আজ বুধবার, | ২৩ আগস্ট ২০১৭ ইং

শিরোনাম

  প্যারিসে আন্তর্জাতিক আদিবাসী দিবস পালিত   বাংলাদেশ হাই-কমিশন অটোয়ায় জাতীয় শোক দিবসের কর্মসূচী পালন   বার্লিনে সুন্দরবন রক্ষা এবং বাংলাদেশের বিকল্প জ্বালানী সম্ভাবনা শীর্ষক ইউরোপীয় সম্মেলন   কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে আদিবাসী শিক্ষার্থীরা আদিবাসী দিবস পালন করেছে   সমান অধিকার নিয়ে বেঁচে থাকতে হলে সংগ্রাম চাইঃ সন্তু লারমা   আদিবাসী মানুষরা লড়াই সংগ্রাম করে অধিকার প্রতিষ্ঠা করবে:ঊষাতন তালুকদার   আজ বিশ্ব আদিবাসী দিবস   রাত পোহালেই আন্তর্জাতিক আদিবাসী দিবস   ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অনলাইনে ভর্তির আবেদন শুরু   লংগদুতে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় ১৬ জন সেটেলার বাঙ্গালি কারাগারে   টেকসই উন্নয়ন অভীষ্ট ও বাংলাদেশের আদিবাসী নারী   ফ্রান্সের ,প্যারিসে সংঘদান ও অষ্টপরিষ্কার দান অনুষ্ঠিত   বাঙালি নারীদের চেয়ে আদিবাসী নারীরা জাতিগতভাবে অধিক নিপীড়নের শিকারঃসন্তু লারমা   আন্তর্জাতিক আদিবাসী দিবসে বাংলাদেশ আদিবাসী ফোরামের যেসব দাবী রয়েছে   পাহাড়ে ক্ষুধা ও অভাবের হাহাকার অথচ সরকার উন্নয়নের অহংকারে ভাসছেঃ সন্তু লারমা   সংখ্যালঘু নির্যাতনকারীকে মনোনয়ন দিলে ভোট বর্জন:রানা দাশগুপ্ত   আন্তর্জাতিক আদিবাসী দিবস ২০১৭ উপলক্ষে আগামীকাল ৬ আগস্ট ডেইলি স্টার সেন্টারে আলোচনা সভা   রাংগামাটি রাজবন বিহারে পুণ্যার্থী সেজে উৎশৃংখল করার অভিযোগ   আন্তর্জাতিক আদিবাসী দিবস ২০১৭ উপলক্ষে আগামীকাল ৫ আগস্ট ঢাকা হোটেল সুন্দরবনে সংবাদ সম্মেলন   ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষা: ৭ আগস্ট আবেদন শুরু

সমান অধিকার নিয়ে বেঁচে থাকতে হলে সংগ্রাম চাইঃ সন্তু লারমা

প্রকাশিত: ২০১৭-০৮-০৯ ২০:২০:২২

   আপডেট: ২০১৭-০৮-০৯ ২০:৩১:২৯

ফাইল ছবি

ঢাকা

সমান অধিকার নিয়ে বেঁচে থাকতে হলে সংগ্রাম প্রয়োজন রয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন পার্বত্য আঞ্চলিক পরিষদের চেয়ারম্যান ও বাংলাদেশ আদিবাসী ফোরামের সভাপতি জ্যোতিরিন্দ্র বোধিপ্রিয় (সন্তু) লারমা।

তিনি বলেছেন, সরকার ভিন্ন জাতিসত্তার মানুষদের নিশ্চিহ্ন করে দেওয়ার তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছে। এসব জাতির মানুষ যদি সমান অধিকার নিয়ে বেঁচে থাকতে চায়, তাহলে তাদের সংগ্রাম চালিয়ে যেতে হবে।সংগ্রাম ছাড়া অধিকার আদায় করা সম্ভব নয়।

আন্তর্জাতিক আদিবাসী দিবস উপলক্ষে বুধবার কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে অনুষ্ঠিত সমাবেশে এ কথা বলেন সন্তু লারমা। এ সমাবেশের আয়োজন করে বাংলাদেশ আদিবাসী ফোরাম।

তিনি আরো বলেন,‘আদিবাসীদের ঐতিহ্যগত ও প্রথাগত ভূমি অধিকারের স্বীকৃতি প্রদান করতে হবে। সংবিধান সংশোধন করে আদিবাসীদের আত্ম-পরিচয় ও অধিকারের স্বীকৃতি দিতে হবে। জাতিসংঘ ঘোষিত ৯ আগস্ট আন্তর্জাতিক আদিবাসী দিবস রাষ্ট্রীয়ভাবে পালন করতে হবে। জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে ২০০৭ সালে গৃহীত আদিবাসী অধিকার বিষয়ক ঘোষণাপত্র অবিলম্বে বাস্তবায়ন করতে হবে। সরকার, আদিবাসী জনগণ ও জাতিসংঘ- এ তিন পক্ষের অংশগ্রহণে আদিবাসী অধিকার প্রতিষ্ঠায় রাষ্ট্রকে পদক্ষেপ গ্রহণে এগিয়ে আসতে হবে। এসময় তিনি অধিকার আদায়ের সংগ্রামে বিভিন্ন আদিবাসী জাতিগোষ্ঠীর তরুণদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।

বুধবার সকালে সমাবেশের উদ্বোধন করেন লেখক-অধ্যাপক জাফর ইকবাল। তিনি বলেন, ‘আমার জীবনের সবচেয়ে বড় উপলব্ধি হলো বৈচিত্র্যই সৌন্দর্য।’ তিনি আরও বলেন, দেশে ভিন্ন জাতিসত্তার মানুষেরা নানা সমস্যায় জর্জরিত। তারা তাদের ন্যায্য অধিকার পাচ্ছে না। তারা ভালো না থাকলে দেশও ভালো চলবে না।

অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথির বক্তব্যে বেসরকারি বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী রাশেদ খান মেনন বলেন, নানা জাতিসত্তার মানুষদের নিয়েই বাংলাদেশ। বিদেশি অতিথিদের সামনে এই বৈচিত্র্য নিয়ে গর্ব করা হয় কিন্তু রাষ্ট্রীয়ভাবে বা সংবিধানে তাদের স্বীকার করা হয় না। তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের উচিত, আমাদের কর্তব্য আদিবাসীদের আদিবাসী বলেই বাস্তবে মেনে নেওয়া।’
সমাবেশে স্বাগত বক্তব্য দেন আদিবাসী ফোরামের সাংগঠনিক সম্পাদক শক্তিপদ ত্রিপুরা।

সমাবেশে আরও বক্তব্য দেন সংসদ সদস্য ও আদিবাসীবিষয়ক সংসদীয় ককাসের আহ্বায়ক ফজলে হোসেন বাদশা, বাংলাদেশ কমিউনিস্ট পার্টির সভাপতি মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম, গবেষক-কলামিস্ট সৈয়দ আবুল মকসুদ, নাট্য ব্যক্তিত্ব মামুনুর রশীদ, খুশী কবির, চাকমা রাজা দেবাশীষ রায় প্রমুখ।

উল্লেখ্য,আন্তর্জাতিক আদিবাসী দিবসে বাংলাদেশ আদিবাসী ফোরামের যেসব দাবী রয়েছে তা হল,

১। জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে ২০১৭ সালে গৃহীত আদিবাসী অধিকার বিষয়ক ঘোষণাপত্র অবিলম্বে বাস্তবায়ন করতে হবে। সরকার,আদিবাসী জনগণ ও জাতিসংঘ- ত্রয়ী বা তিনপক্ষের অংশগ্রহণে আদিবাসী অধিকার প্রতিষ্ঠায় রাষ্ট্রকে পদক্ষেপ গ্রহণে এগিয়ে আসতে হবে।

২। এসডিজি ২০৩০ বাস্তবায়নে আদিবাসী জনগণের ও আদিবাসী সংগঠনসমূহের পূর্ণ অংশদারিত্ব নিশ্চিত করতে হবে এবং রাষ্ট্রীয় পরিকল্পনা, বাস্তবায়ন ও মনিটরিংয়ে আদিবাসীদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে।

৩। আদিবাসীদের জীবন, উন্নয়ন ও ভবিষ্যৎ অস্তিত্বকে প্রভাবিত করে এমন কোন প্রকল্প বা উন্নয়ন কর্মসূচি গ্রহণে পূর্বে আদিবাসীদের সাথে অর্থপূর্ণ সংলাপ বাধ্যতামূলক করতে হবে এবং Free,Prior and informed Policy পরিপূর্ণ অনুসরণ করতে হবে।

৪। আদিবাসীদের ঐতিহ্যগত বা প্রথাগত ভূমি অধিকারের স্বীকৃতি প্রদান করতে হবে। সংবিধান সংশোধন করে আদিবাসীদের আত্মপরিচয় ও অধিকারের স্বীকৃতি দিতে হবে।

৫। পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি যথাযত বাস্তবায়ন করতে হবে এবং এই লক্ষ্যে সময়সূচি ভিত্তিক কর্মপরিকল্পনা(রোডম্যাপ)ঘোষণা করতে হবে।ভূমি কমিশনে পর্যাপ্ত অর্থ বরাদ্দ,জনবল নিয়োগ, রাঙামাটি ও বান্দরবান জেলা শাখা অফিস স্থাপন এবং কমিশনের কার্যবিধিমালা চুড়ান্তকরণ পূর্বক পার্বত্য ভূমি কমিশন কার্যকর করতে হবে।

৬। আইএলও কনভেনশন ১০৭ বাস্তবায়ন করতে হবে এবং ১৬৯ নং কনভেনশন অনুস্বাক্ষর করতে হবে।

৭। সমতল অঞ্চলের আদিবাসীদের ভূমি সমস্যা সমস্যা সমাধানের জন্য স্বতন্ত্র ভূমি কমিশন গঠন করতে হবে। মধুপুর গড়ে গড়ে গারো,বর্মন ও কোচদের ভূমিতে ঘোষিত রিজার্ব ফরেস্ট বাতিল করতে হবে।

৮। আদিবাসী বিষয়ক সংসদীয় ককাস কর্তৃক প্রণীত আদিবাসী অধিকর আইন প্রণয়ন করতে হবে ।

৯। মৌলভীবাজার জেলার ঝিমাই ও নাহার খাসিয়া পুঞ্জির খাসিয়াদের ভূমি অধিকার নিশ্চিত করতে হবে এবং চা বাগানে লীজ অবিলম্বে বাতিল করতে হবে।

১০। জাতিসংঘ ঘোষিত ৯ আগস্ট আন্তর্জাতিক আদিবাসী দিবস রাষ্ট্রীয়ভাবে পালন করতে হবে।

আপনার মন্তব্য

আলোচিত