শিরোনাম

  নৌকার জয় সুনিশ্চিত : প্রধানমন্ত্রী   আজ ইউপিডিএফ’র ২০তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী   এবার থাইল্যান্ডে বৈধ হলো গাঁজা   ইউপিডিএফ প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে সকলকে সংগ্রামী শুভেচ্ছা জানালেন প্রসিত বিকাশ খীসা   চীনা শিশুরা আর স্কুল পালাতে পারবে না!   আবার ক্ষমতায় গেলে ভুল সংশোধন করা হবে : কাদের   প্রধানমন্ত্রী থেকে মাতৃভাষার বই পেয়েছে ক্ষুদ্র জনগোষ্ঠীর শিশুরা   শুভ বড়দিন আজ   রোহিঙ্গাদের জন্য শীতবস্ত্র পাঠাল ভারত   ইন্দোনেশিয়ায় সুনামির আঘাতে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৪০০ অধিক ছাড়িয়েছে   টাকার মালা উপহার পেলেন ফখরুল!   মধ্যরাত থেকে নির্বাচনী মাঠে সেনাবাহিনী   ভোটের দিন ২৪ ঘণ্টা সব যান চলাচল বন্ধ   সেনা মোতায়েনে ভোটারদের মধ্যে আস্থা ফিরে আসবে: সিইসি   পানছড়িতে ইউপিডিএফের নির্বাচনী অফিসে এলোপাতাড়ি ব্রাশ ফায়ারে ২ জন নিহত!   জেএসসি ও পিইসি পরীক্ষার ফল প্রকাশ   আগামী ৩০ তারিখ আমরা নৌকার বিজয় নিয়ে ঘরে ফিরবো: দীপংকর তালুকদার   ইন্দোনেশিয়ায় সুনামির আঘাতে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ২২২ জন   যারা মানুষ পুড়িয়ে মারে তাদের ভোট দেবেন নাঃ প্রধানমন্ত্রী   ২৮ ডিসেম্বর থেকে ১ জানুয়ারি মধ্যরাত পর্যন্ত ৪ দিন মোটরসাইকেল চলাচলে নিষেধাজ্ঞা
প্রচ্ছদ / জাতীয় / 'আঞ্চলিক পরিষদের দায়িত্ব সরকার এখনও হস্তান্তর করেনি, ফলে শান্তি প্রতিষ্ঠিত হয়নি'

'আঞ্চলিক পরিষদের দায়িত্ব সরকার এখনও হস্তান্তর করেনি, ফলে শান্তি প্রতিষ্ঠিত হয়নি'

প্রকাশিত: ২০১৮-১২-০৪ ২০:৫৯:৩১

   আপডেট: ২০১৮-১২-০৪ ২১:১০:২০

ফাইল ছবি।

>>

পার্বত্য শান্তি চুক্তি বাস্তবায়নে সরকারের সদিচ্ছা ও আন্তরিকতার অভাব বেড়েই চলেছে বলে অভিযোগ করেছেন জনসংহতি সমিতির সভাপতি জ্যোতিরিন্দ্র বোধিপ্রিয় লারমা (সন্তু লারমা)।

তিনি বলেন, নির্বাচনের নতুন ইশতেহারে যদি বলাও হয়, পার্বত্য চুক্তি শতভাগ বাস্তবায়িত হবে- এটা আমি বিশ্বাস করি না। কারণ, দেশের যারা নেতৃত্ব দেন এসব শাসকগোষ্ঠী চুক্তি বাস্তবায়ন করবে না। বহু দল নির্বাচনে অংশ নিতে যাচ্ছে। তারা প্রতিবার নির্বাচনী ইশতেহার দেয়, কিন্তু ক্ষমতায় গেলে বাস্তবায়ন করেনা।

রবিবার(২ ডিসেম্বর) রাজধানীতে  ‘পার্বত্য চট্টগ্রাম শান্তিচুক্তির ২১ বছর পূর্তি বাস্তবায়ন ও নির্বাচনী প্রত্যাশা’ শীর্ষক আলোচনা সভায় এসব কথা বলেন পার্বত্য চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পরিষদের চেয়ারম্যান জ্যোতিরিন্দ্র বোধিপ্রিয় লারমা (সন্তু লারমা)।

ক্ষোভ নিয়ে সন্তু লারমা বলেন, পার্বত্য অঞ্চলের সমস্যা সমাধানে সরকার শান্তি চুক্তি স্বাক্ষর করেছিল। আমার বাড়িতে ও গাড়িতে জাতীয় পতাকা ওড়ে। কিন্তু আমার ক্ষমতা একজন পুলিশ কনস্টেবল বা সেনাসদস্যের চেয়েও কম। আর এটাই বাস্তবতা। তাহলে চুক্তিটা কোথায় বাস্তবায়িত হল ?

তিনি বলেন,  বাংলাদেশ সরকার পার্বত্য চট্টগ্রাম সমস্যাকে রাজনৈতিক ও শান্তিপূর্ণভাবে সমাধানের জন্য এ চুক্তি সাক্ষরিত হয়েছিল। এ চুক্তি স্বাক্ষরের পশ্চাতে ছিল একটি প্রলম্বিত আন্দোলন যার অধিকাংশ সময় ছিল সশস্ত্র অবস্থায়। কিন্তু ২১ বছর পরেও দেখা যাচ্ছে এ চুক্তির মূল লক্ষ্য পাহাড়ের মানুষেরকে একটি বিশেষ শাসন ব্যবস্থার অধীনে তাদেরকে ক্ষমতায়ন করার যে বাস্তবতা তা হয়ে উঠেনি।

‘চুক্তির ২১ বছর অতিবাহিত হলেও শতভাগ বাস্তবায়িত হয়নি। অথচ সরকারপক্ষ বলছে, সরকার আন্তরিক তাই চুক্তি বাস্তবায়িত হয়েছে। এই কথা আন্তর্জাতিক মহলেও তারা প্রচার করছে।’

‘আঞ্চলিক পরিষদের যে দায়িত্ব বা ক্ষমতা সেটা সরকার এখনও হস্তান্তর করেনি। ফলে শান্তি প্রতিষ্ঠিত হয়নি।’

সন্তু লারমা বলেন, ‘আঞ্চলিক পরিষদের চেয়ারম্যান হিসেবে আমাকে প্রতিমন্ত্রীর মর্যাদা ও সুযোগ-সুবিধা দেওয়া হয়েছে। সরকার এসব সুযোগ-সুবিধা দিয়ে বোঝাতে চায় যে, পার্বত্য শান্তিচুক্তি বাস্তবায়িত হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে আমি চেয়ারম্যানের দায়িত্ব নিয়ে আছি। এখন এমন একটা অবস্থা সেই পদ থেকে সরে যেতে পারছি না, থাকতেও পারছি না। এটা একটা যন্ত্রণার।’

‘তিনটি জেলা পরিষদ নির্বাচনে ভোটের দিকে না গিয়ে সরকার বছরের পর বছর মনোনয়নের মধ্য দিয়ে ধরে রেখেছে। চেয়ারম্যানরা কোনো না কোনো ক্ষমতাসীন দলের সদস্য আর দলের স্বার্থই সংরক্ষণ করেন।’

রবিবার (২ ডিসেম্বর) জাতীয় নাগরিক উদ্যোগ-এর আয়োজনে রাজধানীর কৃষিবিদ ইনস্টিটিউট কমপ্লেক্সে পার্বত্য পার্বত্য চুক্তির ২১তম বর্ষপূর্তি উপলক্ষে ‘পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তির ২১ বছর : বাস্তবায়ন ও নির্বাচনী প্রত্যাশা’- শীর্ষক এক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন। আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন বিশিষ্ট কলামিস্ট ও গবেষক সৈয়দ আবুল মকসুদ। আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির সভাপতি জ্যোতিরিন্দ্র বোধিপ্রিয় লারমা, পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক আন্তর্জাতিক কমিশনের কো-চেয়ার এ্যাডভোকেট সুলতানা কামাল, ঐক্য ন্যাপের সভাপতি পংকজ ভট্টাচার্য, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. সাদেকা হালিম, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক অধ্যাপক ড. মেসবাহ কামাল, বাংলাদেশ আদিবাসী ফোরামের সাধারণ সম্পাদক সঞ্জীব প্রমুখ।

৭২টি ধারার মধ্যে মাত্র ২৫টি ধারা বাস্তবায়িত হয়েছে:সন্তু লারমা।

>পার্বত্য চট্টগ্রাম সমস্যার সমাধান হয়নি।

>পার্বত্য চট্টগ্রামের জুম্ম (উপজাতীয়) অধ্যুষিত অঞ্চলের বৈশিষ্ট্য তথা জুম্ম জনগণের অস্তিত্ব সংরক্ষণ নিশ্চিত হয়নি।

>পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তির সাথে সঙ্গতি বিধানকল্পে পার্বত্য চট্টগ্রামে প্রযোজ্য আইনসমূহ সংশোধন করা 

>পার্বত্য চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পরিষদ ও তিন পার্বত্য জেলা পরিষদ সম্বলিত বিশেষ শাসনব্যবস্থার প্রাতিষ্ঠানিক রূপ লাভ করেনি।

>পার্বত্য চট্টগ্রামের পাহাড়ি-বাঙালি স্থায়ী অধিবাসীদের প্রত্যক্ষ ভোটাধিকারের ভিত্তিতে নির্বাচনের মাধ্যমে পার্বত্য চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পরিষদ ও তিন পার্বত্য জেলা পরিষদ গঠিত হয়নি।

>তিন পার্বত্য জেলার সাধারণ প্রশাসন, আইন-শৃঙ্খলা, পুলিশ, ভূমি ও ভূমি ব্যবস্থাপনা, বন ও পরিবেশ, পর্যটন, মাধ্যমিক শিক্ষা, উন্নয়ন ইত্যাদি বিষয়গুলো এখনো তিন পার্বত্য জেলা পরিষদে হস্তান্তর করা হয়নি।

>পার্বত্য চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পরিষদ আইন কার্যকর হয়নি। আঞ্চলিক পরিষদকে অথর্ব করে রাখা হয়েছে।

>সেটেলার বাঙালি, অস্থানীয় ব্যক্তি ও কোম্পানী, সেনাবাহিনীসহ সরকারের বিভিন্ন কর্তৃপক্ষ কর্তৃক ভূমি বেদখল বন্ধ হয়নি এবং বেদখলের ফলে সৃষ্ট ভূমি বিরোধ নিষ্পত্তি হয়নি।

>অপারেশন উত্তরণ’সহ সকল অস্থায়ী ক্যাম্প প্রত্যাহার করা হয়নি ফলে পার্বত্য চট্টগ্রামে বলবৎ সেনাশাসনের অবসান হয়নি।

>ভারত প্রত্যাগত জুম্ম শরণার্থী ও আভ্যন্তরীণ জুম্ম উদ্বাস্তুদের স্ব স্ব জায়গা-জমি প্রত্যর্পণ র্প্বূক যথাযথ পুনর্বাসন প্রদান করা হয়নি।

>পার্বত্য চট্টগ্রামের সকল চাকরিতে পাহাড়িদের অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে স্থায়ী বাসিন্দাদের নিয়োগ সুনিশ্চিত হয়নি।

>সেটেলার বাঙালিদেরকে পার্বত্য চট্টগ্রামের বাইরে সম্মানজনকভাবে পুনর্বাসন করা হয়নি।

>সেনা অভিযান, ঘরবাড়ী তল্লাসী, অবৈধ গ্রেপ্তার, বিচার বহিভূর্ত হত্যা, নির্যাতন-নিপীড়ন, হয়রানি, ক্যাম্প সম্প্রসারণ, সন্ত্রাস, হুমকি ইত্যাদি অব্যাহত রয়েছে।

আপনার মন্তব্য

আলোচিত