শিরোনাম

  আগামী ২৪ ডিসেম্বর জেএসসি ও প্রাথমিক সমাপনীর ফল প্রকাশ   নির্বাচনকালীন ইউএনও-ডিসির স্বাক্ষরে শিক্ষকদের বেতন-ভাতা : শিক্ষা মন্ত্রণালয়   খালেদার মনোনয়ন বাতিলের বিরুদ্ধে হাইকোর্টের বিভক্ত আদেশ   'তিন পার্বত্য জেলায় ৩৮ টি ভোটকেন্দ্রে হেলিকপ্টার ব্যবহার করা হবে'   সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ন নির্বাচন নিশ্চিত করার আহ্বান ইউরোপীয় দেশগুলোর   তরুণ ও নারী ভোটাররাই আওয়ামী লীগের বিজয়ের প্রধান হাতিয়ারঃ কাদের   গত ৫ বছরে জেএসএস এমপি উন্নয়ন করতে পারেনি, যা করেছে আওয়ামীলীগ করেছে : দিপংকর তালুকদার   এখন থেকে সরকারি চাকরিতে যোগ দেওয়ার আগে মাদক পরীক্ষা বাধ্যতামূলক   'বান্দরবানে বিদেশি পর্যটকদের ভ্রমণে কোনো নিষেধাজ্ঞা নেই'   'নির্বাচনী প্রচারণায় রঙিন পোস্টার বা ব্যানার ব্যবহার করা যাবে না'   ৫৮টি নিউজ পোর্টাল খুলে দিয়েছে বিটিআরসি   বুধবার থেকে নির্বাচনী প্রচারণা শুরু করবেন প্রধানমন্ত্রী   বিএনপি ক্ষমতায় এলে শান্তি চুক্তি বাস্তবায়ন করার চেষ্ঠা করবো: মনি স্বপন দেওয়ান   তিন পাহাড়ে নৌকা নিয়ে মাঠে দৌড়াবেন যারা   আগামীকাল খালেদা জিয়ার অগ্নিপরীক্ষা   হিরোকে জিরো বানানো এত সহজ নয়, সফল হিরো আলমের চ্যালেঞ্জ   খাগড়াছড়িতে বনের রাজা পেয়েছেন ইউপিডিএফের প্রার্থী নতুন কুমার চাকমা   বিশ্বের প্রথম উঁচু ভাস্কর্য 'চীনের স্প্রিং টেম্পল বুদ্ধ'   আন্তর্জাতিক মানবাধিকার দিবস || আদিবাসীদের মানবাধিকার প্রতিষ্ঠায় এগিয়ে আসার অাহ্বান   বনের রাজা সিংহকে নিয়ে রাঙ্গামাটিতে দৌড়াবেন ঊষাতন তালুকদার
প্রচ্ছদ / জাতীয় / পার্বত্য অঞ্চলে শুধু উন্নয়নকে প্রাধান্য দিলে শান্তি চুক্তি কি হাজার দশকে ও বাস্তবায়ন করা সম্ভব?

পার্বত্য অঞ্চলে শুধু উন্নয়নকে প্রাধান্য দিলে শান্তি চুক্তি কি হাজার দশকে ও বাস্তবায়ন করা সম্ভব?

প্রকাশিত: ২০১৭-১২-২৮ ২১:৩২:৩৭

   আপডেট: ২০১৭-১২-২৮ ২২:০৯:১৯

ডেইলি সিএইচটি রিপোর্ট

পার্বত্য শান্তি চুক্তির অধিকাংশ ধারা পূর্ণ বাস্তবায়ন করা হয়েছে অথবা বাস্তবায়নের প্রক্রিয়াধীন রয়েছে প্রতিবছর সরকারের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সম্প্রতি বলেছেন আমাদের সরকার শান্তিচুক্তির আলোকে এ অঞ্চলের সার্বিক উন্নয়নে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে।

এ অঞ্চলের শিক্ষা, স্বাস্থ্য, বিদ্যুৎ, যোগাযোগ, অবকাঠামো, মোবাইল নেটওয়ার্কসহ সকলখাতের উন্নয়নে ব্যাপক কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। আমরা রাঙ্গামাটিতে একটি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় এবং একটি মেডিকেল কলেজ প্রতিষ্ঠা করেছি ইত্যাদি। যা অধিকাংশ অর্থনৈতিক উন্নয়ন কর্মকান্ডের সাথে পার্বত্য শান্তি চুক্তির ঘটমান বিষয়সমুহকে উন্নয়নের প্রভাব দেখিয়ে সরকার বদ্ধপরিকর বলে দাবি করা হচ্ছে।

"তবে জনসংহতি সমিতির নেতারা মনে করছেন পার্বত্য সমস্যা একটি অর্থনৈতিক সমস্যা নয়। এটি একটি রাজনৈতিক ও জাতীয় সমস্যা"

কারণ শান্তি চুক্তি মোতাবেক- রাজনৈতিক ও শান্তিপূর্ণ উপায়ে সমাধানের লক্ষ্যে শেখ হাসিনা সরকারের সঙ্গে ১৯৯৭ সালের ২ ডিসেম্বর পার্বত্য চুক্তি স্বাক্ষর হয়। এতে স্বাক্ষর করেন বাংলাদেশ সরকারের পক্ষে আবুল হাসনাত আব্দুল্লাহ এবং শান্তি বাহিনীর পক্ষে পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির নেতা সন্তু লারমা। তবে চুক্তি অনুযায়ী কতটুকু বাস্তবায়ন বা সেসব অত্যাবশ্যক তথা গুরুত্বপূর্ণ বিষয়সমূহ সমাধান হয়েছে তা এখন সংশ্লিষ্ট চুক্তির পক্ষে সম্পাদনকারীদের মধ্যে প্রশ্নাতীত। কারণ নেতাদের দাবি অনুযায়ী মৌলিক বিষয়গুলোর উপর বাস্তবায়নের প্রতি সরকার এখনো গুরুত্ব দেইনি। বরং সেসব মুখ্য সমস্যাগুলো পাশ কাটিয়ে উন্নয়নের ধারাগুলো জনমুখে জাহির করে যাচ্ছে বলে জনসংহতি সমিতির অভিযোগ।

জনসংহতি সমিতি(জেএসএস) মনে করে চট্টগ্রাম সমস্যা হচ্ছে একটি রাজনৈতিক ও জাতীয় সমস্যা। এখানে অর্থনৈতিক সমস্যা হিসেবে শুধু উন্নয়ন ধারাগুলো অব্যাহত রাখলে পার্বত্য সমস্যা স্থায়ীভাবে সমস্যা হবেনা। বরং আরো সরকার আর জুম্মগণের মাঝে আন্তরিকতা হ্রাস পাবে। কারণ জনগণ চায় চুক্তি অনুযায়ী চুক্তির অবাস্তবায়িত বিষয়সমূহ বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে সরকারের যথোপযুক্ত আন্তরিক ও উদ্যোগ । আজ চুক্তির ২ দশক অতিক্রান্ত হয়েছে তবুও জুম্মজনগণের মাঝে হতাশা বিরাজ করছে।

পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির সভাপতি ও আঞ্চলিক পরিষদের চেয়ারম্যান শ্রীঃ জ্যোতিরিন্দ্র বোধিপ্রিয় লারমা ওরফে(সন্তু) লারমা সম্প্রতি চুক্তি বাস্তবায়ন না হওয়ায় ক্ষুব্ধ হয়েছেন। তিনি বলেছেন, পার্বত্য চুক্তি বাস্তবায়নের দোহাই দিয়ে চুক্তি বিরোধী ও জুম্ম স্বার্থ পরিপন্থী কার্যক্রমের মাধ্যমে জুম্মদের সংস্কৃতি ও অস্তিত্ব ধ্বংস, জুম্মদের ভূমি জবরদখল, তাদের চিরায়ত ভূমি থেকে উৎখাত, প্রাকৃতিক পরিবেশ এবং বনজ ও প্রাকৃতিক সম্পদ ধ্বংস করে চলেছে।  গত দুই দশকেও পার্বত্য শান্তিচুক্তি বাস্তবায়ন হয় নি।

১৯৯৭ সালের ২ ডিসেম্বর পার্বত্য চট্টগ্রাম সমস্যার রাজনৈতিক ও শান্তিপূর্ণ উপায়ে সমাধানের লক্ষ্যে স্বাক্ষরিত পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তির দুই দশক পূর্ণ হলেও চুক্তির মৌলিক বিষয়সমূহের মধ্যে দুই-তৃতীয়াংশ বিষয়ই অবাস্তবায়িত অবস্থায় রয়ে গেছে বলে তাঁর অভিযোগ।

তিনি চুক্তি মোতাবেক রাজনৈতিক সমস্যাগুলো প্রধান কারণ হিসেবে উপস্থাপন করেছেন। তিনি মনে করেন শুধু অর্থনৈতিক সমস্যা কারণ দেখিয়ে উন্নয়ন করে জুম্মদের মাঝে হতাশা দূর করা সম্ভব নয়। এজন্য সরকারের রাজনৈতিক সমস্যা সমাধানে সদিচ্ছা থাকতে হবে। রাজনৈতিক সমস্যা সুরাহা হলে এতে অর্থনৈতিক উন্নয়ন বৃদ্ধি পাবে। কিন্তু পার্বত্য অঞ্চলে রাজনৈতিক সমস্যাকে অর্থনৈতিক সমাধান দেখিয়ে হাজার দশক হলেও চুক্তি বাস্তবায়ন হবেনা। তাতে সরকার আর পাহাড়িদের মধ্যে সম্পর্ক আরো হ্রাস পাবে।

প্রধানমন্ত্রীর আন্তর্জাতিক বিষয়ক উপদেষ্টা ড. গওহর রিজভী কিছুদিন আগে বলেছেন চুক্তির পূর্ণ বাস্তবায়ন হবে। এর আগেও বলেছিলেন শান্তিচুক্তি পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়িত হলে সব পক্ষই জয়ী হবে। এতে পার্বত্য চট্টগ্রামে বসবাসকারী বাঙালিরা তাঁদের জমির ওপর আইনগত অধিকার হারাবেন না।

এছাড়াও বান্দরবানে কিছুদিন আগে সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন শান্তি চুক্তির বাকি শর্ত অক্ষরে অক্ষরে বাস্তবায়ন করা হবে। তিনি বলেছেন শান্তি চুক্তি বাস্তবায়নে ও পাহাড়ের উন্নয়নসহ মানুষের প্রতি শেখ হাসিনা খুব বেশি আন্তরিক। তিনি বলেছেন পাহাড়ে উন্নয়ন জোয়ারে ভাসছে পাহাড়বাসী।

তবে জনসংহতি সমিতি সরকারের প্রতি দিন দিন আস্থা কেন হারাচ্ছে ? গত দুই দশকেও রাজনৈতিক সমস্যা- সমাধানগুলো চুক্তি মোতাবেক বাস্তবায়ন না হওয়ায় নিরাশ হয়ে পড়েছেন। কারণ সরকারের পক্ষ থেকে বার বার চুক্তির সমাধান হিসেবে উন্নয়নের কথা তুলে ধরা হচ্ছে। আর চুক্তি অক্ষরে অক্ষরে বাস্তবায়ন করা হবে বলে গত দুই দশক ধরে আশ্বাস দিয়ে আসছেন। সরকার অর্থনৈতিক সমস্যা হিসেবে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, বিদ্যুৎ, যোগাযোগ, অবকাঠামো, মোবাইল নেটওয়ার্ক ইত্যাদি ব্যাপক উন্নয়ন করে যাচ্ছে তবে শান্তি চুক্তি মোতাবেক প্রধান বিষয়সমুহ- রাজনৈতিক সমস্যা সমাধানে সদিচ্ছা নেই এমনতাই অভিযোগ জনসংহতি সমিতির।

 ছবিঃ সাজেক ভ্যালি/ইন্টারনেট।

আপনার মন্তব্য

আলোচিত