শিরোনাম

  ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর জন্য মাতৃভাষায় পুস্তক প্রকাশনার বিধান রেখে খসড়ার চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা   সরকারী চাকরিতে ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী ও পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর জন্য কোটা না হলেও সমস্যা হবে না   রুয়েটে ভর্তি পরীক্ষার আবেদন শুরু   দুই আদিবাসী কিশোরী ধর্ষণের ঘটনায় অভিযুক্তদের সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি   দেশের বিভিন্ন স্থানে বৃষ্টি অথবা বজ্রবৃষ্টি ও ভারী বর্ষণ হতে পারে   আদিবাসী মানবাধিকার সুরক্ষাকর্মীদের সম্মেলন ২০১৮ উদযাপন   ব্লগার বাচ্চু হত্যার সঙ্গে ‘জড়িত’ ২ জঙ্গি নিহত   জুমের বাম্পার ফলনে রাঙ্গামাটির চাষিদের মুখে হাসি   সরকারি চাকরিতে আদিবাসী কোটা বহাল দাবি জানাল আদিবাসীরা   আয়ারল্যান্ড প্রবাসী বাংলাদেশের এক মন্ত্রী দ্বারা হেনস্ত হওয়াতে হিন্দু, বৌদ্ধ ও খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের নিন্দা   শেখ হাসিনার জনপ্রিয়তা উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি পেয়েছে   মিয়ানমারে রয়টার্সের দুই সাংবাদিককে সাত বছরের কারাদণ্ড দিয়েছে আদালত   শহীদ আলফ্রেড সরেন হত্যার ১৮ বছর: হত্যাকারীদের দ্রুত বিচারের দাবি জাতীয় আদিবাসী পরিষদের   ভারতের কাছে ১-০ গোলে হেরেছে বাংলাদেশের মেয়েরা   সরকারী চাকরিতে নিয়োগের ক্ষেত্রে মুক্তিযোদ্ধা ছাড়া সব কোটা বাতিল হচ্ছে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী   জাতিসংঘের সাবেক মহাসচিব কফি আনান মারা গেছেন   ঈদের ছুটি কাটানো হলোনা টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ার নিরীহ ধীরাজ চাকমার   খাগড়াছড়িতে পৃথক ঘটনার জন্য জেএসএস(সংস্কারবাদী) ও নব্য মুখোশ বাহিনীকে দায়ী করেছে : ইউপিডিএফ   নানিয়ারচর থেকে খাগড়াছড়ি   খাগড়াছড়িতে ৬ জনকে গুলি করে হত্যা !
প্রচ্ছদ / জাতীয় / 'নাপ্পি' পাহাড়িদের প্রিয় খাবার - যেভাবে তৈরি হয় 'নাপ্পি'

'নাপ্পি' পাহাড়িদের প্রিয় খাবার - যেভাবে তৈরি হয় 'নাপ্পি'

প্রকাশিত: ২০১৭-১১-০৭ ২১:০০:৫৬

   আপডেট: ২০১৭-১১-০৮ ১১:২৯:০৩

সোমা তালুকদার - ডেইলি সিএইচটি

পার্বত্য চট্টগ্রামের বসবাসরত আদিবাসীদের প্রিয় খাবারের মধ্য 'নাপ্পি' ও বেশ জনপ্রিয়। এসব অঞ্চলের পাহাড়ি জুম্মরা যুগে যুগে ঐতিহ্যবাহী খাবার 'নাপ্পি' খেয়ে আসছেন। রাখাইনরা নাপ্পি বললেও তবে চাকমারা এটিকে 'চিদোল' বলে অভিহিত করে। এছাড়া অন্যান্য আদিবাসী সম্প্রদায় তাদের নিজেদের ঐতিহ্যগত ভাষায় অভিহিত করে থাকে।অনেক সময় কক্সবাজার,রাঙ্গামাটি,খাগড়াছড়ি ও বান্দবানে ভ্রমণে আসা বিদেশী পর্যটকরাও নাপ্পি খেতে আগ্রহী হয়ে উঠেন।

সামুদ্রিক চিংড়ি ও অন্যান্য গুঁড়া মাছ থেকে এই 'নাপ্পি' নামক খাবাটি তৈরি হয়ে থাকে।সঙ্গে যোগ হয় কিছু বাড়তি উপাদান। তীব্র গন্ধ যুক্ত হলেও যেকোনো তরকারির বাড়তি স্বাদ এর জুড়ি নেই।কলাপাতায় মুড়িয়ে সামান্য পুড়িয়ে শক্ত করে তরকারিতে দেওয়া হয় নাপ্পি। আবার পানিতে গুলিয়ে এবং সরাসরি ব্যবহার করা যায় তরকারির সঙ্গে। তরকারিতে মেশালে স্বাদ বাড়ে দ্বিগুণ। শুটকি মাছের মতো সব তরকারিতেই ব্যবহার করা যায়।

কক্সবাজারের সমুদ্র উপকূলের বিভিন্ন রাখাইন পল্লিতে নাপ্পি তৈরি করা হয়। কক্সবাজারে নাপ্পি ব্যবসা হচ্ছে রাখাইনদের জীবিকার একমাত্র ভরসা।

ঐতিহ্যবাহী এই খাবারের একটা বড় অংশ তৈরি হয় কক্সবাজারের চৌফলদণ্ডী, খুরুশকুল, মহেশখালী, কুতুবদিয়া, টেকনাফসহ বিভিন্ন উপকূলীয় এলাকার রাখাইন পল্লিতে। জেলার আট হাজার রাখাইনসহ অন্তত ৩০ হাজার মানুষ নাপ্পি উৎপাদন ও বিপণনে জড়িত।

তাদের সামাজিক বিভিন্ন অনুষ্ঠানে এই নাপ্পি খাবারের তালিকায় রাখা হয়ে থাকে। শুধু রাখাইন নয়, আদিবাসীদের বহু নৃতাত্ত্বিক গোষ্ঠী নাপ্পি পছন্দ করে বেশি। তাই দেশের পার্বত্য চট্টগ্রামসহ উত্তর বঙ্গের অনেক এলাকা এবং ভারত শ্রীলঙ্কা, সিঙ্গাপুরসহ বিভিন্ন দেশে ঐ সম্প্রদায়ের খাদ্য উপাদান হিসেবে নাপ্পির কদর আকাশ ছোঁয়া বলা যায়।

কক্সবাজার ও পার্বত্য চট্টগ্রামে প্রতি কেজি নাপ্পি বিক্রি হয় ৩০০থেকে ৪০০ টাকায়। তবে গুণগত মান অনুযায়ী মাঝে মধ্যে 'নাপ্পির' দাম চড়া হয়ে থাকে।

সাগর থেকে ধরে আনা কাঁচা চিংড়ি খোলা মাঠে ১২ ঘণ্টা রোদে শুকিয়ে শুঁটকি করা হয়। ওই শুঁটকি ঘরে নিয়ে ঢেঁকিতে চূর্ণ করা হয়। তারপর ওই শুঁটকির গুঁড়া আরও ২৪ ঘণ্টা রোদে শুকানো হয়। এই গুঁড়া করা শুঁটকির সঙ্গে পানি, লবণ ও নানা দ্রব্য মিশিয়ে তৈরি করা হয় নাপ্পি। এরপর ২০ কেজি ওজনের ঝুড়ি বোঝাই করে ওই নাপ্পি গুদামজাত করা হয়।

প্রতি সপ্তাহে কক্সবাজারের বিভিন্ন রাখাইন পল্লী থেকে অন্তত ৫০০ মণ নাপ্পি বিভিন্ন জায়গায় সরবরাহ করা হয়। যেমন-রাঙ্গামাটি,খাগড়াছড়ি,বান্দরবান ইত্যাদি জেলাতে বিভিন্ন বাজারে ব্যবসায়ীরা 'নাপ্পি' বানিজ্যিক উদ্দেশ্যে সরবরাহ করে থাকে।

বিশেষ করে পার্বত্য চট্টগ্রামের আদিবাসীদের এটি প্রিয় খাবার হওয়ায় জুম্মদের ঘরে ঘরে এই 'নাপ্পি' দেখতে পাওয়া যায়। 'নাপ্পি' বিভিন্ন তরিতরকারীতে মিশিয়ে খাওয়া যায়। আদিবাসী মেয়েরা যুগে যুগে 'নাপ্পি' দিয়ে বিভিন্ন খাবার তৈরি করার অভ্যস্ত হওয়ায় পরিবারে প্রায় সবসময় বিভিন্ন সবজির সাথে বা আগুনে পুড়ে মরিচের সাথে 'নাপ্পি' খাবার খেয়ে থাকে। কালের পরিক্রমায় বর্তমানে পার্বত্য জেলার বাঙ্গালিরাও অনেকে পাহাড়ীদের খাবার 'নাপ্পি' খাওয়া অভ্যস্ত হয়ে গেছে।যা অনেক বাঙালি পাহাড়িদের মতন রেসিপি দিয়ে খেতে ভালবাসে।

'নাপ্পি' চাহিদা ও লাভজনক হওয়াতে রাখাইন সম্প্রদায়ের জেলে এবং ব্যবসায়ীদের পাশাপাশি মুসলিমরাও কয়েক বছর থেকে নাপ্পি প্রস্তুত ও বাজারজাতকরণের সঙ্গে জড়িয়ে পড়েছে।এছাড়া আন্তর্জাতিকভাবে 'নাপ্পি' চাহিদা থাকাই বিদেশেও বাণিজ্যিক উদ্দেশ্যে রপ্তানি করা হচ্ছে।

আপনার মন্তব্য

এ বিভাগের আরো খবর



আলোচিত