শিরোনাম

  নানিয়াচর উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান প্রীতিময় চাকমাকে অপহরণ   ছেলেদের চেয়ে এবারও এগিয়ে মেয়েরা   চট্টগ্রাম বোর্ডের পাশের হার ৬২.৭৩ %   যারা ফেল করেছে তাদের বকাঝকা করবেন না : প্রধানমন্ত্রী   এইচএসসি তে পাসের ধস নেমেছে এবার   এইচএসসি ও সমমানে পাসের হার এবার ৬৬.৬৪   হাসপাতাল ছাড়ার পর এবার থাই কিশোররা সবাই শ্রামণ হয়ে প্রবজ্যা গ্রহণ করবে   থাইল্যান্ডের গুহায় আটকা পড়া কিশোররা হাসপাতাল ছেড়েছে   ৮ দল নিয়ে বাম গণতান্ত্রিক জোটের আত্মপ্রকাশ   আগামীকাল এইচএসসির ফল প্রকাশ হবে   নেলসন ম্যান্ডেলার জন্ম শতবার্ষিকী আজ   চট্টগ্রাম আঞ্চলিক অফিসেই মিলবে হারানো জাতীয় পরিচয়পত্র   উ. কোরিয়াকে নিরাপত্তা নিশ্চয়তা প্রদানে অংশ নিতে প্রস্তুত রাশিয়া   রাঙামাটিতে ইউপিডিএফ নেতা রাহেলকে ৪ দিনের রিমান্ড দিয়েছে আদালত   এবার খাগড়াছড়িতে সেটেলার কর্তৃক আদিবাসী স্কুল ছাত্রীকে ধর্ষণ   দেশে ছয় মাসে ধর্ষণের শিকার ৫৯২: মহিলা পরিষদ   ফ্রান্সে বিশ্বকাপ বিজয় উল্লাস করতে গিয়ে ব্যাপক সংঘর্ষ-লুটপাট, নিহত ২   মিয়ানমারে জাতিগত ৩ গ্রুপের বিদ্রোহীদের সংঘর্ষে শতাধিক মানুষ পালিয়েছে   নির্বাচন আসছে, সংখ্যালঘুদের মধ্যে চিন্তা বাড়ছে: জাফর ইকবাল   ডুবুরী সানামের জন্য শোক ও মঙ্গলকামনা করেছেন গুহায় আটকা পড়া কিশোররা
প্রচ্ছদ / জাতীয় / (পার্বত্য শান্তি চুক্তি) প্রধানমন্ত্রী বললেন ৮০ ভাগ বাস্তবায়ন হয়েছে আর সন্তু লারমা বললেন ২৫টি ধারা

(পার্বত্য শান্তি চুক্তি) প্রধানমন্ত্রী বললেন ৮০ ভাগ বাস্তবায়ন হয়েছে আর সন্তু লারমা বললেন ২৫টি ধারা

প্রকাশিত: ২০১৮-০১-২২ ১০:০২:২৯

   আপডেট: ২০১৮-০৩-০৭ ১১:৪৫:৩৯

ডেইলি সিইএচটি অনলাইন রিপোর্ট

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন পার্বত্য শান্তিচুক্তির ৭০ থেকে ৮০ ভাগ বাস্তবায়িত হয়েছে, বাকিটাও করা হবে। রোববার ২১ জানুয়ারী সকালে রাজধানীর একটি হোটেল থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে রাঙামাটির কাপ্তাইয়ের মিতিঙ্গাছড়িতে চার হাজারতম পাড়াকেন্দ্রের উদ্বোধন করে এসব কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী।

তিনি বলেন, ‘আমরা আড়াইশ’র মত সেনাক্যাম্প প্রত্যাহার করে নিয়েছি এবং সেখানকার সার্বিক নিরাপত্তার জন্য বর্ডার গার্ডের (বিজিবি) বিওপি তৈরী করে দেয়া হচ্ছে। প্রত্যেকটা মানুষের জীবন মান উন্নয়নের জন্য আমরা কাজ করে যাচ্ছি।

এদিকে গেল বছর ডিসেম্বর মাসে পার্বত্য চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পরিষদের চেয়ারম্যান জ্যোতিরিন্দ্র বোধিপ্রিয় লারমা (সন্তু) বলেছেন- চুক্তির শর্তানুযায়ী চুক্তির ৭২টি ধারার মধ্যে ইতোমধ্যে ৪৮টি ধারা সম্পূর্ণ, ১৫টি ধারা আংশিক এবং অবশিষ্ট ৯টি ধারার বাস্তবায়ন কার্যক্রম চলমান আছে” বলে মিথ্যাচার চালিয়ে যাচ্ছে সরকার।

"৭২টি ধারার মধ্যে মাত্র ২৫টি ধারা বাস্তবায়িত হয়েছে এবং এখনো দুই-তৃতীয়াংশ ধারা অবাস্তবায়িত অবস্থায় রয়েছে।"

এর আগে শান্তি চুক্তি বিশ বছর পূর্তি উপলক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রী বলেছেন , “চুক্তির ৭২টি শর্তের মধ্যে ৪৮টি সম্পূর্ণ বাস্তবায়িত হয়েছে। ১৫টি আংশিক বাস্তবায়ন হয়েছে এবং বাকি নয়টিও বাস্তবায়ন হবে।

প্রধানমন্ত্রী আরো বলেন, সরকার শান্তিচুক্তির সিংহভাগ বাস্তবায়ন করেছে। জমি-জমার মালিকানা সেই ব্রিটিশ আমলে করা আইন দিয়ে নয় বরং আমাদের সব জায়গার মানুষ যেন তাদের ভূমির মালিকানাটা পায়, পার্বত্য অঞ্চলের মানুষ যেন তাদের ভূমির মালিকানাটা সেইভাবে নিতে পারে-সেটাই আমরা নিশ্চিত করতে চাই সেই কথা ও উল্লেখ করেন তিনি।

সন্তু লারমা বলেছিলেন, চুক্তির ‘খ’ খন্ডের ৩৪(ক) ধারা মোতাবেক ‘ভূমি ও ভূমি ব্যবস্থাপনা’ বিষয়টি পার্বত্য জেলা পরিষদের আওতাধীন অন্যতম একটা বিষয়। এই খন্ডের ২৬নং ধারায় তিন পার্বত্য জেলা পরিষদের পূর্বানুমোদন ব্যতীত জায়গা-জমির বন্দোবস্ত, ক্রয়, বিক্রয়, হস্তান্তর ও অধিগ্রহণ করা যাবে না বলে উল্লেখ রয়েছে। কিন্তু আজ অবধি উক্ত বিষয় পার্বত্য জেলা পরিষদের নিকট হস্তান্তর করা হয়নি। 

তিনি অভিযোগ করেছিলেন, ১৯০০ সালের পার্বত্য চট্টগ্রাম শাসনবিধির দোহাই দিয়ে ডেপুটি কমিশনারগণ অবৈধভাবে নামজারি, অধিগ্রহণ, ইজারা ও বন্দোবস্ত প্রদানের প্রক্রিয়া চালিয়ে যাচ্ছেন। বনায়ন ও সেটেলারদের গুচ্ছগ্রাম সম্প্রসারণ, সেনা ক্যাম্প ও প্রশিক্ষণ কেন্দ্র স্থাপন ও সম্প্রসারণ এবং পর্যটনের নামে হাজার হাজার একর জমি বেদখল ও অধিগ্রহণ করা হচ্ছে যা সরাসরি পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি লঙ্ঘন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, এই অঞ্চলের ভূমির মালিকানা তাদেরই থাকবে।

সন্তু লারমা আরো বলেছিলেন, শান্তি চুক্তি মোতাবেক পার্বত্য চট্টগ্রামের বাইরে সেটেলার বাঙালিদেরকে যথাযথ ও সম্মানজনকভাবে পুনর্বাসনের পরিবর্তে প্রশাসনের ছত্রছায়ায় সমতল জেলাগুলো থেকে বহিরাগত অভিবাসন অব্যাহত রয়েছে। সমতল থেকে আসা বাঙালিরা রাষ্ট্রযন্ত্রের প্রত্যক্ষ সহায়তায় জুম্মদের জায়গা-জমি জবরদখল, নারীর উপর সহিংসতা, পার্বত্য চুক্তির বিরোধিতা ও সাম্প্রদায়িক তৎপরতা ক্রমাগত চালিয়ে যাচ্ছে বলে অভিযোগ। কিন্তু তা উপেক্ষা করে শান্তি চুক্তি কিভাবে সিংহভাগ বাস্তবায়ন হয়েছে?

প্রধানমন্ত্রী বলেন,

‘পার্বত্য অঞ্চলের মানুষকে আমি বলব, শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে হবে। কারণ, শান্তিপূর্ণ পরিবেশ ছাড়া উন্নয়ন সম্ভব নয়।’

এছাড়া সড়কসহ বিভিন্ন অবকাঠামো উন্নয়ন, মোবাইল ফোন পরিবেসা চালু, প্রাথমিক, কারিগরি, মেডিকেল কলেজসহ উচ্চতর শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও হাসপাতাল গড়ে তোলাসহ ওই এলাকার অর্থ-সামাজিক, পর্যটন ও ব্যবসা-বাণিজ্য সম্প্রসারণে উদ্যোগ নেওয়ার কথা তুলে ধরেন তিনি।

এ প্রসঙ্গে জনসংহতি সমিতির নেতারা বলেছেন, পার্বত্য সমস্যা একটি অর্থনৈতিক সমস্যা নয়। "এটি একটি রাজনৈতিক ও জাতীয় সমস্যা"

শান্তি চুক্তি মোতাবেক- রাজনৈতিক ও শান্তিপূর্ণ উপায়ে সমাধানের লক্ষ্যে শেখ হাসিনা সরকারের সঙ্গে ১৯৯৭ সালের ২ ডিসেম্বর পার্বত্য চুক্তি স্বাক্ষর হয়। এতে স্বাক্ষর করেন বাংলাদেশ সরকারের পক্ষে আবুল হাসনাত আব্দুল্লাহ এবং শান্তি বাহিনীর পক্ষে পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির নেতা সন্তু লারমা।

নেতাদের দাবি অনুযায়ী মৌলিক বিষয়গুলোর উপর বাস্তবায়নের প্রতি সরকার এখনো গুরুত্ব দেইনি। বরং সেসব মুখ্য সমস্যাগুলো পাশ কাটিয়ে উন্নয়নের ধারাগুলো জনমুখে জাহির করে যাচ্ছে বলে জনসংহতি সমিতির অভিযোগ।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন,

‘পার্বত্য অঞ্চলের মানুষকে আমি বলব, শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে হবে। কারণ, শান্তিপূর্ণ পরিবেশ ছাড়া উন্নয়ন সম্ভব নয়।’

আপনার মন্তব্য

আলোচিত