শিরোনাম

  আগামী ১৮ নভেম্বর প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষা, থাকছে না এমসিকিউ   অবশেষে তিন মাস পর জামিন পেলেন আলোকচিত্রী ড. শহিদুল আলম   নির্বাচনী এলাকায় ৭-১০ দিন আগে সেনাবাহিনী মোতায়েন করা হবে : নির্বাচন কমিশন   মিয়ানমারে নিয়ে যাওয়ার ভয়ে তালিকাভুক্ত সব রোহিঙ্গা পালিয়ে গেল   ক্যালিফোর্নিয়ায় দাবানলে মৃতের সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ৫৯, নিখোঁজ ১৩০   রাঙ্গামাটি থেকে বুদ্ধগয়ার যাওয়ার উদ্দেশ্যে তীর্থযাত্রীর বাস দুর্ঘটনায় ১ জন নিহত   পুলিশের গাড়িতে আগুন দেওয়া দুই যুবক ‘শনাক্ত’   পুলিশকে ধন্যবাদ দিলেন প্রধানমন্ত্রী   বলিউডের স্টার দীপিকা-রণবীরের বিয়ে সম্পন্ন   এবার থেকে সরকারী চাকরিজীবীর স্ত্রী মারা গেলে আজীবন পেনশন পাবেন স্বামী   ৩ বছরের কারাদণ্ড ডেসটিনির চেয়ারম্যানের   দীঘিনালায় শ্রেষ্ঠ প্রধান শিক্ষক ঊষা আলো চাকমাকে অপহরণ   হামলা করে নির্বাচনের পরিবেশ নষ্ট করছে সরকার : ফখরুল   নির্বাচন বানচাল করতে পুলিশের ওপর হামলা করেছে বিএনপি : কাদের   স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করবেন ইমরান এইচ সরকার   খালেদার দু’টি আসন পাচ্ছেন দুই পুত্রবধূ!   আগামীকাল থেকে রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারে পাঠানো হবে, যেতে চায়না রোহিঙ্গারা   চলে গেলেন স্পাইডারম্যান-আয়রনম্যান লেখক   অনৈতিক কাজে জড়িত কক্সবাজার এসিল্যান্ড নাজিম উদ্দিনকে রাঙামাটিতে বদলি   এবার এরশাদের জাতীয় পার্টি থেকে মনোনয়ন ফরম নিয়েছেন হিরো আলম
প্রচ্ছদ / লাইফ স্টাইল / বজ্রপাত থেকে বাঁচতে করণীয়

বজ্রপাত থেকে বাঁচতে করণীয়

প্রকাশিত: ২০১৮-০৫-০৭ ২২:৫৭:১৮

   আপডেট: ২০১৮-০৫-০৭ ২২:৫৮:৫৮

অনলাইন ডেস্ক

বায়ুমণ্ডলে বাতাসের তাপমাত্রা ভূ-ভাগের উপরিভাগের তুলনায় কম থাকে। এ অবস্থায় গরম আবহাওয়া দ্রুত উপরে উঠে গেলে আর্দ্র বায়ুর সংস্পর্শ পায়। তখন গরম আবহাওয়া দ্রুত ঠাণ্ডা হওয়ায় প্রক্রিয়ার মধ্যে আলোড়ন সৃষ্টি হয়ে বজ্রমেঘের সৃষ্টি হয়। তখনই বজ্রপাতের ঘটনা ঘটে। সাধারণত মার্চ থেকে মে এবং অক্টোবর থেকে নভেম্বরের মধ্যে বাংলাদেশে সবচেয়ে বেশি বজ্রঝড় হয়ে থাকে।

এছাড়া কালবৈশাখে তো আকাশে বিদ্যুতের ঝলকানি হরহামেশাই দেখা যায়। এ সময় ঝড়ো হাওয়ার সঙ্গে কয়েক পশলা বৃষ্টি হয়। এ সময় মাঝে মধ্যেই বাজ পড়ে নানা দুর্ঘটনার খবরও শোনা যায়। বাসা, অফিস এবং রাস্তাঘাটে যে কোনো স্থানেই আপনি বজ্রপাতের মধ্যে পড়তে পারেন।

দেশে বজ্রপাতে মৃত্যুর সংখ্যা অনেক বেড়ে গেছে। পাশাপাশি বজ্রপাতের কারণে এ সময় জানমালের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়। এ ক্ষেত্রে নিজেকে সুরক্ষিত রাখার কিছু উপায় জানিয়ে দিয়েছে বিশেষজ্ঞরা।

দালান বা পাকা ভবনের নিচে আশ্রয় নিন

ঘন ঘন বজ্রপাত হতে থাকলে কোনো অবস্থাতেই খোলা বা উঁচু স্থানে থাকা যাবে না। সবচেয়ে ভালো হয় কোনো একটি পাকা দালানের নিচে আশ্রয় নিতে পারলে।

উঁচু গাছপালা ও বিদ্যুৎ লাইন থেকে দূরে থাকুন

কোথাও বজ্রপাত হলে উঁচু গাছপালা বা বিদ্যুতের খুঁটিতে বজ্রপাতের সম্ভাবনা বেশি থাকে। তাই এসব স্থানে আশ্রয় নেবেন না। খোলা স্থানে বিচ্ছিন্ন একটি যাত্রী ছাউনি, তালগাছ বা বড় গাছ ইত্যাদিতে বজ্রপাত হওয়ার সম্ভাবনা অত্যন্ত বেশি থাকে।

জানালা থেকে দূরে থাকুন

বজ্রপাতের সময় বাড়িতে থাকলে জানালার কাছাকাছি থাকবেন না। জানালা বন্ধ রাখুন এবং ঘরের ভেতর থাকুন।

ধাতব বস্তু স্পর্শ করবেন না

বজ্রপাত ও ঝড়ের সময় বাড়ির ধাতব কল, সিঁড়ির রেলিং, পাইপ ইত্যাদি স্পর্শ করবেন না। এমনকি ল্যান্ড লাইন টেলিফোনও স্পর্শ করবেন না। বজ্রপাতের সময় এগুলো স্পর্শ করেও বহু মানুষ আহত হয়।

বিদ্যুৎচালিত যন্ত্র থেকে সাবধান

বজ্রপাতের সময় বৈদ্যুতিক সংযোগযুক্ত সব যন্ত্রপাতি স্পর্শ করা থেকে বিরত থাকুন। টিভি, ফ্রিজ ইত্যাদি বন্ধ করা থাকলেও ধরবেন না। বজ্রপাতের আভাষ পেলে আগেই এগুলোর প্লাগ খুলে সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন করুন। অব্যবহৃত যন্ত্রপাতির প্লাগ আগেই খুলে রাখুন।

গাড়ির ভেতর থাকলে

বজ্রপাতের সময় গাড়ির ভেতরে থাকলে সম্ভব হলে গাড়িটি নিয়ে কোনো কংক্রিটের ছাউনির নিচে আশ্রয় নিন। গাড়ির ভেতরের ধাতব বস্তু স্পর্শ করা থেকে বিরত থাকুন। গাড়ির কাচেও হাত দেবেন না।

খোলা ও উঁচু জায়গা থেকে সাবধান

এমন কোনো স্থানে যাবেন না, যে স্থানে আপনিই উঁচু। বজ্রপাতের সময় ধানক্ষেত বা বড় মাঠে থাকলে তাড়াতাড়ি নিচু হয়ে যান। বাড়ির ছাদ কিংবা উঁচু কোনো স্থানে থাকলে দ্রুত সেখান থেকে নেমে যান।

পানি থেকে সরুন

বজ্রপাতের সময় আপনি যদি ছোট কোনো পুকুরে সাঁতার কাটেন বা জলাবদ্ধ স্থানে থাকেন তাহলে সেখান থেকে সরে পড়ুন। পানি খুব ভালো বিদ্যুৎ পরিবাহী।

পরস্পর দূরে থাকুন

কয়েকজন মিলে খোলা কোনো স্থানে থাকাকালীন যদি বজ্রপাত শুরু হয় তাহলে প্রত্যেকে ৫০ থেকে ১০০ ফুট দূরে সরে যান। কোনো বাড়িতে যদি পর্যাপ্ত নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা না থাকে তাহলে সবাই এক কক্ষে না থেকে আলাদা আলাদা কক্ষে যান।

নিচু হয়ে বসুন

যদি বজ্রপাত হওয়ার উপক্রম হয় তাহলে কানে আঙুল দিয়ে নিচু হয়ে বসুন। চোখ বন্ধ রাখুন। কিন্তু মাটিয়ে শুয়ে পড়বেন না। মাটিতে শুয়ে পড়লে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হওয়ার সম্ভাবনা বাড়বে।

বজ্রপাতের আগ মুহূর্তের লক্ষণ জানুন

আপনার উপরে বা আশপাশে বজ্রপাত হওয়ার আগের মুহূর্তে কয়েকটি লক্ষণে তা বোঝা যেতে পারে। যেমন বিদ্যুতের প্রভাবে আপনার চুল খাড়া হয়ে যাবে, ত্বক শিরশির করবে বা বিদ্যুৎ অনুভূত হবে। এ সময় আশপাশের ধাতব পদার্থ কাঁপতে পারে। অনেকেই এ পরিস্থিতিতে ‘ক্রি ক্রি’ শব্দ পাওয়ার কথা জানান। আপনি যদি এমন পরিস্থিতি অনুভব করতে পারেন তাহলে দ্রুত বজ্রপাত হওয়ার প্রস্তুতি নিন।

রাবারের বুট পরুন

বজ্রপাতের সময় চামড়ার ভেজা জুতা বা খালি পায়ে থাকা খুবই বিপজ্জনক। এ সময় বিদ্যুৎ অপরিবাহী রাবারের জুতা সবচেয়ে নিরাপদ।

বাড়ি সুরক্ষিত করুন

আপনার বাড়িকে বজ্রপাত থেকে নিরাপদ রাখতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিন। এজন্য আর্থিং সংযুক্ত রড বাড়িতে স্থাপন করতে হবে। তবে এক্ষেত্রে দক্ষ ইঞ্জিনিয়ারের পরামর্শ নিতে হবে। ভুলভাবে স্থাপিত রড বজ্রপাতের সম্ভাবনা বাড়িয়ে দিতে পারে।

বজ্রপাতে আহত হলে

বজ্রপাতের সময় আশপাশের মানুষের খবর রাখুন। কেউ আহত হলে বৈদ্যুতিক শকে আহতদের মতো করেই চিকিৎসা করতে হবে। প্রয়োজনে দ্রুত চিকিৎসককে ডাকতে হবে বা হাসপাতালে নিতে হবে। একই সঙ্গে এ সময় বজ্রাহত ব্যক্তির শ্বাস-প্রশ্বাস ও হৃৎস্পন্দন ফিরিয়ে আনার জন্য চেষ্টা চালিয়ে যেতে হবে। এ বিষয়ে প্রাথমিক চিকিৎসায় প্রশিক্ষণ নিয়ে রাখুন। সূত্র: বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর

আপনার মন্তব্য

আলোচিত