শিরোনাম

  নানিয়াচর উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান প্রীতিময় চাকমাকে অপহরণ   ছেলেদের চেয়ে এবারও এগিয়ে মেয়েরা   চট্টগ্রাম বোর্ডের পাশের হার ৬২.৭৩ %   যারা ফেল করেছে তাদের বকাঝকা করবেন না : প্রধানমন্ত্রী   এইচএসসি তে পাসের ধস নেমেছে এবার   এইচএসসি ও সমমানে পাসের হার এবার ৬৬.৬৪   হাসপাতাল ছাড়ার পর এবার থাই কিশোররা সবাই শ্রামণ হয়ে প্রবজ্যা গ্রহণ করবে   থাইল্যান্ডের গুহায় আটকা পড়া কিশোররা হাসপাতাল ছেড়েছে   ৮ দল নিয়ে বাম গণতান্ত্রিক জোটের আত্মপ্রকাশ   আগামীকাল এইচএসসির ফল প্রকাশ হবে   নেলসন ম্যান্ডেলার জন্ম শতবার্ষিকী আজ   চট্টগ্রাম আঞ্চলিক অফিসেই মিলবে হারানো জাতীয় পরিচয়পত্র   উ. কোরিয়াকে নিরাপত্তা নিশ্চয়তা প্রদানে অংশ নিতে প্রস্তুত রাশিয়া   রাঙামাটিতে ইউপিডিএফ নেতা রাহেলকে ৪ দিনের রিমান্ড দিয়েছে আদালত   এবার খাগড়াছড়িতে সেটেলার কর্তৃক আদিবাসী স্কুল ছাত্রীকে ধর্ষণ   দেশে ছয় মাসে ধর্ষণের শিকার ৫৯২: মহিলা পরিষদ   ফ্রান্সে বিশ্বকাপ বিজয় উল্লাস করতে গিয়ে ব্যাপক সংঘর্ষ-লুটপাট, নিহত ২   মিয়ানমারে জাতিগত ৩ গ্রুপের বিদ্রোহীদের সংঘর্ষে শতাধিক মানুষ পালিয়েছে   নির্বাচন আসছে, সংখ্যালঘুদের মধ্যে চিন্তা বাড়ছে: জাফর ইকবাল   ডুবুরী সানামের জন্য শোক ও মঙ্গলকামনা করেছেন গুহায় আটকা পড়া কিশোররা
প্রচ্ছদ / জাতীয় / শান্তি চুক্তির ফলে আন্তর্জাতিক পরিমন্ডলে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল হয়েছে : আইন মন্ত্রী

শান্তি চুক্তির ফলে আন্তর্জাতিক পরিমন্ডলে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল হয়েছে : আইন মন্ত্রী

প্রকাশিত: ২০১৮-০৪-১০ ১৯:৫৯:০০

বাসস

আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী আনিসুল হক বলেছেন, পার্বত্য চট্টগ্রামের ভূমি বিরোধ নিরসনে সরকার আন্তরিকভাবে কাজ করে যাচ্ছে।

তিনি বলেন, পাবর্ত চট্টগ্রাম শান্তি চুক্তি বাস্তবায়ন কাজের অংশ হিসেবে ভূমি বিরোধ নিষ্পত্তি প্রক্রিয়ায় গতি আনতে পার্বত্য চট্টগ্রাম ভূমি বিরোধ নিষ্পত্তি আইনে ৯টি সংশোধনী আনা হয়।

আজ মঙ্গলবার ঢাকায় বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ইন্টারন্যাশনাল এন্ড স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজ (বিআইআইএসএস) আয়োজিত “পার্বত্য চট্ট্রগ্রামের ভূমি সমস্যা নিষ্পত্তিকরণে রাষ্টীয় পদক্ষেপ ও বাধাসমূহ নিরূপণে করণীয়” শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় এসব কথা বলেন তিনি। রাজধানীর ইস্কাটনে বিআইআইএসএস- এর অডিটোরিয়ামে সংস্থাটির মহাপরিচালক (ডিজি) মেজর জেনারেল একেএম আব্দুর রহমান-এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরো বক্তৃতা করেন প্রফেসর ড. সৈয়দ আনোয়ার হোসেন, মেজর জেনারেল মো. জাহাঙ্গীর কবির তালুকদার, পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মো. কামাল উদ্দিন তালুকদার প্রমুখ।

আইনমন্ত্রী বলেন, ভূমি বিরোধ নিষ্পত্তি কমিশনের কার্যক্রম চালানোর সুবিধার্থে সরকার রাঙ্গামাটি ও বান্দরবানে দুটি আঞ্চলিক অফিস স্থাপনের অনুমতি দিয়েছে এবং তা কার্যকর করার ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। আনিসুল হক বলেন, যে সবক্ষেত্রে পার্বত্য চট্টগ্রাম ভূমি বিরোধ নিষ্পত্তি আইনের প্রভিশন বিরোধ নিস্পত্তির জন্য যথেষ্ঠ সেইসব ক্ষেত্রে বিধি প্রণয়নের অপেক্ষায় থেকে সমস্যা জিয়ে রাখা সমীচীন নয়। বিধি প্রণয়নের কাজ চলার পাশাপাশি আইনের মাধ্যমে যে সব সমস্যা সমাধান করা যায় সেগুলো করতে তাগিদ দেন।

আইনমন্ত্রী বলেন, ১৯৭৫ পরবর্তী দীর্ঘ প্রায় দুই দশক ধরে পার্বত্য চট্টগ্রাম অঞ্চলে বিরাজ করছিল সংঘাতময় পরিস্থিতি। ইতিহাস সাক্ষ্য দেয় দেশের কোন অঞ্চল বা কোন জনগোষ্ঠীকে অস্থিতিশীল বা উন্নয়নের বাইরে রেখে কোন দেশের সামগ্রিক উন্নয়ন সম্ভব নয়। সেই উপলব্ধি থেকে ১৯৯৬ সালে শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন সরকার পার্বত্য চট্টগ্রাম অঞ্চলে দীর্ঘ দুই দশক যাবৎ বিরাজমান অস্থিতিশীল পরিস্থিতি নিরসনের উদ্যোগ নেয়। সেই লক্ষ্যে আওয়ামী লীগ সরকারের সাথে পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির নেতৃবৃন্দের কয়েক দফা সংলাপ অনুষ্ঠিত হয়। যার ফলশ্রুতিতে ১৯৯৭ সালের ২ ডিসেম্বর পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির সঙ্গে পার্বত্য চট্রগ্রাম চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়, যা শান্তি চুক্তি নামে পরিচিত। এতে আন্তর্জাতিক পরিমন্ডলে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল হয়।

আইনমন্ত্রী বলেন, পার্বত্য শান্তি চুক্তি স্বাক্ষরের পর থেকেই শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন সরকার চুক্তি বাস্তবায়নে আন্তরিকভাবে কাজ করে যাচ্ছে। চুক্তি কার্যকর করার জন্য ১৯৯৮ সালের ১৫ জুলাই পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয় এবং ১৯৯৯ সালের ৭ই মে পার্বত্য চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পরিষদ গঠন করা হয়। শান্তি চুক্তির সবচেয়ে জটিল ও বিরোধপূর্ণ বিষয় তথা ভূমি বিরোধ নিষ্পত্তির লক্ষ্যে ১৯৯৯ সালে গঠন করা হয় পার্বত্য চট্টগ্রাম ভূমি বিরোধ নিষ্পত্তি কমিশন। তিনি বলেন,শান্তি চুক্তির ৭২টি ধারার মধ্যে সরকার এ পর্যন্ত ৪৮টি ধারা সম্পূর্ণ বাস্তবায়ন করেছে, ১৫টি ধারার আংশিক বাস্তবায়ন হয়েছে এবং ৯টি ধারার বাস্তবায়ন চলমান রয়েছে।

তিনি বলেন, পার্বত্য শান্তি চুক্তির অন্যতম জটিল বিষয় হল ভূমি সংক্রান্ত বিরোধ নিষ্পত্তি। চুক্তির অন্যান্য বিষয়ের মতো এ বিষয়েও সরকার কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। শেখ হাসিনার সরকার ২০০১ সালে প্রণয়ন করে পার্বত্য চট্টগ্রাম ভূমি বিরোধ নিষ্পত্তি আইন।এর আগে আইনমন্ত্রী আজ রাজধানীর বিচার প্রশাসন প্রসিক্ষণ ইন্সটিটিউটে জেলা ও দায়া জজ এবং সমপর্যায়ের বিচার বিভাগীয় কর্মকর্তাদের বিশেষ প্রশিক্ষণ কোর্সের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তৃতা করেন।

ওই অনুষ্ঠানে আইন সচিব আবু সালেহ শেখ মো. জহিরুল হক ও আইন মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা সহ প্রশিক্ষনে অংশ নেয়া বিচারকবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

সংবিধান ও আইন অনুযায়ী প্রত্যেক বিচারকই স্বাধীন উল্লেখ করে সেখানে আইনমন্ত্রী বলেন, বিচার করতে গিয়ে কোনপক্ষ যাতে অবিচারের শিকার না হয় এবং কোন ভাবে যেন অহেতুক হয়রানী ও ক্ষতিগ্রস্ত না হয় সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। আইনমন্ত্রী সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে বলেন, বিচারক নিয়োগে আইন প্রণয়ণের বিষয়টি সিরিয়াসলি দেখা হচ্ছে। তিনি বলেন, ডিজিটাল সিকিউরিটি এ্যাক্ট এখনো পাস হয়নি। আইন প্রনয়ণের কতগুলো প্রক্রিয়া রয়েছে। এটা এখন সে প্রক্রিয়ায় আছে। আইনটির ৩২ ধারা নিয়ে বিভিন্ন বক্তব্য এসেছে। এটি নিয়ে সাংবাদিকদের আতংকিত হওয়ার কোন কারণ নেই। সংসদে আইনটি উত্থাপিত হয়েছে। এখন এটি স্ট্যান্ডিং কমিটিতে যাবে।

আপনার মন্তব্য

আলোচিত