শিরোনাম

  ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর জন্য মাতৃভাষায় পুস্তক প্রকাশনার বিধান রেখে খসড়ার চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা   সরকারী চাকরিতে ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী ও পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর জন্য কোটা না হলেও সমস্যা হবে না   রুয়েটে ভর্তি পরীক্ষার আবেদন শুরু   দুই আদিবাসী কিশোরী ধর্ষণের ঘটনায় অভিযুক্তদের সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি   দেশের বিভিন্ন স্থানে বৃষ্টি অথবা বজ্রবৃষ্টি ও ভারী বর্ষণ হতে পারে   আদিবাসী মানবাধিকার সুরক্ষাকর্মীদের সম্মেলন ২০১৮ উদযাপন   ব্লগার বাচ্চু হত্যার সঙ্গে ‘জড়িত’ ২ জঙ্গি নিহত   জুমের বাম্পার ফলনে রাঙ্গামাটির চাষিদের মুখে হাসি   সরকারি চাকরিতে আদিবাসী কোটা বহাল দাবি জানাল আদিবাসীরা   আয়ারল্যান্ড প্রবাসী বাংলাদেশের এক মন্ত্রী দ্বারা হেনস্ত হওয়াতে হিন্দু, বৌদ্ধ ও খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের নিন্দা   শেখ হাসিনার জনপ্রিয়তা উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি পেয়েছে   মিয়ানমারে রয়টার্সের দুই সাংবাদিককে সাত বছরের কারাদণ্ড দিয়েছে আদালত   শহীদ আলফ্রেড সরেন হত্যার ১৮ বছর: হত্যাকারীদের দ্রুত বিচারের দাবি জাতীয় আদিবাসী পরিষদের   ভারতের কাছে ১-০ গোলে হেরেছে বাংলাদেশের মেয়েরা   সরকারী চাকরিতে নিয়োগের ক্ষেত্রে মুক্তিযোদ্ধা ছাড়া সব কোটা বাতিল হচ্ছে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী   জাতিসংঘের সাবেক মহাসচিব কফি আনান মারা গেছেন   ঈদের ছুটি কাটানো হলোনা টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ার নিরীহ ধীরাজ চাকমার   খাগড়াছড়িতে পৃথক ঘটনার জন্য জেএসএস(সংস্কারবাদী) ও নব্য মুখোশ বাহিনীকে দায়ী করেছে : ইউপিডিএফ   নানিয়ারচর থেকে খাগড়াছড়ি   খাগড়াছড়িতে ৬ জনকে গুলি করে হত্যা !
প্রচ্ছদ / জাতীয় / 'কাপ্তাই জল বিদ্যুৎ প্রকল্পের কারণে ৬০ হাজারের অধিক আদিবাসী মানুষ ভারত ও মায়ানমারে আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়েছে'

'কাপ্তাই জল বিদ্যুৎ প্রকল্পের কারণে ৬০ হাজারের অধিক আদিবাসী মানুষ ভারত ও মায়ানমারে আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়েছে'

প্রকাশিত: ২০১৮-০৮-০৭ ১০:৫৭:৪৩

   আপডেট: ২০১৮-০৮-০৭ ১০:৫৭:৫৮

ফাইল ছবি।

ঢাকা >>

কাপ্তাই জল বিদ্যুৎ প্রকল্পের কারণে প্রায় লক্ষাধিক আদিবাসী উচ্ছেদের শিকার হন এবং তাদের মধ্যে ৬০ হাজারের অধিক আদিবাসী মানুষ ভারত ও মায়ানমারে আশ্রয় নিতে বাধ্য হন। সেখানে এই আদিবাসী মানুষেরা পরিণত হন দেশহীন নাগরিক হিসেবে।

আন্তর্জাতিক আদিবাসী দিবস ২০১৮ উপলক্ষে ৬ আগস্ট ২০১৮, সোমবার,ঢাকার হোটেল সুন্দরবনে একটি সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান বাংলাদেশ আদিবাসী ফোরামের সভাপতি ও পার্বত্য চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পরিষদের চেয়ারম্যান জ্যোতিরিন্দ্র বোধিপ্রিয় (সন্তু) লারমা।

তিনি জানান, দেশভাগের পর বৃহত্তর ময়মনসিংহ অঞ্চল থেকে প্রায় শতকরা ৭৫ ভাগ গারো জন্মভূমি ত্যাগ করে ভারতের মেঘালয় ও আসামে আশ্রয় নিতে বাধ্য হন। অন্যান্য সংখ্যাল্প জাতির মধ্যে হাজং, কোচ, বানাই, হদি, ডালু ইত্যাদি জাতির শতকরা ৯০ ভাগের বেশি মানুষ দেশত্যাগে বাধ্য হন। তাঁরা তাদের বাড়িঘর, জমি, ভিটামাটি চিরতরে হারান। উত্তরবঙ্গের সাঁওতাল, ওঁরাও, মুন্ডা ও অন্যান্য আদিবাসীদের অবস্থা ও আরো শোচনীয়।

জমিজমা হারিয়ে উত্তরবঙ্গের আদিবাসীরা এখন নিজভূমে পরবাসীতে পরিণত হয়েছেন। উপনিবেশিক আমল থেকেই এই আদিবাসী জাতিসমূহের জীবনের ইতিহাস প্রকৃতপক্ষে জোরপূর্বক দেশান্তরেরই ইতিহাস। দেশ স্বাধীন হওয়ার ৪৭ বছর পরও আদিবাসী মানুষের জীবনে জাতিগত, অর্থনৈতিক, সাম্প্রদায়িক ও রাজনৈতিক নিপীড়ন, নির্যাতন, শোষণ ও অত্যাচারের অবসান হয়নি। এখনও আদিবাসী অঞ্চলের মানুষ নীরবে দেশত্যাগ করছেন। আদিবাসীরা রাষ্ট্রে এতটাই উপেক্ষিত যে, এই দেশান্তরের ইতিহাসও জানা যায় না।

সাংবাদিকদের তিনি জানান - আপনারা জানেন, কেন মানুষ দেশান্তর হয়। স্ব-ই”ছায় জন্মভূমি ছেড়ে যেতে কেউ চায় না। জন্মভূমি হলো মায়ের মতো। তারপরও আদিবাসী মানুষকে প্রিয় দেশ ছেড়ে চলে যেতে হয়। স্বাধীনতার পর অনেক গণহত্যা হয়েছে আদিবাসী অঞ্চলে, বিশেষ করে পার্বত্য চট্টগ্রামে। রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায় পার্বত্য চট্টগ্রামে পাঁচ লক্ষাধিক সেটেলার বাঙ্গালীকে অবৈধভাবে পূনর্বাসন দিয়ে সেখানকার জুম্ম আদিবাসীদের সংখ্যালঘুতে পরিণত করার চক্রান্ত অব্যাহত রয়েছে। নানান কারণে পার্বত্য চট্টগ্রামের হাজার হাজার আদিবাসী এলাকা ছেড়ে চট্টগ্রাম, ঢাকাসহ অন্যান্য শহরে বাস করছে। গারো, সাঁওতালসহ অন্যান্য আদিবাসীরাও ব্যাপকহারে শহরমুখী হয়েছেন।

তিনি আরো বলেন, আদিবাসী অঞ্চলে ক্রমবর্ধমান সংঘাত ও নিয়ন্ত্রণহীন উন্নয়ন কর্মকান্ডের ফলে আদিবাসীরা নিজ এলাকা ছাড়তে বাধ্য হচ্ছেন। মানবাধিকার লংঘন, গণহত্যা, হুমকি, নারী নির্যাতন, ভূমি দখল, অপমান ও লাঞ্ছনার কারণে দেশান্তরের প্রবণতা বাড়ছে।

তিনি আরো জানান, আগামী ৯ আগস্ট বিশ্বব্যাপী জাতিসংঘ ঘোষিত আদিবাসী দিবস উদযাপিত হবে। জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদ ১৯৯৪ সালে রেজুলেশন ৪৯/২১৪ গ্রহণ করে ৯ আগস্টকে আন্তর্জাতিক আদিবাসী দিবস হিসেবে ঘোষণা করে ও তা যথাযথ উদ্যোগ গ্রহণের জন্য সদস্য রাষ্ট্রসমূহকে আহবান জানায়। তারপর থেকে দুই যুগ ধরে বৈশ্বিক পর্যায়ে অনেক সাফল্য অর্জিত হয়েছে। তন্মধ্যে ২০০০ সালে জাতিসংঘে আদিবাসী বিষয়ক  স্থায়ী ফোরাম গঠন, ২০০১ সাল থেকে আদিবাসী জাতিগোষ্ঠীর অধিকার বিষয়ক স্পেশাল র‌্যাপোটিয়ার নিয়োগ, ২০০৫-২০১৪ সালের সময়কালকে দ্বিতীয় আদিবাসী দশক হিসেবে পালন, ২০০৭ সালে আদিবাসী জাতিগোষ্ঠীর অধিকার বিষয়ক জাতিসংঘের ঘোষণাপত্র গ্রহণ, ২০০৭ সালে আদিবাসী অধিকার সংক্রান্ত বিশেষজ্ঞ কর্মব্যব¯’া প্রণয়ন, ২০১৪ সালে সাধারণ পরিষদের বিশ্ব আদিবাসী সম্মেলন আয়োজন এবং এ সম্মেলনে ঐতিহাসিক ‘আউটকাম ডকুমেন্ট’ গ্রহণ এবং ২০১৫ সালে সাসটেইনেবল ডেভেলপমেন্ট গোল - এসডিজি ২০৩০ বিশেষভাবে উল্লেখযাগ্য।

আপনার মন্তব্য

এ বিভাগের আরো খবর



আলোচিত