শিরোনাম

  ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর জন্য মাতৃভাষায় পুস্তক প্রকাশনার বিধান রেখে খসড়ার চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা   সরকারী চাকরিতে ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী ও পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর জন্য কোটা না হলেও সমস্যা হবে না   রুয়েটে ভর্তি পরীক্ষার আবেদন শুরু   দুই আদিবাসী কিশোরী ধর্ষণের ঘটনায় অভিযুক্তদের সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি   দেশের বিভিন্ন স্থানে বৃষ্টি অথবা বজ্রবৃষ্টি ও ভারী বর্ষণ হতে পারে   আদিবাসী মানবাধিকার সুরক্ষাকর্মীদের সম্মেলন ২০১৮ উদযাপন   ব্লগার বাচ্চু হত্যার সঙ্গে ‘জড়িত’ ২ জঙ্গি নিহত   জুমের বাম্পার ফলনে রাঙ্গামাটির চাষিদের মুখে হাসি   সরকারি চাকরিতে আদিবাসী কোটা বহাল দাবি জানাল আদিবাসীরা   আয়ারল্যান্ড প্রবাসী বাংলাদেশের এক মন্ত্রী দ্বারা হেনস্ত হওয়াতে হিন্দু, বৌদ্ধ ও খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের নিন্দা   শেখ হাসিনার জনপ্রিয়তা উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি পেয়েছে   মিয়ানমারে রয়টার্সের দুই সাংবাদিককে সাত বছরের কারাদণ্ড দিয়েছে আদালত   শহীদ আলফ্রেড সরেন হত্যার ১৮ বছর: হত্যাকারীদের দ্রুত বিচারের দাবি জাতীয় আদিবাসী পরিষদের   ভারতের কাছে ১-০ গোলে হেরেছে বাংলাদেশের মেয়েরা   সরকারী চাকরিতে নিয়োগের ক্ষেত্রে মুক্তিযোদ্ধা ছাড়া সব কোটা বাতিল হচ্ছে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী   জাতিসংঘের সাবেক মহাসচিব কফি আনান মারা গেছেন   ঈদের ছুটি কাটানো হলোনা টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ার নিরীহ ধীরাজ চাকমার   খাগড়াছড়িতে পৃথক ঘটনার জন্য জেএসএস(সংস্কারবাদী) ও নব্য মুখোশ বাহিনীকে দায়ী করেছে : ইউপিডিএফ   নানিয়ারচর থেকে খাগড়াছড়ি   খাগড়াছড়িতে ৬ জনকে গুলি করে হত্যা !
প্রচ্ছদ / জাতীয় / ঐতিহাসিক শান্তি চুক্তি দুই দশক পূর্ণ হলেও বাস্তবায়নের আশায় এখনো জুম্ম জনগণ

ঐতিহাসিক শান্তি চুক্তি দুই দশক পূর্ণ হলেও বাস্তবায়নের আশায় এখনো জুম্ম জনগণ

প্রকাশিত: ২০১৭-১২-০২ ১০:১৫:৩৩

ডেইলি সিএইচটি রিপোর্ট

আজ ঐতিহাসিক পার্বত্য শান্তি চুক্তি দিবস। পার্বত্য চট্টগ্রামে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ বন্ধ এবং শান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে ১৯৯৭ সালের ২ ডিসেম্বর বর্তমান ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ সরকার ও জনসংহতি সমিতি চুক্তি সই করেছিল। এতে স্বাক্ষর করেন বাংলাদেশ সরকারের পক্ষে আবুল হাসনাত আব্দুল্লাহ এবং শান্তি বাহিনীর পক্ষে পার্বত্য চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পরিষদের চেয়ারম্যান জ্যোতিরিন্দ্র বোধিপ্রিয় লারমা (সন্তু)।

শান্তি চুক্তি করার মূল উদ্দেশ্য ছিল পার্বত্য অঞ্চলে শান্তি ফিরিয়ে আনা। সেই লক্ষ্যে সরকার এবং জেএসএসের মধ্যে দ্বিপার্শ্বিক বোঝাপড়া ভিত্তিতে চুক্তিটি করা হয়েছিল। আজ চুক্তির ২০ বছর পূর্ণ হলো। কিন্তু এখনো চুক্তি পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়নি হয়নি বলে জেএসএসের(জন সংহতি সমিতির) অভিযোগ । চুক্তি বাস্তবায়ন না হওয়ায় পাহাড়ি জনগোষ্ঠী ক্ষুব্ধ হয়ে উঠেছে।

গতকাল শুক্রবার সন্ধ্যায় প্রধানমন্ত্রীর বাসভবন গণভবন থেকে পার্বত্য জেলার মানুষের সঙ্গে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে মতবিনিময় অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী বলেছেন,  পার্বত্য শান্তিচুক্তির অধিকাংশ শর্ত বাস্তবায়িত হয়েছে এবং যে সব শর্ত এখনও বাকি আছে সেগুলোও অতিশীঘ্রই বাস্তবায়িত হবে।

কিন্তু পার্বত্য আঞ্চলিক পরিষদের চেয়ারম্যান সন্তু লারমা বলেছেন, দুই দশকেও পার্বত্য শান্তিচুক্তি বাস্তবায়ন হয় নি। পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি বাস্তবায়িত না হওয়ায় জুম্ম জনগণের পিঠ দেয়ালে ঠেকে গেছে। তাদের আর পেছনে যাওয়ার কোন রাস্তা নেই। ফলশ্রুতিতে পার্বত্য চট্টগ্রামের যে কোন অনাকাঙ্খিত পরিস্থিতির জন্য সরকারই দায়ী থাকবে বলেও তিনি দৃঢ় কন্ঠে হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন”

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ও জননেত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন , “চুক্তির ৭২টি শর্তের মধ্যে ৪৮টি সম্পূর্ণ বাস্তবায়িত হয়েছে। ১৫টি আংশিক বাস্তবায়ন হয়েছে এবং বাকি নয়টিও বাস্তবায়ন হবে।”চুক্তি বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজন দেখা দেওয়ায় ২০১৬ সালে আইন সংশোধন করার কথাও উল্লেখ করেন তিনি।

সন্তু লারমার অভিযোগ করেছেন, চুক্তির মৌলিক বিষয়সমূহের মধ্যে দুই-তৃতীয়াংশ বিষয়ই অবাস্তবায়িত অবস্থায় রয়ে গেছে। অথচ ২০০৯ সালে সরকার গঠনের মাধ্যমে চুক্তির প্রতিটি ধারা অক্ষরে অক্ষরে বাস্তবায়ন করা হবে বলে আওয়ামীলীগ নেতৃত্বাধীন মহাজোট সরকার প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেছিল। কিন্ত দুঃখের বিষয় হলেও সত্য বিগত ৯ বছর ধরে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় আসীন থাকা সত্ত্বেও বর্তমান শেখ হাসিনা সরকার চুক্তির মৌলিক বিষয়সমূহ বাস্তবায়নে কোন কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করেনি।

পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তির ফলে স্থাপিত পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়সহ সরকারের বিভিন্ন কর্তৃপক্ষ পূর্বের মতো “শান্তি চুক্তির শর্তানুযায়ী চুক্তির ৭২টি ধারার মধ্যে ইতোমধ্যে ৪৮টি ধারা সম্পূর্ণ, ১৫টি ধারা আংশিক এবং অবশিষ্ট ৯টি ধারার বাস্তবায়ন কার্যক্রম চলমান আছে” বলে মিথ্যাচার চালিয়ে যাচ্ছে। বলার অপেক্ষা রাখে না যে, ৭২টি ধারার মধ্যে মাত্র ২৫টি ধারা বাস্তবায়িত হয়েছে এবং এখনো দুই-তৃতীয়াংশ ধারা অবাস্তবায়িত অবস্থায় রয়েছে। চুক্তি বাস্তবায়নের বাস্তব চিত্র তুলে ধরে জনসংহতি সমিতির সভাপতির পক্ষ থেকে গত ১ এপ্রিল ২০১৫ তারিখে “পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তির যেসব বিষয় বাস্তবায়িত হয়নি তার বিবরণ” সম্বলিত ১৮ পৃষ্ঠার প্রতিবেদন এবং তৎসঙ্গে সহায়ক দলিল হিসেবে ১৬টি পরিশিষ্ট সংযুক্ত করে প্রধানমন্ত্রীর নিকট জমা দেয়া হয়। কিন্তু তা সত্ত্বেও সরকার চুক্তি বাস্তবায়ন বিষয়ে গোয়েবলসীয় কায়দায় অব্যাহতভাবে অসত্য তথ্য প্রদান করে চলেছে বলে এমনই অভিযোগ তার।

পার্বত্য চট্টগ্রামে নিয়োজিত গোয়েন্দা বাহিনী, আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী ও সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যরা ক্ষমতাসীন দলের প্রত্যক্ষ সহযোগিতায় পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি বিরোধী ও জুম্ম স্বার্থ পরিপন্থী ভূমিকা পালন করে চলেছে। চুক্তিতে সকল প্রকার অস্থায়ী ক্যাম্প প্রত্যাহারের বিধান থাকলেও এখনো চার শতাধিক ক্যাম্প পার্বত্যাঞ্চলে বিদ্যমান রয়েছে। সেনাশাসন চলমান হেতু পার্বত্য চট্টগ্রামে অবাধে যত্রতত্র সেনা অভিযান, তল্লাসী, ধরপাকড়, মারপিট, দমন-পীড়ন এবং বাক স্বাধীনতা ও সভা সমাবেশের উপর হস্তক্ষেপ ইত্যাদি চলছে।

এছাড়াও তিন পার্বত্য জেলার সাধারণ প্রশাসন, আইন-শৃঙ্খলা, পুলিশ, ভূমি ও ভূমি ব্যবস্থাপনা, বন ও পরিবেশ, পর্যটন, মাধ্যমিক শিক্ষা, উন্নয়ন ইত্যাদি বিষয়গুলো এখনো তিন পার্বত্য জেলা পরিষদে হস্থান্তর করা হয়নি। পার্বত্য চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পরিষদ আইন কার্যকর করা হয়নি।  ভূমি বিরোধ নিস্পত্তি, সেটেলার বাঙালিদের পার্বত্য চট্টগ্রামের বাইরে সম্মানজনক পুনর্বাসন, ভারত প্রত্যাগত শরণার্থী ও অভ্যন্তরীণ জুম্ম উদ্বাস্তদের স্ব-স্ব জায়গা-জমি প্রত্যর্পণ পূর্বক যথাযথ পুনর্বাসন করা হয়নি।

জননেত্রী শেখ হাসিনা বলছেন, “চুক্তি মোতাবেক পার্বত্য তিন জেলার বেশ কিছু দ্বায়িত্ব জেলা পরিষদের হাতে হস্তান্তরের কথা ছিল। ইতোমধ্যে আমরা খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদের কাছে ৩০টির মত বিষয়, বান্দরবানে ২৮টি বিষয় এবং রাঙামাটিতে ৩০টি বিষয় হস্তান্তর করেছি। সেনা ক্যাম্পগুলি চাহিদা মতো প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়েছে।”

এছাড়া সড়কসহ বিভিন্ন অবকাঠামো উন্নয়ন, মোবাইল ফোন পরিবেসা চালু, প্রাথমিক, কারিগরি, মেডিকেল কলেজসহ উচ্চতর শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও হাসপাতাল গড়ে তোলাসহ ওই এলাকার অর্থ-সামাজিক, পর্যটন ও ব্যবসা-বাণিজ্য সম্প্রসারণে উদ্যোগ নেওয়ার বলেছেন।

পার্বত্য শান্তি চুক্তি উপলক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রী এবং রাষ্ট্রপতি পৃথক বাণী দিয়েছেন। মহামান্য রাষ্ট্রপতির বাণীতে পার্বত্য এলাকার উন্নয়ন সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে সকলকে ঐক্যবদ্ধ প্রয়াস চালানোর আহ্বান করেছেন সেই সাথে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান যে অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখেছিলেন সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় তা বাস্তবায়ন সম্ভব বলে তিনি আশাবাদী।

প্রধানমন্ত্রীর বাণীতে পার্বত্য জেলাসমূহের জনগণ ও দেশবাসীকে শুভেচ্ছা জানিয়ে বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রাম অঞ্চলের দীর্ঘদিনের সংঘাতময় পরিস্থিতি নিরসনের লক্ষ্যে ১৯৯৭ সালের ২ ডিসেম্বর কোন তৃতীয় পক্ষের মধ্যস্থতা ছাড়াই আওয়ামী লীগ সরকার ও পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির মধ্যে এই ঐতিহাসিক চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। বিশ্ব ইতিহাসে এটি একটি বিরল ঘটনা। তিনি আশা করেন , সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় পার্বত্য চট্টগ্রাম অঞ্চলের মানুষের আর্থসামাজিক উন্নয়নের মাধ্যমে আমরা জাতির পিতার সুখী-সমৃদ্ধ, শান্তিপূর্ণ স্বপ্নের সোনার বাংলাদেশ গড়ে তুলতে সক্ষম হবো।

এদিকে শান্তি দুই দশক পূর্ণ হলেও এখনো মুখ্য ধারাগুলো অনুযায়ী বাস্তবায়ন হয়নি বলে জুম্ম জনগণও বার বার অভিযোগ করেছেন। তাদের মনে এখন বিভিন্ন প্রতিক্রিয়া বিরাজ করছে। ক্ষমতাসীন সরকারের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বার বার ক্ষমতায় শেষ পর্যায়ে মধ্যে এসে পৌঁছলে একি গুণগান ধরে বলেও তাদের অভিযোগ। সেই কয়েক বছর ধরে আশ্বাস দিয়ে আসছিলেন শান্তি চুক্তি প্রধান বিষয়গুলো খুব শিগ্রি বাস্তবায়ন করা হবে। কিন্তু সেই অনুযায়ী বাস্তবায়ন না হওয়ায় পাহাড়ীদের মনে হতাশা দেখা দিয়েছে। ঐতিহাসিক চুক্তির আজ বিশ বছর হলেও জুম্ম জনগণের মাঝে এখনো সুফল আসেনি প্রতিনিয়ত সাম্প্রদায়িক হামলার শিকার সহ জুম্মগণের নিরাপত্তা অনিশ্চিত হয়ে পড়ছে বলে এমনই মনে করেন সংশ্লিষ্টরা । তাদের দাবি চুক্তি অনুযায়ী মৌলিক ধারাগুলো বাস্তবায়ন করে জুম্মগণের মাঝে স্থায়ী শান্তি ফিরিয়ে আনা।

বোধিপ্রিয় লারমা(সন্তু) মনে করেন, পার্বত্য চট্টগ্রামের সামগ্রিক পরিস্থিতি উদ্বেগজনক ও অত্যন্ত নাজুক। জুম্ম জনগণ নিরাপত্তাহীন ও অনিশ্চিত এক চরম বাস্তবতার মুখোমুখী হয়ে কঠিন জীবনযাপনে বাধ্য হচ্ছে । বস্তত পার্বত্য চট্টগ্রামের বিরাজমান সমস্যা রাজনৈতিক ও শান্তিপূর্ণ উপায়ে সমাধানের ক্ষেত্রে পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি বাস্তবায়নের বিকল্প নেই।

আপনার মন্তব্য

এ বিভাগের আরো খবর



আলোচিত