আজ শনিবার, | ২১ অক্টোবর ২০১৭ ইং

শিরোনাম

  কুমিল্লায় বিশ্ব শান্তি প্যাগোডা উদ্বোধন   আগামীকাল থেকে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষা শুরু   নিজ নিজ মাতৃভাষা শেখার আহ্বান জানালেন \'উন্দুচ্যে বৈদ্য\'   বান্দরবানে জনসংহতি সমিতির সাধারণ সম্পাদক ক্যবামং মারমা পুনরায় উপজেলা চেয়ারম্যানে দায়িত্ব নিলেন   রোহিঙ্গাদের সংক্রামক রোগ পার্বত্য চট্টগ্রামে ছড়িয়ে পড়তে পারে || বিশেষজ্ঞদের কড়া সতর্ক   বৃষ্টি হতে পারে সারাদেশে, তিন নম্বর সংকেত দেখিয়ে যাওয়ার বুলেটিন   শিক্ষক এবং শিক্ষকতা || মুহম্মদ জাফর ইকবাল   ঢাবি ‘ঘ’ ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষা শুরু   মিয়ানমারের বিলাসবহুল হোটেল অগ্নিকান্ডে পুড়ে ছাই   যারা সন্ত্রাসের সাথে জড়িত তাদের ধর্ম পরিচয় আর থাকেনাঃ দলাই লামা   বিশ্বের সবচেয়ে বেশি শীত যেখানে   মন্ট্রিয়লে রোহিঙ্গাদের সহায়তায় চ্যারেটি ফান্ড ‘রেইজিং গালা’   বাঁশ কোড়ল আদিবাসীদের ঐতিহ্যবাহী প্রিয় খাবার   ঢাবির \'ক\' ও \'চ\' ইউনিটের ফল প্রকাশ   দেশে ফিরেছেন খালেদা জিয়া   শ্যামা পূজা বৃহস্পতিবার   মিস ওয়ার্ল্ড প্রতিযোগিতায় চীনে আদিবাসীদের থামি পড়ে অংশগ্রহণ করবেন জেসিয়া ইসলাম   সন্ত্রাসীদের ধরতে শীঘ্রই তিন পার্বত্য জেলায় র‍্যাবের নতুন ইউনিট যাচ্ছে   পূর্ণ্য তীর্থ পূর্ব বিনাজুরী গ্রামের নিয়তি রানী বড়ুয়া চলে গেলেন না ফেরার দেশে   বেরোবির প্রভাষক পদে মাহমুদুলকে নিয়োগ দিতে উচ্চ আদালতের নির্দেশ

আজ বিশ্ব আদিবাসী দিবস

প্রকাশিত: ২০১৭-০৮-০৯ ০৭:৩৫:০৯

ফাইল ছবি

ডেইলি সিএইচটি রিপোর্ট

আজ ৯ আগস্ট বিশ্বব্যাপী জাতিসংঘ ঘোষিত আদিবাসী দিবস উদযাপিত হবে। বিশ্বের ৯০টি দেশের প্রায় ৪০ কোটির অধিক আদিবাসীর মতো বাংলাদেশে বসবাসকারী ৩০ লাখেরও বেশি আদিবাসী গোষ্ঠীর জনগণ এবারও জাতিসংঘ ঘোষিত ‘আন্তর্জাতিক আদিবাসী দিবস’ উদযাপন করবে।

প্রতিবছরের মত এবছরও দেশের আদিবাসীরা জাতিসংঘ ঘোষিত এই দিবসটি উদযাপনের প্রস্তুতি নিয়েছে। “জাতিসংঘের আদিবাসী অধিকার বিষয়ক ঘোষণাপত্রের এক দশক” এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে বাংলাদেশ আদিবাসী ফোরাম আজ দিনব্যাপী কর্মসূচি ঘোষণা করেছে। ঢাকার কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে সকাল ১০.০০টায় আদিবাসী দিবসের কর্মসূচি উদ্বোধন করবেন দেশবরেণ্য শিক্ষাবিদ ড: মুহাম্মদ জাফর ইকবাল। বাংলাদেশ আদিবাসী ফোরামের সভাপতি জ্যোতিরিন্দ্র বোধিপ্রিয় লারমা (সন্তু লারমা) -র সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন বেসামরিক বিমান ও পর্যটন মন্ত্রী রাশেদ খান মেনন এমপি।

এবছর বিশ্বব্যাপী জাতিসংঘ ঘোষিত ২৩তম আদিবাসী দিবস উদযাপিত হবে। জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদ ১৯৯৪ সালে রেজুলেশন ৪৯/২১৪ গ্রহণ করে ৯ আগস্টকে আদিবাসী দিবস হিসেবে ঘোষণা করে এবং তা পালনের জন্য সদস্য রাষ্ট্রসমূহকে আহ্বান জানায়। তারপর থেকে বিগত ২৩ বছরে বৈশ্বিক পর্যায়ে অনেক সাফল্য অর্জিত হয়েছে। তম্মধ্যে ২০০০ সালে জাতিসংঘে আদিবাসী বিষয়ক স্থায়ী ফোরাম গঠন, ২০০১ সাল থেকে আদিবাসী জাতিগোষ্ঠীর অধিকার বিষয়ক স্পেশাল র‌্যাপোটিয়ার নিয়োগ, ২০০৫-২০১৪ সালের সময়কালকে দ্বিতীয় আদিবাসী দশক হিসেবে পালন, ২০০৭ সালে আদিবাসী জাতিগোষ্ঠীর অধিকার বিষয়ক জাতিসংঘের ঘোষণাপত্র গ্রহণ, ২০০৭ সালে আদিবাসী অধিকার সংক্রান্ত বিশেষজ্ঞ কর্মব্যবস্থা প্রণয়ন, ২০১৪ সালে সাধারণ পরিষদের বিশ্ব আদিবাসী সম্মেলন আয়োজন এবং এ সম্মেলনে ঐতিহাসিক ‘আউটকাম ডকুমেন্ট’ গ্রহণ এবং ২০১৫ সালে টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্য বা Sustainable Development Goals- এসডিজি ২০৩০ বিশেষভাবে উল্লেখযাগ্য।

জাতিসংঘ আদিবাসী অধিকার ঘোষণাপত্রকে বলা হয় আদিবাসী জনগণের অস্তিত্ব, পরিচয়, মর্যাদা, মানবাধিকার ও আত্মনিয়ন্ত্রণ অধিকারের জীবন্ত দলিল। এই ঘোষণাপত্র অনুযায়ী, আদিবাসীদের জীবনধারা, আদিবাসী এলাকা ও তাদের সহায় সম্পদকে প্রভাবিত করে এমন কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ করার পূর্বে অবশ্যই আদিবাসীদের স্বাধীন ও পূর্বানুমতি গ্রহণ করতে হবে। এক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক নীতি Free, Prior and Informed Policy মেনে চলতে হবে।

আর্ন্তজাতিক আদিবাসী দিবসকে সামনে রেখে দেশের আদিবাসীরা প্রতিবছর দেশের বিভিন্ন স্থানে তাদের ন্যায্য অধিকারের দাবী নিয়ে রেলী, সমাবেশ ও সাংস্কৃতিক অনুষ্টানের আয়োজন করে থাকে। এবছরও রাজশাহী, সিরাজগঞ্জ, ময়মনসিংহ, টাঙ্গাইল, নেত্রকোনা, রাঙ্গামাটি, বান্দরবান, সিলেট, কক্সবাজারসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে দিবসটি উদযাপন করা হবে।

বিশ্বের ৯০টি দেশের প্রায় ৪০ কোটির অধিক আদিবাসী জনগণের মতো বাংলাদেশে বসবাসকারী ৩০ লক্ষাধিক আদিবাসী জনগণ এবারও আন্তর্জাতিক আদিবাসী দিবস জাতীয়ভাবে উদযাপনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এবারের আদিবাসী দিবসের প্রতিপাদ্য বিষয় “The 10th Anniversary of the UN Declaration on the Rights of Indigenous Peoples” এই মূলসুরের সাথে সঙ্গতি রেখে বাংলাদেশ আদিবাসী ফোরাম এ বছরের প্রতিপাদ্য বিষয় নির্ধারণ করেছে, “জাতিসংঘ আদিবাসী অধিকার বিষয়ক ঘোষণাপত্রের এক দশক।” আজ থেকে ১০ বছর আগে ২০০৭ সালের ১৩ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে আদিবাসী অধিকার বিষয়ক ঘোষণাপত্র গৃহিত হয়েছিল।

এই ঘোষণাপত্রের মূল কথা হলো, বিশ্বব্যাপী আদিবাসীদের জীবনধারা ও তাদের ভবিষ্যৎ বেঁচে থাকার অধিকার ও মর্যাদাকে প্রভাবিত করে, এমন অবস্থায় সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ায় আদিবাসীদের পূর্ণ অংশগ্রহণের অধিকার। বিগত এক দশকে প্রমাণিত হয়েছে যে, সিদ্ধান্তগ্রহণ প্রক্রিয়ায় আদিবাসী জনগণের অর্থপূর্ণ অংশগ্রহণের ক্ষমতা ব্যতিরেকে কোনো স্তরেই জাতিসংঘ আদিবাসী অধিকার ঘোষণাপত্রের বাস্তবায়ন সম্ভব নয়। রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে জাতিসংঘ আদিবাসী অধিকার ঘোষণাপত্র বাস্তবায়নের জন্য সরকারের উন্নয়ন পরিকল্পনায় সংস্কার আনয়ণ যেমন জরুরি, তেমনি আইনী কাঠামো ও রাজনৈতিক সংস্কার প্রয়োজন যাতে আদিবাসীদের মৌলিক মানবাধিকার সুরক্ষিত হয়। এ বিষয়ে জাতিসংঘ স্পেশাল র‌্যাপোটিয়ার বলেছেন, আদিবাসী অধিকার ঘোষণাপত্রের বাস্তবায়ন এই সব প্রয়োজনীয় সংস্কারের নিরিখেই পরিমাপ করা উচিৎ, বিক্ষিপ্ত বা বিচ্ছিন্নভাবে নয়।

আপনার মন্তব্য

আলোচিত