আজ রবিবার, | ১৯ নভেম্বর ২০১৭ ইং

শিরোনাম

  মিস ওয়ার্ল্ড প্রতিযোগিতায় বিশ্বসুন্দরী হলেন ভারতের মেডিক্যালের ছাত্রী মানুসি চিল্লার   অনৈতিক কাজে জড়াচ্ছে রোহিঙ্গা তরুণীরা   ট্রাকের চাপায় বান্দরবানে এক শিক্ষকের মৃত্যু   ১৯৯৩ সালে নানিয়াচর গণহত্যায় নিহতদের স্মরণে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে শোকসভা ও মোমবাতি প্রজ্জ্বলন   রাবিতে ছাত্রী অপহরণের ঘটনায় বামপন্থী ও শিক্ষার্থীদের উপাচার্যের বাসভবন ঘেরাও   হিল ভ্যালি প্রোডাকশন নিয়ে এসেছে চাকমা গান   রংপুরে তাণ্ডব: ৭ দিনেও গ্রেফতার হয়নি ‘মূল হোতারা’   রুয়েটে ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত   জেএসএস নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে মিথ্যা ও ষড়যন্ত্রমূলক মামলার প্রতিবাদে ঢাকা শাহবাগে বিক্ষোভ মিছিল   রিপনা চাকমা\'র জীবনের গল্প : কৃষ্ণ এম. চাকমা   উ. কোরিয়ার সঙ্গে বাণিজ্যিক সম্পর্ক নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে সিঙ্গাপুর   জেএসএস নেতা কর্মীদের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রমূলক মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার,ধর-পাকড় ও হয়রানির প্রতিবাদে বিক্ষোভ   রংপুরে সাম্প্রদায়িক তাণ্ডব: ২ ইউপি সদস্য আটক   রুনা লায়লার জন্মদিন আজ   পাকিস্তানে বুদ্ধের ১৭০০ বছরের সবচেয়ে পুরনো মূর্তি উন্মোচন   আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসকে আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি দিয়েছে সিটি অব অটোয়া   নিউজিল্যান্ডের বিদায়, ৩৬ বছর পর বিশ্বকাপে পেরু   রেকর্ড দামে বিক্রি ভিঞ্চির চিত্রকর্ম   উস্কানিমূলক লিফলেট বিতরণকালে ৪ রোহিঙ্গা আটক   বৃষ্টি হতে পারে আরো ২ দিন

রোহিঙ্গাদের সংক্রামক রোগ পার্বত্য চট্টগ্রামে ছড়িয়ে পড়তে পারে || বিশেষজ্ঞদের কড়া সতর্ক

প্রকাশিত: ২০১৭-১০-২০ ১৬:৪৪:৪০

   আপডেট: ২০১৭-১০-২০ ১৯:১৬:১০

অনলাইন ডেস্ক

মিয়ানমারে সেনানির্যাতনে সীমান্ত অতিক্রম করে পালিয়ে আসা অসংখ্য রোহিঙ্গা সম্প্রদায় স্বাস্থের ঝুঁকিতে রয়েছে।এদের বেশির ভাগই লোক বর্তমানে অসুস্থ। তারা সাধারণত-  হেপাটাইটিস বি, হেপাটাইটিস সি এবং পোলিও রোগের মতো অনেক রোগে আক্রান্ত।এতে কক্সবাজার, চট্টগ্রাম ও পার্বত্য চট্টগ্রামে এই ধরনের ঘটনায় সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্থ এলাকা হবে বলে স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন।

আজ শুক্রবার ইংরেজী অনলাইন দৈনিক ঢাকা ট্রিবিউনে এই তথ্য উঠে আসে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বর্তমানে নতুন শরণার্থীর সংখ্যা প্রায় ৪০% যা সরকারীভাবে ৫,৮২০০০ জন ক্যাম্পে রয়েছে আর বাকীগুলো খোলা আকাশের নিচে কক্সবাজেরের আসেপাশে বসবাস করছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন তাদের দ্রুত চিকিৎসা সেবা না দিলে রোগগুলো প্রাদুর্ভাব হয়ে আশেপাশে বিস্তার হতে পারে। যা আশেপাশে জেলা চট্টগ্রাম,বান্দরবান,খাগড়াছড়ি ও রাঙ্গামাটিতে রোগগুলো বাতাসের সংস্পর্শে ছড়িয়ে পড়তে পারে।


প্রতিবেদনে আরো বলা হয়, রোহিঙ্গারা কয়েক দশক ধরে মায়ানমারের স্বাস্থ্যবিষয়ক বৈষম্যের সম্মুখীন হয়েছে, যেখানে তাদের নাগরিকত্ব ও মৌলিক অধিকার অস্বীকার করা হয়েছে। অপুষ্টি, অস্বাস্থ্যকর জীবনযাত্রার মান এবং স্বাস্থ্যসেবাতে অক্ষমতার কারণে সম্প্রদায়ের একটি বড় অংশ ইতিমধ্যেই বাংলাদেশে আসার আগে বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হয়েছে।

অপুষ্টি, অস্বাস্থ্যকর জীবনযাত্রার মান এবং স্বাস্থ্যসেবাতে অক্ষমতার কারণে সম্প্রদায়ের একটি বড় অংশ ইতিমধ্যেই বাংলাদেশে আসার আগে বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হয়েছে।

বাংলাদেশী স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন,শরণার্থীদের নতুন ব্যাচের চারটি প্রধান রোগ ইতিমধ্যে চিহ্নিত করা হয়েছে এগুলো হল - হেপাটাইটিস বি, হেপাটাইটিস সি, পোলিও এবং এডস।

বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন,রোহিঙ্গাদের যদি একটি নির্দিষ্ট এলাকায় রাখা না হয় তাহলে রোগ দ্রুত ছড়িয়ে যাবে। তাদের সাথে কাশি, সর্দি, ইনজেকশন, আবর্জনা, জল এবং বায়ু দূষণে জীবাণুগুলো দ্রুত ছড়িয়ে পড়বে যদি তাদেরকে আগেবাগে সু-চিকিৎসা ও নির্দিষ্ট স্থানে বসবাসের যথাপোযুক্ত ব্যবস্থা করা না হয়।

প্রতিবেদনে আরো বলা হয়,শরণার্থীদের সঠিক চিকিৎসা না হলে বাংলাদেশে কলেরা, যক্ষ্মা, ম্যালেরিয়া এবং খামের প্রাদুর্ভাব হতে পারে।  কক্সবাজার, চট্টগ্রাম ও পার্বত্য চট্টগ্রামে এই ধরনের ঘটনায় সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্থ এলাকা হবে বলে স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন।

সরকারী তথ্য অনুযায়ী নতুন আগমনকারী রোহিঙ্গারা ১৫ ভাগ ডায়রিয়ায় আক্রান্ত। এছাড়া বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার একটি সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে সতর্ক করে দেওয়া হয়েছে যে,রোহিঙ্গাদের মধ্যে জলপ্রবাহ ও সংক্রামক রোগের প্রাদুর্ভাব হতে পারে যা স্থানীয়দের প্রভাবিত করবে।

সরকার রোহিঙ্গাদের স্বাস্থ্যসেবা প্রদান করছে। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তত্ত্বাবধানে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক (ডিজিএইচএস) যৌথ বাহিনী বিভাগ, জাতিসংঘের সংস্থা, আন্তর্জাতিক ও স্থানীয় এনজিওদের সাথে সমন্বয় সাধন এবং ব্যাপকভাবে স্বাস্থ্যসেবা প্রদানের জন্য কাজ করছে।

ডিজিএইচএস অফিশিয়ালি অয়েবসাইট প্রতিবেদনে দেখা যায়, ৭৪টি স্থায়ী স্বাস্থ্য কেন্দ্র সরকার কর্তৃক পরিচালিত,সেনাবাহিনীর ১০ টি এবং এনজিও দ্বারা ৩৯ স্বাস্থ্য কেন্দ্র উদ্বাস্তুদের স্বাস্থ্যসেবা প্রদান করা হচ্ছে। ৪৩টি মোবাইল মেডিকেল টিম এবং ২৩১ টি টিকা টিম সেখানে কাজ করছে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ইনস্টিটিউটের শিক্ষক গওহর নাইম ওয়াহরা জানান যে, রোহিঙ্গাদের জন্য মিয়ানমারের টিকাদান ব্যবস্থা ছিল না। ফলস্বরূপ, সাম্প্রতিক প্রবাহে অনেক রোহিঙ্গা ম্যালেরিয়া, যক্ষ্মা, এবং পোলিও রোগে আক্রান্ত হয়েছে।যদি এই রোগগুলি সু চিকিৎসা সেবাপ্রদান না করা হয় তাহলে সারাদেশে মারাত্মক ক্ষতি সাধন করবে। তাই এটি একটি বড় জনস্বাস্থ্য সমস্যা, "বলে তিনি জানান।

তিনি আরো বলেন , উদ্বাস্তুদেরকে উখিয়া ও টেকনাফে এমন জায়গায় স্থানান্তরিত করতে হবে যেখানে পরিষ্কার জল সহজে পাওয়া যায়।"

ঢাকা ট্রিবিউন প্রতিবেদনে আরো বলা হয়, সরকার, স্থানীয় ও বিদেশী স্বাস্থ্য পরিষেবা প্রদানকারীদের সহায়তায় রোহিঙ্গাদের জন্য এই ধরনের দুর্যোগ প্রতিরোধে টিকাদান নিশ্চিত করার চেষ্টা করা হচ্ছে কিন্তু সরবরাহের অভাবের কারণে শরণার্থীরা অনেকে সু চিকিৎসা পাচ্ছেন না।

এছাড়াও, চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারের হাসপাতালগুলিতে আক্রান্ত রোগীদের কাছ থেকে অনেকে সংক্রামক প্রবাহের কারণে সুস্থ মানুষও আক্রান্ত হয়েছে। স্বাস্থ্য সেবা সরকারি কর্মকর্তারা বলেছেন ইতিমধ্যে এইচআইভি রোগে আক্রান্ত রোহিঙ্গা রোগীর সখ্যা ৫১ জন চিহ্নিত করা হয়েছে।

কক্সবাজারের সিভিল সার্জন ডাঃ মো আবদুস সালাম বলেন, ৬,৮২০০০ শরণার্থীকে সরকার কর্তৃক কলেরা টিকা দেওয়া হয়েছে, তবে বিভিন্ন স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক সংস্থার ১,৩০০০ রোহিঙ্গাকে টিকা দেওয়া হয়েছে।

গতকাল বৃহস্পতিবার ঢাকা ট্রিবিউনকে দেওয়া সাক্ষাত্কারে সালাম জানায়, তারা ৮৫০ জন হেপাটাইটিস রোগী এবং প্রায় ৫০ টি মৃৎপাত্র রোগে আক্রান্ত রোহিঙা সনাক্ত করেছে। তাদেরকে চিকিৎসা সেবা দেওয়া হচ্ছে।

তিনি আরো জানান, রোহিঙ্গারা বেশিরভাগ জলরোগে আক্রান্ত। এদের মধ্যে ৫০০০০ হাজার রোহিঙ্গা  ফ্লু-টাইপ জীবাণু দ্বারা আক্রান্ত হয় এবং প্রায় ১৫০০০ হাজার চর্ম রোগে আক্রান্ত হয়েছে। এছাড়া প্রায় ১০০০০ হাজার বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত -এদের চিকিৎসা করা হচ্ছে।

চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ড. দেব প্রতীম বড়ুয়া বলেন, "রোহিঙ্গারা বিভিন্ন সংক্রামক ব্যাধিতে ভুগছে যা দ্রুত স্থানীদের মাঝে এই সব রোগ ছড়িয়ে পড়তে পারে যদি আমরা দ্রুত চিকিৎসা না দিই।

তাঁর সহকর্মী ড. প্রনব কুমার চৌধুরী সতর্ক করে বলেন, অসুস্থ শরণার্থীদের যথাযথ  সু চিকিৎসা না দিলে বাংলাদেশকে চরম মূল্য দিতে হবে । তিনি বলেন, ৯০% রোহিঙ্গা অশিক্ষিত এবং স্বাস্থ্যগত বিষয়ে অজ্ঞ, তাই সংক্রামক রোগ ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি রয়েছে।

সিএমসিএইচ'র পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল জালাল উদ্দিন আহমদ বলেন,আমরা রোহিঙ্গাদের জন্য আলাদা হাসপাতাল ব্যবস্থা করেছি। আমরা প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সেবা দিচ্ছি।

সিভিল সার্জন সালাম বলেন, তারা কক্সবাজার সদর হাসপাতালে ইতিমধ্যে উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক মো: আলী হোসেন বলেন, "আমরা রোহিঙ্গা শরণার্থীদের নিরবচ্ছিন্ন নজরদারিতে রাখছি এবং তাদের আন্দোলন নিরীক্ষণ করছি।"

সৌজন্যঃ ঢাকা ট্রিবিউন

আপনার মন্তব্য

এ বিভাগের আরো খবর



আলোচিত