শিরোনাম

  গত ৫ বছরে জেএসএস এমপি উন্নয়ন করতে পারেনি, যা করেছে আওয়ামীলীগ করেছে : দিপংকর তালুকদার   এখন থেকে সরকারি চাকরিতে যোগ দেওয়ার আগে মাদক পরীক্ষা বাধ্যতামূলক   'বান্দরবানে বিদেশি পর্যটকদের ভ্রমণে কোনো নিষেধাজ্ঞা নেই'   'নির্বাচনী প্রচারণায় রঙিন পোস্টার বা ব্যানার ব্যবহার করা যাবে না'   ৫৮টি নিউজ পোর্টাল খুলে দিয়েছে বিটিআরসি   বুধবার থেকে নির্বাচনী প্রচারণা শুরু করবেন প্রধানমন্ত্রী   বিএনপি ক্ষমতায় এলে শান্তি চুক্তি বাস্তবায়ন করার চেষ্ঠা করবো: মনি স্বপন দেওয়ান   তিন পাহাড়ে নৌকা নিয়ে মাঠে দৌড়াবেন যারা   আগামীকাল খালেদা জিয়ার অগ্নিপরীক্ষা   হিরোকে জিরো বানানো এত সহজ নয়, সফল হিরো আলমের চ্যালেঞ্জ   খাগড়াছড়িতে বনের রাজা পেয়েছেন ইউপিডিএফের প্রার্থী নতুন কুমার চাকমা   বিশ্বের প্রথম উঁচু ভাস্কর্য 'চীনের স্প্রিং টেম্পল বুদ্ধ'   আন্তর্জাতিক মানবাধিকার দিবস || আদিবাসীদের মানবাধিকার প্রতিষ্ঠায় এগিয়ে আসার অাহ্বান   বনের রাজা সিংহকে নিয়ে রাঙ্গামাটিতে দৌড়াবেন ঊষাতন তালুকদার   আজ বিশ্ব মানবাধিকার দিবস   নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থীদের জন্য যেসব মার্কা দেওয়া হচ্ছে...   নির্বাচনে প্রচার-প্রচারণায় সকল প্রার্থীদের যা যা মেনে চলতে হবে   নির্বাচনে গাড়ি প্রতীক পেয়েছেন স্বতন্ত্র প্রার্থী ইমরান এইচ সরকার   দেশে ৫৮টি নিউজ পোর্টাল বন্ধের নির্দেশ দিয়েছে বিটিআরসি   পার্বত্য চট্টগ্রামে শান্তি ফিরিয়ে আনার জন্য শেখ হাসিনাকে শান্তিতে নোবেল পুরস্কার দেওয়া উচিত
প্রচ্ছদ / জাতীয় / অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার অভিযান নাম দিয়ে পাহাড়ে দমনপীড়ন চালানো হচ্ছে : সন্তু লারমা

অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার অভিযান নাম দিয়ে পাহাড়ে দমনপীড়ন চালানো হচ্ছে : সন্তু লারমা

প্রকাশিত: ২০১৮-১১-২৯ ১৪:১৩:৪৯

   আপডেট: ২০১৮-১১-২৯ ১৫:৩৫:৪৬

ফাইল ছবি।

ঢাকা >>

>পার্বত্য চট্টগ্রাম সমস্যার সমাধান হয়নি।

>পার্বত্য চট্টগ্রামের জুম্ম (উপজাতীয়) অধ্যুষিত অঞ্চলের বৈশিষ্ট্য তথা জুম্ম জনগণের অস্তিত্ব সংরক্ষণ নিশ্চিত হয়নি।

>পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তির সাথে সঙ্গতি বিধানকল্পে পার্বত্য চট্টগ্রামে প্রযোজ্য আইনসমূহ সংশোধন করা 

>পার্বত্য চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পরিষদ ও তিন পার্বত্য জেলা পরিষদ সম্বলিত বিশেষ শাসনব্যবস্থার প্রাতিষ্ঠানিক রূপ লাভ করেনি।

>পার্বত্য চট্টগ্রামের পাহাড়ি-বাঙালি স্থায়ী অধিবাসীদের প্রত্যক্ষ ভোটাধিকারের ভিত্তিতে নির্বাচনের মাধ্যমে পার্বত্য চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পরিষদ ও তিন পার্বত্য জেলা পরিষদ গঠিত হয়নি।

>তিন পার্বত্য জেলার সাধারণ প্রশাসন, আইন-শৃঙ্খলা, পুলিশ, ভূমি ও ভূমি ব্যবস্থাপনা, বন ও পরিবেশ, পর্যটন, মাধ্যমিক শিক্ষা, উন্নয়ন ইত্যাদি বিষয়গুলো এখনো তিন পার্বত্য জেলা পরিষদে হস্তান্তর করা হয়নি।

>পার্বত্য চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পরিষদ আইন কার্যকর হয়নি। আঞ্চলিক পরিষদকে অথর্ব করে রাখা হয়েছে।

>সেটেলার বাঙালি, অস্থানীয় ব্যক্তি ও কোম্পানী, সেনাবাহিনীসহ সরকারের বিভিন্ন কর্তৃপক্ষ কর্তৃক ভূমি বেদখল বন্ধ হয়নি এবং বেদখলের ফলে সৃষ্ট ভূমি বিরোধ নিষ্পত্তি হয়নি।

>অপারেশন উত্তরণ’সহ সকল অস্থায়ী ক্যাম্প প্রত্যাহার করা হয়নি ফলে পার্বত্য চট্টগ্রামে বলবৎ সেনাশাসনের অবসান হয়নি।

>ভারত প্রত্যাগত জুম্ম শরণার্থী ও আভ্যন্তরীণ জুম্ম উদ্বাস্তুদের স্ব স্ব জায়গা-জমি প্রত্যর্পণ র্প্বূক যথাযথ পুনর্বাসন প্রদান করা হয়নি।

>পার্বত্য চট্টগ্রামের সকল চাকরিতে পাহাড়িদের অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে স্থায়ী বাসিন্দাদের নিয়োগ সুনিশ্চিত হয়নি।

>সেটেলার বাঙালিদেরকে পার্বত্য চট্টগ্রামের বাইরে সম্মানজনকভাবে পুনর্বাসন করা হয়নি।

>সেনা অভিযান, ঘরবাড়ী তল্লাসী, অবৈধ গ্রেপ্তার, বিচার বহিভূর্ত হত্যা, নির্যাতন-নিপীড়ন, হয়রানি, ক্যাম্প সম্প্রসারণ, সন্ত্রাস, হুমকি ইত্যাদি অব্যাহত রয়েছে।

পার্বত্য চুক্তির ৭২টি ধারার মধ্যে ৪৮টি ধারা বাস্তবায়িত হয়েছে বলে সরকার দেশে বিদেশে অপপ্রচার চালিয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন, পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির সভাপতি জ্যোতিরিন্দ্র বোধিপ্রিয় লারমা (সন্তু লারমা)।

তিনি বলেন, সরকার  বলছে চুক্তির ৭২টি শর্তের মধ্যে ৪৮টি সম্পূর্ণ বাস্তবায়িত হয়েছে। অথচ ৭২টি ধারার মধ্যে মাত্র ২৫টি ধারা বাস্তবায়িত হয়েছে।যেখানে মৌলিক বিষয়সমূহের দুই তৃতীয়াংশ ধারা এখনও বাস্তবায়িত হয়নি।সরকার এসব উদ্যোগ গ্রহণ না করে দেশে বিদেশে অপপ্রচার চালাচ্ছে।

বৃহস্পতিবার (২৯ নভেম্বর) সকালে রাজধানীর একটি হোটেলে পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তির ২১ বছর পূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এই অভিযোগ করেন তিনি।

সন্তু লারমা বলেন, একাদশ জাতীয় নির্বাচন সামনে রেখে অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে পাহাড়ে যৌথবাহিনীর অভিযান নাম দিয়ে নিরীহ ও আন্দোলনরত নেতাকর্মীদেরকে দমনপীড়ন চালানো হচ্ছে।এতে পাহাড়ে সুষ্ঠু নির্বাচনের পরিবেশও হারিয়ে যাচ্ছে।

আওয়ামী লীগ সরকার ২০০৯ সালে ক্ষমতায় আসার পর মহাজোট সরকারের দুই মেয়াদেও পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তির অসম্পূর্ণ বিষয়গুলোর বাস্তবায়নে কোনও কার্যকর ও দৃশ্যমান উদ্যোগ গ্রহণ করেনি ।

তিনি আরো বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রামে বিভিন্ন ভুঁইফোড় সাংবাদিক দিয়ে প্রিন্ট, ইলেকট্রনিক এবং অনলাইন গণমাধ্যমের মাধ্যমে আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালিয়ে যাচ্ছে। এতে পার্বত্য চট্টগ্রামের জুম্ম জনগণসহ অসহায় পার্বত্যবাসী শ্বাসরুদ্ধকর অবস্থায় জীবন অতিবাহিত করছে। আদিবাসীদের জায়গা-জমি বেদখল করেছে ফলে জুম্মরা দেশান্তরিত হতে বাধ্য হচ্ছে।

উল্লেখ্য, ঐতিহাসিক পার্বত্য শান্তি চুক্তি দিবস আগামী ২ ডিসেম্বর ২০১৮। পার্বত্য চট্টগ্রামে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ বন্ধ এবং শান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে ১৯৯৭ সালের ২ ডিসেম্বর বর্তমান ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ সরকার ও জনসংহতি সমিতি চুক্তি সই করেছিল। এতে স্বাক্ষর করেন বাংলাদেশ সরকারের পক্ষে আবুল হাসনাত আব্দুল্লাহ এবং শান্তি বাহিনীর পক্ষে পার্বত্য চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পরিষদের চেয়ারম্যান জ্যোতিরিন্দ্র বোধিপ্রিয় লারমা (সন্তু)।

কিন্তু আজ চুক্তির ২১ বছর পূর্ণ হতে চলেছে। কিন্তু এখনো চুক্তি পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়নি হয়নি বলে জেএসএসের(জনসংহতি সমিতির) অভিযোগ । চুক্তি বাস্তবায়ন না হওয়ায় পাহাড়ি জনগোষ্ঠী ক্ষুব্ধ হয়ে উঠেছে।

আপনার মন্তব্য

আলোচিত