শিরোনাম

  নৌকার জয় সুনিশ্চিত : প্রধানমন্ত্রী   আজ ইউপিডিএফ’র ২০তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী   এবার থাইল্যান্ডে বৈধ হলো গাঁজা   ইউপিডিএফ প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে সকলকে সংগ্রামী শুভেচ্ছা জানালেন প্রসিত বিকাশ খীসা   চীনা শিশুরা আর স্কুল পালাতে পারবে না!   আবার ক্ষমতায় গেলে ভুল সংশোধন করা হবে : কাদের   প্রধানমন্ত্রী থেকে মাতৃভাষার বই পেয়েছে ক্ষুদ্র জনগোষ্ঠীর শিশুরা   শুভ বড়দিন আজ   রোহিঙ্গাদের জন্য শীতবস্ত্র পাঠাল ভারত   ইন্দোনেশিয়ায় সুনামির আঘাতে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৪০০ অধিক ছাড়িয়েছে   টাকার মালা উপহার পেলেন ফখরুল!   মধ্যরাত থেকে নির্বাচনী মাঠে সেনাবাহিনী   ভোটের দিন ২৪ ঘণ্টা সব যান চলাচল বন্ধ   সেনা মোতায়েনে ভোটারদের মধ্যে আস্থা ফিরে আসবে: সিইসি   পানছড়িতে ইউপিডিএফের নির্বাচনী অফিসে এলোপাতাড়ি ব্রাশ ফায়ারে ২ জন নিহত!   জেএসসি ও পিইসি পরীক্ষার ফল প্রকাশ   আগামী ৩০ তারিখ আমরা নৌকার বিজয় নিয়ে ঘরে ফিরবো: দীপংকর তালুকদার   ইন্দোনেশিয়ায় সুনামির আঘাতে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ২২২ জন   যারা মানুষ পুড়িয়ে মারে তাদের ভোট দেবেন নাঃ প্রধানমন্ত্রী   ২৮ ডিসেম্বর থেকে ১ জানুয়ারি মধ্যরাত পর্যন্ত ৪ দিন মোটরসাইকেল চলাচলে নিষেধাজ্ঞা
প্রচ্ছদ / জাতীয় / ফিরে দেখা: হলি আর্টিজান রেস্তোরাঁয় জঙ্গি হামলা

ফিরে দেখা: হলি আর্টিজান রেস্তোরাঁয় জঙ্গি হামলা

প্রকাশিত: ২০১৮-০৭-০১ ০৫:৪৫:৪২

অনলাইন ডেস্ক

রাজধানীর অভিজাত এলাকা গুলশানের হলি আর্টিজান রেস্তোরাঁয় নৃশংস জঙ্গি হামলার দুই বছর পূর্ণ হল। ২০১৬ সালের ১ জুলাই ঘটে যাওয়া ওই ঘটনায় সন্ত্রাসীরা রেস্টুরেন্টে ঢুকে অস্ত্রের মুখে সবাইকে জিম্মি করে ফেলে। ওই রাতেই তারা ২০ জনকে হত্যা করে। যাদের  মধ্যে ৯ জন ইতালি, ৭ জন জাপান, ৩ জন বাংলাদেশী এবং ১ জন ভারতীয় নাগরিক। এছাড়া সন্ত্রাসীদের হামলা দুজন পুলিশও প্রাণ হারায়। পরে হামলাকারী ৬জন ও কমান্ডো অভিযানে প্রাণ হারায়। দেশে এধরনের বর্বরোচিত হামলার ছিল এটিই প্রথম। আতঙ্ক ও শোকে স্তব্ধ হয়ে যায় গোটা জাতি।

গত বছরের ওই দিনটিতে  দেশজুড়ে বইছিল ঈদের আমেজ। নয় দিনের লম্বা ছুটি পেয়ে নাড়ির টানে মানুষ রাজধানী ছেড়ে বাড়ি ফিরছিলেন। ঢাকার স্বাভাবিক চাপ কমে গিয়েছিল অনেকটাই। শপিং মলগুলোতে চলছিল শেষ মুহূর্তের বেচাকেনা। ঠিক এমন সময়ই ঈদের ছয় দিন আগে জাতির জীবনে নেমে আসে ঘোর অন্ধকার।

দিনটি ছিল শুক্রবার। রাত সাড়ে আটটার দিকে হঠাৎ করেই গুলশান-২ এর হলি আর্টিজান বেকারি নামের স্প্যানিশ রেস্টুরেন্টে ঢুকে পড়ে অস্ত্রধারী ৫ যুবক। তারা রেস্টুরেন্টের সবাইকে জিম্মি ঘোষণা করে। খবর পেয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা অভিযান শুরু করে। রাত সাড়ে ১০টার দিকে সেখানে বড় ধরনের বিস্ফোরণ ও গোলাগুলির শব্দ পাওয়া যায়। তাৎক্ষণিক এই অভিযানে পুলিশের গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) সহকারী কমিশনার রবিউল ইসলাম ও বনানী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সালাউদ্দিন নিহত এবং ৫০ জনেরও বেশি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য আহত হন।

এরপরের ঘটনা পুরোটাই রক্তাক্ত, জঙ্গিরা একে একে ২০ জিম্মিকে নিষ্ঠুরভাবে জবাই করে হত্যা করে। নিহতদের মধ্যে তিনজন বাংলাদেশি, একজন ভারতীয়, ৯ ইতালীয় এবং সাতজন জাপানি নাগরিক। প্রায় ১২ ঘণ্টার ওই ‘জিম্মি সংকট’ শেষ হয় সেনাবাহিনীর কমান্ডো অভিযান ‘অপারেশন থান্ডারবোল্ট’র মাধ্যমে। অভিযানে পাঁচ জঙ্গি ও রেস্টুরেন্টের বাবুর্চি সাইফুল ইসলাম চৌকিদার নিহত হন। নিহত জঙ্গিরা হলেন, নিবরাস ইসলাম, মীর সামিহ মোবাশ্বের, রোহান ইবনে ইমতিয়াজ, খায়রুল ইসলাম পায়েল ও শফিকুল ইসলাম উজ্জল ওরফে বিকাশ।

পরে আক্রান্ত হোটেল থেকে উদ্ধার করা হয় হাসনাত করিম, তাহমিদ খানসহ ৩২ জিম্মিকে। ঘটনার তিন দিন পর ৪ জুলাই গুলশান থানায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা করে পুলিশ।

পরবর্তীতে হলি আর্টিজানে জিম্মিদশার বিভিন্ন ফাঁস হওয়া ভিডিও চিত্রে হাসনাত করিম ও তাহমিদকে রহস্যজনকভাবে চলা ফেরা করতে দেখা যায়। এ সময় জঙ্গিদের সঙ্গে তাদের বেশ ঘনিষ্টভাবে কথা বলতেও দেখা যায়। রহস্যজনক আচরণের কারণে তাদের গোয়েন্দা কার্যালয়ে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। তিন আগস্ট রাতে হাসনাত করিম এবং তাহমিদ হাসিব খানকে ৫৪ ধারায় গ্রেফতার করে পুলিশ। পরে তদন্তে তাহমিদের সম্পৃক্ততা না পাওয়ায় মামলা থেকে তাকে অব্যাহতি দেয়া হয়। আর হাসনাত করিমকে মূল মামলায় গ্রেফতার দেখানো হয়।

ঘটনার তদন্ত করতে গিয়ে হামলার মাস্টারমাইন্ড তামিম চৌধুরী, নুরুল ইসলাম মারজান, চাকরিচ্যুত মেজর জিয়াউল হক, জোনায়েদ খানসহ বেশ কয়েকজনকে শনাক্ত করে গোয়েন্দারা। কবে হামলার পরিকল্পনা করা হয়, কারা অস্ত্র ও অর্থের যোগান দেয়, প্রযুক্তিগত সহায়তা কারা করে ‘সবকিছুরই ক্লু পায়’ পুলিশ।

এরপর দেশব্যাপী জঙ্গিবিরোধী অভিযানে তামিম, মারজান, মেজর জাহিদ, তানভীর কাদেরীসহ ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্তত ৮ জন নিহত হন।

আসুন, সময়ক্রম অনুযায়ী  সেই ভয়াল জঙ্গি হামলায় আরেকবার চোখ রাখি-

১ জুলাই (শুক্রবার)

রাত ৮:৪৫: ‘আল্লাহু আকবর’ বলে হামলাকারীরা ঢাকার গুলশান এলাকার স্প্যানিশ রেস্তোরাঁ হলি আর্টিজান বেকারিতে প্রবেশ করে।

রাত ১০:৩০: একটি বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায় এবং গোলাগুলি শুরু হয়। এতে দু’জন পুলিশ কর্মকর্তা নিহত হন এবং ৫০ জনেরও বেশি মানুষ আহত হন।

রাত ১০:৩৪: জিম্মি পরিস্থিতি নিয়ে মার্কিন স্টেট ডিপার্টমেন্টের মুখপাত্র জন কিরবি সংবাদ সম্মেলন করেন। কিরবি বলেন, ‘দূতাবাসের পক্ষে কাজ করা সব মার্কিন নাগরিকের দায়িত্ব আমাদের। কোনো মার্কিন নাগরিক এবং স্থানীয় কোনো কর্মকর্তা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন কি না, তা নির্ধারণ করতে আমরা স্থানীয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কাজ করছি।’

রাত ১১:৩০:  র‌্যাবের মহাপরিচালক বেনজির আহমেদ গণমাধ্যমকে ঘটনাস্থল থেকে সরাসরি সম্প্রচার বন্ধের আহ্বান জানান।

দিনগত রাত ১:৩০: মার্কিনভিত্তিক সাইট ইন্টেলিজেন্স গ্রুপ একটি টুইট পোস্ট করে, যাতে ইসলামিক স্টেটের (আইএস) জঙ্গিরা এই হামলা চালিয়েছে বলে দাবি করা হয়।

দিনগত রাত ২:০০:  আইএসের কথিত বার্তা সংস্থা আমাক নিউজ এই তথ্য জানিয়েছে বলে টুইটে উল্লেখ করে সাইট ইন্টেলিজেন্স।

২ জুলাই (শনিবার)
ভোর ৪:২০: ইতালির রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন জানায়, ঢাকার রেস্তোরাঁয় বন্দুকধারীদের হাতে জিম্মিদের মধ্যে ইতালির সাতজন নাগরিক আছেন।

ভোর ৪:৪০:ইতালির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক সূত্র জানায়, ঘটনাস্থল থেকে একজন ইতালীয় জিম্মি পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়েছেন। দেশটির গণমাধ্যমে বলা হয়েছে, পালিয়ে আসা ইতালীয় পুলিশকে জানিয়েছেন, ভেতরে আরো সাতজন ইতালীয় আটকে আছেন।

ভোর ৫টা: আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী যৌথ বাহিনী অভিযান পরিচালনার জন্য প্রস্তুত হয়। যৌথ বাহিনীতে ছিল- সেনাবাহিনী, পুলিশ, র্যা ব, বিজিবি, নৌবাহিনীর কমান্ডো এবং বিশেষ বাহিনী সোয়াত।

সকাল ৭টা: সেনাবাহিনীর কমান্ডো ফোর্সকে জিম্মি এলাকায় মোতায়েন করা হয়।

সকাল ৭:৩০: যৌথ বাহিনীর অভিযান শুরু হয়।

সকাল ৭:৪০: যৌথ অভিযানের প্রথম ১০ মিনিটে পাঁচজনকে উদ্ধার করা হয়।

সকাল ৮:১৫: যৌথ বাহিনী ৪৫ মিনিটে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

হামলায় নিহত
গুলশান হামলায় নিহত ২০ জনের তিনজন ছিলেন বাংলাদেশি। তারা হলেন, শিল্প ব্যক্তিত্ব ইশরাত আখন্দ, ট্রান্সকম গ্রুপের চেয়ারম্যান লতিফুর রহমানের নাতি ফারাজ হোসেন এবং যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী তরুণী অবিন্তা কবির। ওই হামলায় ৯ জন ইতালীয় নাগরিক নিহত হন। তারা হলেন, স্টুডিওটেক্স লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক নাদিয়া বেনেদেত্তি, ক্লাউদিয়া

আপনার মন্তব্য

আলোচিত