আজ বুধবার, | ১৮ অক্টোবর ২০১৭ ইং

শিরোনাম

  ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘ঘ’ ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষা শুক্রবার   চীনে বিশ্বের দীর্ঘতম ভাসমান রাস্তা   পাহাড়ে বিপর্যয়ের শঙ্কা:রোহিঙ্গা সংকট   ফ্রান্সস্থ লাকুরনভ ধাম্মাচাক্কা বিহারে কঠিন চীবর দান সম্পন্ন   চাকমাদের খাঁ, রায়, খীসা, দেওয়ান ও তালুকদার উপাদি   অষ্ট্রেলিয়া পৌঁছেছেন উপসংঘরাজ ভদন্ত ধর্মপ্রিয় মহাথের   ছাত্র জীবনে যে সময়টা সৎব্যবহার করবে, সে জীবনে ভালো কিছু করতে পারবেঃউষাতন তালুকদার   গৌতম বুদ্ধের কিছু গুরুত্বপূর্ণ বাণী   পাহাড়ি এলাকায় বন্যহাতির আক্রমণে চার রোহিঙ্গা নিহত   রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারে ফিরে আনার আহ্বান কফি আনানের   রাঙ্গামাটিতে ঘুষ ছাড়া পাসপোর্টের পুলিশ ভেরিফিকেশন হয়না!   বাংলাদেশী বৌদ্ধ সমিতি কুয়েতের ২০১৭-২০১৯ নব গঠিত কমিটির শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠান সম্পন্ন   খাগড়াছড়িতে মাতাল স্ত্রীর হাতে স্বামী খুন-স্ত্রী পলাতক   ঢাবি ‘ক’ ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষা সম্পন্ন   আজ ভুটান রাজ পরিবারের বিবাহ বার্ষিকী   খাগড়াছড়িতে আপন শ্যালিকাকে গণধর্ষন-দুলাভাইসহ তিন জন সেটেলার গ্রেফতার   প্রধান বিচারপতির দায় নেবে নাঃ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ   \'আলোময় চাকমার\' একটি অসাধারণ জুম পাহাড়ের কবিতা   রোহিঙ্গারা মিয়ানমারের নাগরিক নয়,তারা বাঙ্গালিঃ মিয়ানমার সেনাপ্রধান   কাল চট্টগ্রামে ফ্রি সিদ্ধ ডিম খাওয়ানো হবে

প্রবারণা পূর্ণিমায় বৌদ্ধরা ফানুস না উড়িয়ে সেই অর্থ রোহিঙ্গা মুসলমানদের দান করবেন

প্রকাশিত: ২০১৭-১০-০৫ ১২:১৭:১৭

   আপডেট: ২০১৭-১০-০৫ ১৫:২৯:৫৭

অনলাইন রিপোর্ট

মিয়ানমারে রোহিঙ্গাদের উপর চলমান সহিংসতা ঘটনায় ও নির্যাতনের প্রতিবাদ জানাতে কক্সবাজারে বৌদ্ধরা আজ তাদের দ্বিতীয় বৃহত্তম ধর্মীয় উৎসব শুভ প্রবারণা পূর্ণিমা উপলক্ষ্যে ফানুস উড়াবেনা বলে ঘোষণা দিয়েছেন।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, কক্সবাজারে বসবাসরত বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের জনগণ এ সিদ্ধান্তকে সাধুবাদ জানিয়েছেন।তারা ফানুস না উড়িয়ে রোহিঙ্গা মুসলমানদের প্রতি শ্রদ্ধা ও মঙ্গল কামনা করবেন।এজন্য তারা প্রবারণা উৎসব আয়োজনের সংগ্রহীত সকল অর্থ দিয়ে নির্যাতিত রোহিঙ্গাদের মাঝে ত্রাণ বিতরণ করবেন।

কক্সবাজারের বৌদ্ধ নেতারা বলেছেন, ২০১২ সালের ২৯ সেপ্টেম্বর দুষ্কৃতকারীরা সহিংসতা চালিয়ে রামুর বৌদ্ধ মন্দির ও বৌদ্ধ পল্লীতে হামলা ও অগ্নিসংযোগ করেছিল। ওই সময় বাংলাদেশ সরকার ও দেশ-বিদেশের মানুষ রামুর অসহায় বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের পাশে দাঁড়িয়েছিল। সহানুভূতি জানিয়েছিল জাতি, ধর্ম নির্বিশেষে সকল সম্প্রদায়ের মানুষ। ধর্মের ওপর আঘাত হানায় সে সময়ও রামুর বৌদ্ধরা সকল প্রকার উৎসব বর্জন করেছিল।

এছাড়া তারা আরো দাবি করেন,মিয়ানমারে যে সহিংসতা হচ্ছে তা বৌদ্ধ ধর্মের পরিপন্থী। বৌদ্ধ ধর্মে হিংসা, বিদ্বেষ, অন্যায়, অত্যাচার, হত্যা, নির্যাতন সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। মিয়ানমারের সামরিক জান্তা যা করছে, ধর্মমতে তার ফল তাদেরকে ভোগ করতেই হবে বলে বৌদ্ধ নেতারা উল্লেখ করেন।

কক্সবাজারের বৌদ্ধ ঐক্য ও কল্যাণ পরিষদ আয়োজিত সভায় উপজেলার সকল বৌদ্ধ বিহার পরিচালনা কমিটির সম্পাদকগণ, বিভিন্ন বৌদ্ধ সংগঠনের নেতৃবৃন্দের সমন্বয়ে অনুষ্ঠিত এক জরুরি সভায় এ সিদ্ধান্ত নেন বৌদ্ধ নেতৃবৃন্দ।

কক্সবাজারের বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের সর্বোচ্চ ধর্ম গুরু ও রামু কেন্দ্রীয় সীমা বিহারের অধ্যক্ষ পণ্ডিত সত্যপ্রিয় মহাথেররের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত জরুরি সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

কক্সবাজারে  বুদ্ধসম্প্রদায় জানিয়েছেন, মূলত  রোহিঙ্গাদের প্রতি সহানুভূতি জানাতে এ বছর প্রবারণা পূর্ণিমায় জাহাজ ভাসানো ও ফানুস উড়ানো উৎসবসহ সকল প্রকার উৎসব বর্জন করা হয়েছে।সেইসঙ্গে উৎসবের অর্থ রোহিঙ্গাদের মাঝে বিতরণ করা হবে।

এদিকে,পার্বত্য ভিক্ষু সংঘ নামে বৌদ্ধ ভিক্ষুদের একটি সংগঠন রাঙামাটির জেলা প্রশাসকের কাছে রোহিঙ্গাদের সহায়তায় ৫০ হাজার টাকার একটি চেক দেন সম্প্রতি। রাঙামাটির জেলা প্রশাসক মানজুরুল মান্নান বলেন, ‘আমি এ সহায়তা পেয়ে আপ্লুত।

এটা মানবিকতার একটি নিদর্শন। সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির একটি দৃষ্টান্ত হিসেবে আমি এটিকে দেখছি।’পার্বত্য ভিক্ষু সংঘের ভিক্ষু শীলপাল থেরো বলেন, ‘রোহিঙ্গারা আমাদের আশ্রিত। তারা প্রচণ্ড ক্ষতির মুখে পড়েছেন। তাদের সহায়তা করা সবারই দায়িত্ব। এ দায়বোধ থেকেই আমরা সহায়তা করেছি।’ তিনি জানান, অর্থের পাশাপাশি তারা রোহিঙ্গাদের জন্য ত্রাণ সামগ্রী উত্তোলনের কথা ভাবছেন।

পার্বত্য জেলা খাগড়াছড়িতে বিভিন্ন সংগঠন রোহিঙ্গাদের সহায়তায় অর্থ বা অন্যান্য অনুদান সংগ্রহ করছে। ছাত্রদের এমন একটি জোটের কাছে অর্থ দিয়েছেন খাগড়াছড়ির গোলাবাড়ি মৌজার হেডম্যান উ ক্য চাই চৌধুরী। বৌদ্ধ এবং মারমা সম্প্রদায়ের এই ব্যক্তি বললেন, ‘এভাবে লাখ লাখ মানুষ অসহায় হয়ে আসছে। তাদের প্রতি যে কোনো মানবিক অনুভূতি সম্পন্ন মানুষই সদয় হবে।’

শুভ প্রবারণা পূর্ণিমা আজ বৃহস্পতিবার। বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের অন্যতম ধর্মীয় উৎসব। আড়াই হাজার বছর আগে গৌতম বুদ্ধ বুদ্ধত্ব লাভের পর আষাঢ়ী পূর্ণিমা থেকে আশ্বিনী পূর্ণিমা তিথি পর্যন্ত তিন মাস বর্ষাবাস শেষে প্রবারণা উৎসব পালন করেন। সেই থেকে বৌদ্ধ ধর্মীয় গুরুরা বর্ষাবাস শেষে দিবসটি পালন করে আসছেন।

তাই ভিক্ষুসংঘের ত্রৈমাসিক বর্ষাব্রত শেষে আসে এ প্রবারণা তিথি। প্রবারণা হলো আত্মশুদ্ধি ও অশুভকে বর্জন করে সত্য ও সুন্দরকে বরণের অনুষ্ঠান। প্রবারণা পূর্ণিমার পরদিন থেকে এক-দেড় মাস দেশের প্রতিটি বৌদ্ধবিহারে শুরু হবে কঠিন চীবর দানোৎসব।

আপনার মন্তব্য

আলোচিত