শিরোনাম

  ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর জন্য মাতৃভাষায় পুস্তক প্রকাশনার বিধান রেখে খসড়ার চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা   সরকারী চাকরিতে ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী ও পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর জন্য কোটা না হলেও সমস্যা হবে না   রুয়েটে ভর্তি পরীক্ষার আবেদন শুরু   দুই আদিবাসী কিশোরী ধর্ষণের ঘটনায় অভিযুক্তদের সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি   দেশের বিভিন্ন স্থানে বৃষ্টি অথবা বজ্রবৃষ্টি ও ভারী বর্ষণ হতে পারে   আদিবাসী মানবাধিকার সুরক্ষাকর্মীদের সম্মেলন ২০১৮ উদযাপন   ব্লগার বাচ্চু হত্যার সঙ্গে ‘জড়িত’ ২ জঙ্গি নিহত   জুমের বাম্পার ফলনে রাঙ্গামাটির চাষিদের মুখে হাসি   সরকারি চাকরিতে আদিবাসী কোটা বহাল দাবি জানাল আদিবাসীরা   আয়ারল্যান্ড প্রবাসী বাংলাদেশের এক মন্ত্রী দ্বারা হেনস্ত হওয়াতে হিন্দু, বৌদ্ধ ও খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের নিন্দা   শেখ হাসিনার জনপ্রিয়তা উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি পেয়েছে   মিয়ানমারে রয়টার্সের দুই সাংবাদিককে সাত বছরের কারাদণ্ড দিয়েছে আদালত   শহীদ আলফ্রেড সরেন হত্যার ১৮ বছর: হত্যাকারীদের দ্রুত বিচারের দাবি জাতীয় আদিবাসী পরিষদের   ভারতের কাছে ১-০ গোলে হেরেছে বাংলাদেশের মেয়েরা   সরকারী চাকরিতে নিয়োগের ক্ষেত্রে মুক্তিযোদ্ধা ছাড়া সব কোটা বাতিল হচ্ছে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী   জাতিসংঘের সাবেক মহাসচিব কফি আনান মারা গেছেন   ঈদের ছুটি কাটানো হলোনা টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ার নিরীহ ধীরাজ চাকমার   খাগড়াছড়িতে পৃথক ঘটনার জন্য জেএসএস(সংস্কারবাদী) ও নব্য মুখোশ বাহিনীকে দায়ী করেছে : ইউপিডিএফ   নানিয়ারচর থেকে খাগড়াছড়ি   খাগড়াছড়িতে ৬ জনকে গুলি করে হত্যা !
প্রচ্ছদ / জাতীয় / (পার্বত্য শান্তি চুক্তি) প্রধানমন্ত্রী বললেন ৮০ ভাগ বাস্তবায়ন হয়েছে আর সন্তু লারমা বললেন ২৫টি ধারা

(পার্বত্য শান্তি চুক্তি) প্রধানমন্ত্রী বললেন ৮০ ভাগ বাস্তবায়ন হয়েছে আর সন্তু লারমা বললেন ২৫টি ধারা

প্রকাশিত: ২০১৮-০১-২২ ১০:০২:২৯

   আপডেট: ২০১৮-০৩-০৭ ১১:৪৫:৩৯

ডেইলি সিইএচটি অনলাইন রিপোর্ট

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন পার্বত্য শান্তিচুক্তির ৭০ থেকে ৮০ ভাগ বাস্তবায়িত হয়েছে, বাকিটাও করা হবে। রোববার ২১ জানুয়ারী সকালে রাজধানীর একটি হোটেল থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে রাঙামাটির কাপ্তাইয়ের মিতিঙ্গাছড়িতে চার হাজারতম পাড়াকেন্দ্রের উদ্বোধন করে এসব কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী।

তিনি বলেন, ‘আমরা আড়াইশ’র মত সেনাক্যাম্প প্রত্যাহার করে নিয়েছি এবং সেখানকার সার্বিক নিরাপত্তার জন্য বর্ডার গার্ডের (বিজিবি) বিওপি তৈরী করে দেয়া হচ্ছে। প্রত্যেকটা মানুষের জীবন মান উন্নয়নের জন্য আমরা কাজ করে যাচ্ছি।

এদিকে গেল বছর ডিসেম্বর মাসে পার্বত্য চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পরিষদের চেয়ারম্যান জ্যোতিরিন্দ্র বোধিপ্রিয় লারমা (সন্তু) বলেছেন- চুক্তির শর্তানুযায়ী চুক্তির ৭২টি ধারার মধ্যে ইতোমধ্যে ৪৮টি ধারা সম্পূর্ণ, ১৫টি ধারা আংশিক এবং অবশিষ্ট ৯টি ধারার বাস্তবায়ন কার্যক্রম চলমান আছে” বলে মিথ্যাচার চালিয়ে যাচ্ছে সরকার।

"৭২টি ধারার মধ্যে মাত্র ২৫টি ধারা বাস্তবায়িত হয়েছে এবং এখনো দুই-তৃতীয়াংশ ধারা অবাস্তবায়িত অবস্থায় রয়েছে।"

এর আগে শান্তি চুক্তি বিশ বছর পূর্তি উপলক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রী বলেছেন , “চুক্তির ৭২টি শর্তের মধ্যে ৪৮টি সম্পূর্ণ বাস্তবায়িত হয়েছে। ১৫টি আংশিক বাস্তবায়ন হয়েছে এবং বাকি নয়টিও বাস্তবায়ন হবে।

প্রধানমন্ত্রী আরো বলেন, সরকার শান্তিচুক্তির সিংহভাগ বাস্তবায়ন করেছে। জমি-জমার মালিকানা সেই ব্রিটিশ আমলে করা আইন দিয়ে নয় বরং আমাদের সব জায়গার মানুষ যেন তাদের ভূমির মালিকানাটা পায়, পার্বত্য অঞ্চলের মানুষ যেন তাদের ভূমির মালিকানাটা সেইভাবে নিতে পারে-সেটাই আমরা নিশ্চিত করতে চাই সেই কথা ও উল্লেখ করেন তিনি।

সন্তু লারমা বলেছিলেন, চুক্তির ‘খ’ খন্ডের ৩৪(ক) ধারা মোতাবেক ‘ভূমি ও ভূমি ব্যবস্থাপনা’ বিষয়টি পার্বত্য জেলা পরিষদের আওতাধীন অন্যতম একটা বিষয়। এই খন্ডের ২৬নং ধারায় তিন পার্বত্য জেলা পরিষদের পূর্বানুমোদন ব্যতীত জায়গা-জমির বন্দোবস্ত, ক্রয়, বিক্রয়, হস্তান্তর ও অধিগ্রহণ করা যাবে না বলে উল্লেখ রয়েছে। কিন্তু আজ অবধি উক্ত বিষয় পার্বত্য জেলা পরিষদের নিকট হস্তান্তর করা হয়নি। 

তিনি অভিযোগ করেছিলেন, ১৯০০ সালের পার্বত্য চট্টগ্রাম শাসনবিধির দোহাই দিয়ে ডেপুটি কমিশনারগণ অবৈধভাবে নামজারি, অধিগ্রহণ, ইজারা ও বন্দোবস্ত প্রদানের প্রক্রিয়া চালিয়ে যাচ্ছেন। বনায়ন ও সেটেলারদের গুচ্ছগ্রাম সম্প্রসারণ, সেনা ক্যাম্প ও প্রশিক্ষণ কেন্দ্র স্থাপন ও সম্প্রসারণ এবং পর্যটনের নামে হাজার হাজার একর জমি বেদখল ও অধিগ্রহণ করা হচ্ছে যা সরাসরি পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি লঙ্ঘন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, এই অঞ্চলের ভূমির মালিকানা তাদেরই থাকবে।

সন্তু লারমা আরো বলেছিলেন, শান্তি চুক্তি মোতাবেক পার্বত্য চট্টগ্রামের বাইরে সেটেলার বাঙালিদেরকে যথাযথ ও সম্মানজনকভাবে পুনর্বাসনের পরিবর্তে প্রশাসনের ছত্রছায়ায় সমতল জেলাগুলো থেকে বহিরাগত অভিবাসন অব্যাহত রয়েছে। সমতল থেকে আসা বাঙালিরা রাষ্ট্রযন্ত্রের প্রত্যক্ষ সহায়তায় জুম্মদের জায়গা-জমি জবরদখল, নারীর উপর সহিংসতা, পার্বত্য চুক্তির বিরোধিতা ও সাম্প্রদায়িক তৎপরতা ক্রমাগত চালিয়ে যাচ্ছে বলে অভিযোগ। কিন্তু তা উপেক্ষা করে শান্তি চুক্তি কিভাবে সিংহভাগ বাস্তবায়ন হয়েছে?

প্রধানমন্ত্রী বলেন,

‘পার্বত্য অঞ্চলের মানুষকে আমি বলব, শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে হবে। কারণ, শান্তিপূর্ণ পরিবেশ ছাড়া উন্নয়ন সম্ভব নয়।’

এছাড়া সড়কসহ বিভিন্ন অবকাঠামো উন্নয়ন, মোবাইল ফোন পরিবেসা চালু, প্রাথমিক, কারিগরি, মেডিকেল কলেজসহ উচ্চতর শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও হাসপাতাল গড়ে তোলাসহ ওই এলাকার অর্থ-সামাজিক, পর্যটন ও ব্যবসা-বাণিজ্য সম্প্রসারণে উদ্যোগ নেওয়ার কথা তুলে ধরেন তিনি।

এ প্রসঙ্গে জনসংহতি সমিতির নেতারা বলেছেন, পার্বত্য সমস্যা একটি অর্থনৈতিক সমস্যা নয়। "এটি একটি রাজনৈতিক ও জাতীয় সমস্যা"

শান্তি চুক্তি মোতাবেক- রাজনৈতিক ও শান্তিপূর্ণ উপায়ে সমাধানের লক্ষ্যে শেখ হাসিনা সরকারের সঙ্গে ১৯৯৭ সালের ২ ডিসেম্বর পার্বত্য চুক্তি স্বাক্ষর হয়। এতে স্বাক্ষর করেন বাংলাদেশ সরকারের পক্ষে আবুল হাসনাত আব্দুল্লাহ এবং শান্তি বাহিনীর পক্ষে পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির নেতা সন্তু লারমা।

নেতাদের দাবি অনুযায়ী মৌলিক বিষয়গুলোর উপর বাস্তবায়নের প্রতি সরকার এখনো গুরুত্ব দেইনি। বরং সেসব মুখ্য সমস্যাগুলো পাশ কাটিয়ে উন্নয়নের ধারাগুলো জনমুখে জাহির করে যাচ্ছে বলে জনসংহতি সমিতির অভিযোগ।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন,

‘পার্বত্য অঞ্চলের মানুষকে আমি বলব, শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে হবে। কারণ, শান্তিপূর্ণ পরিবেশ ছাড়া উন্নয়ন সম্ভব নয়।’

আপনার মন্তব্য

এ বিভাগের আরো খবর



আলোচিত