শিরোনাম

  ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর জন্য মাতৃভাষায় পুস্তক প্রকাশনার বিধান রেখে খসড়ার চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা   সরকারী চাকরিতে ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী ও পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর জন্য কোটা না হলেও সমস্যা হবে না   রুয়েটে ভর্তি পরীক্ষার আবেদন শুরু   দুই আদিবাসী কিশোরী ধর্ষণের ঘটনায় অভিযুক্তদের সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি   দেশের বিভিন্ন স্থানে বৃষ্টি অথবা বজ্রবৃষ্টি ও ভারী বর্ষণ হতে পারে   আদিবাসী মানবাধিকার সুরক্ষাকর্মীদের সম্মেলন ২০১৮ উদযাপন   ব্লগার বাচ্চু হত্যার সঙ্গে ‘জড়িত’ ২ জঙ্গি নিহত   জুমের বাম্পার ফলনে রাঙ্গামাটির চাষিদের মুখে হাসি   সরকারি চাকরিতে আদিবাসী কোটা বহাল দাবি জানাল আদিবাসীরা   আয়ারল্যান্ড প্রবাসী বাংলাদেশের এক মন্ত্রী দ্বারা হেনস্ত হওয়াতে হিন্দু, বৌদ্ধ ও খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের নিন্দা   শেখ হাসিনার জনপ্রিয়তা উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি পেয়েছে   মিয়ানমারে রয়টার্সের দুই সাংবাদিককে সাত বছরের কারাদণ্ড দিয়েছে আদালত   শহীদ আলফ্রেড সরেন হত্যার ১৮ বছর: হত্যাকারীদের দ্রুত বিচারের দাবি জাতীয় আদিবাসী পরিষদের   ভারতের কাছে ১-০ গোলে হেরেছে বাংলাদেশের মেয়েরা   সরকারী চাকরিতে নিয়োগের ক্ষেত্রে মুক্তিযোদ্ধা ছাড়া সব কোটা বাতিল হচ্ছে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী   জাতিসংঘের সাবেক মহাসচিব কফি আনান মারা গেছেন   ঈদের ছুটি কাটানো হলোনা টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ার নিরীহ ধীরাজ চাকমার   খাগড়াছড়িতে পৃথক ঘটনার জন্য জেএসএস(সংস্কারবাদী) ও নব্য মুখোশ বাহিনীকে দায়ী করেছে : ইউপিডিএফ   নানিয়ারচর থেকে খাগড়াছড়ি   খাগড়াছড়িতে ৬ জনকে গুলি করে হত্যা !
প্রচ্ছদ / রাজনীতি / শান্তিচুক্তি বিরোধিতা করে পূর্ণস্বায়ত্তশাসনের আশায় এই দিনে ইউপিডিএফের জন্ম

শান্তিচুক্তি বিরোধিতা করে পূর্ণস্বায়ত্তশাসনের আশায় এই দিনে ইউপিডিএফের জন্ম

ইউপিডিএফের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী আজ

প্রকাশিত: ২০১৭-১২-২৬ ১১:০৭:২৩

সৌরভ দেওয়ান , রাঙ্গামাটি

আজ ২৬ ডিসেম্বর ইউনাইটেড পিপলস ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট (ইউপিডিএফ) এর ১৯তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী।

১৯৯৮ সালের ২৬ ডিসেম্বর ঢাকায় এক পার্টি প্রস্তুতি সম্মেলনের মধ্য দিয়ে ইউনাইটেড পিপলস ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট(ইউপিডিএফ) গঠিত হয়। ১৯৯৭ সালের ২ ডিসেম্বর সরকার এবং পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির (পিসিজেএসএস) মধ্যে শান্তি চুক্তি সই হয়। তবে এই চুক্তি যথাযথভাবে মানতে পারেনি পাহাড়ের আরেক অন্যতম আঞ্চলিক সংগঠন ইউনাইটেড পিপলস ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট (ইউপিডিএফ)।

শুরু থেকেই বাংলাদেশ সরকার এবং জনসংহতি সমিতি(সন্তু লারমার) পার্বত্য চুক্তির বিরোধিতা করে আসছে তারা। চুক্তির বিরোধিতা করে ১৯৯৮ সালের ২৬ ডিসেম্বর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি হল রুমে প্রসিত বিকাশ খীসার নেতৃত্বে জন্ম নেয় ইউপিডিএফ। সে সময় তিন গণতান্ত্রিক সংগঠন পাহাড়ি গণপরিষদ-পাহাড়ি ছাত্র পরিষদ ও হিল উইমেন্স ফেডারেশনের পক্ষ থেকে ঢাকায় ১৯৯৭ সালের ১০ মার্চ প্রথম পূর্ণস্বায়ত্তশাসনের ডাক দেয়া হয়েছিল। এরপর ২৫ থেকে ২৭ মার্চ তিন সংগঠনের কেন্দ্রীয় ও মাঠ পর্যায়ের নেতা-কর্মীদের নিয়ে ঢাকায় পরিস্থিতি পর্যালোচনা বৈঠকে ৭ দফা প্রস্তাব গৃহীত হয়েছিল।

এর প্রথম দফাতে সন্তু লারমা নেতৃত্বাধীন তখনকার জেএসএসের মূল নেতৃত্ব-কে সংশোধনবাদী আপোষকামী আখ্যায়িত করে তাদের দ্বারা আর আন্দোলন সম্ভব নয় বলে সিদ্ধান্ত টানা হয়েছিল।

ইউপিডিএফ দাবি করে তাদের দল একটি গণতান্ত্রিক সংগঠন। তাদের লক্ষ্য পূর্ণস্বায়ত্তশাসনের মাধ্যমে জনগণের অধিকার আদায় করা। কিন্তু বাংলাদেশ সরকার তাদের সংগঠনকে এখনো মূল্যায়ন করেছে কিনা তা সন্দেহের আদন্তে সীমাবদ্ধ। কারণ বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ-হাসিনা চায় শান্তি চুক্তি বাস্তবায়ন করে পার্বত্য অঞ্চলে শান্তি প্রতিষ্ঠা করা। সেই লক্ষে সরকার এখনো কাজ করে যাচ্ছে।

তবে ২০ বছরেও চুক্তি বাস্তবায়ন না হওয়ায় আদিবাসীদের পিঠ দেয়ালে ঠেকে গেছে বলে দাবি করেছেন পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির (জেএসএস) সভাপতি জ্যোতিরিন্দ্র বোধপ্রিয় লারমা (সন্তু )।

তিনি অভিযোগ করেছেন, পার্বত্য চট্টগ্রামে নিয়োজিত গোয়েন্দা বাহিনী, আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী ও সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যরা ক্ষমতাসীন দলের প্রত্যক্ষ সহযোগিতায় পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি বিরোধী ও জুম্ম স্বার্থ পরিপন্থী ভূমিকা পালন করে চলেছে। চুক্তিতে সকল প্রকার অস্থায়ী ক্যাম্প প্রত্যাহারের বিধান থাকলেও এখনো চার শতাধিক ক্যাম্প পার্বত্যাঞ্চলে বিদ্যমান রয়েছে। সেনাশাসন চলমান হেতু পার্বত্য চট্টগ্রামে অবাধে যত্রতত্র সেনা অভিযান, তল্লাসী, ধরপাকড়, মারপিট, দমন-পীড়ন এবং বাক স্বাধীনতা ও সভা সমাবেশের উপর হস্তক্ষেপ ইত্যাদি চলছে।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, পার্বত্য শান্তিচুক্তির অধিকাংশ শর্ত বাস্তবায়িত হয়েছে এবং যে সব শর্ত এখনও বাকি আছে সেগুলোও অতিশীঘ্রই বাস্তবায়িত হবে।

সম্প্রতি পার্বত্য শান্তিচুক্তির বিশ বছর পূর্তি উপলক্ষে জননেত্রী শেখ হাসিনা “চুক্তির ৭২টি শর্তের মধ্যে ৪৮টি সম্পূর্ণ বাস্তবায়িত হয়েছে বলে বানীতে বলেন। ১৫টি আংশিক বাস্তবায়ন হয়েছে এবং বাকি নয়টিও বাস্তবায়ন হবে।”চুক্তি বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজন দেখা দেওয়ায় ২০১৬ সালে আইন সংশোধন করার কথাও উল্লেখ করেন তিনি।

তবে জনসংহতি সমিতির দাবি অনুযায়ী ৭২ টি ধারার মধ্য থেকে সরকার এখনো সম্পূর্ণভাবে বাস্তবায়িত করেছে মাত্র ২৫ টি তবে কিছু কিছু আংশিক বাস্তবায়ন হয়েছে। যার কারণে তিন ভাগের দুইভাগ এর কাছাকাছি বাস্তবায়ন হয়নি এমনই অভিযোগ।
 
এদিকে, চুক্তি বিরোধী সংগঠন ইউনাইটেড পিপলস ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট (ইউপিডিএফ) এর বিভেদপন্থী একটি দল সম্প্রতি ইউপিডিএফ (গণতান্ত্রিক) নামে আত্মপ্রকাশ করেছে। বিভেদপন্থীদের দাবি ইউপিডিএফ এখন আদর্শচ্যুত হয়ে পড়েছে।

তবে মূল ইউপিডিএফ সংগঠনটির দাবি সকল নিপীড়ন-নির্যাতন ও বাধা-বিপত্তি উপেক্ষা করে পার্বত্য চট্টগ্রামের জনগণের ন্যায্য অধিকার পুর্ণস্বায়ত্তশাসন প্রতিষ্ঠার লড়াইয়ের পাশাপাশি সমতলের সংখ্যালঘু জাতি তথা দেশের আপামর জনগণের ভাগ্য পরিবর্তনের লড়াইয়ে নিয়োজিত রয়েছে।

গত ১৫ ডিসেম্বর ও গেল ৫ ডিসেম্বর ইউপিডিএফ সংগঠক ও সাপোর্টার দুই ব্যক্তিকে খুন করার পিছনে বিভেদপন্থী দল ইউপিডিএফ (গণতান্ত্রিক) কে দায়ী করেছে মূল সংগঠনটি। তবে গণতান্ত্রিক অস্বীকার করেছে বলে জানা যায়।

আজ ইউপিডিএফ প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে সকলকে সংগ্রামী শুভেচ্ছা জানিয়েছেন দলটির নেতা ও প্রতিষ্ঠাতা প্রসিত বিকাশ খীসা । তিনি বিভেদপন্থী দল নব্য মুখোশ বাহিনীকে কড়া সমালোচনা করেছেন।

এছাড়াও দলটির দেশে ও বিদেশে কর্মরত সকল স্তরের নেতা-কর্মী, প্রতিনিধি, সমর্থক ও শুভানুধ্যায়ী এবং পার্বত্য চট্টগ্রামসহ দেশের সর্বস্তরের জনগণকে উঞ্চ ও আন্তরিক শুভেচ্ছা বিবৃতির মাধ্যমে জানিয়েছেন।

ছবিঃ ফাইল।

আপনার মন্তব্য

আলোচিত