শিরোনাম

  ছেলেদের চেয়ে এবারও এগিয়ে মেয়েরা   চট্টগ্রাম বোর্ডের পাশের হার ৬২.৭৩ %   যারা ফেল করেছে তাদের বকাঝকা করবেন না : প্রধানমন্ত্রী   এইচএসসি তে পাসের ধস নেমেছে এবার   এইচএসসি ও সমমানে পাসের হার এবার ৬৬.৬৪   হাসপাতাল ছাড়ার পর এবার থাই কিশোররা সবাই শ্রামণ হয়ে প্রবজ্যা গ্রহণ করবে   থাইল্যান্ডের গুহায় আটকা পড়া কিশোররা হাসপাতাল ছেড়েছে   ৮ দল নিয়ে বাম গণতান্ত্রিক জোটের আত্মপ্রকাশ   আগামীকাল এইচএসসির ফল প্রকাশ হবে   নেলসন ম্যান্ডেলার জন্ম শতবার্ষিকী আজ   চট্টগ্রাম আঞ্চলিক অফিসেই মিলবে হারানো জাতীয় পরিচয়পত্র   উ. কোরিয়াকে নিরাপত্তা নিশ্চয়তা প্রদানে অংশ নিতে প্রস্তুত রাশিয়া   রাঙামাটিতে ইউপিডিএফ নেতা রাহেলকে ৪ দিনের রিমান্ড দিয়েছে আদালত   এবার খাগড়াছড়িতে সেটেলার কর্তৃক আদিবাসী স্কুল ছাত্রীকে ধর্ষণ   দেশে ছয় মাসে ধর্ষণের শিকার ৫৯২: মহিলা পরিষদ   ফ্রান্সে বিশ্বকাপ বিজয় উল্লাস করতে গিয়ে ব্যাপক সংঘর্ষ-লুটপাট, নিহত ২   মিয়ানমারে জাতিগত ৩ গ্রুপের বিদ্রোহীদের সংঘর্ষে শতাধিক মানুষ পালিয়েছে   নির্বাচন আসছে, সংখ্যালঘুদের মধ্যে চিন্তা বাড়ছে: জাফর ইকবাল   ডুবুরী সানামের জন্য শোক ও মঙ্গলকামনা করেছেন গুহায় আটকা পড়া কিশোররা   আয়ারল্যান্ডে ‘হিন্দু, বৌদ্ধ ও খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের’ “অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ গঠনের ডাক”
প্রচ্ছদ / জাতীয় / পাহাড়ে লোগাঙ গণহত্যার ২৬ বছর

পাহাড়ে লোগাঙ গণহত্যার ২৬ বছর

প্রকাশিত: ২০১৮-০৪-১০ ০৯:২৯:০৩

নিউজ ডেস্ক

আজ ১০ এপ্রিল বাংলাদেশের পার্বত্য চট্টগ্রামের লোগাঙ গণহত্যার ২৬ বছর পূর্ণ হল।

দেশীয় ও আন্তর্জাতিক গনমাধ্যমে উঠে আসা প্রতিবেদনে বলা হয়, ১৯৯২ সালের এই দিন সেনাবাহিনী, বিডিআর, আনসার-ভিডিপি’র সহযোগিতায় সেটলার বাঙালিরা খাগড়াছড়ির পানছড়ি উপজেলার লোগাঙ গুচ্ছগ্রামে এই বর্বর গণহত্যা সংঘটিত করে।

শান্তিবাহিনী কর্তৃক এক বাঙালি রাখাল বালককে হত্যার মিথ্যা অভিযোগে তারা এ লোমহর্ষক হত্যাকাণ্ড চালায়। সেটলাররা দা, বটি, কুড়াল দিয়ে পাহাড়িদের উপর আক্রমণ করে এবং সেনাবাহিনী ও বিডিআর(বিজিবি) নির্বিচারে গুলিবর্ষণ করে। এতে কয়েকশত পাহাড়ি হতাহত হয়। অনেকে নিঁখোজ হয়ে যায়। সেদিন শিশু, বৃদ্ধ, নারী কেউই রেহাই পায়নি। অগ্নিসংযোগ করে ছাই করে দেওয়া হয় ৭ শতাধিক ঘরবাড়ি।

পার্বত্য চট্টগ্রামে আদিবাসীদের বৈসু, সাংগ্রাই, বিজু ,বিষু ,বিহু ,চাংক্রান উৎসবের ৩দিন আগে সংঘটিত এ হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে বিক্ষোভে ফেটে পড়ে পাহাড়িরা। বর্জন করা হয় বৈসু, সাংগ্রাই, বিজু ,বিষু ,বিহু ,চাংক্রান উৎসব।

এই বর্বর হত্যাকাণ্ডের ফলে বৈসু, সাংগ্রাই, বিজু ,বিষু ,বিহু ,চাংক্রান আনন্দ উৎসব শোক সাগরে পরিণত হয়। ১৩ এপ্রিল’৯২ উৎসবের মূল দিন (মূল বিঝু) খাগড়াছড়ি ও রাঙামাটিতে হাজার হাজার লোকের বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়। ঢাকা থেকে আগত রাজনৈতিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ, মানবাধিকার কর্মী, আইনজীবী, লেখক-সাংবাদিকরাও আনন্দ উৎসবের পরিবর্তে আপামর জনগণের সাথে একাত্ম হয়ে প্রতিবাদ বিক্ষোভে সামিল হয়। খাগড়াছড়ির হাজার হাজার আবাল-বৃদ্ধ-বণিতা সেদিন বাঁধ ভাঙা পানির মতো রাজপথে নেমে এই বর্বর হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদ জানান। স্বতঃস্ফুর্তভাবে বৈসু, সাংগ্রাই, বিজু ,বিষু ,বিহু ,চাংক্রান উৎসব বর্জন করা হয়। নিহতদের সম্মান জানাতে রান্না করা পাজন (মূল উৎসবের দিন হরেক রকমের সবজি দিয়ে তৈরি খাদ্য বিশেষ) চেঙ্গী নদীতে ফেলে দেওয়া হয়। হাজার প্রদীপ প্রজ্জ্বলন করা হয়।

বৈসু, সাংগ্রাই, বিজু ,বিষু ,বিহু ,চাংক্রান উপলক্ষে ঢাকা থেকে আগত রাজনৈতিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ, মানবাধিকার কর্মী, আইনজীবী, লেখক-সাংবাদিকরা ১২ এপ্রিল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করতে যাবার পথে পানছড়ি উপজেলা সদরে সেনাবাহিনী তাদের বাধা প্রদান করে।

এ হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে ২৮ এপ্রিল’৯২ পাহাড়ি ছাত্র পরিষদের নেতৃত্বে অনুষ্ঠিত হয় লোগাঙ অভিমুখে ঐতিহাসিক পদযাত্রা। হাজার হাজার নারী-পুরুষ এতে অংশ নেন। ঢাকা থেকে আসা রাজনৈতিক দলের নেতা, ছাত্র নেতা, সাংবাদিক, মানবাধিকার কর্মী-লেখকরাও পাহাড়ি জনগণের সাথে সংহতি জানিয়ে এই পদযাত্রায় অংশ নেন। সেনাবাহিনীর সকল বাধা-বিঘ্ন অতিক্রম করে লোগাং পোড়াভিটায় গিয়ে তারা ফুল দিয়ে নিহতদের সম্মান জানান।

লোগাং গণহত্যাসহ পার্বত্য চট্টগ্রামে এ যাবত ডজনের অধিক গণহত্যা ও দুই ডজনের অধিক সাম্প্রদায়িক হামলা সংঘটিত হয়েছে। কিন্তু কোন ঘটনারই আজ পর্যন্ত বিচার হয়নি। ফলে এ ধরনের বর্বর ঘটনা এখনো ঘটেই চলেছে। কাজেই, পার্বত্য চট্টগ্রামে সংঘটিত সকল গণহত্যার সুষ্ঠু বিচার ও দোষীদের শাস্তির দাবিতে পার্বত্য চট্টগ্রামের ছাত্র-যুব সমাজ তথা সর্বস্তরের জনগণকে রুখে দাঁড়ানো ছাড়া আর কোন বিকল্প নেই।

ভিডিও :

আপনার মন্তব্য

আলোচিত