শিরোনাম

  ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর জন্য মাতৃভাষায় পুস্তক প্রকাশনার বিধান রেখে খসড়ার চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা   সরকারী চাকরিতে ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী ও পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর জন্য কোটা না হলেও সমস্যা হবে না   রুয়েটে ভর্তি পরীক্ষার আবেদন শুরু   দুই আদিবাসী কিশোরী ধর্ষণের ঘটনায় অভিযুক্তদের সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি   দেশের বিভিন্ন স্থানে বৃষ্টি অথবা বজ্রবৃষ্টি ও ভারী বর্ষণ হতে পারে   আদিবাসী মানবাধিকার সুরক্ষাকর্মীদের সম্মেলন ২০১৮ উদযাপন   ব্লগার বাচ্চু হত্যার সঙ্গে ‘জড়িত’ ২ জঙ্গি নিহত   জুমের বাম্পার ফলনে রাঙ্গামাটির চাষিদের মুখে হাসি   সরকারি চাকরিতে আদিবাসী কোটা বহাল দাবি জানাল আদিবাসীরা   আয়ারল্যান্ড প্রবাসী বাংলাদেশের এক মন্ত্রী দ্বারা হেনস্ত হওয়াতে হিন্দু, বৌদ্ধ ও খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের নিন্দা   শেখ হাসিনার জনপ্রিয়তা উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি পেয়েছে   মিয়ানমারে রয়টার্সের দুই সাংবাদিককে সাত বছরের কারাদণ্ড দিয়েছে আদালত   শহীদ আলফ্রেড সরেন হত্যার ১৮ বছর: হত্যাকারীদের দ্রুত বিচারের দাবি জাতীয় আদিবাসী পরিষদের   ভারতের কাছে ১-০ গোলে হেরেছে বাংলাদেশের মেয়েরা   সরকারী চাকরিতে নিয়োগের ক্ষেত্রে মুক্তিযোদ্ধা ছাড়া সব কোটা বাতিল হচ্ছে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী   জাতিসংঘের সাবেক মহাসচিব কফি আনান মারা গেছেন   ঈদের ছুটি কাটানো হলোনা টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ার নিরীহ ধীরাজ চাকমার   খাগড়াছড়িতে পৃথক ঘটনার জন্য জেএসএস(সংস্কারবাদী) ও নব্য মুখোশ বাহিনীকে দায়ী করেছে : ইউপিডিএফ   নানিয়ারচর থেকে খাগড়াছড়ি   খাগড়াছড়িতে ৬ জনকে গুলি করে হত্যা !
প্রচ্ছদ / জাতীয় / পাহাড়কে পাহাড়ের মতো থাকতে দিতে হবে, নইলে বারবার এমন ধস ঘটবে : জিমিত চাকমা

পাহাড়কে পাহাড়ের মতো থাকতে দিতে হবে, নইলে বারবার এমন ধস ঘটবে : জিমিত চাকমা

প্রকাশিত: ২০১৭-১১-০২ ২২:৫৬:৫২

   আপডেট: ২০১৭-১১-০৩ ১৩:৩৪:২৩

প্রথম আলো

‘সমতলের মানুষের মতো পাহাড় কেটে ঘর করার পরিণাম এই পাহাড়ধস। পাহাড়কে পাহাড়ের মতো থাকতে দিতে হবে। নইলে বারবার এমন ধস ঘটবে। প্রাণ ঝরবে মানুষের।

পাহাড়ধসের ঘটনায় প্রাকৃতিক দুর্যোগের সঙ্গে মানবসৃষ্ট সমস্যাকেও এভাবে দায়ী করলেন জিমিত চাকমা। মোনঘর আবাসিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক তিনি। বয়স ৫৫ । রাঙামাটির রাঙ্গাপানি এলাকার ওই বিদ্যালয়ে ১৯৮৫ সাল থেকে শিক্ষকতা করছেন। বিদ্যালয় ভবন থেকে প্রধান সড়ক পেরিয়ে পাহাড়ের পাদদেশে তাঁর বাড়ি। ঘর থেকে বাইরে কোনো কাজে যেতে হলে তাঁকে ১৩২টি সিঁড়ি বেয়ে ওঠা–নামা করতে হয়।

২৯ অক্টোবর বিকেলে মোনঘর স্কুলপ্রাঙ্গণে গিয়ে দেখা যায়, স্কুলটি আবার ছাত্রছাত্রীর পদচারণে মুখর। সেখানে দেখা হয় জিমিত চাকমার সঙ্গে। বৈঠক ঘরের পাশে দাঁড়িয়ে অনেক কথা হলো। পাহাড়ধসের দুঃসহ স্মৃতিসহ নানা প্রসঙ্গ উঠে এল।

১৩ জুন রাঙামাটিতে যেদিন ভয়াবহ পাহাড়ধসের ঘটনা ঘটে, জিমিত চাকমা সেদিন তাঁর পাশের ঘরে থাকা দুজন ছাত্রকে ঘুম থেকে তুলে না আনলে তাঁরাও মৃত্যুর মিছিলে মিলে যেত কিংবা থাকত নিখোঁজ মানুষের তালিকায়। পাহাড় বেয়ে জল এসে ভরে যায় জিমিত চাকমার চারচালা টিনের ঘর। গভীর রাতে হঠাৎ করে এমন ঘটনা আগে কখনো ঘটেনি। পানির তোড় ঠেকাতে না পেরে তিন ছুটে যান ছাত্রদের ঘরে। স্যারের ডাকে আচমকা ঘুম থেকে জেগে কিছুই ঠাওরাতে পারছিল না।

এরই মধ্যে হুড়মুড়িয়ে পাহাড়ধস। তাঁদের ঘরের ওপর এসে পড়ল মাটির চাঁই। জিমিতের ঘরটা বেঁচে যায় কোনোমতে। তবে ঝুঁকিটা এখনো আছে। ২ মাস ১০ দিন পর অনেকটা বাধ্য হয়েই তিনি ফিরে এসেছেন ঝুঁকিপূর্ণ ঘরে। পাহাড়ধসের পর অন্য ৩৫টি পরিবারের সঙ্গে তিনিও আশ্রয় নিয়েছিলেন মোনঘর আবাসিক বিদ্যালয়ে। পাহাড়ধসে রাঙ্গাপানি এলাকায় সেদিন দুজন নিহত হয়।

জিমিত চাকমা বলেন, এই পাহাড়ের উপযোগী গাছ না লাগিয়ে টাকার লোভে ভুল গাছ লাগানো হয়েছিল। এখনো চলছে তা। এটা বন্ধ করতে হবে। এখানকার পাহাড়ে গোদা, চাপালিশ, শিল কড়ই আর চাঁপা ফুলের গাছ ছাড়া অন্য কোনো গাছ লাগানো ঠিক নয়।

জিমিত চাকমা বিরসমুখে প্রথম আলোকে জানান, পুনর্বাসনের ব্যবস্থা না করেই ক্ষতিগ্রস্ত লোকজনকে শেষ পর্যন্ত ত্রাণশিবির থেকে তাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। এতে বাধ্য হয়ে তারা আগের জায়গায় ফিরে গেছে। বঞ্চিত প্রান্তিক মানুষদের পাশে এখন কে দাঁড়াবে ? পুনর্বাসনের নামে আমাদের এ এলাকায় যা করার দরকার ছিল, তার কোনোটাই হয়নি।

পাহাড়ধসের বিপর্যয় থেকে ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করছে রাঙ্গাপানি এলাকার লোকজন। কিন্তু এখনো সে রাতের দুঃসহ স্মৃতি তাঁদের তাড়িয়ে বেড়ায়। এসব মানুষের কথা, পাহাড়ধসের পাশাপাশি আমাদের মানসিক ধসের দিকটাও ভেবে দেখা দরকার।

ভিডিও :

আপনার মন্তব্য

এ বিভাগের আরো খবর



আলোচিত