শিরোনাম

  ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর জন্য মাতৃভাষায় পুস্তক প্রকাশনার বিধান রেখে খসড়ার চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা   সরকারী চাকরিতে ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী ও পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর জন্য কোটা না হলেও সমস্যা হবে না   রুয়েটে ভর্তি পরীক্ষার আবেদন শুরু   দুই আদিবাসী কিশোরী ধর্ষণের ঘটনায় অভিযুক্তদের সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি   দেশের বিভিন্ন স্থানে বৃষ্টি অথবা বজ্রবৃষ্টি ও ভারী বর্ষণ হতে পারে   আদিবাসী মানবাধিকার সুরক্ষাকর্মীদের সম্মেলন ২০১৮ উদযাপন   ব্লগার বাচ্চু হত্যার সঙ্গে ‘জড়িত’ ২ জঙ্গি নিহত   জুমের বাম্পার ফলনে রাঙ্গামাটির চাষিদের মুখে হাসি   সরকারি চাকরিতে আদিবাসী কোটা বহাল দাবি জানাল আদিবাসীরা   আয়ারল্যান্ড প্রবাসী বাংলাদেশের এক মন্ত্রী দ্বারা হেনস্ত হওয়াতে হিন্দু, বৌদ্ধ ও খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের নিন্দা   শেখ হাসিনার জনপ্রিয়তা উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি পেয়েছে   মিয়ানমারে রয়টার্সের দুই সাংবাদিককে সাত বছরের কারাদণ্ড দিয়েছে আদালত   শহীদ আলফ্রেড সরেন হত্যার ১৮ বছর: হত্যাকারীদের দ্রুত বিচারের দাবি জাতীয় আদিবাসী পরিষদের   ভারতের কাছে ১-০ গোলে হেরেছে বাংলাদেশের মেয়েরা   সরকারী চাকরিতে নিয়োগের ক্ষেত্রে মুক্তিযোদ্ধা ছাড়া সব কোটা বাতিল হচ্ছে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী   জাতিসংঘের সাবেক মহাসচিব কফি আনান মারা গেছেন   ঈদের ছুটি কাটানো হলোনা টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ার নিরীহ ধীরাজ চাকমার   খাগড়াছড়িতে পৃথক ঘটনার জন্য জেএসএস(সংস্কারবাদী) ও নব্য মুখোশ বাহিনীকে দায়ী করেছে : ইউপিডিএফ   নানিয়ারচর থেকে খাগড়াছড়ি   খাগড়াছড়িতে ৬ জনকে গুলি করে হত্যা !
প্রচ্ছদ / জাতীয় / চুক্তির বহু আইন এখনো প্রণয়ন বা সংশোধন করা হয়নাই : শক্তিপদ ত্রিপুরা

চুক্তির বহু আইন এখনো প্রণয়ন বা সংশোধন করা হয়নাই : শক্তিপদ ত্রিপুরা

প্রকাশিত: ২০১৭-১২-০৪ ১২:৩৭:৪৫

অনলাইন ডেস্ক

চুক্তির বহু আইন এখনো প্রণয়ন বা সংশোধন করা হয়নাই বলে মন্তব্য করেছেন, জনসংহতি সমিতির সাংগঠনিক সম্পাদক শক্তিপদ ত্রিপুরা। তিনি বলেন, চুক্তি স্বাক্ষরের প্রথম থেকে নানা চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে হয়েছে। পার্বত্য চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পরিষদ আইন প্রণয়ন করতে জেয়ে অনেকবার সংশোধন করতে হয়েছে। এই চ্যালেঞ্জগুলো আমরা মুখোমুখি হয়েছি। সোমবার রাতে এনটিভির 'পার্বত্য চুক্তির দুই দশক' এক বিশেষ আলোচনায় তিনি এসব কথা বলেন।

চুক্তির মৌলিক বিষয়গুলো প্রসঙ্গে তিনি বলেন, চুক্তির আলোকে সমস্ত আইন প্রণয়ন বা সংশোধনযোগ্য তথা প্রধান গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো করতে গিয়ে বার বার সরকারের বাধার মুখে পড়তে হয়েছিল। চুক্তি স্বাক্ষরের পর থেকে চুক্তির মোতাবেক যেসব আইন সংশোধন বা প্রণয়ন যোগ্য ছিল কিন্তু সরকারের তরফ থেকে বারে বারে বাধাপ্রাপ্ত হয়েছে। যার কারণে বহু আইন এখনো প্রণয়ন বা সংশোধন করা হয়নাই।

পার্বত্য শান্তি চুক্তি লিখিত অনুযায়ী চুক্তির পর থেকে আইনগুলো প্রণয়ন বা সংশোধন করা করা হয়নি যার কারণে পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তির আলোকে পার্বত্য আঞ্চলিক পরিষদ এবং জেলাপরিষদে যে আকাঙ্ক্ষা ছিল তা এখনো প্রতিষ্ঠত হয়ে গড়ে উঠতে পারেনি।

এ বিষয়ে অধ্যাপক ড. মেসবাহ কামাল বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি বাস্তবায়নের পথে যে সংকট তৈরি হচ্ছে তা অন্যতম কারণ হিসেবে রাজনৈতিক তদারকি প্রয়োজন ছিল কিন্তু তা করা হয়নি। পার্বত্য চট্টগ্রাম একটি রাজনৈতিক সমস্যা উদ্ধৃতি দিয়ে বলেন - একটা দেশে একাধিক জাতির মানুষ থাকতে পারে এই বাস্তবতার স্বীকৃতি ১৯৭২ সালে দেওয়া হয়নি। যার থেকে নানা সমস্যা তৈরি হয়েছে। বাংলাদেশে শুধু বাঙ্গালীরা বসবাস করেনা এখানে সমতল এবং পাহাড়ে বিভিন্ন জাতিসত্ত্বার মানুষ যেমন-চাকমা, মারমা, ত্রিপুরা ইত্যাদি যুগ যুগ ধরে বসবাস করে আসছে তা কিন্তু বাংলাদেশ যুদ্ধের মধ্য দিয়ে দীর্ঘ বছরের পর তা উপলব্ধি করেছিল।

তিনি চুক্তির বাস্তবায়নের মূখ্য কারণ হিসেবে ইঙ্গিত দিয়ে বলেন, চুক্তিটি স্বাক্ষরিত হওয়ার পর থেকে চুক্তির যে বাস্তবায়নের কাজটা সেই কাজটা করতে সরকারের রাজনৈতিক নেতৃত্ব আশ্চর্যজনকভাবে অনুপস্থিত ছিল।

সরকার যে চুক্তির মোতাবেক ৪৮টি ধারা বাস্তবায়ন হয়েছে বলে দাবি করেছেন এ প্রসঙ্গে শক্তিপদ ত্রিপুরা বলেন, এখানে মিথ্যাচার এবং সততারও কিছু বিষয় আসে। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী,সচিব এবং জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান এই তিনজনের মধ্য কথাবার্তাগুলো মিল নেই। চুক্তির ধারা অনুযায়ী কতগুলো বাস্তবায়ন হয়েছে তা ইতিমধ্যে জনসংহতি সমিতি বলে দিয়েছে। জনসংহতি সমিতির দাবি অনুযায়ী ৭২ টি ধারার মধ্য থেকে সরকার এখনো সম্পূর্ণভাবে বাস্তবায়িত করেছে মাত্র ২৫ টি তবে কিছু কিছু আংশিক বাস্তবায়ন হয়েছে। যার কারণে তিন ভাগের দুইভাগ এর কাছাকাছি বাস্তবায়ন হয়নি।

কেন পার্বত্য চট্টগ্রামে জুম্মজনগণ সংগ্রাম করতে হয়েছিল সে বিষয়ে শক্তিপদ ত্রিপুরা প্রধান কারণ হিসেবে বলেন,পাহাড়ে যেসব পাহাড়ী মানুষ রয়েছে তাদের মধ্যে একটা আশংকা ছিল যে তাদের অস্তিত্ব বিলুপ্তির পথে। সেটা পাকিস্তান আমল থেকে সংশয় ছিল। যার কারণে বাংলাদেশের বাঙ্গালিদের সাথে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে মুক্তিযুদ্ধে আদিবাসীদের অংশগ্রহণ করতে হয়েছিল। কাপ্তাই বাধের ফলে পাহাড়িদের যেসব অধিকার খর্ব করা হয়েছে তেমনি তাদের অস্তিত্ব বিলুপ্তির আশংকায় তারা সম্মিলিতভাবে সমতল এবং পাহাড়ী আদিবাসী জনগণ মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছিল। তিনি বলেন আদিবাসী জনগণ মনে করেছিল বাংলাদেশ স্বাধীন করতে পারলে তারা নিজেদের অধিকারের পাশাপাশি অস্তিত্ব ঠিকিয়ে রাখতে পারবে। কিন্তু দুর্ভাগ্য বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর থেকে ও তাদের ভাগ্য পরিবর্তন হয়নি। তাদের অস্তিত্ব বর্তমানে বিলুপ্তির পথে।

৪ ডিসেম্বর রাতে এস এম আকাশ সঞ্চালনায় উপস্থিত ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগের অধ্যাপক ড. মেসবাহ কামাল এবং জনসংহতি সমিতির সাংগঠনিক সম্পাদক শক্তিপদ ত্রিপুরা।

ভিডিও :

আপনার মন্তব্য

এ বিভাগের আরো খবর



আলোচিত