শিরোনাম

  গত ৫ বছরে জেএসএস এমপি উন্নয়ন করতে পারেনি, যা করেছে আওয়ামীলীগ করেছে : দিপংকর তালুকদার   এখন থেকে সরকারি চাকরিতে যোগ দেওয়ার আগে মাদক পরীক্ষা বাধ্যতামূলক   'বান্দরবানে বিদেশি পর্যটকদের ভ্রমণে কোনো নিষেধাজ্ঞা নেই'   'নির্বাচনী প্রচারণায় রঙিন পোস্টার বা ব্যানার ব্যবহার করা যাবে না'   ৫৮টি নিউজ পোর্টাল খুলে দিয়েছে বিটিআরসি   বুধবার থেকে নির্বাচনী প্রচারণা শুরু করবেন প্রধানমন্ত্রী   বিএনপি ক্ষমতায় এলে শান্তি চুক্তি বাস্তবায়ন করার চেষ্ঠা করবো: মনি স্বপন দেওয়ান   তিন পাহাড়ে নৌকা নিয়ে মাঠে দৌড়াবেন যারা   আগামীকাল খালেদা জিয়ার অগ্নিপরীক্ষা   হিরোকে জিরো বানানো এত সহজ নয়, সফল হিরো আলমের চ্যালেঞ্জ   খাগড়াছড়িতে বনের রাজা পেয়েছেন ইউপিডিএফের প্রার্থী নতুন কুমার চাকমা   বিশ্বের প্রথম উঁচু ভাস্কর্য 'চীনের স্প্রিং টেম্পল বুদ্ধ'   আন্তর্জাতিক মানবাধিকার দিবস || আদিবাসীদের মানবাধিকার প্রতিষ্ঠায় এগিয়ে আসার অাহ্বান   বনের রাজা সিংহকে নিয়ে রাঙ্গামাটিতে দৌড়াবেন ঊষাতন তালুকদার   আজ বিশ্ব মানবাধিকার দিবস   নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থীদের জন্য যেসব মার্কা দেওয়া হচ্ছে...   নির্বাচনে প্রচার-প্রচারণায় সকল প্রার্থীদের যা যা মেনে চলতে হবে   নির্বাচনে গাড়ি প্রতীক পেয়েছেন স্বতন্ত্র প্রার্থী ইমরান এইচ সরকার   দেশে ৫৮টি নিউজ পোর্টাল বন্ধের নির্দেশ দিয়েছে বিটিআরসি   পার্বত্য চট্টগ্রামে শান্তি ফিরিয়ে আনার জন্য শেখ হাসিনাকে শান্তিতে নোবেল পুরস্কার দেওয়া উচিত
প্রচ্ছদ / জাতীয় / পার্বত্য চুক্তি পাল্টাপাল্টি অভিযোগেই ২১ বছর পার || প্রধানমন্ত্রী-সন্তু লারমা যা যা বললেন

পার্বত্য চুক্তি পাল্টাপাল্টি অভিযোগেই ২১ বছর পার || প্রধানমন্ত্রী-সন্তু লারমা যা যা বললেন

প্রকাশিত: ২০১৮-১২-০৫ ২০:৪৭:২৯

   আপডেট: ২০১৮-১২-০৫ ২০:৫০:২৮

>>

২১ বছর পূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে যা বলেছিলেন সন্তু লারমাঃ

পার্বত্য চুক্তির ৭২টি ধারার মধ্যে ৪৮টি ধারা বাস্তবায়িত হয়েছে বলে সরকার দেশে বিদেশে অপপ্রচার চালিয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন, পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির সভাপতি জ্যোতিরিন্দ্র বোধিপ্রিয় লারমা (সন্তু লারমা)।

তিনি বলেন, সরকার  বলছে চুক্তির ৭২টি শর্তের মধ্যে ৪৮টি সম্পূর্ণ বাস্তবায়িত হয়েছে। অথচ ৭২টি ধারার মধ্যে মাত্র ২৫টি ধারা বাস্তবায়িত হয়েছে।যেখানে মৌলিক বিষয়সমূহের দুই তৃতীয়াংশ ধারা এখনও বাস্তবায়িত হয়নি।সরকার এসব উদ্যোগ গ্রহণ না করে দেশে বিদেশে অপপ্রচার চালাচ্ছে।

বৃহস্পতিবার (২৯ নভেম্বর) সকালে রাজধানীর একটি হোটেলে পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তির ২১ বছর পূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এই অভিযোগ করেন তিনি।

সন্তু লারমা বলেন, একাদশ জাতীয় নির্বাচন সামনে রেখে অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে পাহাড়ে যৌথবাহিনীর অভিযান নাম দিয়ে নিরীহ ও আন্দোলনরত নেতাকর্মীদেরকে দমনপীড়ন চালানো হচ্ছে।এতে পাহাড়ে সুষ্ঠু নির্বাচনের পরিবেশও হারিয়ে যাচ্ছে।

আওয়ামী লীগ সরকার ২০০৯ সালে ক্ষমতায় আসার পর মহাজোট সরকারের দুই মেয়াদেও পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তির অসম্পূর্ণ বিষয়গুলোর বাস্তবায়নে কোনও কার্যকর ও দৃশ্যমান উদ্যোগ গ্রহণ করেনি ।

তিনি আরো বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রামে বিভিন্ন ভুঁইফোড় সাংবাদিক দিয়ে প্রিন্ট, ইলেকট্রনিক এবং অনলাইন গণমাধ্যমের মাধ্যমে আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালিয়ে যাচ্ছে। এতে পার্বত্য চট্টগ্রামের জুম্ম জনগণসহ অসহায় পার্বত্যবাসী শ্বাসরুদ্ধকর অবস্থায় জীবন অতিবাহিত করছে। আদিবাসীদের জায়গা-জমি বেদখল করেছে ফলে জুম্মরা দেশান্তরিত হতে বাধ্য হচ্ছে।

২ ডিসেম্বর পার্বত্য চট্টগ্রাম শান্তি চুক্তি স্বাক্ষরের ২১ বছর পূর্তি উপলক্ষে দেয়া বাণীতে প্রধানমন্ত্রী যা বলেনঃ

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় পার্বত্য চট্টগ্রাম অঞ্চলের মানুষের আর্থসামাজিক উন্নয়নের মাধ্যমে আমরা জাতির পিতার স্বপ্নের সুখী-সমৃদ্ধ ও শান্তিপূর্ণ সোনার বাংলাদেশ গড়ে তুলতে সক্ষম হব।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রাম শান্তি চুক্তির মাধ্যমে এ অঞ্চলের দীর্ঘদিনের জাতিগত হানাহানি বন্ধ হয়। অনগ্রসর ও অনুন্নত পার্বত্য অঞ্চলে প্রতিষ্ঠিত হয় শান্তি ও উন্নয়নের ধারা। ইউনেস্কো শান্তি পুরস্কার অর্জন এই চুক্তির আন্তর্জাতিক স্বীকৃতির স্মারক।

পার্বত্য চট্টগ্রাম শান্তি চুক্তির ২১ বছর পূর্তি উপলক্ষে পার্বত্য জেলাসমূহের জনগণ ও দেশবাসীকে শুভেচ্ছা জানিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, ‘আওয়ামী লীগ সরকার শান্তি চুক্তির আলোকে এ অঞ্চলের সার্বিক উন্নয়নে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। আমরা পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়, পার্বত্য চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পরিষদ ও তিন পার্বত্য জেলা পরিষদ গঠন করেছি।’

তিনি বলেন, ‘এ অঞ্চলের শিক্ষা, স্বাস্থ্য, বিদ্যুৎ, যোগাযোগ, অবকাঠামো, মোবাইল নেটওয়ার্কসহ সকল খাতের উন্নয়নে ব্যাপক কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। আমরা রাঙামাটিতে ১টি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় এবং ১টি মেডিকেল কলেজ প্রতিষ্ঠা করেছি। ভূমি বিষয়ক বিরোধ নিষ্পত্তির উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের পদক্ষেপের ফলে আজ পার্বত্য জেলাসমূহ কোনো পিছিয়ে পড়া জনপদ নয়। দেশের সার্বিক উন্নয়ন অগ্রযাত্রায় এ অঞ্চলের জনগণ সম-অংশীদার। আমরা পার্বত্য চট্টগ্রামসহ দেশের সর্বত্র শান্তি বজায় রাখতে বদ্ধপরিকর।’

 তিনি বলেন, ‘পার্বত্য চট্টগ্রাম অঞ্চলের দীর্ঘদিনের সংঘাতময় পরিস্থিতি নিরসনের লক্ষ্যে ১৯৯৭ সালের ২ ডিসেম্বর আওয়ামী লীগ সরকার ও পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির মধ্যে এই ঐতিহাসিক চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। বিশ্ব ইতিহাসে এটি একটি বিরল ঘটনা।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকার পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ড আইন, ২০১৪ প্রণয়ন করেছে। পার্বত্য এলাকার নারীদের স্বাবলম্বী করতে বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। ৪ হাজার পাড়াকেন্দ্রের মাধ্যমে এ অঞ্চলের নারী ও শিশুদের মৌলিক স্বাস্থ্যসেবা ও শিশুদের প্রাক-প্রাথমিক শিক্ষা প্রদান করা হচ্ছে।

তিনি বলেন, ‘পার্বত্য অঞ্চলে মাতৃভাষার শিক্ষাদানের জন্য বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠীর ভাষায় বর্ণমালা সংরক্ষণ এবং নিজ নিজ ভাষায় শিক্ষাদানের কাজ শুরু হয়েছে। ঢাকার বেইলী রোডে পার্বত্যবাসীর স্থায়ী ঠিকানা হিসেবে প্রায় ২ একর জমির ওপর ১৯৪ কোটি টাকা ব্যয়ে ‘শেখ হাসিনা পার্বত্য চট্টগ্রাম কমপ্লেক্স’ নির্মাণ করা হয়েছে।’

শেখ হাসিনা বলেন, সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান সর্বপ্রথম পশ্চাদপদ পার্বত্য জনগোষ্ঠীকে উন্নয়নের মূলধারায় ফিরিয়ে আনেন। তাদের জীবনযাত্রার মানোন্নয়নে নানামুখী কর্মসূচি গ্রহণ করেন।

তিনি বলেন, জাতির পিতা আঞ্চলিক উন্নয়নের পাশাপাশি শিক্ষাক্ষেত্রে পাহাড়ি ছাত্র-ছাত্রীদের সম-সুযোগ প্রদানের ব্যবস্থা করেন। এ লক্ষ্যে বঙ্গবন্ধু ১৯৭৩ সালে কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয় ও কারিগরি প্রতিষ্ঠানসমূহে পাহাড়ি ছাত্র-ছাত্রীদের জন্য সুনির্দিষ্ট আসন সংরক্ষণের জন্য নির্দেশনা প্রদান করেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ৭৫ পরবর্তী অগণতান্ত্রিক সরকারগুলো পার্বত্য অঞ্চলের স্থিতিশীলতা বজায় রাখার পরিবর্তে নিজেদের স্বার্থ চরিতার্থ করতে বাঙালি-পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর মধ্যে বিভেদ সৃষ্টি করে।

খুন, অত্যাচার-অবিচার, ভূমি জবরদখল এবং রাষ্ট্রীয় সম্পদের অপব্যবহার এ অঞ্চলকে আরো অস্থিতিশীল করে তোলে।বাণীতে তিনি শান্তি চুক্তির পূর্ণ বাস্তবায়নে সকলের সহযোগিতা কামনা করেন।

(২ ডিসেম্বর) রাজধানীতে  ‘পার্বত্য চট্টগ্রাম শান্তিচুক্তির ২১ বছর পূর্তি বাস্তবায়ন ও নির্বাচনী প্রত্যাশা’ শীর্ষক আলোচনা সভায় সন্তু লারমা যা বলেছিলেনঃ

পার্বত্য শান্তি চুক্তি বাস্তবায়নে সরকারের সদিচ্ছা ও আন্তরিকতার অভাব বেড়েই চলেছে বলে অভিযোগ করেছেন জনসংহতি সমিতির সভাপতি জ্যোতিরিন্দ্র বোধিপ্রিয় লারমা (সন্তু লারমা)।

তিনি বলেন, নির্বাচনের নতুন ইশতেহারে যদি বলাও হয়, পার্বত্য চুক্তি শতভাগ বাস্তবায়িত হবে- এটা আমি বিশ্বাস করি না। কারণ, দেশের যারা নেতৃত্ব দেন এসব শাসকগোষ্ঠী চুক্তি বাস্তবায়ন করবে না। বহু দল নির্বাচনে অংশ নিতে যাচ্ছে। তারা প্রতিবার নির্বাচনী ইশতেহার দেয়, কিন্তু ক্ষমতায় গেলে বাস্তবায়ন করেনা।

ক্ষোভ নিয়ে সন্তু লারমা বলেন, পার্বত্য অঞ্চলের সমস্যা সমাধানে সরকার শান্তি চুক্তি স্বাক্ষর করেছিল। আমার বাড়িতে ও গাড়িতে জাতীয় পতাকা ওড়ে। কিন্তু আমার ক্ষমতা একজন পুলিশ কনস্টেবল বা সেনাসদস্যের চেয়েও কম। আর এটাই বাস্তবতা। তাহলে চুক্তিটা কোথায় বাস্তবায়িত হল ?

তিনি বলেন,  বাংলাদেশ সরকার পার্বত্য চট্টগ্রাম সমস্যাকে রাজনৈতিক ও শান্তিপূর্ণভাবে সমাধানের জন্য এ চুক্তি সাক্ষরিত হয়েছিল। এ চুক্তি স্বাক্ষরের পশ্চাতে ছিল একটি প্রলম্বিত আন্দোলন যার অধিকাংশ সময় ছিল সশস্ত্র অবস্থায়। কিন্তু ২১ বছর পরেও দেখা যাচ্ছে এ চুক্তির মূল লক্ষ্য পাহাড়ের মানুষেরকে একটি বিশেষ শাসন ব্যবস্থার অধীনে তাদেরকে ক্ষমতায়ন করার যে বাস্তবতা তা হয়ে উঠেনি।

‘চুক্তির ২১ বছর অতিবাহিত হলেও শতভাগ বাস্তবায়িত হয়নি। অথচ সরকারপক্ষ বলছে, সরকার আন্তরিক তাই চুক্তি বাস্তবায়িত হয়েছে। এই কথা আন্তর্জাতিক মহলেও তারা প্রচার করছে।’

‘আঞ্চলিক পরিষদের যে দায়িত্ব বা ক্ষমতা সেটা সরকার এখনও হস্তান্তর করেনি। ফলে শান্তি প্রতিষ্ঠিত হয়নি।’

সন্তু লারমা বলেন, ‘আঞ্চলিক পরিষদের চেয়ারম্যান হিসেবে আমাকে প্রতিমন্ত্রীর মর্যাদা ও সুযোগ-সুবিধা দেওয়া হয়েছে। সরকার এসব সুযোগ-সুবিধা দিয়ে বোঝাতে চায় যে, পার্বত্য শান্তিচুক্তি বাস্তবায়িত হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে আমি চেয়ারম্যানের দায়িত্ব নিয়ে আছি। এখন এমন একটা অবস্থা সেই পদ থেকে সরে যেতে পারছি না, থাকতেও পারছি না। এটা একটা যন্ত্রণার।’

‘তিনটি জেলা পরিষদ নির্বাচনে ভোটের দিকে না গিয়ে সরকার বছরের পর বছর মনোনয়নের মধ্য দিয়ে ধরে রেখেছে। চেয়ারম্যানরা কোনো না কোনো ক্ষমতাসীন দলের সদস্য আর দলের স্বার্থই সংরক্ষণ করেন।’

আপনার মন্তব্য

আলোচিত