শিরোনাম

  গত ৫ বছরে জেএসএস এমপি উন্নয়ন করতে পারেনি, যা করেছে আওয়ামীলীগ করেছে : দিপংকর তালুকদার   এখন থেকে সরকারি চাকরিতে যোগ দেওয়ার আগে মাদক পরীক্ষা বাধ্যতামূলক   'বান্দরবানে বিদেশি পর্যটকদের ভ্রমণে কোনো নিষেধাজ্ঞা নেই'   'নির্বাচনী প্রচারণায় রঙিন পোস্টার বা ব্যানার ব্যবহার করা যাবে না'   ৫৮টি নিউজ পোর্টাল খুলে দিয়েছে বিটিআরসি   বুধবার থেকে নির্বাচনী প্রচারণা শুরু করবেন প্রধানমন্ত্রী   বিএনপি ক্ষমতায় এলে শান্তি চুক্তি বাস্তবায়ন করার চেষ্ঠা করবো: মনি স্বপন দেওয়ান   তিন পাহাড়ে নৌকা নিয়ে মাঠে দৌড়াবেন যারা   আগামীকাল খালেদা জিয়ার অগ্নিপরীক্ষা   হিরোকে জিরো বানানো এত সহজ নয়, সফল হিরো আলমের চ্যালেঞ্জ   খাগড়াছড়িতে বনের রাজা পেয়েছেন ইউপিডিএফের প্রার্থী নতুন কুমার চাকমা   বিশ্বের প্রথম উঁচু ভাস্কর্য 'চীনের স্প্রিং টেম্পল বুদ্ধ'   আন্তর্জাতিক মানবাধিকার দিবস || আদিবাসীদের মানবাধিকার প্রতিষ্ঠায় এগিয়ে আসার অাহ্বান   বনের রাজা সিংহকে নিয়ে রাঙ্গামাটিতে দৌড়াবেন ঊষাতন তালুকদার   আজ বিশ্ব মানবাধিকার দিবস   নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থীদের জন্য যেসব মার্কা দেওয়া হচ্ছে...   নির্বাচনে প্রচার-প্রচারণায় সকল প্রার্থীদের যা যা মেনে চলতে হবে   নির্বাচনে গাড়ি প্রতীক পেয়েছেন স্বতন্ত্র প্রার্থী ইমরান এইচ সরকার   দেশে ৫৮টি নিউজ পোর্টাল বন্ধের নির্দেশ দিয়েছে বিটিআরসি   পার্বত্য চট্টগ্রামে শান্তি ফিরিয়ে আনার জন্য শেখ হাসিনাকে শান্তিতে নোবেল পুরস্কার দেওয়া উচিত
প্রচ্ছদ / জাতীয় / রাষ্ট্র এবং রাজনীতি সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা দিতে ব্যর্থ হয় বলেই তারা দেশ ত্যাগ করে : রানা দাশগুপ্ত

রাষ্ট্র এবং রাজনীতি সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা দিতে ব্যর্থ হয় বলেই তারা দেশ ত্যাগ করে : রানা দাশগুপ্ত

প্রকাশিত: ২০১৮-১১-১৮ ১২:২৬:৫২

   আপডেট: ২০১৮-১১-২০ ১২:৩৯:০১

অনলাইন ডেস্ক >>

বাংলাদেশ হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট রানা দাশগুপ্ত বলেছেন, সংখ্যালঘুরা ইচ্ছায় দেশ ত্যাগ করে না। রাষ্ট্র এবং রাজনীতি তাদের নিরাপত্তা দিতে ব্যর্থ হয় বলেই তারা দেশ ত্যাগ করে। সাম্প্রদায়িক সহিংসতা করে দেশকে সংখ্যালঘু শূন্য করলে এর জন্য বাংলাদেশকে কঠিন পরীক্ষার মুখোমুখি হতে হবে।

সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা’ শীর্ষক গোটটেবিল আলোচনা সভায় শনিবার (১৭ নভেম্বর) তিনি এ কথা বলেন।

আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে আমরা সংখ্যালঘুদের ওপর কোনো সহিংসতা দেখতে চাই না। বিভিন্ন সময় নির্বাচনকালীন সহিংস ঘটনার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘বাবা, আমার মেয়েটা ছোট। তোমরা সবাই একসঙ্গে এসো না। একজন একজন করে এসো মায়ের এমন আর্তি শুনতে চাই না।

সংখ্যালঘুদের ওপর হামলা নির্যাতনের ক্ষেত্রে রক্ষক ও ত্রাতার ভূমিকার বদলে রাষ্ট্র নিজেই নিপীড়ক কিংবা পৃষ্ঠপোষকের ভ‚মিকা পালন করেছে উল্লেখ করে পঙ্কজ ভট্টচার্য বলেন, যেভাবে বিচারহীনতার মধ্য দিয়ে দায়মুক্তির উদাহরণ তৈরি করা হচ্ছে তাতে অভয়নগর, নাসিরনগর, ঠাকুরপাড়া, কর্ণাইয়ের মতো হামলা নির্যাতনের ঘটনা ঘটতেই থাকবে। সংবিধানকে ধর্মীয় মোড়কে আবদ্ধ করা হয়েছে। ধর্মীয় ও জাতিগত সংখ্যালঘুরা বিজাতীয় ও বিরাষ্ট্রীয়করণের শিকার হচ্ছে।

খুশী কবীর বলেন, মার্কা বা দল নয় প্রার্থীকে দেখে ভোট দেয়ার সময় এসেছে। যে প্রার্থী সংখ্যালঘুর ওপর নির্যাতন করেছে তাদের বয়কট করতে হবে। ১৯৭১ সালের আওয়ামী লীগ আর ২০১৮ সালের আওয়ামী লীগ এক নয়। যদি তারা নিজেদের সেই দাবি করেন তাহলে ২০১৮ সালের নির্বাচনে তাদের সেই প্রমাণ দিতে হবে। সংখ্যালঘুরা আমাদের দেশের অস্তিত্বের সঙ্গে জড়িত। অথচ ধর্মীয় ও জাতিগত কারণে তাদের উপেক্ষা ও নির্যাতন করা হচ্ছে।

সুলতানা কামাল বলেন, সংখ্যালঘুদের নির্বিঘ্নে ভোটাধিকার প্রয়োগে প্রশাসনকে আরো দায়িত্বশীল হতে হবে। নির্বাচন যখন চলে এবং নির্বাচন পরবর্তী সময়ে সংখ্যালঘু জনগণের ওপর নির্যাতনের মাত্রাটা অনেক বেশি বেড়ে যায়। সেটার একটা সাংঘাতিক রকমের প্রকট রূপ আমরা দেখতে পাই। প্রশাসন এবং পুলিশ যদি নিরপেক্ষ না হয়, প্রতিটি মানুষের সমঅধিকারে বিশ্বাসী মনোভাব নিয়ে এ কাজগুলো সমাধা করার চেষ্টা না করে, তাহলে আমরা আশা করতে পারি না যে সংখ্যালঘু সম্প্রদায় তাদের ভোটের অধিকারটা নিরাপদভাবে, সহজভাবে প্রয়োগ করতে পারবে।

তিনি বলেন, ব্লসফেমি আইন এ দেশে না থাকলেও ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত হানার অজুহাতসহ বিভিন্ন অজুহাতে রাষ্ট্র ব্লসফেমি আইনের চর্চা করছে। রাষ্ট্রীয়ভাবে যেখানে শূন্য সহনশীল হওয়ার কথা সাম্প্রদায়িক হামলাকারী, নারী নির্যাতনকারী ও সাম্প্রদায়িক বিদ্বেষ সৃষ্টিকারীদের প্রতি আজ তার বিপরীতে রাষ্ট্রের শূন্য সহনশীল অবস্থান হয়ে গেছে মুক্তিবুদ্ধির প্রতি। এ অবস্থায় দেশের সংখ্যালঘুদের অবস্থা যে করুণ তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না।

শনিবার সকালে সিরডাপ মিলনায়তনে নাগরিক সমাজের ব্যানারে এই আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। মানবাধিকার কর্মী এডভোকেট সুলতানা কামালের সভাপতিত্বে সভায় মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন এএলআরডির নির্বাহী পরিচালক শামসুল হুদা। সূচনা বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট রানা দাশগুপ্ত। আলোচনায় অংশ নেন ঐক্য ন্যাপের সভাপতি পঙ্কজ ভট্টাচার্য, মানবাধিকার কর্মী খুশী কবির, দৈনিক ভোরের কাগজ সম্পাদক শ্যামল দত্ত, নারী সাংবাদিক কেন্দ্রের সভাপতি নাসিমুন আরা হক, সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী এডভোকেট তবারক হোসেইন, বাংলাদেশ সমাজতান্ত্রিক দলের সাধারণ সম্পাদক খালেকুজ্জামান প্রমুখ। এ ছাড়া সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ড. মোহাম্মদ শাহজাহান, এডভোকেট বিনয় কুমার ঘোষ, মানবাধিকার সংগঠক আসিফ ইকবাল, বাংলাদেশ হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের ঠাকুরগাঁও জেলা শাখার সদস্য সচিব দীপক কুমার রায় বক্তব্য রাখেন।

আপনার মন্তব্য

আলোচিত