শিরোনাম

  ঢাবি শিক্ষার্থী প্রকট চাকমাসহ ১৩ শিক্ষার্থী পেলেন জগন্নাথ হল স্বর্ণপদক   চট্টগ্রামসহ অনেক জায়গায় ভারী বর্ষণ হতে পারে   ভিয়েতনামে বন্যায় ২০ জনের মৃত্যু , ১ লাখ ১০ হাজার হেক্টর জমির ফসল বিনষ্ট   দৈনিক আমার দেশ পত্রিকার ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক মাহমুদুর রহমানের ওপর হামলা   ছাত্রলীগকে প্রধানমন্ত্রী সতর্ক করেছেন: কাদের   থানকুনি পাতার জাদুকরি উপকারিতা   চট্টগ্রাম কর্ণফুলীতে ধর্ষণের শিকার গৃহবধূ, গ্রেফতার ৩   পাহাড়ে শান্তি প্রতিষ্ঠা ও উন্নয়নে সেনাবাহিনীর ভূমিকা অপরিসীম : প্রধানমন্ত্রী   চিকিৎসা খাতে নতুন আবিষ্কার রঙিন ও থ্রি-ডি এক্স-রে   গণসংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে কেঁদেছেন প্রধানমন্ত্রী   না ফেরার দেশে রাজীব মীর   নানিয়াচর উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান প্রীতিময় চাকমাকে অপহরণ   ছেলেদের চেয়ে এবারও এগিয়ে মেয়েরা   চট্টগ্রাম বোর্ডের পাশের হার ৬২.৭৩ %   যারা ফেল করেছে তাদের বকাঝকা করবেন না : প্রধানমন্ত্রী   এইচএসসি তে পাসের ধস নেমেছে এবার   এইচএসসি ও সমমানে পাসের হার এবার ৬৬.৬৪   হাসপাতাল ছাড়ার পর এবার থাই কিশোররা সবাই শ্রামণ হয়ে প্রবজ্যা গ্রহণ করবে   থাইল্যান্ডের গুহায় আটকা পড়া কিশোররা হাসপাতাল ছেড়েছে   ৮ দল নিয়ে বাম গণতান্ত্রিক জোটের আত্মপ্রকাশ
প্রচ্ছদ / জাতীয় / চুক্তির বহু আইন এখনো প্রণয়ন বা সংশোধন করা হয়নাই : শক্তিপদ ত্রিপুরা

চুক্তির বহু আইন এখনো প্রণয়ন বা সংশোধন করা হয়নাই : শক্তিপদ ত্রিপুরা

প্রকাশিত: ২০১৭-১২-০৪ ১২:৩৭:৪৫

অনলাইন ডেস্ক

চুক্তির বহু আইন এখনো প্রণয়ন বা সংশোধন করা হয়নাই বলে মন্তব্য করেছেন, জনসংহতি সমিতির সাংগঠনিক সম্পাদক শক্তিপদ ত্রিপুরা। তিনি বলেন, চুক্তি স্বাক্ষরের প্রথম থেকে নানা চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে হয়েছে। পার্বত্য চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পরিষদ আইন প্রণয়ন করতে জেয়ে অনেকবার সংশোধন করতে হয়েছে। এই চ্যালেঞ্জগুলো আমরা মুখোমুখি হয়েছি। সোমবার রাতে এনটিভির 'পার্বত্য চুক্তির দুই দশক' এক বিশেষ আলোচনায় তিনি এসব কথা বলেন।

চুক্তির মৌলিক বিষয়গুলো প্রসঙ্গে তিনি বলেন, চুক্তির আলোকে সমস্ত আইন প্রণয়ন বা সংশোধনযোগ্য তথা প্রধান গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো করতে গিয়ে বার বার সরকারের বাধার মুখে পড়তে হয়েছিল। চুক্তি স্বাক্ষরের পর থেকে চুক্তির মোতাবেক যেসব আইন সংশোধন বা প্রণয়ন যোগ্য ছিল কিন্তু সরকারের তরফ থেকে বারে বারে বাধাপ্রাপ্ত হয়েছে। যার কারণে বহু আইন এখনো প্রণয়ন বা সংশোধন করা হয়নাই।

পার্বত্য শান্তি চুক্তি লিখিত অনুযায়ী চুক্তির পর থেকে আইনগুলো প্রণয়ন বা সংশোধন করা করা হয়নি যার কারণে পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তির আলোকে পার্বত্য আঞ্চলিক পরিষদ এবং জেলাপরিষদে যে আকাঙ্ক্ষা ছিল তা এখনো প্রতিষ্ঠত হয়ে গড়ে উঠতে পারেনি।

এ বিষয়ে অধ্যাপক ড. মেসবাহ কামাল বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি বাস্তবায়নের পথে যে সংকট তৈরি হচ্ছে তা অন্যতম কারণ হিসেবে রাজনৈতিক তদারকি প্রয়োজন ছিল কিন্তু তা করা হয়নি। পার্বত্য চট্টগ্রাম একটি রাজনৈতিক সমস্যা উদ্ধৃতি দিয়ে বলেন - একটা দেশে একাধিক জাতির মানুষ থাকতে পারে এই বাস্তবতার স্বীকৃতি ১৯৭২ সালে দেওয়া হয়নি। যার থেকে নানা সমস্যা তৈরি হয়েছে। বাংলাদেশে শুধু বাঙ্গালীরা বসবাস করেনা এখানে সমতল এবং পাহাড়ে বিভিন্ন জাতিসত্ত্বার মানুষ যেমন-চাকমা, মারমা, ত্রিপুরা ইত্যাদি যুগ যুগ ধরে বসবাস করে আসছে তা কিন্তু বাংলাদেশ যুদ্ধের মধ্য দিয়ে দীর্ঘ বছরের পর তা উপলব্ধি করেছিল।

তিনি চুক্তির বাস্তবায়নের মূখ্য কারণ হিসেবে ইঙ্গিত দিয়ে বলেন, চুক্তিটি স্বাক্ষরিত হওয়ার পর থেকে চুক্তির যে বাস্তবায়নের কাজটা সেই কাজটা করতে সরকারের রাজনৈতিক নেতৃত্ব আশ্চর্যজনকভাবে অনুপস্থিত ছিল।

সরকার যে চুক্তির মোতাবেক ৪৮টি ধারা বাস্তবায়ন হয়েছে বলে দাবি করেছেন এ প্রসঙ্গে শক্তিপদ ত্রিপুরা বলেন, এখানে মিথ্যাচার এবং সততারও কিছু বিষয় আসে। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী,সচিব এবং জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান এই তিনজনের মধ্য কথাবার্তাগুলো মিল নেই। চুক্তির ধারা অনুযায়ী কতগুলো বাস্তবায়ন হয়েছে তা ইতিমধ্যে জনসংহতি সমিতি বলে দিয়েছে। জনসংহতি সমিতির দাবি অনুযায়ী ৭২ টি ধারার মধ্য থেকে সরকার এখনো সম্পূর্ণভাবে বাস্তবায়িত করেছে মাত্র ২৫ টি তবে কিছু কিছু আংশিক বাস্তবায়ন হয়েছে। যার কারণে তিন ভাগের দুইভাগ এর কাছাকাছি বাস্তবায়ন হয়নি।

কেন পার্বত্য চট্টগ্রামে জুম্মজনগণ সংগ্রাম করতে হয়েছিল সে বিষয়ে শক্তিপদ ত্রিপুরা প্রধান কারণ হিসেবে বলেন,পাহাড়ে যেসব পাহাড়ী মানুষ রয়েছে তাদের মধ্যে একটা আশংকা ছিল যে তাদের অস্তিত্ব বিলুপ্তির পথে। সেটা পাকিস্তান আমল থেকে সংশয় ছিল। যার কারণে বাংলাদেশের বাঙ্গালিদের সাথে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে মুক্তিযুদ্ধে আদিবাসীদের অংশগ্রহণ করতে হয়েছিল। কাপ্তাই বাধের ফলে পাহাড়িদের যেসব অধিকার খর্ব করা হয়েছে তেমনি তাদের অস্তিত্ব বিলুপ্তির আশংকায় তারা সম্মিলিতভাবে সমতল এবং পাহাড়ী আদিবাসী জনগণ মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছিল। তিনি বলেন আদিবাসী জনগণ মনে করেছিল বাংলাদেশ স্বাধীন করতে পারলে তারা নিজেদের অধিকারের পাশাপাশি অস্তিত্ব ঠিকিয়ে রাখতে পারবে। কিন্তু দুর্ভাগ্য বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর থেকে ও তাদের ভাগ্য পরিবর্তন হয়নি। তাদের অস্তিত্ব বর্তমানে বিলুপ্তির পথে।

৪ ডিসেম্বর রাতে এস এম আকাশ সঞ্চালনায় উপস্থিত ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগের অধ্যাপক ড. মেসবাহ কামাল এবং জনসংহতি সমিতির সাংগঠনিক সম্পাদক শক্তিপদ ত্রিপুরা।

ভিডিও :

আপনার মন্তব্য

আলোচিত