শিরোনাম

  নৌকার জয় সুনিশ্চিত : প্রধানমন্ত্রী   আজ ইউপিডিএফ’র ২০তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী   এবার থাইল্যান্ডে বৈধ হলো গাঁজা   ইউপিডিএফ প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে সকলকে সংগ্রামী শুভেচ্ছা জানালেন প্রসিত বিকাশ খীসা   চীনা শিশুরা আর স্কুল পালাতে পারবে না!   আবার ক্ষমতায় গেলে ভুল সংশোধন করা হবে : কাদের   প্রধানমন্ত্রী থেকে মাতৃভাষার বই পেয়েছে ক্ষুদ্র জনগোষ্ঠীর শিশুরা   শুভ বড়দিন আজ   রোহিঙ্গাদের জন্য শীতবস্ত্র পাঠাল ভারত   ইন্দোনেশিয়ায় সুনামির আঘাতে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৪০০ অধিক ছাড়িয়েছে   টাকার মালা উপহার পেলেন ফখরুল!   মধ্যরাত থেকে নির্বাচনী মাঠে সেনাবাহিনী   ভোটের দিন ২৪ ঘণ্টা সব যান চলাচল বন্ধ   সেনা মোতায়েনে ভোটারদের মধ্যে আস্থা ফিরে আসবে: সিইসি   পানছড়িতে ইউপিডিএফের নির্বাচনী অফিসে এলোপাতাড়ি ব্রাশ ফায়ারে ২ জন নিহত!   জেএসসি ও পিইসি পরীক্ষার ফল প্রকাশ   আগামী ৩০ তারিখ আমরা নৌকার বিজয় নিয়ে ঘরে ফিরবো: দীপংকর তালুকদার   ইন্দোনেশিয়ায় সুনামির আঘাতে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ২২২ জন   যারা মানুষ পুড়িয়ে মারে তাদের ভোট দেবেন নাঃ প্রধানমন্ত্রী   ২৮ ডিসেম্বর থেকে ১ জানুয়ারি মধ্যরাত পর্যন্ত ৪ দিন মোটরসাইকেল চলাচলে নিষেধাজ্ঞা
প্রচ্ছদ / জাতীয় / পাহাড় থেকে আদিবাসীদের উচ্ছেদে যৌন সহিংসতা একটি হাতিয়ার: বিশেষজ্ঞ

পাহাড় থেকে আদিবাসীদের উচ্ছেদে যৌন সহিংসতা একটি হাতিয়ার: বিশেষজ্ঞ

প্রকাশিত: ২০১৮-০৮-১১ ১৩:২২:১৩

   আপডেট: ২০১৮-০৮-১১ ১৩:২৪:২৫

পাহাড়ী মেয়ে নির্যাতনের শিকার ফাইল ছবি।

ইউএনবি, ঢাকা

বিশেষজ্ঞ ও মানবাধিকার কর্মীদের মতে, পাহাড়ে বসবাসকারী জাতিগত সংখ্যালঘুদের তাদের পূর্বপুরুষের বসতভিটা থেকে জোরপূর্বক উচ্ছেদের জন্য নারীদের ওপর যৌন সহিংসতাকে একটি মোক্ষম হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা হয়।

বাংলাদেশে ক্ষুদ্র গোষ্ঠীর মানবাধিকার সংগঠন- কাপেং ফাউন্ডেশন (কেএফ) এর নির্বাহী পরিচালক পল্লব চাকমা জানান, অন্যান্য সম্প্রদায়ের মানুষ পাহাড়ি এলাকায় বসবাসরত 'আদিবাসীদের’ তাদের পূর্বপুরুষদের জমি থেকে উচ্ছেদ করছে, যা তাদের মধ্যে নিরাপত্তাহীনতা সৃষ্টি করছে।

তিনি বলেন, প্রভাবশালী ব্যক্তি এবং স্থানীয় রাজনৈতিক নেতাদের কাছ থেকে ক্রমাগত হুমকি সম্প্রদায়ের মধ্যে আরো নিরাপত্তাহীনতা বাড়াচ্ছে।

ধর্ষণকে ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীদের বাস্তুচ্যুতের মূল কারণ হিসেবে উল্লেখ করে পল্লব বলেন, ‘যখন হুমকি-ধমকিতে কাজ হয় না, তখন তারা আদিবাসীদের মধ্যে ভয় তৈরি করার জন্য ধর্ষণ ও যৌন হয়রানির আশ্রয় নেয়।’

গণমাধ্যমের প্রতিবেদনের ওপর ভিত্তি করে কাপেং ফাউন্ডেশনের সংগৃহীত তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরে গত সাত মাসে ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর মোট ৩২ জন নারী ও মেয়ে যৌন সহিংসতার শিকার হয়েছেন। তাদের মধ্যে ১১ জনকে ধর্ষণ, চারজনকে ধর্ষণের পর হত্যা, দুজনকে গণধর্ষণ, নয়জনকে ধর্ষণ চেষ্টা এবং ছয়জনকে যৌন হয়রানি করা হয়।

২০১৬ সালের অক্টোবরে প্রকাশিত কাপেং ফাউন্ডেশন, বাংলাদেশ আদিবাসী নারী নেটওয়ার্ক (বিআইডব্লিউএন) এবং আদিবাসী বিষয়ক আন্তর্জাতিক ওয়ার্ক গ্রুপের (আইডব্লিউজিআইএ) আরেক গবেষণা প্রতিবেদনে ‘বাংলাদেশে আদিবাসী নারী ও মেয়েদের অবস্থা: এক নজরে সমস্যা ও উদ্বেগের বিষয়’ এর তথ্য অনুযায়ী, ২০০৭ সালের জানুয়ারি থেকে ২০১৬ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বাংলাদেশে অন্তত ৪৬৬ জন 'আদিবাসী' নারী ও মেয়েদের ওপর সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে।

পার্বত্য চট্টগ্রামের মানবাধিকার নিয়ে কাজ করা সংগঠন-সিএইচটি কমিশনের একটি গবেষণা প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২১৫টি মামলার মধ্যে একটিতেও কোনো ব্যক্তিকে দোষী সাব্যস্ত করা হয়নি।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের অধ্যাপক রোবায়েত ফেরদৌস মনে করেন, 'আদিবাসী' সম্প্রদায়ের ওপর এ ধরনের সহিংসতা তাদের মধ্যে নিরাপত্তাহীনতা তৈরি করে অন্যত্র স্থানান্তর করতে বাধ্য করার একটি হাতিয়ার।

তিনি ইউএনবিকে বলেন, 'আদিবাসী' মানুষের মধ্যে নিরাপত্তাহীনতা চারটি উপায়ে তৈরি হয় - তাদের বাড়িঘর আক্রমণ, তাদের আয় উৎসে আক্রমণ, তাদের উপাসনা স্থানে আক্রমণ এবং নারীদেরকে যৌন হয়রানি করা।

‘যৌন সহিংসতা ও হয়রানি পাহাড়ি সম্প্রদায়ের মানুষের মধ্যে ভয় সৃষ্টি করে এবং এক পর্যায়ে তারা নিরাপত্তা ও মর্যাদার রক্ষার জন্য অন্যত্র চলে যেতে বাধ্য হয়,’ যোগ করেন অধ্যাপক রোবায়েত।

চাকমা রাণী ও চাকমা সার্কেলের উপদেষ্টা ইয়ান ইয়ান ইউএনবিকে বলেন, ‘আদিবাসী নারীরা এখন নিজ দেশে অনিরাপদ।’

তিনি দাবি করেন, ন্যায়বিচারের অভাব এই 'আদিবাসী' নারীদের ওপর যৌন সহিংসতাকে বৈধতা দেয়। যখন ক্ষতিগ্রস্তরা ন্যায়বিচার পায় না, তখন যৌন হয়রানি একটি নিয়মিত চর্চায় পরিণত হয় এবং ধীরে ধীরে এটি সমাজের একটি নিয়ম হয়ে ওঠে।

৯ আগস্ট পালিত আন্তর্জাতিক আদিবাসী দিবসে অভিবাসনের মূল কারণ, আন্তঃসীমান্ত চলাচল ও স্থানচ্যুতির ওপর ভিত্তি করে জাতিসংঘের এ বছরের প্রতিপাদ্য হচ্ছে ‘আদিবাসীদের অভিবাসন ও আন্দোলন।’

২০১৭ সালে আদিবাসী জনগোষ্ঠীর ওপর কাপেং ফাউন্ডেশনের মানবাধিকার প্রতিবেদন অনুযায়ী, এ বছরে ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর ওপর সহিংসতার ঘটনায় মোট ৪৮টি মামলা রেকর্ড করা হয়েছে। তাদের মধ্যে ২০টি সমভূমি ভূমি থেকে ২৮টি সিএইটি থেকে করা হয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর প্রায় ৫৬ জন নারী শারীরিক বা যৌন নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। তাদের মধ্যে অন্তত ১২ জনকে ধর্ষণ, নয়জনকে ধর্ষণ চেষ্টা এবং নয়জনকে হত্যা অথবা ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়।

অন্যান্য ঘটনার মধ্যে চারজনকে গণ-ধর্ষণ, আটজন অপহরণ এবং দুজন নারীকে যৌন হয়রানি করা হয়।

এর মধ্যে ৭৫ জন অভিযুক্তদের মধ্যে ৬৫ জন বাঙালি সম্প্রদায় এবং চারজন ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠী সম্প্রদায়ের ছিল।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ক্ষতিগ্রস্তদের বয়স ৩ থেকে ৫৫ বছরের মধ্যে।

কাপেং ফাউন্ডেশনের আরেক প্রতিবেদন দাবি করছে, প্রভাবশালীদের চাপ, নিরাপত্তার অভাব, সম্ভাব্য সেবা বঞ্চিত, আবাদী জমি সঙ্কুচিত হয়ে যাওয়ার কারণে গত ৪-৫ বছরে বান্দরবানের আলীকদম, থানচি, নাইক্ষ্যংছড়ি ও লামা উপজেলার দুর্গম এলাকা থেকে প্রায় ৫০০ 'আদিবাসী' পরিবার মিয়ানমারের আরাকানে (রাখাইন রাজ্য) চলে গেছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, পাহাড়ে সংকট সমাধান করার লক্ষ্যে পার্বত্য শান্তিচুক্তির স্বাক্ষরের ২০ বছরের বেশি সময় অতিবাহিত হলেও এর মূল বিষয়গুলো এখনো বাস্তবায়ন করা হয়নি।

প্রতিবেদনের সুপারিশে বলা হয়, মানবাধিকার কর্মীরা বিশ্বাস করে যে, ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর নিরাপত্তা ও মানবাধিকার নিশ্চিত করার জন্য একটি নিরপেক্ষ দেশ গড়তে হবে যেখানে শ্রেণি, জাতি, ভাষা, সামাজিক অবস্থা ও ধর্ম নির্বিশেষে প্রত্যেক নাগরিকের সমান অধিকার নিশ্চিত হয়।  

আপনার মন্তব্য

আলোচিত