ্যান্ড কলেজের বিস্ময় ফুটবলার কন্যারা বাংলাদেশের ১৬ কোটি মানুষের মুখে হাসি ফুটিয়েছে টানা ২ বার এএফসি-অনূর্র্ধ্ব-১৪ মহিলা ফুটবল দল চ্যাম্পিয়নশিপ অর্জন করেছিল।

২০১১ সালে বঙ্গমাতা ফজিলাতুন্নেছা মুজিব প্রাথমিক বিদ্যালয় গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্ট প্রতিযোগিতায় অংশ নেয়ার মাধ্যমে শুরু হয়েছিল এদের খেলোয়াড়ি জীবন। কলসিন্দুরের ক্ষুদে এই ফুটবল খেলোয়াড়দের প্রতিটি খেলোয়াড় একেকটি গল্প। অধিকাংশ খেলোয়াড়ি দরিদ্র পিতামাতার সন্তান। কেউ  রিকশাচালক, কেউ শ্রমিক, কেউ কাঠমিস্ত্রী, কেউ বর্গাচাষি ও কেউবা ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীর সন্তান।

এদের পরিবারের দুঃখ-কষ্টের গল্প শুনলে যে কারো চোখের জল এসে যাবে। এরা দারিদ্র্যকে জয় করে সাফল্যের বিজয় ছিনিয়ে এনেছে। বর্তমানে কলসিন্দুরের ১১ মেয়ে বিভিন্ন পর্যায়ে জাতীয় ফুটবল দলের হয়ে খেলছে তারা হচ্ছে সানজিদা, মারিয়া মান্দা, মার্জিয়া, শামসুন্নাহার, শিউলী আজিম, তহুরা খাতুন, তাসলিমা, নাজমা, মাহমুদা, রূপা, কল্পনা।

গত বছর তাজিকিস্তানে এএফসি-অনূর্ধ্ব-১৪ মহিলা ফুটবল খেলে আসা জাতীয় মহিলা দলের খোলোয়াড় মারিয়া মান্দা। ২০১৩ সালের কথা। শিক্ষকরা বললেন যারা খেলতে চাও তাদেরকে বুট কিনতে হবে। কিন্তু মারিয়া মান্দার বুট কেনার মতো পরিবারের আর্থিক সামর্থ্য নেই। মারিয়ার বাবা বীরেন্দ্র মারাক আগেই মারা গেছেন । মা এনতা মান্দা শ্রমিকের কাজ করে ডাল-ভাত খেয়ে না খেয়ে সংসার চালান। ক্ষুদে মারিয়ার অদম্য ইচ্ছা পূরণে দারিদ্র্যের সঙ্গে লড়াই শুরু করে। বুট কেনার টাকা যোগাড় করতে মায়ের সঙ্গে ৩ দিন শ্রমিকের কাজ করে। সেই টাকা দিয়ে বুট কিনে খেলায় অংশ নেয়। পরে ঘটনাটি স্কুলের শিক্ষকরা জানতে পেরে মর্মাহত হন।

খ্যাতিমান গরিব পরিবারের খেলোয়াড়রা খেলে দেশ-বিদেশ থেকে এখন সুনাম বয়ে আনছে। তারা দেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করলেও পরিবারের ভাগ্য পরিবর্তন করতে পারেনি। দারিদ্র্যের সঙ্গে যুদ্ধ করে ওরা ঠিকে আছে।

প্রধান শিক্ষক মিনতি রানী শীল জানান, ২০১১ সালের কথা। স্কুল মাঠে ছেলেরা ফুটবল খেলতো মেয়েরা দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে খেলা দেখতো। মনে মনে কল্পনা করতাম মেয়েরা কি শুধু দর্শক হয়ে থাকবে না তারাও খেলবে। কিন্তু মেয়েরা ফুটবল খেলবে কি করে? ধর্মান্ধরা তো মেনে  নেবে না।

সেই মুহূর্তে চিঠি আসে বঙ্গমাতা বেগম ফজিলাতুন্নেছা মুজিব গোল্ডকাপ প্রাথমিক বিদ্যালয় ফুটবল টুর্নামেন্টে অংশ নিতে। চিঠি পাওয়ার পরপর ফুটবলপ্রেমিক সহকারী শিক্ষক মফিজ উদ্দিনকে দায়িত্ব দেই মেয়েদেরকে খেলার জন্য প্রস্তুত করতে। শিক্ষক মফিজ প্রশিক্ষণ দিয়ে এদেরকে উপযুক্ত করে তোলেন।

তারা উপজেলা পর্যায়ে খেলায় অংশ নিয়ে কলসিন্দুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় চ্যাম্পিয়ন হয়। জেলা পর্যায়েও চ্যাম্পিয়ন হয়। ঢাকা বিভাগীয় পর্যায়ে চ্যাম্পিয়ন হয়। ২০১২ সালেও ঢাকা বিভাগীয় পর্যায়ে চ্যাম্পিয়ন হয়। ২০১৩, ২০১৪ ও ২০১৫ সালে জাতীয়ভাবে ৩ বার চ্যাম্পিয়ন হয়। সাফল্যের ধারাবাহিকতাকে ধরে রাখতে নিয়মিত প্রশিক্ষণ দিয়ে উপযুক্ত করে গড়ে তুলে জাতীয় পর্যায়ে নিয়ে যাওয়ার লক্ষ্যে ‘কলসিন্দুর ওমেন্স ফুটবল একাডেমি’ গঠন করা হয়েছে।

র‍্যাংকিংয়ে অনেক এগিয়ে থাকা ভারতকে উড়িয়ে দিয়ে অনূর্ধ্ব-১৫ সাফ চ্যাম্পিয়নশিপে ১-০ গোলে জয় তুলে নিল মারিয়ার মান্দার দল।রবিবারের ফাইনাল ম্যাচে ভারতকে ১-০ হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে বাংলাদেশ।

বর্তমানে বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-১৫ দলের অধিনায়ক মারিয়া মান্ডা। অনূর্ধ্ব-১৫ সাফ ফুটবল চ্যাম্পিয়নশিপ টুর্নামেন্টে বাংলাদেশকে নেতৃত্ব দিচ্ছেন কলসিন্দুরের গারো আদিবাসী মেয়ে মারিয়া মান্দা (১৪)। সম্প্রতি ক্যাপ্টেন হিসেবে তাঁর নাম ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন (বাফুফে)।

আপনার মন্তব্য

আলোচিত