শিরোনাম

  ভিয়েতনামে বন্যায় ২০ জনের মৃত্যু , ১ লাখ ১০ হাজার হেক্টর জমির ফসল বিনষ্ট   দৈনিক আমার দেশ পত্রিকার ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক মাহমুদুর রহমানের ওপর হামলা   ছাত্রলীগকে প্রধানমন্ত্রী সতর্ক করেছেন: কাদের   থানকুনি পাতার জাদুকরি উপকারিতা   চট্টগ্রাম কর্ণফুলীতে ধর্ষণের শিকার গৃহবধূ, গ্রেফতার ৩   পাহাড়ে শান্তি প্রতিষ্ঠা ও উন্নয়নে সেনাবাহিনীর ভূমিকা অপরিসীম : প্রধানমন্ত্রী   চিকিৎসা খাতে নতুন আবিষ্কার রঙিন ও থ্রি-ডি এক্স-রে   গণসংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে কেঁদেছেন প্রধানমন্ত্রী   না ফেরার দেশে রাজীব মীর   নানিয়াচর উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান প্রীতিময় চাকমাকে অপহরণ   ছেলেদের চেয়ে এবারও এগিয়ে মেয়েরা   চট্টগ্রাম বোর্ডের পাশের হার ৬২.৭৩ %   যারা ফেল করেছে তাদের বকাঝকা করবেন না : প্রধানমন্ত্রী   এইচএসসি তে পাসের ধস নেমেছে এবার   এইচএসসি ও সমমানে পাসের হার এবার ৬৬.৬৪   হাসপাতাল ছাড়ার পর এবার থাই কিশোররা সবাই শ্রামণ হয়ে প্রবজ্যা গ্রহণ করবে   থাইল্যান্ডের গুহায় আটকা পড়া কিশোররা হাসপাতাল ছেড়েছে   ৮ দল নিয়ে বাম গণতান্ত্রিক জোটের আত্মপ্রকাশ   আগামীকাল এইচএসসির ফল প্রকাশ হবে   নেলসন ম্যান্ডেলার জন্ম শতবার্ষিকী আজ
প্রচ্ছদ / খেলাধুলা / রোবেন মেনেই নিয়েছেন, তাদের বিশ্বকাপ স্বপ্ন শেষ!

রোবেন মেনেই নিয়েছেন, তাদের বিশ্বকাপ স্বপ্ন শেষ!

প্রকাশিত: ২০১৭-১০-০৮ ১৪:০৮:৪২

নিউজ ডেস্ক

সতীর্থের পাস থেকে বল পেয়ে উল্কার গতিতে ছুটে চলেছেন ন্যাড়া মাথার এক ফুটবলার। প্রতিপক্ষের দু-তিনজন ডিফেন্ডার মিলেও তাকে ট্যাকল করতে হিমশিম খাচ্ছে। ২০১০ ও ২০১৪ বিশ্বকাপের সবচেয়ে পরিচিত ও দৃষ্টিনন্দন দৃশ্যগুলোর একটি ছিল এটি। দুটি বিশ্বকাপেই টুর্নামেন্টের অন্যতম সেরা খেলোয়াড় ছিলেন আরিয়েন রোবেন। রোবেনের ব্যক্তিগত নৈপূণ্যের দ্রুতিতে তার দেশ নেদারল্যান্ডসও দুটি বিশ্বকাপেই ছিল দুর্দান্ত। ২০১০ বিশ্বকাপে রানার্সআপ, ২০১৪ বিশ্বকাপে উঠেছিল সেমিফাইনালে। নিয়তির কি পরিহাস, প্রতিপক্ষের রক্ষণভাগকে ছিন্ন-ভিন্ন করা রোবেনের সেই কারিকুরি দেখা যাবে না ২০১৮ রাশিয়া বিশ্বকাপে! দেখা যাবে কমলা জার্সিধারীদের টোটাল ফুটবলের মোহনীয় জাদু! কাগজে-কলমে সম্ভাবনা এখনো আছে। কিন্তু সেই সমীকরণ এতোটাই কঠিন যে, রোবেন মেনেই নিয়েছেন তাদের বিশ্বকাপ স্বপ্ন শেষ!

স্বপ্ন শেষ মেনে নিয়েছেন বলেই শনিবার রাতে বেলারুসের বিপক্ষে ৩-১ গোলের জয়ের পরও হতাশায় মাঠেই বসে পড়েন রোবেন। রাজ্যের হতাশা এসে ঘিরে ধরে পুরো নেদারল্যান্ডস শিবিরকেই। রেফারির শেষ বাঁশি রোবেনদের জয়োল্লাসে না ভাসিয়ে হতাশার সাগরে ডুবিয়ে দেওয়ার কারণ, মোবাইল-বার্তায় তার আগেই তাদের কানে ভেসে এসেছে এ গ্রুপে দিনের আরেক ম্যাচে লুক্সেমবার্গোকে ৮-০ গোলে উড়িয়ে দিয়েছে সুইডেন।

শনিবার রাতে এ গ্রুপের আরেক ম্যাচে জয় পেয়েছে ১৯৯৮ বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন ফ্রান্সও। দিদিয়ের দেশমের দল বুলগেরিয়াকে ১-০ গোলে হারিয়ে ধরে রেখেছে শীর্ষস্থান। ৯ ম্যাচে ২০ পয়েন্ট নিয়ে তালিকার শীর্ষে থাকা ফ্রান্সকে পেছনে ফেলা নেদারল্যান্ডসের পক্ষে সম্ভব নয়। কারণ সমান ম্যাচে ১৬ পয়েন্ট তাদের। ফলে সরাসরি বিশ্বকাপে জায়গা পাওয়ার সম্ভাবনা শেষ। লুক্সেমবার্গোকে সুইডেন ৮ গোল দিয়ে ফেলায় রোবেনদের প্লে-অফে খেলার স্বপ্নও প্রায় শেষ! বিশাল এই জয়ে সুইডেন পূর্ণ ৩ পয়েন্টে এগিয়ে নেদারল্যান্ডসের চেয়ে। এগিয়ে গোল ব্যবধানেও।

আগামী মঙ্গলবার এই সুইডেনের বিপক্ষেই বিশ্বকাপ বাছাইয়ের শেষ ম্যাচ রোবেনদের। সুইডেনকে পেছনে ফেলে প্লে-অফ স্বপ্ন পূরণ করতে হলে সেই ম্যাচে রোবেনদের করতে হবে অবিশ্বাস্য কিছু। জিততে হবে ৭ গোলের ব্যবধানে! সুইডেনের মতো শক্তিশালী দলের বিপক্ষে সেও কী সম্ভব? নেদারল্যান্ডসের কোচ ডিক এডভোকাত এখনো আশা ছাড়ছেন না। তিনি বরং স্বপ্ন দেখছেন নিজেদের ঘরের মাঠে অলৌকিক কিছু ঘটনোর। কিন্তু রোবেনের মতে, সেই আশা মিছে।

তার মানে এই নয় যে, রোবেন হারার আগেই হার মেনে নিয়েছেন। ছেড়ে দিয়েছেন লড়াই করার আশা। তিনি বরং বাস্তববাদী। বাস্তবতা মেনেই রোবেন বলেছেন, সুইডেনের বিপক্ষে ৭ গোলের ব্যবধানে জেতা সম্ভব নয়। সুতরাং তাদের বিশ্বকাপ স্বপ্ন শনিবার রাতেই শেষ। তাদের স্বপ্নটা চুরমার করে দিয়েছে লুক্সেমবার্গো মুড়িমুড়কির মতো গোল খেয়ে! লুক্সেমবার্গো এতো গোল না খেলেই তো তাদের এমন কঠিন সমীকরণের মুখে পড়তে হয় না।

বেলারুসের বিপক্ষে জয়ে রোবেন নিজেও একটা গোল করেছেন। বায়ার্ন মিউনিখ উইঙ্গার পেনাল্টি থেকে সেই গোলটা করে ছুঁয়ে ফেলেছেন ফাস উইলকেস ও রুদ ফন নিস্টলরয়কে। নেদারল্যান্ডস জাতীয় দলের জার্সি গায়ে তাদের তিনজনেরই গোল এখন সমান ৩৫টি করে। যা দেশের হয়ে সর্বোচ্চ গোলদাতার তালিকায় তাকে তুলে এনেছে যৌথভাবে পঞ্চম স্থানে। কিন্তু জয়-গোল কীর্তি কোনো কিছুই রোবেনের মুখের হতাশার প্রলেপটাকে হালকা করতে পারেনি।

ম্যাচ শেষে হতাশামাখা কণ্ঠে বলেই দিয়েছেন, ‘সুইডেন ৮-০ গোলে জিতেছে, এটা শোনাটা ছিল বিশাল এক ধাক্কা। সুইডেনের ওই রেজাল্টের পর বুক চিতিয়ে লড়াই করা ছাড়া কোনো উপায় ছিল না। কিন্তু বেলারুসের বিপক্ষে ৮-০ গোলে জেতা সম্ভব হয়নি। সুইডেনের বিপক্ষেও ৭-০ গোলে জেতা সম্ভব হবে না। তা ঘটবে না।’ স্বপ্ন শেষ জানিয়ে বলেছেন, ‘এটা খুবই কষ্টের। তবে দুর্ভাগ্যজনক হলেও এটা খেলারই একটা অংশ।’

রোবেনের শেষ মানছেন বটে। তবে কোচ এডভোকাতের মতো অধিনায়ক রোবেনও কী ভেতরে ভেতরে কী ৭ গোলের অলৌকিক কাণ্ড ঘটানোর স্বপ্নও দেখছেন? রোবেনের মতো ফুটবলার বিশ্বকাপে থাকবেন না,  ফুটবলপ্রেমীদের কিন্তু এটা মেনে নেওয়া কষ্টের।

আপনার মন্তব্য

আলোচিত