শিরোনাম

  আগামী ২৪ ডিসেম্বর জেএসসি ও প্রাথমিক সমাপনীর ফল প্রকাশ   নির্বাচনকালীন ইউএনও-ডিসির স্বাক্ষরে শিক্ষকদের বেতন-ভাতা : শিক্ষা মন্ত্রণালয়   খালেদার মনোনয়ন বাতিলের বিরুদ্ধে হাইকোর্টের বিভক্ত আদেশ   'তিন পার্বত্য জেলায় ৩৮ টি ভোটকেন্দ্রে হেলিকপ্টার ব্যবহার করা হবে'   সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ন নির্বাচন নিশ্চিত করার আহ্বান ইউরোপীয় দেশগুলোর   তরুণ ও নারী ভোটাররাই আওয়ামী লীগের বিজয়ের প্রধান হাতিয়ারঃ কাদের   গত ৫ বছরে জেএসএস এমপি উন্নয়ন করতে পারেনি, যা করেছে আওয়ামীলীগ করেছে : দিপংকর তালুকদার   এখন থেকে সরকারি চাকরিতে যোগ দেওয়ার আগে মাদক পরীক্ষা বাধ্যতামূলক   'বান্দরবানে বিদেশি পর্যটকদের ভ্রমণে কোনো নিষেধাজ্ঞা নেই'   'নির্বাচনী প্রচারণায় রঙিন পোস্টার বা ব্যানার ব্যবহার করা যাবে না'   ৫৮টি নিউজ পোর্টাল খুলে দিয়েছে বিটিআরসি   বুধবার থেকে নির্বাচনী প্রচারণা শুরু করবেন প্রধানমন্ত্রী   বিএনপি ক্ষমতায় এলে শান্তি চুক্তি বাস্তবায়ন করার চেষ্ঠা করবো: মনি স্বপন দেওয়ান   তিন পাহাড়ে নৌকা নিয়ে মাঠে দৌড়াবেন যারা   আগামীকাল খালেদা জিয়ার অগ্নিপরীক্ষা   হিরোকে জিরো বানানো এত সহজ নয়, সফল হিরো আলমের চ্যালেঞ্জ   খাগড়াছড়িতে বনের রাজা পেয়েছেন ইউপিডিএফের প্রার্থী নতুন কুমার চাকমা   বিশ্বের প্রথম উঁচু ভাস্কর্য 'চীনের স্প্রিং টেম্পল বুদ্ধ'   আন্তর্জাতিক মানবাধিকার দিবস || আদিবাসীদের মানবাধিকার প্রতিষ্ঠায় এগিয়ে আসার অাহ্বান   বনের রাজা সিংহকে নিয়ে রাঙ্গামাটিতে দৌড়াবেন ঊষাতন তালুকদার
প্রচ্ছদ / খেলাধুলা / অভাবের পরিবার থেকে উঠে আসা দুই আদিবাসী যমজ বোন এখন জাতীয় ফুটবল দলের খেলোয়াড়

অভাবের পরিবার থেকে উঠে আসা দুই আদিবাসী যমজ বোন এখন জাতীয় ফুটবল দলের খেলোয়াড়

প্রকাশিত: ২০১৭-১২-২০ ২১:৫৭:৫৬

তথ্য-সূত্র : প্রথম আলো

প্রথম আলো

পাহাড়ি অঞ্চলে বাস, নুন আনতে পান্তা ফুরোয়। এমন পরিবারে গর্ভবতী স্ত্রীর জন্য থাকে না বিশেষ কোনো ব্যবস্থা। গর্ভাবস্থায় আপ্রুমা মগিনি বুঝতে পারলেন, তাঁর বাচ্চা নড়াচড়া করছে না। পরিবারটির উৎকণ্ঠা গেল বেড়ে। সুস্থ-সবল বাচ্চার জন্য সৃষ্টিকর্তার কাছে প্রার্থনা করা ছাড়া আর কিছুই তো করার নেই তাদের। অবশেষে এক রোববার সকালে ঘর আলো করে এল ফুটফুটে এক শিশু। তাকে নিয়ে সবাই ব্যস্ত হয়ে ওঠার আগেই বিস্ময়করভাবে দুই মিনিটের ব্যবধানে আরেক শিশুর আগমন। দুজনই কন্যাশিশু, অর্থাৎ যমজ বোন। মারমা পরিবারটিতে উৎসবের বদলে বাজল বেদনার সুর।

সেই দুই বোন আজ নারী জাতীয় ফুটবল দলের খেলোয়াড় আনুচিং মগিনি ও আনাই মগিনি (বড়)। জন্মের পর একসঙ্গে যে দুই মুখে খাবার তুলে দেওয়ার ভয় পেয়েছিলেন বাবা রিপ্রু মগিনি, আজ তারাই তাদের বাবার মুখে তুলে দেয় আহার। জীবনের কী অদ্ভুত পালাবদল! সে গল্পটা একটু সংক্ষেপে শুনে নিই গর্বিত বাবার মুখ থেকে, ‘পরিবারের কেউ জানতাম না আমার স্ত্রীর গর্ভে দুটি বাচ্চা। প্রথম বাচ্চা জন্ম নেওয়ার পর ভালোই লাগল। কিন্তু যমজ বাচ্চা দেখে অবাক হলাম, খারাপও লাগল। অভাবের পরিবার। কী দিয়ে কী করি? এখন ওদের জন্যই অনেক সুখে আছি।’

আনুচিং ও আনাই কয়েক বছর ধরেই খেলছে জাতীয় দলে। একই সঙ্গে বয়সভিত্তিক দলেরও নিয়মিত মুখ। গত বছর ঢাকায় এএফসি অনূর্ধ্ব-১৬ বাছাইপর্বে অপরাজিত চ্যাম্পিয়ন হওয়ার সুবাদে বেশ উপার্জনও হয়েছিল তাদের; যা অসচ্ছল পরিবারের মুখে ফুটিয়েছে হাসি। তাদের উপার্জন দিয়ে বাড়িতে দেওয়া হয়েছে ঘর, কেনা হয়েছে জমি।

খাগড়াছড়ির সাতভাইয়া পাড়ায় তাদের বসবাস। মা-বাবা এবং চার বোন ও তিন ভাই মিলে বড় পরিবার। বাবা-মা দুজনই কৃষক। আর ভাইয়েরা মিস্ত্রি। এমন পরিবারে দুই ফুটবলার যমজ বোনই এখন আশার প্রদীপ। যাদের জন্য পরিবারটিকে এলাকায় এখন সবাই চেনে।

এক গর্ভে একই সঙ্গে জড়াজড়ি করে তারা থেকেছে নয় মাস। পৃথিবীর আলো-বাতাস দেখেছে দুই মিনিট আগে ও পরে। কিন্তু তাদের চারিত্রিক বৈশিষ্ট্যগুলো পুরোপুরিই ভিন্ন।

আনুচিং সব সময় ঘুরে বেড়াচ্ছে। মুখে সব সময় হাসি লেগেই থাকে। আর আনাই বড্ড লাজুক। গা ঢাকা দিয়ে রাখতে পারলেই যেন বাঁচে। বড় বোনকে পাশে রেখে ছোট আনুচিং নিজেই বলে, ‌‘ওর সঙ্গে আমার তো কোনো মিলই নেই। এমনকি ও যে খাবার পছন্দ করে, তা আমার বেশি পছন্দ নয়।’

খেলার মাঠেও তাদের চরিত্রটা পুরোপুরি ভিন্ন। ছোট আনুচিংয়ের কাজ গোল করা অর্থাৎ স্ট্রাইকার। বড় আনাইয়ের কাজ গোল ঠেকানো অর্থাৎ ডিফেন্ডার। চলতি অনূর্ধ্ব-১৫ সাফে আনুচিং প্রথম ম্যাচেই নেপালের বিপক্ষে করেছে জোড়া গোল। আর আনাই ডিফেন্ডার হিসেবে অতন্দ্রপ্রহরী।

তবে দুজনের ফুটবলার হওয়ার গল্পের শুরুটা একসঙ্গেই। তা হলো ২০১১ সালের বঙ্গমাতা ফুটবল। এরপর খাগড়াছড়ি জেলা দলের হয়ে খেলে ২০১৫ সালে অনূর্ধ্ব-১৪ জাতীয় দলে জায়গা করে নেওয়া। তাজিকিস্তানে অনুষ্ঠিত এএফসি অনূর্ধ্ব-১৪ আঞ্চলিক চ্যাম্পিয়নশিপে পাঁচটি গোলও আছে ছোট আনুচিংয়ের। এরপর থেকেই জাতীয় ও বয়সভিত্তিক দলের নিয়মিত মুখ দুজন।

খেলা হলেই দুই বোনের ছবি ভেসে ওঠে টিভির পর্দায়, বড় বড় ছবি যায় পত্রিকার পাতায়। রিপ্রু ও আপ্রুমা মগিনি গর্ব নিয়ে দেখেন, প্রচলিত সমাজকে দেখান। আর আনমনে বলে ওঠেন, যাদের জন্ম দেখে ভয় পেয়েছিলাম, আজ তারাই আমাদের আশার আলোর প্রদীপ।

আপনার মন্তব্য

আলোচিত