শিরোনাম

  নৌকার জয় সুনিশ্চিত : প্রধানমন্ত্রী   আজ ইউপিডিএফ’র ২০তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী   এবার থাইল্যান্ডে বৈধ হলো গাঁজা   ইউপিডিএফ প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে সকলকে সংগ্রামী শুভেচ্ছা জানালেন প্রসিত বিকাশ খীসা   চীনা শিশুরা আর স্কুল পালাতে পারবে না!   আবার ক্ষমতায় গেলে ভুল সংশোধন করা হবে : কাদের   প্রধানমন্ত্রী থেকে মাতৃভাষার বই পেয়েছে ক্ষুদ্র জনগোষ্ঠীর শিশুরা   শুভ বড়দিন আজ   রোহিঙ্গাদের জন্য শীতবস্ত্র পাঠাল ভারত   ইন্দোনেশিয়ায় সুনামির আঘাতে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৪০০ অধিক ছাড়িয়েছে   টাকার মালা উপহার পেলেন ফখরুল!   মধ্যরাত থেকে নির্বাচনী মাঠে সেনাবাহিনী   ভোটের দিন ২৪ ঘণ্টা সব যান চলাচল বন্ধ   সেনা মোতায়েনে ভোটারদের মধ্যে আস্থা ফিরে আসবে: সিইসি   পানছড়িতে ইউপিডিএফের নির্বাচনী অফিসে এলোপাতাড়ি ব্রাশ ফায়ারে ২ জন নিহত!   জেএসসি ও পিইসি পরীক্ষার ফল প্রকাশ   আগামী ৩০ তারিখ আমরা নৌকার বিজয় নিয়ে ঘরে ফিরবো: দীপংকর তালুকদার   ইন্দোনেশিয়ায় সুনামির আঘাতে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ২২২ জন   যারা মানুষ পুড়িয়ে মারে তাদের ভোট দেবেন নাঃ প্রধানমন্ত্রী   ২৮ ডিসেম্বর থেকে ১ জানুয়ারি মধ্যরাত পর্যন্ত ৪ দিন মোটরসাইকেল চলাচলে নিষেধাজ্ঞা
প্রচ্ছদ / সংবাদ বিজ্ঞপ্তি / রাঙ্গামাটি বিলাইছড়িতে পাহাড়ি কিশোরীকে ধর্ষণের প্রতিবাদ ও নিন্দা

রাঙ্গামাটি বিলাইছড়িতে পাহাড়ি কিশোরীকে ধর্ষণের প্রতিবাদ ও নিন্দা

প্রকাশিত: ২০১৮-০১-২৪ ২০:৩০:২৫

   আপডেট: ২০১৮-০৩-০৭ ১২:১৬:২৯

রাঙ্গামাটি , প্রেস বিজ্ঞপ্তি

গত ২২ জানুয়ারি ২০১৮ দিবাগত রাত আনুমানিক ২:৩০ টায় রাঙ্গামাটি জেলাধীন বিলাইছড়ি উপজেলার ফারুয়া ইউনিয়নের ৩নং ওয়ার্ডের ওড়াছড়ি গ্রামে এক মারমা কিশোরী (১৭) ফারুয়া সেনা ক্যাম্পের সেনাসদস্য কর্তৃক নিজ বাড়িতে ধর্ষণের শিকার এবং তার আরেক ছোট বোন (১৫) শ্লীলতাহানির চেষ্টা করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতি তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছে।

উল্লেখ্য যে, এই অমানবিক ও বর্বরোচিত ঘটনাকে রাজনীতিকরণ তথা ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার হীন উদ্দেশ্যে কিশোরী ভিকটিমদের পিতা-মাতাকে সেনাবাহিনীর মাধ্যমে ধরে এনে তাদের উপস্থিতিতে বিলাইছড়ি উপজেলা আওয়ামীলীগের সহ সভাপতি রাসেল মারমা কর্তৃক রাঙ্গামাটি জেলা প্রেস ক্লাবে আজ ‘বিলাইছড়ি উপজেলায় ফারুয়াতে দুর্বৃত্তদের নির্যাতনের প্রতিবাদে’ এক ষড়যন্ত্রমূলক সংবাদ সম্মেলন করা হয়।

জানা যায় যে, গত ২২ জানুয়ারি গভীর রাতে ১৩ বেঙ্গলের দীঘলছড়ি সেনা জোনের অধীন ফারুয়া সেনা ক্যাম্পের সুবেদার মিজানের নেতৃত্বে একদল সেনাসদস্য ঐ সময় উক্ত ওড়াছড়ি গ্রামে তল্লাসী অভিযান চালায়। এ সময় সেনা সদস্যরা একের পর এক ঘরবাড়িতে ঢুকে তল্লাসী চালায়। তল্লাসীর সময় লোকজনদেরকে বেপোরোয়াভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করে। তাদের কাছ থেকে আইডি কার্ড খুঁজতে থাকে। জিজ্ঞাসাবাদের সময় সেনাসদস্যরা লোকজনদের চোখে জোরালো চর্টের আলো ফেলে হয়রানি করে।

এক পর্যায়ে সেনাদলের দুই সদস্য তল্লাসীর কথা বলে উক্ত ধর্ষিতা কিশোরীর বাড়িতে প্রবেশ করে ভিকটিমের বাবা-মাকে বাড়ির বাইরে আসতে বাধ্য করে। এরপর সেনাসদস্যদের মধ্যে একজন দরজায় অস্ত্র নিয়ে থাকে, অপরজন উক্ত মারমা কিশোরীর কক্ষে ঢুকে তাকে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে। ধর্ষণের সময় কিশোরী চিৎকার করলেও অস্ত্রের মুখে বাবা-মা এগিয়ে যেতে পারেনি। এ সময় ধর্ষণের শিকার কিশোরীর আরেক ছোট বোনকেও শ্লীনতাহানির চেষ্টা করা হয় বলে জানা যায়।

এলাকাবাসীর পক্ষ থেকে ধর্ষণের ঘটনাটি সেনাদলের কম্যান্ডার সুবেদার মিজানকে জানানো হলেও সুবেদার মিজান এব্যাপারে নিজে তদন্ত করে শাস্তি দেবেন বলে জানান। তবে তিনি এব্যাপারে কাউকে না জানানোর নির্দেশ দেন। একপর্যায়ে ধর্ষণকারী সেনা সদস্য ভিকটিমের বাবাকে ১০০ টাকা গুঁজে দেন ভিকটিমকে দেয়ার জন্য। ভিকটিমের বাবা সাথে সাথে উক্ত টাকা সেনা সদস্যকে ফেরৎ দেয় বলে জানা যায়। আর যাওয়ার সময় পরদিন সকালে এলাকার মেম্বার, কার্বারী ও হেডম্যানকে ফারুয়া সেনা ক্যাম্পে গিয়ে দেখা করার নির্দেশ দেন।

২২ জানুয়ারি দিনের বেলায় ফারুয়া ক্যাম্পের একদল সেনা ওড়াছড়িতে ভিকটিমের বাবার বাড়িতে গিয়ে বিভিন্নভাবে হুমকি দেন এবং কেউ এসে জানতে চাইলে ‘ধর্ষিত হয়েছে’ বলে কেউ যাতে না বলে তা নির্দেশ দিয়ে আসেন। বললে মেরে ফেলা হবে বলে হুমকি দেন। তবে ‘শুধু একটু গায়ে ধরে টানাটানি করা হয়েছে’ মর্মে বলা যাবে বলে জানিয়ে আসেন। ২৩ জানুয়ারি রাংগামাটি জেলার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (এডিসি) ও পুলিশ সুপারের (এসপি) নেতৃত্বে প্রশাসনের একটি দল ওড়াছড়িতে গিয়ে ভিকটিমের মা বাবার ও এলাকার মুরুব্বিদের সাথে কথা বলেছেন এবং ভিডিও করেন বলে জানা গেছে। সেনা সদস্যরা যেভাবে বলতে বলেছেন ঠিক সবাই সেভাবে এডিসি ও এসপির নিকট বলতে সবাই বাধ্য হয়েছেন বলে জানা গেছে। ২৩ জানুয়ারি রাত ১১.০০ টায় আবার ভিকটিমের বাবার বাড়িতে সেনাবাহিনী গিয়েছে। তবে গিয়ে কি বলেছে তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। ভিকটিমদের রাঙ্গামাটি হাসপাতালে যাওয়া বন্ধ করতে ২৩ জানুয়ারি সারাদিন গাছকাবাছড়া ক্যাম্পের চেকপোস্টে যাত্রীবাহী বোট ও নৌকায় কোন মারমা লোকজন আছে কিনা খুঁজেছে।

২৩ জানুয়ারি দুপুর ১২:০০ টার দিকে ভিকটিমকে রাঙ্গামাটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। ভর্তির পর স্থানীয় প্রশাসন ও প্রশাসনের দৌঁড়ঝাপ শুরু হয়। সন্ধ্যার পর থেকেই একদল পুলিশ এসে ভিকটিমদেরকে সার্বক্ষণিক প্রহরায় রেখেছে। এরপর রাত ৮:০০ টার দিকে দুইজন পুরুষ পুলিশ এসে দুই ভিকটিমকে হাসপাতালের অফিস কক্ষে নিয়ে যায়। প্রায় একঘন্টা ধরে উক্ত দুইজন পুলিশ ভিকটিমদের জিজ্ঞাসাবাদ করে। সেসময় উক্ত কক্ষে কোন নার্স বা চিকিৎসক কিংরা মহিলা পুলিশ রাখা হয়নি। জিজ্ঞাসাবাদের পর দুই টিভটিমকে হাসপাতালের বেডে নিয়ে যাওয়া হয়। পুলিশকে না জানিয়ে ভিকটিমের জন্য কোন খাবার বা ঔষধ অন্য কাউকে দিয়ে নিয়ে না আনার জন্য নার্সদেরকে পুলিশ জানিয়ে দিয়েছে।

২৪ জানুয়ারি ভোরে একদল সেনা সদস্য ভিকটিমদের বাড়িতে গিয়ে তাদের মাতা-পিতা, স্থানীয় এক হেডম্যান ও এক কার্বারীকে দীঘলছড়ি সেনা জোনে নিয়ে যায় বলে জানা গেছে। সকালে হেডম্যান ও কার্বারীকে ছেড়ে দিলেও ভিকটিমের মা-বাবাকে ছেড়ে দেয়নি এবং তাদেরকে জোর করে এনে রাম চরণ মারমা ওরফে রাসেল কর্তৃক ২৪ জানুয়ারি দুপুরে রাঙ্গামাটি সদরে আহুত সংবাদ সম্মেলনে হাজির করা হয়েছে।

এ ঘটনায় এখনো কোন মামলা দায়ের করা হয়নি। আরো হয়রানি ও প্রতিশোধের ভয়ে ভিকটিম বা ভিকটিমের মা-বাবারা মামলা করতে সাহস করছে না বলে জানা গেছে। ভিকটিমের মা-বাবারা নিরীহ লোক। জুম চাষ জীবিকা নির্বাহ করে থাকে।

এছাড়া গত ২১ জানুয়ারি ২০১৮ রাত আনুমানিক ৩:০০ টায় বিলাইছড়ি উপজেলার ফারুয়া ইউনিয়নে ফারুয়া সেনা ক্যাম্পের একদল সেনাসদস্য নতুন বাবু তঞ্চঙ্গ্যা (৩৪) ও ভন্দ তঞ্চঙ্গ্যাকে (৩৩) নিজ বাড়ি থেকে গ্রেফতার করে পুলিশের কাছে সোপর্দ করে। ২২ জানুয়ারি তাদের আদালতের মাধ্যমে জেলে প্রেরণ করা হয়। অন্যদিকে ২২ জানুয়ারি ২০১৮ রাত আনুমানিক ১২:০০ টা থেকে ১:০০টায় তক্তানালা ক্যাম্পের একদল সেনা কর্তৃক বিলাইছড়ি উপজেলার ফারুয়া ইউনিয়নের তক্তানালা দক্ষিণ পাড়ায় তল্লাসী অভিযান চালানো হয়। এতে সেনা সদস্যরা জুম্মদের ২৪টি ঘরবাড়িতে ব্যাপক তল্লাসী চালায়। তল্লাসী চলাকালে ঘরের জিনিষপত্র তছনছ করে। জনসংহতি সমিতির সদস্যরা কোথায়, তারা কোথায় থাকে দেখিয়ে দিতে হবেÑ ইত্যাদি জিজ্ঞাসাবাদ করে হুমকি প্রদান করে। গ্রামবাসীদের মধ্যে প্রথম ৫ জন গ্রামবাসীকে আটক করে ক্যাম্পে নিয়ে নির্যাতন করা যায় বলে জানা যায়।

উল্লেখ্য যে, সম্প্রতি ২০১৭ সালের ডিসেম্বর থেকে রাঙ্গামাটি জেলার বিলাইছড়ি, জুরাছড়ি ও রাঙ্গামাটি সদর উপজেলায় ক্ষমতাসীন আওয়ামীলীগ এবং সেনা-পুলিশের উদ্যোগে নিরীহ গ্রামবাসী এবং পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির সদস্যদের বিরুদ্ধে একের পর এক মিথ্যা ও ষড়যন্ত্রমূলক মামলা দায়ের করা হচ্ছে। অন্যদিকে সেনাবাহিনী ও পুলিশ গভীর রাতে তিন উপজেলায় বিভিন্ন স্থানে তল্লাসী অভিযান পরিচালনার নামে নিরীহ গ্রামবাসীদেরকে ঘুম থেকে জাগিয়ে ঘরবাড়ি তল্লাসী, মারধর ও গ্রেফতার করে চলেছে। তিন উপজেলায় ১১২ জন (নাম উল্লেখ করে) এবং ৭৫-৯৬ জন অজ্ঞাতনামার বিরুদ্ধে পাঁচটি ষড়যন্ত্রমূলক মামলা দায়ের করা হয়েছে। গত ৭ ডিসেম্বর থেকে বিগত দেড মাসে বিলাইছড়ি উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যানসহ নিরীহ ২৮ জনকে গ্রেফতার করে জেলে প্রেরণ এবং ৩২ জনকে মারপিট ও হয়রানি করা হয়। অন্যদিকে ৪৮টি ঘরবাড়ি তল্লাসী করা হয়েছে। এতে করে এলাকায় চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে।

(সজীব চাকমা)

সহ তথ্য ও প্রচার সম্পাদক

পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতি।

 

এদিকে, গত ২২ জানুয়ারি রাঙ্গামাটির বিলাইছড়িতে ফারুয়া সেনা ক্যাম্পের জনৈক সেনাসদস্য কর্তৃক এক মারমা কিশোরীকে (১৭) নিজ বাড়ীতে জোরপূর্বক ধর্ষণের প্রতিবাদে এবং ধর্ষক সেনাসদস্যের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবীতে গতকাল পার্বত্য চট্টগ্রাম পাহাড়ী ছাত্র পরিষদ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা কর্তৃক এক বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অপরাজেয় বাংলার পাদদেশ থেকে বিক্ষোভ মিছিলটি শুরু হয়ে কলাভবন প্রদক্ষিণ করে শাহবাগের প্রজন্ম চত্বর ঘুরে টিএসসির রাজু ভাষ্কর্যে এসে শেষ হয়। এছাড়া চট্টগ্রাম ও রাজশাহী সহ বিভিন্ন স্থানে প্রতিবাদ কর্মসূচি ইতিমধ্যে পালন করা হয়েছে।

আপনার মন্তব্য

এ বিভাগের আরো খবর



আলোচিত