শিরোনাম

  ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর জন্য মাতৃভাষায় পুস্তক প্রকাশনার বিধান রেখে খসড়ার চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা   সরকারী চাকরিতে ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী ও পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর জন্য কোটা না হলেও সমস্যা হবে না   রুয়েটে ভর্তি পরীক্ষার আবেদন শুরু   দুই আদিবাসী কিশোরী ধর্ষণের ঘটনায় অভিযুক্তদের সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি   দেশের বিভিন্ন স্থানে বৃষ্টি অথবা বজ্রবৃষ্টি ও ভারী বর্ষণ হতে পারে   আদিবাসী মানবাধিকার সুরক্ষাকর্মীদের সম্মেলন ২০১৮ উদযাপন   ব্লগার বাচ্চু হত্যার সঙ্গে ‘জড়িত’ ২ জঙ্গি নিহত   জুমের বাম্পার ফলনে রাঙ্গামাটির চাষিদের মুখে হাসি   সরকারি চাকরিতে আদিবাসী কোটা বহাল দাবি জানাল আদিবাসীরা   আয়ারল্যান্ড প্রবাসী বাংলাদেশের এক মন্ত্রী দ্বারা হেনস্ত হওয়াতে হিন্দু, বৌদ্ধ ও খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের নিন্দা   শেখ হাসিনার জনপ্রিয়তা উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি পেয়েছে   মিয়ানমারে রয়টার্সের দুই সাংবাদিককে সাত বছরের কারাদণ্ড দিয়েছে আদালত   শহীদ আলফ্রেড সরেন হত্যার ১৮ বছর: হত্যাকারীদের দ্রুত বিচারের দাবি জাতীয় আদিবাসী পরিষদের   ভারতের কাছে ১-০ গোলে হেরেছে বাংলাদেশের মেয়েরা   সরকারী চাকরিতে নিয়োগের ক্ষেত্রে মুক্তিযোদ্ধা ছাড়া সব কোটা বাতিল হচ্ছে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী   জাতিসংঘের সাবেক মহাসচিব কফি আনান মারা গেছেন   ঈদের ছুটি কাটানো হলোনা টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ার নিরীহ ধীরাজ চাকমার   খাগড়াছড়িতে পৃথক ঘটনার জন্য জেএসএস(সংস্কারবাদী) ও নব্য মুখোশ বাহিনীকে দায়ী করেছে : ইউপিডিএফ   নানিয়ারচর থেকে খাগড়াছড়ি   খাগড়াছড়িতে ৬ জনকে গুলি করে হত্যা !
প্রচ্ছদ / জাতীয় / পাহাড়িদের সামাজিক, সাংস্কৃতিক নিরাপত্তার কথা কেউ ভাবছে না : সঞ্জীব দ্রং

পাহাড়িদের সামাজিক, সাংস্কৃতিক নিরাপত্তার কথা কেউ ভাবছে না : সঞ্জীব দ্রং

রোহিঙ্গাদের চাপে পাহাড়ে ‘পাহাড়ি' বিলীন হওয়ার আশংকা!

প্রকাশিত: ২০১৭-১০-২৫ ১৯:৩৫:১০

ফাইল ছবি/বাংলা ট্রিবিউন

ডয়চে ভেলে

আদিবাসী ফোরামের সাধারণ সম্পাদক সঞ্জীব দ্রং রোহিঙ্গা প্রসঙ্গে অনুযোগের সুরেই জার্মান সংবাদ মাধ্যম ডয়চে ভেলেকে বলেছেন, ‘‘পাহাড়িদের সামাজিক, সাংস্কৃতিক নিরাপত্তার কথা কেউ ভাবছে না৷ পাহাড়িরা তো অবর্ণণীয় অবস্থায় পড়তে যাচ্ছে৷

ক্রমশ তাদের অস্তিত্ব কঠিন অনিশ্চয়তায় পৌঁছাবে৷ এমনকি পার্বত্য চট্টগ্রাম থেকে পাহাড়িরা একেবারে  বিলীন হয়ে যাওয়ার আশংকাও তারা করছেন৷একজন পাহাড়ি হিসেবে আমি গভীরভাবে উদ্বিগ্ন৷''

তিনি আরো বলেন,  ‘‘নাইক্ষ্যংছড়িতে এরইমধ্যে এক রোহিঙ্গা  জনপ্রতিনিধিও নির্বাচিত হয়েছেন৷ তাঁর কাছে তো এমনিতেই আমাদের কেউ কোনো সমস্যার সমাধান পায় না৷

আর এই দশ লাখ যদি যোগ হয়, তাহলে যে কী হবে কে জানে৷ তাছাড়া পাহাড়ের অন্যান্য জায়গাতেও স্থানীয় জনপ্রতিনিধি থাকায় দিন দিন আমাদের বলার জায়গা কমছে৷ এসব কেউ দেখে না৷''

তিনি হতাশা জানিয়ে বলেন, ‘‘রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দিতে বাংলাদেশে কোনো জায়গা নেই, ঘুরেফিরে পাহাড়েই জায়গা দেয়া হয় সবাইকে৷ বিভিন্ন সময় পাহাড়ে আদিবাসী পুনর্বাসন করা হলেও তারা আসলে সেখানে সংখ্যালঘু৷ তাদের বেশিরভাগই বৌদ্ধ ধর্মের অনুসারী৷ মিয়ানমারে বৌদ্ধরা মুসলমান হত্যা করছে বলে এ দেশের বৌদ্ধদের অনেকেই নানান হুমকিতে পড়ছেন৷ অথচ রোহিঙ্গাদের সাহায্য করতে নিজেদের ফাণ্ড থেকে অনেকেই অর্থ সহায়তাও দিচ্ছেন৷''

উল্লেখ্য,বান্দরবান, রাঙ্গামাটি ও খাগড়াছড়ি– এই তিন জেলা নিয়ে পার্বত্য চট্টগ্রাম৷ সর্বশেষ ২০১১ সালের আদমশুমারি অনুযায়ী, পার্বত্য চট্টগ্রামের তিন জেলায় আদিবাসী আগের তুলনায় বেড়েছে ২ লাখ ৫২ হাজার ৫৬৪ জন৷ ২০০১ সালে তিন পার্বত্য জেলায় আদিবাসী ছিল ৫ লাখ ৯২ হাজার ৯৭৭ জন৷ ২০১১ সালে এই সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৮ লাখ ৪৫ হাজার ৫৪১ জনে৷ তবে এই বৃদ্ধির কারণ, অন্যান্য এলাকা থেকে আদিবাসীদের এ এলাকায় নিয়ে আসা৷ কিন্তু সাম্প্রতিক এই উদ্যোগ বাদ দিলে বিভিন্ন সময়ে নানা কারণে পাহাড়ে আদিবাসীর সংখ্যা ক্রমাগতই কমেছে৷

বর্তমানে পার্বত্য চট্টগ্রামে আছে ১১টি জনগোষ্ঠীর মানুষ৷ তাদের মধ্যে অহমিয়া, খিয়াং, খুমী, গুর্খা, চাকমা, তঞ্চঙ্গ্যা, রাখাইন, ত্রিপুরাসহ আরও বেশ কিছু জনগোষ্ঠীর বসবাস আছে এসব এলাকায়৷ সরকারি হিসেবে বাংলাদেশের মোট জনসংখ্যার ১ দশমিক ২ শতাংশ মানুষ ২৭টি আদিবাসী গোষ্ঠীর৷

স্বাধীনতার পর থেকে বাংলাদেশে অন্ততপক্ষে দশটি নৃ-গোষ্ঠী হারিয়ে গেছে, বিলুপ্ত হয়েছে তাদের ভাষা, সংস্কৃতি ও ইতিহাস৷ ১৯৪৭ সালে যে পার্বত্য চট্টগ্রামে আদিবাসী জনসংখ্যা ছিল শতকরা ৯৭ ভাগ, ১৯৬১ সালে তা কমে ৮৫ ভাগে দাঁড়ায়৷ ১৯৯৭-এ শান্তিচুক্তি স্বাক্ষরের সময় পার্বত্য চট্টগ্রামে আদিবাসী ছিল শতকরা ৫২ ভাগ৷

১৯৯৭ সালে পার্বত্য চট্টগ্রামের সংক্ষুব্ধ আদিবাসীদের সঙ্গে তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকার শান্তিচুক্তি স্বাক্ষর করার পর বিদ্রোহের অবসান হয় এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও বাংলাদেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল হয়৷ তবে এরপরও এ অঞ্চলের পাহাড়ি সম্প্রদায়ের উপর হামলা, নির্যাতন ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা অনেকবার ঘটেছে৷

অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক ড. আবুল বারকাত তাঁর এক গবেষণায় বলেছেন, ২৭ বছর আগে পার্বত্য চট্টগ্রামে আদিবাসী মানুষ ছিল ৭৫ শতাংশ৷ আর এখন তা ৪৭ শতাংশ৷

অর্থাৎ, পার্বত্য শান্তি চুক্তির পরও শতকরা ১০ ভাগ কমেছে৷ অন্যদিকে ঐ অঞ্চলে বাঙালিদের সংখ্যা ক্রমাগত বাড়ছে৷

গত আগস্ট থেকে প্রায় ছয় লাখের মতো রোহিঙ্গা মিয়ানমার থেকে বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে৷ এর আগেও বিভিন্ন সময়ে অবৈধভাবে সীমান্ত পাড়ি দিয়ে পার্বত্য এলাকায় ঢুকেছে রোহিঙ্গারা৷ আগে আসা রোহিঙ্গাদের কেউ কেউ এরইমধ্যে স্থানীয়দের সহায়তায়, প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিয়ে ভোটার হয়েছে৷

বাংলাদেশে অবস্থানরত প্রায় দশ লাখ রোহিঙ্গারঅধিকাংশই থাকছেন পার্বত্য চট্টগ্রাম বা তার কাছাকাছি এলাকায়৷ এর ফলে এরইমধ্যে পাহাড়িদের সামাজিক, সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড ও নিরাপত্তা হুমকির মুখে পড়েছে বলেও জানিয়েছেন পাহাড়িরা৷

দেশের মাটিতে পাহাড়ি জনপদের সংকট নতুন নয়৷ গত কয়েক দশকে নিরবচ্ছিন্ন শান্তির মুখ তাঁরা কখনোই দেখেননি৷ ১৯৯৭ সালে শান্তি চুক্তি স্বাক্ষরিত হলেও তা এখনো পুরোপুরি বাস্তবায়িত হয়নি৷এরই মাঝে মিয়ানমার থেকে লাখে লাখে রোহিঙ্গাদের আগমনে জেগেছে নতুন শঙ্কা৷

আপনার মন্তব্য

এ বিভাগের আরো খবর



আলোচিত