শিরোনাম

  আগামী ১৮ নভেম্বর প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষা, থাকছে না এমসিকিউ   অবশেষে তিন মাস পর জামিন পেলেন আলোকচিত্রী ড. শহিদুল আলম   নির্বাচনী এলাকায় ৭-১০ দিন আগে সেনাবাহিনী মোতায়েন করা হবে : নির্বাচন কমিশন   মিয়ানমারে নিয়ে যাওয়ার ভয়ে তালিকাভুক্ত সব রোহিঙ্গা পালিয়ে গেল   ক্যালিফোর্নিয়ায় দাবানলে মৃতের সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ৫৯, নিখোঁজ ১৩০   রাঙ্গামাটি থেকে বুদ্ধগয়ার যাওয়ার উদ্দেশ্যে তীর্থযাত্রীর বাস দুর্ঘটনায় ১ জন নিহত   পুলিশের গাড়িতে আগুন দেওয়া দুই যুবক ‘শনাক্ত’   পুলিশকে ধন্যবাদ দিলেন প্রধানমন্ত্রী   বলিউডের স্টার দীপিকা-রণবীরের বিয়ে সম্পন্ন   এবার থেকে সরকারী চাকরিজীবীর স্ত্রী মারা গেলে আজীবন পেনশন পাবেন স্বামী   ৩ বছরের কারাদণ্ড ডেসটিনির চেয়ারম্যানের   দীঘিনালায় শ্রেষ্ঠ প্রধান শিক্ষক ঊষা আলো চাকমাকে অপহরণ   হামলা করে নির্বাচনের পরিবেশ নষ্ট করছে সরকার : ফখরুল   নির্বাচন বানচাল করতে পুলিশের ওপর হামলা করেছে বিএনপি : কাদের   স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করবেন ইমরান এইচ সরকার   খালেদার দু’টি আসন পাচ্ছেন দুই পুত্রবধূ!   আগামীকাল থেকে রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারে পাঠানো হবে, যেতে চায়না রোহিঙ্গারা   চলে গেলেন স্পাইডারম্যান-আয়রনম্যান লেখক   অনৈতিক কাজে জড়িত কক্সবাজার এসিল্যান্ড নাজিম উদ্দিনকে রাঙামাটিতে বদলি   এবার এরশাদের জাতীয় পার্টি থেকে মনোনয়ন ফরম নিয়েছেন হিরো আলম
প্রচ্ছদ / রাজনীতি / মিলিটারি দিয়ে পার্বত্য শান্তি চুক্তির সমস্যার সমাধান হবে না ॥ প্রধানমন্ত্রী

মিলিটারি দিয়ে পার্বত্য শান্তি চুক্তির সমস্যার সমাধান হবে না ॥ প্রধানমন্ত্রী

প্রকাশিত: ২০১৮-১১-০৩ ২২:২৩:২৪

   আপডেট: ২০১৮-১১-০৩ ২২:৩৩:০৭

ফাইল ছবি।

বাসস

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, পার্বত্য চট্টগ্রামের সমস্যাটি রাজনৈতিক সমস্যা। রাজনৈতিক সমস্যাটিকে রাজনৈতিকভাবে মীমাংসা করতে হবে।

রাজধানীর বেইলি রোডে পার্বত্য চট্টগ্রাম কমপ্লেক্সের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে গত রোববার (২৮ অক্টোবর) প্রধানমন্ত্রী একথা বলেন।

পার্বত্য চট্টগ্রামে আঞ্চলিক সম্প্রীতি অব্যাহত রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এই অঞ্চলে আর কোন সংঘাত নয়, যেন শান্তি বজায় থাকে। এই শান্তির পথ ধরে আসবে প্রগতি। প্রগতির পথ ধরে আসবে সমৃদ্ধি এবং সমৃদ্ধির মাধ্যমে জাতির পিতার স্বপ্নের সোনার বাংলা গড়ে উঠবে। তিনি বলেন, দেশ স্বাধীনের পর মাত্র সাড়ে তিন বছর জাতির পিতা দেশ শাসনের সময় পেয়েছেন। এই সময়কালে তিনি তিনবার পার্বত্য চট্টগ্রামে এসেছেন। পার্বত্য চট্টগ্রামের উন্নয়নে তিনি আলাদা বোর্ড গঠন করতে চেয়েছিলেন। কিন্তু জাতির পিতাকে হত্যার পর আর তা অগ্রগতির মুখ দেখেনি। শেখ হাসিনা বলেন, জাতির পিতা হত্যাকান্ডের পরপরই ১৯৭৬ সালে এই এলাকা সংঘাতময় হয়ে ওঠে। বিশ বছর ধরে এই এলাকা ছিল অবহেলিত।

আমি ভাবলাম এরা আমার দেশের নাগরিক। সুতরাং এদের অবহেলিত রাখা ঠিক হবে না। তিনি বলেন, আমার সৌভাগ্য হয়েছিল ১৯৭০ সালে চট্টগ্রামের প্রত্যন্ত অঞ্চল ঘোরার। সব জায়গায় আমি ঘুরেছি। বাছালং যাওয়ার চেষ্টা করি, ছোট হরিণ্যা, বড় হরিণ্যা ঘুরেছি। আমি দেখেছি পার্বত্য চট্টগ্রামের নৈসর্গিক সৌন্দর্য। এখানকার মানুষগুলো সহজ-সরল। সে জায়গায় রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ চলতে পারে না। শেখ হাসিনা বলেন, আমরা এসে কমিটি করি। তৃতীয় পক্ষের সমঝোতা ছাড়া শান্তিচুক্তি করি। শুধু শান্তিচুক্তি নয়, শান্তিচুক্তির পাশাপাশি ১৮ অস্ত্রসহ আত্মসমর্পণ করে। আমরা তাদের চাকরি ও পুনর্বাসন করি। তারা যে দাবি করেছে সে দাবি অনুযায়ী ভারত থেকে আসা শরণার্থীদের পুনর্বাসন করি। তিনি বলেন, আমরা অধিকাংশ শান্তিচুক্তি বাস্তবায়ন করেছি। কিছু চুক্তি চলমান আছে। রাস্তাঘাটের উন্নয়ন হয়েছে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, হাসপাতাল, মেডিক্যাল কলেজ, আবাসিক স্কুল, হাসপাতাল মোবাইল ফোনের ব্যবস্থা করেছি। যেসব জায়গায় বিদ্যুত পৌঁছানো যায়নি আমরা সেসব জায়গায় সৌর বিদ্যুতের ব্যবস্থা করেছি।

এছাড়া ও তিনি বলেন, কোটা বাতিল করা হলেও ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর প্রার্থীরা সরকারী চাকরি পাওয়ার ক্ষেত্রে সব সময় অগ্রাধিকার পাবেন । প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘যদিও আমরা কোটা প্রত্যাহার করেছি। তারপরও আমার নির্দেশ আছে পাবলিক সার্ভিস কমিশনকে বলে দিয়েছি, পার্বত্য অঞ্চল বা ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী, পাহাড়ী হোক, সমতল ভূমি হোক, সেখানে যে প্রার্থী থাকবে; তারা সবসময় অগ্রাধিকার পাবে। ‘এটা আমরা ব্যবস্থা করে দিচ্ছি এবং করে দেব; সেটা আপনাদের আমরা কথা দিতে পারি।’

প্রধানমন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে পার্বত্য এলাকার উন্নয়নে তার সরকারের নেয়া বিভিন্ন পদক্ষেপের কথা তুলে ধরেন।

পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডের কার্যপরিধি ও সক্ষমতা বৃদ্ধির জন্য ১৯৭৬ সালে জারি করা ‘পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ড অধ্যাদেশ’ বাতিল করে ২০১৪ সালে পার্বত্য চট্টগ্রাম বোর্ড আইন প্রণয়ন করা হয়। এতে পার্বত্য অঞ্চলের উন্নয়ন কার্যক্রমে আরও গতি সঞ্চারিত হয়েছে বলে প্রধানমন্ত্রী উল্লেখ করেন।

শেখ হাসিনা বলেন, ‘আর কোন সংঘাত নয়। আমরা পাহাড়ে শান্তিচুক্তি করেছি। সে শান্তি যেন বজায় থাকে। শান্তির পথ ধরেই সমৃদ্ধি অর্জন করতে পারেন।’

জ্যোতিরিন্দ্র বোধিপ্রিয় লারমাকে উদ্দেশ্য করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের আঞ্চলিক পরিষদের চেয়ারম্যান যে জায়গা চেয়েছেন; রাঙ্গামাটিতে আমরা সেই বিশাল জায়গা, যেটা ছিল গণপূর্ত বিভাগের, সেটাও তাদের আমরা দিয়ে দিয়েছি। আমরা আশা করি, আঞ্চলিক পরিষদের চেয়ারম্যান এর ওপর একটা প্রকল্প তৈরি করবেন। সেখানে আঞ্চলিক পরিষদের অফিস থেকে শুরু করে, আবাসিক থেকে শুরু করে যা যা দরকার; সবকিছু নিয়ে একটা প্রকল্প তৈরি করে দেবেন, যেটা আমরা বাস্তবায়ন করব।’

আপনার মন্তব্য

আলোচিত