শিরোনাম

  ঢাবি শিক্ষার্থী প্রকট চাকমাসহ ১৩ শিক্ষার্থী পেলেন জগন্নাথ হল স্বর্ণপদক   চট্টগ্রামসহ অনেক জায়গায় ভারী বর্ষণ হতে পারে   ভিয়েতনামে বন্যায় ২০ জনের মৃত্যু , ১ লাখ ১০ হাজার হেক্টর জমির ফসল বিনষ্ট   দৈনিক আমার দেশ পত্রিকার ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক মাহমুদুর রহমানের ওপর হামলা   ছাত্রলীগকে প্রধানমন্ত্রী সতর্ক করেছেন: কাদের   থানকুনি পাতার জাদুকরি উপকারিতা   চট্টগ্রাম কর্ণফুলীতে ধর্ষণের শিকার গৃহবধূ, গ্রেফতার ৩   পাহাড়ে শান্তি প্রতিষ্ঠা ও উন্নয়নে সেনাবাহিনীর ভূমিকা অপরিসীম : প্রধানমন্ত্রী   চিকিৎসা খাতে নতুন আবিষ্কার রঙিন ও থ্রি-ডি এক্স-রে   গণসংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে কেঁদেছেন প্রধানমন্ত্রী   না ফেরার দেশে রাজীব মীর   নানিয়াচর উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান প্রীতিময় চাকমাকে অপহরণ   ছেলেদের চেয়ে এবারও এগিয়ে মেয়েরা   চট্টগ্রাম বোর্ডের পাশের হার ৬২.৭৩ %   যারা ফেল করেছে তাদের বকাঝকা করবেন না : প্রধানমন্ত্রী   এইচএসসি তে পাসের ধস নেমেছে এবার   এইচএসসি ও সমমানে পাসের হার এবার ৬৬.৬৪   হাসপাতাল ছাড়ার পর এবার থাই কিশোররা সবাই শ্রামণ হয়ে প্রবজ্যা গ্রহণ করবে   থাইল্যান্ডের গুহায় আটকা পড়া কিশোররা হাসপাতাল ছেড়েছে   ৮ দল নিয়ে বাম গণতান্ত্রিক জোটের আত্মপ্রকাশ
প্রচ্ছদ / জাতীয় / রংপুরে তাণ্ডব: ৭ দিনেও গ্রেফতার হয়নি ‘মূল হোতারা’

রংপুরে তাণ্ডব: ৭ দিনেও গ্রেফতার হয়নি ‘মূল হোতারা’

প্রকাশিত: ২০১৭-১১-১৭ ২০:১৩:৫৬

নিউজ ডেস্ক

রংপুরের পাগলাপীর সলেয়াশাহ ঠাকুরপাড়া এলাকায় হিন্দু বাড়িতে হামলা, ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ ও লুটপাটের ঘটনার সাতদিন পরও ঘটনার ‘মূল হোতা ও উস্কানিদাতারা’ গ্রেফতার হয়নি। এ নিয়ে ক্ষতিগ্রস্তদের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। তবে পুলিশ বলেছে, তাদের গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

এদিকে, যার ফেসবুক আইডি থেকে ধর্ম অবমাননার অভিযোগ আনা হয়েছে সেই টিটু রায়কে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করছে গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। তবে প্রথম দিন তিনি তেমন কিছুই বলেনি বলে জানিয়েছে তারা। টিটুর দেয়া তথ্য যাচাই করে দেখছে পুলিশ।

এ সম্পর্কে ডিবির ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শরিফুল ইসলাম বলেন, 'রিমান্ডের প্রথম দিন টিটু রায় তেমন কিছু বলেনি।'

পুলিশ ও গোয়েন্দা কর্মকর্তারা জানান, আগামী সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে দেশে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির পাঁয়তারা চলছে। এরই অংশ হিসেবে ঠাকুরপাড়ার টিটু রায়ের ফেসবুকে ধর্ম অবমাননার কথিত পোস্ট নিয়ে সাধারণ মানুষকে খেপিয়ে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা চালায় বিশেষ রাজনৈতিকদলের নেতাকর্মীরা। ওই পোস্ট নিয়ে গত ১০ নভেম্বর জুমার নামাজের পর সলেয়াশাহ এলাকায় মানববন্ধন ও বিক্ষোভ সমাবেশ ডাকা হয়। সেখানে বক্তব্য রাখেন বিএনপির সহযোগী সংগঠন জাতীয়তাবাদী ওলামা দলের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক ও রংপুর জেলা সভাপতি ইনামুল হক মাজেদি, খলেয়া ইউনিয়ন জামায়াতের সেক্রেটারি ও সলেয়াশাহ জামে মসজিদের ঈমাম সিরাজুল ইসলাম, জামায়াত নেতা মোস্তাইন বিল্লাহ, ইউনিয়ন বিএনপি নেতা মাসুদ রানাসহ অন্যান্যরা।

তারা আরও জানান, পরে তাদের নেতৃত্বে ঠাকুরপাড়া এলাকায় হিন্দুদের বাড়িঘরে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করা হয়। এ নিয়ে পুলিশের সঙ্গে বিক্ষোভকারীদের সংঘর্ষ বাধে। এতে খলেয়া ইউনিয়ন জামায়াতের সক্রিয়কর্মী হাবিব মিয়া মারা যান। ওই ঘটনায় আহত হয় ৪০ জন। তাদের বেশিরভাগই জামায়াত-শিবির ও বিএনপির নেতাকর্মী।

পুলিশ জানিয়েছে, হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আহতদের নজরদারিতে রাখা হয়েছে। তাদের গ্রেফতার করা হবে। সমাবেশের পর হামলা, অগ্নিসংযোগ, বিক্ষোভ, সংঘর্ষের ভিডিও এখন পুলিশ ও গোয়েন্দা সংস্থার হাতে। সেসব দেখে গ্রেফতার অভিযান চালানো হচ্ছে। গত ৫ দিনে ১৯৪ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে; তাদের বেশিরভাগই জামায়াত-শিবির কর্মী।

গোয়েন্দা সংস্থার একটি সূত্র জানায়, ঘটনার চার দিন আগে জাপাপন্থি সরকারি এক কর্মকর্তা ও জামায়াত-বিএনপির নেতাদের বাড়িতে এ বিষয়ে বৈঠক হয়। ওই ‘হোতাদের’ কাউকেই পুলিশ গ্রেফতার করতে পারেনি।

বাড়িঘরে হামলা ও অগ্নিসংযোগের ঘটনার ‘মূল হোতাদের’ গ্রেফতার করতে না পারায় ঠাকুরপাড়ার হিন্দু পরিবারের সদস্যদের মধ্যে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। এ প্রসঙ্গে সুধীর রায় সমকালকে বলেন, 'পুলিশ টিটু রায়কে গ্রেফতার করতে পারল। অথচ ঘটনার সাতদিনেও চিহ্নিত মূল হোতাদের গ্রেফতার করতে পারেনি। মনে হচ্ছে, তারা ইচ্ছে করে হোতাদের গ্রেফতার করছে না।'

পুলিন রায় ও কান্তি বালা বলেন, পুলিশের ভূমিকা নিয়ে সন্দেহ হচ্ছে। তারা টিটুকে দ্রুত গ্রেফতার করতে পারলেও ঘটনার ‘মূল উস্কানিদাতা,  ইন্ধনদাতা ও নেতৃত্বদানকারী’ জামায়াত-বিএনপির নেতাদের গ্রেফতার করতে পারছে না। এটা মেনে নেয়া যায় না।

গত শনিবার এ ঘটনার ‘মূলহোতা ও উস্কানিদাতাদের’ একজন খলেয়া ইউনিয়ন জামায়াতের সেক্রেটারি ও সলেয়াশাহ জামে মসজিদের ঈমাম সিরাজুল ইসলামকে পুলিশ গ্রেফতার করে। তাকে ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদের পর জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে।

পুলিশ জানিয়েছে,জিজ্ঞাসাবাদে সিরাজুল ইসলাম হিন্দু বাড়িতে হামলা-অগ্নিসংযোগের ঘটনায় বেশ কিছু তথ্য দিয়েছেন। কারা, কারা এর ‘উস্কানিদাতা ও ইন্ধনদাতা’ তাদের নামও বলেছেন। সেগুলো যাচাই-বাছাই করে দেখা হচ্ছে। গত মঙ্গলবার সিরাজুলের ছেলে শিবিরনেতা আবদুল্লাহ তারেককে গ্রেফতার করা হয়েছে। এ ছাড়া অন্য তিন ‘হোতাকে’ এখনও গ্রেফতার করা সম্ভব হয়নি। তারা যাতে সীমান্ত পেরিয়ে পালিয়ে ভারতে যেতে না পারে সেজন্য সীমান্ত এলাকায় বর্ডার গার্ড পুলিশকে (বিজিবি) বাড়তি নজরদারি রাখতে বলা হয়েছে।

গোয়েন্দা সূত্র জানিয়েছে, ওই ব্যক্তিরা বিভিন্ন নাশকতা ও বিশৃঙ্খলার কাজে জড়িত।

পুলিশ সুপার মিজানুর রহমান বলেন, "সলেয়াশাহ ঠাকুরপাড়া এলাকার হিন্দু বাড়িতে অগ্নিসংযোগ ও ভাঙচুরের ঘটনায় ‘মূল হোতাদের’ গ্রেফতারে অভিযান চলছে। এর সাথে জামায়াত-বিএনপি-জাপার যারাই জড়িত থাকুক না কেন তাদের গ্রেফতার করে আইনে সোপর্দ করা হবে। কাউকেই ছাড়া দেয়া হবে না।"

এদিকে, বুধবার টিটুকে চারদিনের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেছে ডিবি। তদন্ত কর্মকর্তা ডিবির উপপরিদর্শক (এসআই) বাবুল ইসলাম বলেন, 'টিটু রায়কে জিজ্ঞাসাবাদ অব্যাহত রয়েছে। প্রথম দিনে কিছু তথ্য দিয়েছে তা আমরা খতিয়ে দেখছি।'

তবে ধর্ম অবমাননার পোস্টটি টিটু দিয়েছেন কি-না সে বিষয়ে তদন্ত কর্মকর্তা কিছু বলেননি।

সূত্রঃ সমকাল ।

আপনার মন্তব্য

আলোচিত