শিরোনাম

  ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর জন্য মাতৃভাষায় পুস্তক প্রকাশনার বিধান রেখে খসড়ার চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা   সরকারী চাকরিতে ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী ও পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর জন্য কোটা না হলেও সমস্যা হবে না   রুয়েটে ভর্তি পরীক্ষার আবেদন শুরু   দুই আদিবাসী কিশোরী ধর্ষণের ঘটনায় অভিযুক্তদের সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি   দেশের বিভিন্ন স্থানে বৃষ্টি অথবা বজ্রবৃষ্টি ও ভারী বর্ষণ হতে পারে   আদিবাসী মানবাধিকার সুরক্ষাকর্মীদের সম্মেলন ২০১৮ উদযাপন   ব্লগার বাচ্চু হত্যার সঙ্গে ‘জড়িত’ ২ জঙ্গি নিহত   জুমের বাম্পার ফলনে রাঙ্গামাটির চাষিদের মুখে হাসি   সরকারি চাকরিতে আদিবাসী কোটা বহাল দাবি জানাল আদিবাসীরা   আয়ারল্যান্ড প্রবাসী বাংলাদেশের এক মন্ত্রী দ্বারা হেনস্ত হওয়াতে হিন্দু, বৌদ্ধ ও খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের নিন্দা   শেখ হাসিনার জনপ্রিয়তা উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি পেয়েছে   মিয়ানমারে রয়টার্সের দুই সাংবাদিককে সাত বছরের কারাদণ্ড দিয়েছে আদালত   শহীদ আলফ্রেড সরেন হত্যার ১৮ বছর: হত্যাকারীদের দ্রুত বিচারের দাবি জাতীয় আদিবাসী পরিষদের   ভারতের কাছে ১-০ গোলে হেরেছে বাংলাদেশের মেয়েরা   সরকারী চাকরিতে নিয়োগের ক্ষেত্রে মুক্তিযোদ্ধা ছাড়া সব কোটা বাতিল হচ্ছে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী   জাতিসংঘের সাবেক মহাসচিব কফি আনান মারা গেছেন   ঈদের ছুটি কাটানো হলোনা টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ার নিরীহ ধীরাজ চাকমার   খাগড়াছড়িতে পৃথক ঘটনার জন্য জেএসএস(সংস্কারবাদী) ও নব্য মুখোশ বাহিনীকে দায়ী করেছে : ইউপিডিএফ   নানিয়ারচর থেকে খাগড়াছড়ি   খাগড়াছড়িতে ৬ জনকে গুলি করে হত্যা !
প্রচ্ছদ / জাতীয় / রংপুরে তাণ্ডব: ৭ দিনেও গ্রেফতার হয়নি ‘মূল হোতারা’

রংপুরে তাণ্ডব: ৭ দিনেও গ্রেফতার হয়নি ‘মূল হোতারা’

প্রকাশিত: ২০১৭-১১-১৭ ২০:১৩:৫৬

নিউজ ডেস্ক

রংপুরের পাগলাপীর সলেয়াশাহ ঠাকুরপাড়া এলাকায় হিন্দু বাড়িতে হামলা, ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ ও লুটপাটের ঘটনার সাতদিন পরও ঘটনার ‘মূল হোতা ও উস্কানিদাতারা’ গ্রেফতার হয়নি। এ নিয়ে ক্ষতিগ্রস্তদের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। তবে পুলিশ বলেছে, তাদের গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

এদিকে, যার ফেসবুক আইডি থেকে ধর্ম অবমাননার অভিযোগ আনা হয়েছে সেই টিটু রায়কে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করছে গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। তবে প্রথম দিন তিনি তেমন কিছুই বলেনি বলে জানিয়েছে তারা। টিটুর দেয়া তথ্য যাচাই করে দেখছে পুলিশ।

এ সম্পর্কে ডিবির ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শরিফুল ইসলাম বলেন, 'রিমান্ডের প্রথম দিন টিটু রায় তেমন কিছু বলেনি।'

পুলিশ ও গোয়েন্দা কর্মকর্তারা জানান, আগামী সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে দেশে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির পাঁয়তারা চলছে। এরই অংশ হিসেবে ঠাকুরপাড়ার টিটু রায়ের ফেসবুকে ধর্ম অবমাননার কথিত পোস্ট নিয়ে সাধারণ মানুষকে খেপিয়ে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা চালায় বিশেষ রাজনৈতিকদলের নেতাকর্মীরা। ওই পোস্ট নিয়ে গত ১০ নভেম্বর জুমার নামাজের পর সলেয়াশাহ এলাকায় মানববন্ধন ও বিক্ষোভ সমাবেশ ডাকা হয়। সেখানে বক্তব্য রাখেন বিএনপির সহযোগী সংগঠন জাতীয়তাবাদী ওলামা দলের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক ও রংপুর জেলা সভাপতি ইনামুল হক মাজেদি, খলেয়া ইউনিয়ন জামায়াতের সেক্রেটারি ও সলেয়াশাহ জামে মসজিদের ঈমাম সিরাজুল ইসলাম, জামায়াত নেতা মোস্তাইন বিল্লাহ, ইউনিয়ন বিএনপি নেতা মাসুদ রানাসহ অন্যান্যরা।

তারা আরও জানান, পরে তাদের নেতৃত্বে ঠাকুরপাড়া এলাকায় হিন্দুদের বাড়িঘরে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করা হয়। এ নিয়ে পুলিশের সঙ্গে বিক্ষোভকারীদের সংঘর্ষ বাধে। এতে খলেয়া ইউনিয়ন জামায়াতের সক্রিয়কর্মী হাবিব মিয়া মারা যান। ওই ঘটনায় আহত হয় ৪০ জন। তাদের বেশিরভাগই জামায়াত-শিবির ও বিএনপির নেতাকর্মী।

পুলিশ জানিয়েছে, হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আহতদের নজরদারিতে রাখা হয়েছে। তাদের গ্রেফতার করা হবে। সমাবেশের পর হামলা, অগ্নিসংযোগ, বিক্ষোভ, সংঘর্ষের ভিডিও এখন পুলিশ ও গোয়েন্দা সংস্থার হাতে। সেসব দেখে গ্রেফতার অভিযান চালানো হচ্ছে। গত ৫ দিনে ১৯৪ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে; তাদের বেশিরভাগই জামায়াত-শিবির কর্মী।

গোয়েন্দা সংস্থার একটি সূত্র জানায়, ঘটনার চার দিন আগে জাপাপন্থি সরকারি এক কর্মকর্তা ও জামায়াত-বিএনপির নেতাদের বাড়িতে এ বিষয়ে বৈঠক হয়। ওই ‘হোতাদের’ কাউকেই পুলিশ গ্রেফতার করতে পারেনি।

বাড়িঘরে হামলা ও অগ্নিসংযোগের ঘটনার ‘মূল হোতাদের’ গ্রেফতার করতে না পারায় ঠাকুরপাড়ার হিন্দু পরিবারের সদস্যদের মধ্যে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। এ প্রসঙ্গে সুধীর রায় সমকালকে বলেন, 'পুলিশ টিটু রায়কে গ্রেফতার করতে পারল। অথচ ঘটনার সাতদিনেও চিহ্নিত মূল হোতাদের গ্রেফতার করতে পারেনি। মনে হচ্ছে, তারা ইচ্ছে করে হোতাদের গ্রেফতার করছে না।'

পুলিন রায় ও কান্তি বালা বলেন, পুলিশের ভূমিকা নিয়ে সন্দেহ হচ্ছে। তারা টিটুকে দ্রুত গ্রেফতার করতে পারলেও ঘটনার ‘মূল উস্কানিদাতা,  ইন্ধনদাতা ও নেতৃত্বদানকারী’ জামায়াত-বিএনপির নেতাদের গ্রেফতার করতে পারছে না। এটা মেনে নেয়া যায় না।

গত শনিবার এ ঘটনার ‘মূলহোতা ও উস্কানিদাতাদের’ একজন খলেয়া ইউনিয়ন জামায়াতের সেক্রেটারি ও সলেয়াশাহ জামে মসজিদের ঈমাম সিরাজুল ইসলামকে পুলিশ গ্রেফতার করে। তাকে ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদের পর জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে।

পুলিশ জানিয়েছে,জিজ্ঞাসাবাদে সিরাজুল ইসলাম হিন্দু বাড়িতে হামলা-অগ্নিসংযোগের ঘটনায় বেশ কিছু তথ্য দিয়েছেন। কারা, কারা এর ‘উস্কানিদাতা ও ইন্ধনদাতা’ তাদের নামও বলেছেন। সেগুলো যাচাই-বাছাই করে দেখা হচ্ছে। গত মঙ্গলবার সিরাজুলের ছেলে শিবিরনেতা আবদুল্লাহ তারেককে গ্রেফতার করা হয়েছে। এ ছাড়া অন্য তিন ‘হোতাকে’ এখনও গ্রেফতার করা সম্ভব হয়নি। তারা যাতে সীমান্ত পেরিয়ে পালিয়ে ভারতে যেতে না পারে সেজন্য সীমান্ত এলাকায় বর্ডার গার্ড পুলিশকে (বিজিবি) বাড়তি নজরদারি রাখতে বলা হয়েছে।

গোয়েন্দা সূত্র জানিয়েছে, ওই ব্যক্তিরা বিভিন্ন নাশকতা ও বিশৃঙ্খলার কাজে জড়িত।

পুলিশ সুপার মিজানুর রহমান বলেন, "সলেয়াশাহ ঠাকুরপাড়া এলাকার হিন্দু বাড়িতে অগ্নিসংযোগ ও ভাঙচুরের ঘটনায় ‘মূল হোতাদের’ গ্রেফতারে অভিযান চলছে। এর সাথে জামায়াত-বিএনপি-জাপার যারাই জড়িত থাকুক না কেন তাদের গ্রেফতার করে আইনে সোপর্দ করা হবে। কাউকেই ছাড়া দেয়া হবে না।"

এদিকে, বুধবার টিটুকে চারদিনের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেছে ডিবি। তদন্ত কর্মকর্তা ডিবির উপপরিদর্শক (এসআই) বাবুল ইসলাম বলেন, 'টিটু রায়কে জিজ্ঞাসাবাদ অব্যাহত রয়েছে। প্রথম দিনে কিছু তথ্য দিয়েছে তা আমরা খতিয়ে দেখছি।'

তবে ধর্ম অবমাননার পোস্টটি টিটু দিয়েছেন কি-না সে বিষয়ে তদন্ত কর্মকর্তা কিছু বলেননি।

সূত্রঃ সমকাল ।

আপনার মন্তব্য

এ বিভাগের আরো খবর



আলোচিত