আজ শনিবার, | ২১ অক্টোবর ২০১৭ ইং

শিরোনাম

  কুমিল্লায় বিশ্ব শান্তি প্যাগোডা উদ্বোধন   আগামীকাল থেকে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষা শুরু   নিজ নিজ মাতৃভাষা শেখার আহ্বান জানালেন \'উন্দুচ্যে বৈদ্য\'   বান্দরবানে জনসংহতি সমিতির সাধারণ সম্পাদক ক্যবামং মারমা পুনরায় উপজেলা চেয়ারম্যানে দায়িত্ব নিলেন   রোহিঙ্গাদের সংক্রামক রোগ পার্বত্য চট্টগ্রামে ছড়িয়ে পড়তে পারে || বিশেষজ্ঞদের কড়া সতর্ক   বৃষ্টি হতে পারে সারাদেশে, তিন নম্বর সংকেত দেখিয়ে যাওয়ার বুলেটিন   শিক্ষক এবং শিক্ষকতা || মুহম্মদ জাফর ইকবাল   ঢাবি ‘ঘ’ ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষা শুরু   মিয়ানমারের বিলাসবহুল হোটেল অগ্নিকান্ডে পুড়ে ছাই   যারা সন্ত্রাসের সাথে জড়িত তাদের ধর্ম পরিচয় আর থাকেনাঃ দলাই লামা   বিশ্বের সবচেয়ে বেশি শীত যেখানে   মন্ট্রিয়লে রোহিঙ্গাদের সহায়তায় চ্যারেটি ফান্ড ‘রেইজিং গালা’   বাঁশ কোড়ল আদিবাসীদের ঐতিহ্যবাহী প্রিয় খাবার   ঢাবির \'ক\' ও \'চ\' ইউনিটের ফল প্রকাশ   দেশে ফিরেছেন খালেদা জিয়া   শ্যামা পূজা বৃহস্পতিবার   মিস ওয়ার্ল্ড প্রতিযোগিতায় চীনে আদিবাসীদের থামি পড়ে অংশগ্রহণ করবেন জেসিয়া ইসলাম   সন্ত্রাসীদের ধরতে শীঘ্রই তিন পার্বত্য জেলায় র‍্যাবের নতুন ইউনিট যাচ্ছে   পূর্ণ্য তীর্থ পূর্ব বিনাজুরী গ্রামের নিয়তি রানী বড়ুয়া চলে গেলেন না ফেরার দেশে   বেরোবির প্রভাষক পদে মাহমুদুলকে নিয়োগ দিতে উচ্চ আদালতের নির্দেশ

আদিবাসী মানুষরা লড়াই সংগ্রাম করে অধিকার প্রতিষ্ঠা করবে:ঊষাতন তালুকদার

প্রকাশিত: ২০১৭-০৮-০৯ ১৬:৫৭:৫০

   আপডেট: ২০১৭-০৮-০৯ ১৭:৩২:০৫

রাঙ্গামাটি

আদিবাসী মানুষরা লড়াই সংগ্রাম করে অধিকার প্রতিষ্ঠা করবে বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় সংসদ সদস্য ও পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির সহ সভাপতি শ্রীঃঊষাতন তালুকদার এমপি মহোদয়। বুধবার আন্তর্জাতিক আদিবাসী দিবস ২০১৭ রাঙামাটিতে অনুষ্ঠিত প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। এবারের প্রতিপাদ্য বিষয়,আদিবাসী অধিকার বিষয়ক জাতিসংঘ ঘোষণার বাস্তবায়ন চাই।

অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, আমরা প্রতিবছর আদিবাসী দিবস পালন করি,ঢাকায় হচ্ছে, বাংলাদেশে হচ্ছে ;সারা বিশ্বে আদিবাসী দিবস উদযাপিত হচ্ছে।

এই পাহাড়ি মানুষ ও সমতলের আদিবাসী মানুষ ধ্বংস হওয়ার জন্য জন্মগ্রহণ করে নি তারা লড়াই করে অধিকার প্রতিষ্ঠায় সংগ্রাম করে যাবে।

মাননীয় সংসদ সদস্য বলেন, কেউ বিভ্রান্ত হবেন না কেউ মনকে সান্তনা দিবেন না যে আস্তে করে এরা ধ্বংস হয়ে যাবে আদিবাসী মানুষ লড়াই করতে জানে সংগ্রাম করতে জানে। আদিবাসী মানুষ লড়াই সংগ্রাম করে অধিকার প্রতিষ্ঠা করবে।

‘আদিবাসীদের ঐতিহ্যগত ও প্রথাগত ভূমি অধিকারের স্বীকৃতি প্রদান করতে হবে। সংবিধান সংশোধন করে আদিবাসীদের আত্ম-পরিচয় ও অধিকারের স্বীকৃতি দিতে হবে। জাতিসংঘ ঘোষিত ৯ আগস্ট আন্তর্জাতিক আদিবাসী দিবস রাষ্ট্রীয়ভাবে পালন করতে হবে। জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে ২০০৭ সালে গৃহীত আদিবাসী অধিকার বিষয়ক ঘোষণাপত্র অবিলম্বে বাস্তবায়ন করতে হবে। সরকার, আদিবাসী জনগণ ও জাতিসংঘ- এ তিন পক্ষের অংশগ্রহণে আদিবাসী অধিকার প্রতিষ্ঠায় রাষ্ট্রকে পদক্ষেপ গ্রহণে এগিয়ে আসতে হবে।

এছাড়া তিনি আরো বলেন ,একটা সভ্য দেশে একটা গণতান্ত্রিক দেশে কিভাবে সেনাবাহিনী এবং পুলিশের সামনে আড়াইশ-তিনশ ঘর পুড়ে যেতে পারে। এরা কি মানুষ নয়;এরা কি গরু-ছাগল!এরাতো মানুষ এরা তো নাগরিক বাংলাদেশের। দেশে সরকার আছে, পুলিশ আছে ,সেনাবাহিনী আছে কেন আসে!এদের নিরাপত্তা কেন বিধান করা হয় নাই?

ঊষাতন তালুকদার বলেন, আমরা চাইনা এই ধরনের ঘটনা আর পুনরাবৃত্তি হোক।  কিছুদিন আগে আমাকে পত্র-পত্রিকায় বিভান্ত্রি ছড়ানো হয়েছিল যে আমি নাকি আওয়ামীগীগ এ যোগ দিয়েছি;কিন্তু এটি ছিল সম্পূর্ণ মিথ্যা বানোয়াট। এরই প্রেক্ষিতে সেদিন আমাকে বিবৃতি দিতে হয়েছিল। আপনারা আমার উপর ভরসা রাখতে পারেন আমি জাতির সাথে পার্বত্য বাসীর সাথে তথা বাংলাদেশের সাথে –বাংলাদেশের জনগণের সাথে কোন দিন ও বেমানি করবো না। প্রয়োজন হলে সংসদ থেকে প্রত্যাহার করে চলে আসবো তাতে আমাদের আপত্তি নেই।

বুধবার সকালে পৌরসভা প্রাঙ্গণে প্রথমে বেলুন উড়িয়ে আদিবাসী দিবস অনুষ্ঠানটি উদ্বোধন করা হয়। এরপর আদিবাসীদের দলীয় নৃত্য ও বেঁচে থাকার জীবন সংগ্রামের চিত্র সংক্ষিপ্তাকারে তুলে ধরা হয়। উক্ত অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন জাতীয় মানবাধিকার কর্মী বাঞ্চিতা চাকমা, গৌতম দেওয়ান সহ আরো অনেকে। বক্তব্য শেষে পৌরসভা প্রাঙ্গণ হতে শিল্পকলা পর্যন্ত বর্ণাঢ্য র‍্যালি করা হয়।

উল্লেখ্য, এবছর বিশ্বব্যাপী জাতিসংঘ ঘোষিত ২৩তম আদিবাসী দিবস উদযাপিত হচ্ছে। জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদ ১৯৯৪ সালে রেজুলেশন ৪৯/২১৪ গ্রহণ করে ৯ আগস্টকে আদিবাসী দিবস হিসেবে ঘোষণা করে এবং তা পালনের জন্য সদস্য রাষ্ট্রসমূহকে আহ্বান জানায়। তারপর থেকে বিগত ২৩ বছরে বৈশ্বিক পর্যায়ে অনেক সাফল্য অর্জিত হয়েছে। তম্মধ্যে ২০০০ সালে জাতিসংঘে আদিবাসী বিষয়ক স্থায়ী ফোরাম গঠন, ২০০১ সাল থেকে আদিবাসী জাতিগোষ্ঠীর অধিকার বিষয়ক স্পেশাল র‌্যাপোটিয়ার নিয়োগ, ২০০৫-২০১৪ সালের সময়কালকে দ্বিতীয় আদিবাসী দশক হিসেবে পালন, ২০০৭ সালে আদিবাসী জাতিগোষ্ঠীর অধিকার বিষয়ক জাতিসংঘের ঘোষণাপত্র গ্রহণ, ২০০৭ সালে আদিবাসী অধিকার সংক্রান্ত বিশেষজ্ঞ কর্মব্যবস্থা প্রণয়ন, ২০১৪ সালে সাধারণ পরিষদের বিশ্ব আদিবাসী সম্মেলন আয়োজন এবং এ সম্মেলনে ঐতিহাসিক ‘আউটকাম ডকুমেন্ট’ গ্রহণ এবং ২০১৫ সালে টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্য বা Sustainable Development Goals- এসডিজি ২০৩০ বিশেষভাবে উল্লেখযাগ্য।

জাতিসংঘ আদিবাসী অধিকার ঘোষণাপত্রকে বলা হয় আদিবাসী জনগণের অস্তিত্ব, পরিচয়, মর্যাদা, মানবাধিকার ও আত্মনিয়ন্ত্রণ অধিকারের জীবন্ত দলিল। এই ঘোষণাপত্র অনুযায়ী, আদিবাসীদের জীবনধারা, আদিবাসী এলাকা ও তাদের সহায় সম্পদকে প্রভাবিত করে এমন কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ করার পূর্বে অবশ্যই আদিবাসীদের স্বাধীন ও পূর্বানুমতি গ্রহণ করতে হবে। এক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক নীতি Free, Prior and Informed Policy মেনে চলতে হবে।

আপনার মন্তব্য

আলোচিত