শিরোনাম

  বিএনপি কাউন্সিলর দিয়ে রাজশাহীতে ৪০ আদিবাসী পরিবারকে উচ্ছেদের হুমকি   কাজাখস্তানে বাসে আগুননিহত ৫২ , প্রাণে বেঁচে গেল মাত্র পাঁচজন   'ওমাদু' এবার নিয়ে এসেছে আকর্ষনীয় চাকমা ফিল্ম 'VCR'   চাকমা জনগোষ্ঠীর গোজা বা গোত্তি পরিচিতি   প্রণব মুখার্জীকে সাকিবের উপহার   বেসরকারি ইক্যুইটি আসছে ভুটানে   কক্সবাজারে হিন্দু সম্প্রদায়ের একই পরিবারের চারজনের মৃতদেহ উদ্ধার   ঢাকা সিটিতে নির্বাচন না হলে পেছাবে না এসএসসি পরীক্ষা   কুমিল্লায় উদ্ধার করা হলো ৩শ’ বছর পুরোনো মূল্যবান বৌদ্ধ মন্দির সদৃশ নকশা   নিউজিল্যান্ডের নতুন চমক বেন হুইলার   রাখাইনে সহিংসতার পর শত শত স্কুল বন্ধ   চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সম্মানসূচক ডি.লিট ডিগ্রি পেলেন প্রণব মুখার্জি   রোহিঙ্গাদের জন্য আশ্রয়কেন্দ্র বানাচ্ছে মিয়ানমার   ২ বছরের মধ্যে রোহিঙ্গারা ফিরে যাবে, রূপরেখা চূড়ান্ত   আগামী ১৬ ফেব্রুয়ারী ঢাকাতে ' কাচালং ওয়েলফেয়ার সোসাইটি'র' এক যুগপূর্তি উপলক্ষ্যে জুম্মদের পুনর্মিলনী ও বনভোজন   আদিবাসী নারীদের মধ্যে প্রথম পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করলেন রূপানন্দা   ১০ বছর পর বেনজির ভুট্টোর হত্যার দায় স্বীকার করেছে তালেবান   আজ চবিতে যাচ্ছেন প্রণব মুখার্জি   মানুষের মনের ও চিন্তার দূষণ দূর করতে হবে : প্রণব মুখার্জি   ২ এপ্রিল থেকে এইচএসসি পরীক্ষা শুরু
প্রচ্ছদ / জাতীয় / পাহাড়কে পাহাড়ের মতো থাকতে দিতে হবে, নইলে বারবার এমন ধস ঘটবে : জিমিত চাকমা

পাহাড়কে পাহাড়ের মতো থাকতে দিতে হবে, নইলে বারবার এমন ধস ঘটবে : জিমিত চাকমা

প্রকাশিত: ২০১৭-১১-০২ ২২:৫৬:৫২

   আপডেট: ২০১৭-১১-০৩ ১৩:৩৪:২৩

প্রথম আলো

‘সমতলের মানুষের মতো পাহাড় কেটে ঘর করার পরিণাম এই পাহাড়ধস। পাহাড়কে পাহাড়ের মতো থাকতে দিতে হবে। নইলে বারবার এমন ধস ঘটবে। প্রাণ ঝরবে মানুষের।

পাহাড়ধসের ঘটনায় প্রাকৃতিক দুর্যোগের সঙ্গে মানবসৃষ্ট সমস্যাকেও এভাবে দায়ী করলেন জিমিত চাকমা। মোনঘর আবাসিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক তিনি। বয়স ৫৫ । রাঙামাটির রাঙ্গাপানি এলাকার ওই বিদ্যালয়ে ১৯৮৫ সাল থেকে শিক্ষকতা করছেন। বিদ্যালয় ভবন থেকে প্রধান সড়ক পেরিয়ে পাহাড়ের পাদদেশে তাঁর বাড়ি। ঘর থেকে বাইরে কোনো কাজে যেতে হলে তাঁকে ১৩২টি সিঁড়ি বেয়ে ওঠা–নামা করতে হয়।

২৯ অক্টোবর বিকেলে মোনঘর স্কুলপ্রাঙ্গণে গিয়ে দেখা যায়, স্কুলটি আবার ছাত্রছাত্রীর পদচারণে মুখর। সেখানে দেখা হয় জিমিত চাকমার সঙ্গে। বৈঠক ঘরের পাশে দাঁড়িয়ে অনেক কথা হলো। পাহাড়ধসের দুঃসহ স্মৃতিসহ নানা প্রসঙ্গ উঠে এল।

১৩ জুন রাঙামাটিতে যেদিন ভয়াবহ পাহাড়ধসের ঘটনা ঘটে, জিমিত চাকমা সেদিন তাঁর পাশের ঘরে থাকা দুজন ছাত্রকে ঘুম থেকে তুলে না আনলে তাঁরাও মৃত্যুর মিছিলে মিলে যেত কিংবা থাকত নিখোঁজ মানুষের তালিকায়। পাহাড় বেয়ে জল এসে ভরে যায় জিমিত চাকমার চারচালা টিনের ঘর। গভীর রাতে হঠাৎ করে এমন ঘটনা আগে কখনো ঘটেনি। পানির তোড় ঠেকাতে না পেরে তিন ছুটে যান ছাত্রদের ঘরে। স্যারের ডাকে আচমকা ঘুম থেকে জেগে কিছুই ঠাওরাতে পারছিল না।

এরই মধ্যে হুড়মুড়িয়ে পাহাড়ধস। তাঁদের ঘরের ওপর এসে পড়ল মাটির চাঁই। জিমিতের ঘরটা বেঁচে যায় কোনোমতে। তবে ঝুঁকিটা এখনো আছে। ২ মাস ১০ দিন পর অনেকটা বাধ্য হয়েই তিনি ফিরে এসেছেন ঝুঁকিপূর্ণ ঘরে। পাহাড়ধসের পর অন্য ৩৫টি পরিবারের সঙ্গে তিনিও আশ্রয় নিয়েছিলেন মোনঘর আবাসিক বিদ্যালয়ে। পাহাড়ধসে রাঙ্গাপানি এলাকায় সেদিন দুজন নিহত হয়।

জিমিত চাকমা বলেন, এই পাহাড়ের উপযোগী গাছ না লাগিয়ে টাকার লোভে ভুল গাছ লাগানো হয়েছিল। এখনো চলছে তা। এটা বন্ধ করতে হবে। এখানকার পাহাড়ে গোদা, চাপালিশ, শিল কড়ই আর চাঁপা ফুলের গাছ ছাড়া অন্য কোনো গাছ লাগানো ঠিক নয়।

জিমিত চাকমা বিরসমুখে প্রথম আলোকে জানান, পুনর্বাসনের ব্যবস্থা না করেই ক্ষতিগ্রস্ত লোকজনকে শেষ পর্যন্ত ত্রাণশিবির থেকে তাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। এতে বাধ্য হয়ে তারা আগের জায়গায় ফিরে গেছে। বঞ্চিত প্রান্তিক মানুষদের পাশে এখন কে দাঁড়াবে ? পুনর্বাসনের নামে আমাদের এ এলাকায় যা করার দরকার ছিল, তার কোনোটাই হয়নি।

পাহাড়ধসের বিপর্যয় থেকে ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করছে রাঙ্গাপানি এলাকার লোকজন। কিন্তু এখনো সে রাতের দুঃসহ স্মৃতি তাঁদের তাড়িয়ে বেড়ায়। এসব মানুষের কথা, পাহাড়ধসের পাশাপাশি আমাদের মানসিক ধসের দিকটাও ভেবে দেখা দরকার।

ভিডিও :

আপনার মন্তব্য


আলোচিত