শিরোনাম

  আগামী ২৪ ডিসেম্বর জেএসসি ও প্রাথমিক সমাপনীর ফল প্রকাশ   নির্বাচনকালীন ইউএনও-ডিসির স্বাক্ষরে শিক্ষকদের বেতন-ভাতা : শিক্ষা মন্ত্রণালয়   খালেদার মনোনয়ন বাতিলের বিরুদ্ধে হাইকোর্টের বিভক্ত আদেশ   'তিন পার্বত্য জেলায় ৩৮ টি ভোটকেন্দ্রে হেলিকপ্টার ব্যবহার করা হবে'   সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ন নির্বাচন নিশ্চিত করার আহ্বান ইউরোপীয় দেশগুলোর   তরুণ ও নারী ভোটাররাই আওয়ামী লীগের বিজয়ের প্রধান হাতিয়ারঃ কাদের   গত ৫ বছরে জেএসএস এমপি উন্নয়ন করতে পারেনি, যা করেছে আওয়ামীলীগ করেছে : দিপংকর তালুকদার   এখন থেকে সরকারি চাকরিতে যোগ দেওয়ার আগে মাদক পরীক্ষা বাধ্যতামূলক   'বান্দরবানে বিদেশি পর্যটকদের ভ্রমণে কোনো নিষেধাজ্ঞা নেই'   'নির্বাচনী প্রচারণায় রঙিন পোস্টার বা ব্যানার ব্যবহার করা যাবে না'   ৫৮টি নিউজ পোর্টাল খুলে দিয়েছে বিটিআরসি   বুধবার থেকে নির্বাচনী প্রচারণা শুরু করবেন প্রধানমন্ত্রী   বিএনপি ক্ষমতায় এলে শান্তি চুক্তি বাস্তবায়ন করার চেষ্ঠা করবো: মনি স্বপন দেওয়ান   তিন পাহাড়ে নৌকা নিয়ে মাঠে দৌড়াবেন যারা   আগামীকাল খালেদা জিয়ার অগ্নিপরীক্ষা   হিরোকে জিরো বানানো এত সহজ নয়, সফল হিরো আলমের চ্যালেঞ্জ   খাগড়াছড়িতে বনের রাজা পেয়েছেন ইউপিডিএফের প্রার্থী নতুন কুমার চাকমা   বিশ্বের প্রথম উঁচু ভাস্কর্য 'চীনের স্প্রিং টেম্পল বুদ্ধ'   আন্তর্জাতিক মানবাধিকার দিবস || আদিবাসীদের মানবাধিকার প্রতিষ্ঠায় এগিয়ে আসার অাহ্বান   বনের রাজা সিংহকে নিয়ে রাঙ্গামাটিতে দৌড়াবেন ঊষাতন তালুকদার
প্রচ্ছদ / জাতীয় / মুকুল জ্যোতি চাকমা - সবজি বিক্রেতা থেকে বিসিএসে সরকারি বড় কর্মকর্তা

মুকুল জ্যোতি চাকমা - সবজি বিক্রেতা থেকে বিসিএসে সরকারি বড় কর্মকর্তা

প্রকাশিত: ২০১৭-১২-১০ ১৭:১২:১৬

নিউজ ডেস্ক

পড়াশোনার পাশাপাশি করেছেন কৃষিকাজ। লাঙ্গল হাতে জমি চাষ করেছেন। বাজারে নিয়ে কোন কোন সময় সবজিও বিক্রি করেছেন তিনি। সবজি বিক্রেতা সেই ছেলেটিই এখন বাংলাদেশ সরকারের বড় কর্মকর্তা হয়েছেন। বিসিএস পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে বর্তমানে তিনি বাংলাদেশ মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের ঢাকা মেট্রো উপ অঞ্চলের উপ-পরিচালক হয়েছেন। এটি মুকুল জ্যোতি চাকমার সফলতার গল্প। চলুন জেনে নেই জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সেই ছাত্রটির সফলতার গল্প :

রাঙামাটি জেলার বাঘাইছড়ি উপজেলার দুর্গম বঙ্গলটুলি গ্রামে জন্ম নেন মুকুল জ্যোতি চাকমা। পরিবারে পাঁচ সন্তানের মাঝে একমাত্র ছেলে সন্তান তিনি। তার পরিবার আর্থিকভাবে তেমন সচ্ছল ছিল না। বাবা তুষার কান্তি চাকমা পাঁচ ছেলে-মেয়ের পড়ালেখা চালিয়ে নিতে হিমশিম খেয়েছেন। পরিবারের আয় বাড়াতে নিয়মিত কৃষি কাজ করতেন তিনি। ধান চাষ, জুম চাষ এবং বাড়ির আঙ্গিনায় সবজি চাষ করতে হতো। নিজেদের উত্পাদিত কৃষি পণ্য স্থানীয় বঙ্গটুলি বাজারে বিক্রি করার দায়িত্ব পড়ত মুকুলের উপর।

মুকুল জ্যোতির শিক্ষাজীবন শুরু বঙ্গলটুলী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। প্রাথমিক বিদ্যালয়ে যেতে তাকে পাড়ি দিতে হতো চার কিলোমিটার পাহাড়ি দুর্গম পথ। রুপালি উচ্চবিদ্যালয়ে তার মাধ্যমিক শিক্ষাজীবন কাটে। উচ্চবিদ্যালয়ে যেতে তার পাড়ি দিতে হতো দুর্গম নয় কিলোমিটার পথ। দুর্গম পাহাড়ি পথ পেরিয়ে নৌকায় পাড়ি দিতে হতো কাচালং নদী। কৈশোরে মুকুলের পড়ালেখার তেমন সুখস্মৃতি নেই। গ্রামে বিদ্যুৎ ছিল না। রাতে কুপি জ্বালিয়ে পড়তে হতো। অনেক সময় কেরাসিন না থাকায় পড়া সম্ভব হতো না। মাধ্যমিক পড়া শেষে বাবার ইচ্ছা ছেলে পলিটেকনিকে পড়ুক। কিন্তু মুকুল জ্যোতি ভর্তি হলেন রাঙামাটি সরকারি কলেজে।

মুকুল জ্যোতি ১৯৮৮ সালে রাঙামাটি সরকারি কলেজ থেকে এইচএসসি পাস করেন। নিকট আত্মীয় ডা. স্নেহ কান্তি চাকমার আর্থিক সহযোগিতায় বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষায় অংশ নিতে পেরেছিলেন। ভর্তি পরীক্ষায় অংশ নেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ও জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে বোটানিতে পড়ার সুযোগ পেলেও আবাসিক অসুবিধার কারণে পড়া হয়নি। পরে ইতিহাস বিষয়ে পড়ার সুযোগ পান জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে।

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের মীর মোশাররফ হোসেন হলে থাকতেন তিনি। বাবা মাসে ১২ শত টাকা পাঠাতেন, এই টাকায় পুরো মাস চালিয়ে নিতে বেশ কষ্ট হতো। ডাইনিংয়ে খেতেন কম দামে। পরে ভালো রেজাল্ট করার কারণে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে ৩০০ টাকা মাসিক শিক্ষাবৃত্তি পান। তিনি ১৯৯৫ সালে মাস্টার্স পাস করেন।

১৯৯৭ সালে একটি ইলেট্রনিক কোম্পানিতে মাত্র সাড়ে চার হাজার টাকা বেতনে সেলসম্যানের চাকরি নেন। সেলসম্যানের চাকরি ছিল মাত্র আট মাস। আবার বেকার। থাকা-খাওয়ার চুক্তিতে এক আত্মীয়ের ছেলেকে টিউশনি পড়াতে শুরু করেন তিনি। পাশাপাশি নিতে থাকেন বিসিএস পরীক্ষার প্রস্তুতি। ১৯৯৯ সালে সাধারণ বীমা কর্পোরেশনের অ্যাসিস্ট্যান্ট ম্যানেজার হিসেবে চাকরি পান। তার ইচ্ছা সরকারের বড় জায়গায় কাজ করা, তাই চাকরির পাশাপাশি বিসিএস পরীক্ষার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। ২০০০ সালে পিএসসি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে পাবলিক সার্ভিস কমিশনের মাধ্যমে সহকারী পরিচালক হিসেবে চাকরি পান মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরে। ২০১২ সালে উপ পরিচালক হিসেবে পদোন্নতি পান। বর্তমানে ঢাকা মেট্রো উপ অঞ্চলে উপ পরিচালক হিসেবে দায়িত্বে রয়েছেন।

-ইত্তেফাক।

আপনার মন্তব্য

আলোচিত