আজ রবিবার, | ১৯ নভেম্বর ২০১৭ ইং

শিরোনাম

  মিস ওয়ার্ল্ড প্রতিযোগিতায় বিশ্বসুন্দরী হলেন ভারতের মেডিক্যালের ছাত্রী মানুসি চিল্লার   অনৈতিক কাজে জড়াচ্ছে রোহিঙ্গা তরুণীরা   ট্রাকের চাপায় বান্দরবানে এক শিক্ষকের মৃত্যু   ১৯৯৩ সালে নানিয়াচর গণহত্যায় নিহতদের স্মরণে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে শোকসভা ও মোমবাতি প্রজ্জ্বলন   রাবিতে ছাত্রী অপহরণের ঘটনায় বামপন্থী ও শিক্ষার্থীদের উপাচার্যের বাসভবন ঘেরাও   হিল ভ্যালি প্রোডাকশন নিয়ে এসেছে চাকমা গান   রংপুরে তাণ্ডব: ৭ দিনেও গ্রেফতার হয়নি ‘মূল হোতারা’   রুয়েটে ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত   জেএসএস নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে মিথ্যা ও ষড়যন্ত্রমূলক মামলার প্রতিবাদে ঢাকা শাহবাগে বিক্ষোভ মিছিল   রিপনা চাকমা\'র জীবনের গল্প : কৃষ্ণ এম. চাকমা   উ. কোরিয়ার সঙ্গে বাণিজ্যিক সম্পর্ক নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে সিঙ্গাপুর   জেএসএস নেতা কর্মীদের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রমূলক মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার,ধর-পাকড় ও হয়রানির প্রতিবাদে বিক্ষোভ   রংপুরে সাম্প্রদায়িক তাণ্ডব: ২ ইউপি সদস্য আটক   রুনা লায়লার জন্মদিন আজ   পাকিস্তানে বুদ্ধের ১৭০০ বছরের সবচেয়ে পুরনো মূর্তি উন্মোচন   আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসকে আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি দিয়েছে সিটি অব অটোয়া   নিউজিল্যান্ডের বিদায়, ৩৬ বছর পর বিশ্বকাপে পেরু   রেকর্ড দামে বিক্রি ভিঞ্চির চিত্রকর্ম   উস্কানিমূলক লিফলেট বিতরণকালে ৪ রোহিঙ্গা আটক   বৃষ্টি হতে পারে আরো ২ দিন

রাঙ্গামাটিতে মানবেন্দ্র নারায়ন লারমার ৩৪তম মৃত্যুবার্ষিকী পালিত

প্রকাশিত: ২০১৭-১১-১০ ১৭:১৬:৪৫

   আপডেট: ২০১৭-১১-১০ ২২:১৯:৪৫

রাঙ্গামাটি

পার্বত্য চুক্তি বিরোধী ও জুম্মস্বার্থ পরিপন্থী সকল কার্যক্রম প্রতিরোধ করুন ,পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি বাস্তবায়নে অধিকতর আন্দোলন সংগঠিত করুন এই স্লোগানকে সামনে রেখে  পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতির সমিতির রাঙ্গামাটি জেলা কমিটির উদ্যোগে জুম্ম জনগণের জাতীয় জাগরণের অগ্রদূত ,সাবেক গণ পরিষদ ও জাতীয় সংসদ সদস্য বিপ্লবী মহান নেতা মানবেন্দ্র নারায়ন লারমার ৩৪ তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ শুক্রবার রাঙ্গামাটি শিল্পকলা একাডেমিতে স্মরণ শোভা আয়োজন করা হয়। জনসংহতি সমিতির রাঙ্গামাটি জেলা কমিটির সভাপতি সুবর্ণ চাকমার সভাপতিত্বে স্মরণশোভার আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জনসংহতি সমিতির সভাপতি ও পার্বত্য আঞ্চলিক পরিষদের চেয়ারম্যান জ্যোতিরিন্দ্র বোধিপ্রিয় লারমা,পার্বত্য চট্টগ্রাম নাগরিক কমিটির সভাপতি গৌতম দেওয়ান ,জনসংহতি সমিতির কেন্দ্রীয় সদস্য ও আঞ্চলিক পরিষদের সদস্য গৌতম কুমার চাকমা, বাংলাদেশ আদিবাসী ফোরামের চট্টগ্রাম শাখার সভাপতি প্রকৃতি রঞ্জন চাকমা, জনসংহতি সমিতি মহিলা বিষয়ক সম্পাদক কল্পনা চাকমা, বিশিষ্ট সংগিত শিল্পী রঞ্জিত দেওয়ান, পার্বত্য চট্টগ্রাম যুব সমিতির রাঙ্গামাটি জেলা কমিতির সাধারন সম্পাদক অরুণ ত্রিপুরা, পাহাড়ী ছাত্র পরিষদের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক সুমন মারমা প্রমুখ ব্যক্তিবর্গ।

জনসংহতি সমিতির রাঙ্গামাটি জেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক নীলোৎপল খীষা ও সদস্য সুপ্রভা চাকমার সঞ্চালনায় অনুষ্টিত স্মরণশোভায় শোক প্রস্তাব পাঠ করেন জনসংহতি সমিটির ছাত্র ও যুব বিষয়ক সম্পাদক ত্রিজিনাদ চাকমা।

স্মরণসভার পুর্বে সকাল ৮ টায় রাজবাড়িস্থ জেলা শিল্পকলা একাডেমী প্রাঙ্গণ থেকে প্রভাতফেরী শুরু হয়। ব্যানার ফেস্টুন সহকারে দুই লাইন সারিবদ্ধ হয়ে সুশৃঙ্খল ভাবে বনরুপা প্রদক্ষিণ করে প্রভাতফেরীতি শিল্পকলা একাডেমিতে এসে  শেষ হয়। তারপর শুরু হয় অস্থায়ী শহীদ মিনার ও এমএন লারমার প্রতিকৃতিতে সারিবদ্ধভাবে বিভিন্ন সংগঠন ও ব্যক্তিবর্গের পুষ্পমালা অর্পণ। পুষ্পমাল্য শেষে শুরু হয় স্মরণশোভা ।

জনসংহতি সমিতির সভাপতি ও পার্বত্য চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পরিষদের চেয়ারম্যান জ্যোতিরিন্দ্র বোধিপ্রিয় লারমা বলেন, ১০ই নভেম্বর ’৮৩-তে এম এন লারমাসহ অনেককে নৃশংস হত্যা ছিল একটি রাজনৈতিক হত্যাকান্ড। এই হত্যাকান্ডের পেছনে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্র জড়িত ছিল। জুম্ম জনগণের আত্মনিয়ন্ত্রণাধিকার আন্দোলনকে চিরতরে ধ্বংস করার হীনউদ্দেশ্যে বিভেদপন্থী চার কুচক্রী দ্বারা সেই হত্যাকান্ড সংঘটিত হয়েছিল। মহান নেতাকে হত্যার মধ্য দিয়ে জুম্ম জনগণের আত্মনিয়ন্ত্রণাধিকার আন্দোলনকে নস্যাৎ করতে চেয়েছিল সেই কুচক্রী মহল। সেই বিভেদপন্থী, সুবিধাবাদী, প্রতিক্রিয়াশীল গোষ্ঠী এখনো সক্রিয় রয়েছে। তারা পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি বাস্তবায়নের আন্দোলনকে নস্যাৎ করার জন্য তারা বর্তমানে উঠে পড়ে রয়েছে। সেজন্যই আজকে স্মরনসভায় বক্তাদের বক্তব্যে সেসব সুবিধাবাদী ও প্রতিক্রিয়াশীল গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে সতর্ক হওয়ার ও তাদের প্রতিরোধ করার হওয়ার কথা উঠে এসেছে। জুম্ম সমাজে যারা সুবিধাবাদী, প্রতিক্রিয়াশীল, সরকার-শাসকগোষ্ঠীর লেজুর হয়ে নিজেদের স্বার্থ পরিপূরণে সবসময় যারা সচেষ্ট রয়েছে তাদের সম্পর্কে আজকের স্মরণসভা আমাদেরকে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিচ্ছে যে তাদের ব্যাপারে আমাদের আরও সচেতন হতে হবে, আরও সংগ্রামী হতে হবে। দরকার পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি বাস্তবায়নের লড়াই-সংগ্রামকে আরো উজ্জীবিত করা ও নিজেকে আরো সমর্পিত করা।

তিনি আরো বলেন, আজকে যারা এই লড়াই-সংগ্রামকে গলা টিপে হত্যা করতে চাচ্ছেন এবং আমাদের জুম্ম সমাজের সুবিধাবাদী, প্রতিক্রিয়াশীল যারা রয়েছে তাদের প্রতিরোধ ও প্রতিবিধান করা সবচেয়ে জরুরী হয়ে পড়েছে বলে আমি মনে করি। আজকে বাংলাদেশ সরকার পার্বত্য চট্টগ্রাম সমস্যা সমাধানের লক্ষ্যকে সামনে রেখে পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি সম্পাদন করেছে। কিন্তু সেই চুক্তি বাস্তবায়িত হতে পারছে না এবং সরকার বাস্তবায়ন করছে না। এখানে ষোলো আনা সরকারের অসৎ উদ্দেশ্য রয়েছে। বাংলাদেশ জন্মলাভ করেছে ৪৬ বছর হয়েছে। ৪৬ বছর ধরে আমরা পার্বত্য অঞ্চলের জুম্ম জনগণ তথা এই এলাকার পাহাড়ি-বাঙালি অধিবাসীরা আমরা সেনাশাসনে রয়েছি। সেনা শাসন, গোয়েন্দা বাহিনী, এখানকার আমলা বাহিনী, ক্ষমতাসীন দলের সেটেলারদের মিলিতভাবে যে দমন-পীড়ন, নির্যাতন, শোষণ, বঞ্চনা আজকে সীমাহীন পর্যায়ে চলে গেছে। আজকে প্রতিদিন, প্রতি মুহূর্তে আমাদের নিরাপত্তাহীন, অনিশ্চিত জীবন নিয়ে এগিয়ে যেতে হচ্ছে। এ জীবন আমরা মেনে নিতে চাই না এবং আমরা মেনে নিতে প্রস্তুত নই। সরকার চুক্তি বাস্তবায়ন চায় না। তারা পার্বত্য চট্টগ্রামকে মুসলিম অধ্যুষিত অঞ্চলে পরিণত করতে চায়। সেজন্য আজ জুম্ম জনগণের জীবন এক নিরাপত্তাহীন শ্বাসরুদ্ধকর অবস্থায় বিরাজ করছে। পার্বত্য চুক্তির পর ২০ বছর অতিক্রান্ত হলেও চুক্তি বাস্তবায়িত না হওয়ায় পার্বত্য চট্টগ্রাম আজ একটি মহা শ্মশানে পরিণত হয়েছে।

পার্বত্য চট্টগ্রাম নাগরিক কমিটির সভাপতি গৌতম দেওয়ান বলেন, ষাট দশকে ছাত্র-যুব সমাজের প্রতি এম এন লারমার আহ্বান ছিল ‘গ্রামে চলো’। তার আহ্বানে সাড়া দিয়ে শত শত যুবক গ্রামে শিক্ষকতার পেশা গ্রহণ করেছিলেন। এম এন লারমা নিজেও শিক্ষকতা করেছিলেন। শিক্ষকতার মাধ্যমে মানুষকে শিক্ষায় সচেতন করেছিলেন। শিক্ষার পাশাপাশি ঘুমন্ত জুম্ম সমাজকে রাজনৈতিকভাবে জাগরিত করেছিলেন। তিনি শুধু পার্বত্য চট্টগ্রামের নেতা নন, তিনি সমগ্র দেশের নেতা ছিলেন। তাঁর সংসদীয় বক্তব্য আমি শুনেছি। তিনি আস্তে আস্তে যুক্তিসঙ্গতভাবে বক্তব্য দিতেন এবং শব্দ প্রয়োগ করতেন। কি প্রতিকূলতার মধ্য দিয়ে তিনি সংসদীয় বক্তব্য দিতেন তা আমি দেখেছি। তাঁর বক্তব্য প্রদানকালে অনেক সাংসদ তাঁকে ঠাট্টা করতেন। কিন্তু তা সত্ত্বেও তিনি তাঁর বক্তব্য ও দাবিনামা তুলে ধরতে পিছপা হননি। উনসত্তরে অন্যতম জনপ্রিয় শ্লোগান ছিল সব কথার শেষ কথা স্বায়ত্তশাসিত পার্বত্য চট্টগ্রাম। কিন্তু কতটুকু তা অর্জিত হয়েছে? আমি মনে করি, আমরা একেবারেই বিফল হইনি। আমাদের আরো কঠোর আন্দোলন করতে হবে। আন্দোলনের মধ্য দিয়ে পার্বত্য চুক্তি বাস্তবায়ন করেই সেই সফলতার পূর্ণাঙ্গ রূপ দিতে হবে।

পার্বত্য চট্টগ্রাম নাগরিক কমিটির সভাপতি গৌতম দেওয়ান বলেন, ষাট দশকে ছাত্র-যুব সমাজের প্রতি এম এন লারমার আহ্বান ছিল ‘গ্রামে চলো’। তার আহ্বানে সাড়া দিয়ে শত শত যুবক গ্রামে শিক্ষকতার পেশা গ্রহণ করেছিলেন। এম এন লারমা নিজেও শিক্ষকতা করেছিলেন। শিক্ষকতার মাধ্যমে মানুষকে শিক্ষায় সচেতন করেছিলেন। শিক্ষার পাশাপাশি ঘুমন্ত জুম্ম সমাজকে রাজনৈতিকভাবে জাগরিত করেছিলেন। তিনি শুধু পার্বত্য চট্টগ্রামের নেতা নন, তিনি সমগ্র দেশের নেতা ছিলেন। তাঁর সংসদীয় বক্তব্য আমি শুনেছি। তিনি আস্তে আস্তে যুক্তিসঙ্গতভাবে বক্তব্য দিতেন এবং শব্দ প্রয়োগ করতেন। কি প্রতিকূলতার মধ্য দিয়ে তিনি সংসদীয় বক্তব্য দিতেন তা আমি দেখেছি। তাঁর বক্তব্য প্রদানকালে অনেক সাংসদ তাঁকে ঠাট্টা করতেন। কিন্তু তা সত্ত্বেও তিনি তাঁর বক্তব্য ও দাবিনামা তুলে ধরতে পিছপা হননি। উনসত্তরে অন্যতম জনপ্রিয় শ্লোগান ছিল সব কথার শেষ কথা স্বায়ত্তশাসিত পার্বত্য চট্টগ্রাম। কিন্তু কতটুকু তা অর্জিত হয়েছে? আমি মনে করি, আমরা একেবারেই বিফল হইনি। আমাদের আরো কঠোর আন্দোলন করতে হবে। আন্দোলনের মধ্য দিয়ে পার্বত্য চুক্তি বাস্তবায়ন করেই সেই সফলতার পূর্ণাঙ্গ রূপ দিতে হবে।

জনসংহতি সমিতির কেন্দ্রীয় সদস্য ও আঞ্চলিক পরিষদের সদস্য গৌতম কুমার চাকমা বলেন, এম এন লারমা ছিলেন মহান ব্যক্তিত্ব। তিনি ক্ষমতা গুণ, শিক্ষা গ্রহণের গুণ, পরিবর্তন হওয়ার গুণ-এর কথা বলেছিলেন। তারই আলোকে বিভেদপন্থীদেরকে ‘ক্ষমা করা ভুলে যাওয়া’ নীতির ভিত্তিতে ক্ষমা করা ও পরিবর্তন করার চেষ্টা করেছিলেন। কিন্তু তা সফল হয়নি। তিনি বলেছিলেন, আমাদের প্রধান কাজ হবে বাংলাদেশ সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলন করা। জুম্ম সমাজের সামন্ততান্ত্রিক চিন্তাধারা থেকে মানুষকে বের করে নিয়ে আসতে হবে। এজন্য তিনি সাংগঠনিক নীতি দিয়েছিলেন যেটায় তিনি বলেছিলেন, শত্রুকে নিরপেক্ষ করতে হবে, নিরপেক্ষকে সক্রিয় করতে হবে। আওয়ামীলীগের এক নেতার বক্তব্য উদ্ধৃতি দিয়ে তিনি বলেন, মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে দেশ স্বাধীন হলেও এদেশের মানুষ অসাম্প্রদায়িক ও গণতান্ত্রিক হতে পারেনি। তাই দেশের ০.০১ শতাংশ মানুষ পার্বত্য চুক্তির পক্ষে থাকলেও ৯৯.০৯ শতাংশ মানুষ চুক্তি বিরোধী। এই বাস্তবতা মনে রেখেই আমাদের কাজ করে যেতে হবে তিনি বলেন।

আপনার মন্তব্য

এ বিভাগের আরো খবর



আলোচিত