শিরোনাম

  ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর জন্য মাতৃভাষায় পুস্তক প্রকাশনার বিধান রেখে খসড়ার চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা   সরকারী চাকরিতে ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী ও পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর জন্য কোটা না হলেও সমস্যা হবে না   রুয়েটে ভর্তি পরীক্ষার আবেদন শুরু   দুই আদিবাসী কিশোরী ধর্ষণের ঘটনায় অভিযুক্তদের সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি   দেশের বিভিন্ন স্থানে বৃষ্টি অথবা বজ্রবৃষ্টি ও ভারী বর্ষণ হতে পারে   আদিবাসী মানবাধিকার সুরক্ষাকর্মীদের সম্মেলন ২০১৮ উদযাপন   ব্লগার বাচ্চু হত্যার সঙ্গে ‘জড়িত’ ২ জঙ্গি নিহত   জুমের বাম্পার ফলনে রাঙ্গামাটির চাষিদের মুখে হাসি   সরকারি চাকরিতে আদিবাসী কোটা বহাল দাবি জানাল আদিবাসীরা   আয়ারল্যান্ড প্রবাসী বাংলাদেশের এক মন্ত্রী দ্বারা হেনস্ত হওয়াতে হিন্দু, বৌদ্ধ ও খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের নিন্দা   শেখ হাসিনার জনপ্রিয়তা উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি পেয়েছে   মিয়ানমারে রয়টার্সের দুই সাংবাদিককে সাত বছরের কারাদণ্ড দিয়েছে আদালত   শহীদ আলফ্রেড সরেন হত্যার ১৮ বছর: হত্যাকারীদের দ্রুত বিচারের দাবি জাতীয় আদিবাসী পরিষদের   ভারতের কাছে ১-০ গোলে হেরেছে বাংলাদেশের মেয়েরা   সরকারী চাকরিতে নিয়োগের ক্ষেত্রে মুক্তিযোদ্ধা ছাড়া সব কোটা বাতিল হচ্ছে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী   জাতিসংঘের সাবেক মহাসচিব কফি আনান মারা গেছেন   ঈদের ছুটি কাটানো হলোনা টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ার নিরীহ ধীরাজ চাকমার   খাগড়াছড়িতে পৃথক ঘটনার জন্য জেএসএস(সংস্কারবাদী) ও নব্য মুখোশ বাহিনীকে দায়ী করেছে : ইউপিডিএফ   নানিয়ারচর থেকে খাগড়াছড়ি   খাগড়াছড়িতে ৬ জনকে গুলি করে হত্যা !
প্রচ্ছদ / তথ্য-প্রযুক্তি / সন্ত্রাসী ধরতে ও ব্যবহার হবে বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট , নিয়ন্ত্রণ হবে রাঙ্গামাটি ও গাজীপুর থেকে

সন্ত্রাসী ধরতে ও ব্যবহার হবে বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট , নিয়ন্ত্রণ হবে রাঙ্গামাটি ও গাজীপুর থেকে

প্রকাশিত: ২০১৮-০৫-১২ ২০:৪৪:৩৫

   আপডেট: ২০১৮-০৫-২৩ ১২:৫৬:৫৬

তথ্য-প্রযুক্তি ডেস্ক

বিশ্বে উন্নত দেশগুলো স্যাটেলাইট দিয়েই চলছে। বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি)'র মতে তাদের যুদ্ধবিগ্রহের সময় তারা স্যাটেলাইট দিয়ে দেখে-কোথায় মাইন ভেঙে পড়ছে, কোথায় বোমা পড়ছে, কোথায় আক্রমণ হচ্ছে, সন্ত্রাসীরা কোথায় অবস্থান নিচ্ছে। আজকাল স্যাটেলাইটের এমন রেজুলিউশন যে, বাইরে থেকে দেশের ভেতর যদি একটা মানুষও ঢোকে তাহলে স্যাটেলাইট তার সিগন্যাল দিতে পারে। কোনো ঘর থেকে মানুষ বেরুলে তাও বুঝতে পারে স্যাটেলাইট। গ্রামের বাড়িতে কেউ ঢুকল কি না, শহরে বসে যে কেউই তা বুঝতে পারবে।

বাংলাদেশের প্রথম স্যাটেলাইট বঙ্গবন্ধু-১ মহাকাশে পাড়ি দেয়ার পর এটির নিয়ন্ত্রণ যুক্তরাষ্ট্র, ইতালি ও কোরিয়ার তিনটি গ্রাউন্ড স্টেশনে চলে যাবে। ওই তিন স্টেশন থেকে স্যাটেলাইটটিকে নিয়ন্ত্রণ করে এর নিজস্ব কক্ষপথে (১১৯.১ পূর্ব দ্রাঘিমাংশে অরবিটাল স্লট) স্থাপন করা হবে। পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে আনতে প্রায় ২০ দিন সময় লাগবে। সম্পূর্ণ চালু হওয়ার পর এর নিয়ন্ত্রণ বাংলাদেশের গ্রাউন্ড স্টেশনে হস্তান্তর করা হবে। গাজীপুরের জয়দেবপুর ও রাঙ্গামাটির বেতবুনিয়ায় দুটি গ্রাউন্ড স্টেশনের নির্মাণকাজ ইতোমধ্যে শেষ হয়েছে।

বেতবুনিয়ায় অবস্থিত বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট গ্রাউন্ড স্টেশনে নিয়োজিত একাধিক প্রকৌশলী জানান, স্যাটেলাইট উন্মুক্ত হওয়ার পরপর এর নিয়ন্ত্রণ নেবে যুক্তরাষ্ট্র, ইতালি ও কোরিয়ার তিনটি গ্রাউন্ড স্টেশন। এরপর শুরু হবে প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা। ২০ দিন ধরে এটি চলবে। সম্পূর্ণ চালু হওয়ার পর এর নিয়ন্ত্রণ গাজীপুরের জয়দেবপুর ও রাঙ্গামাটির বেতবুনিয়ায় অবস্থিত দুটি গ্রাউন্ড স্টেশনে হস্তান্তর করা হবে।

এদিকে, উৎক্ষেপণের ১০দিন পর নির্দিষ্ট কক্ষপথে পৌঁছেছে বাংলাদেশের প্রথম স্যাটেলাইট বঙ্গবন্ধু-১।  রোববার (২১ মে) সন্ধ্যায় বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বাংলাদেশ কমিউনিকেশন স্যাটেলাইট কোম্পানি লিমিটেড (বিসিএসসিএল) এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. সাইফুল ইসলাম।

তিনি বলেন, ‘আমাদের স্যাটেলাইট কক্ষপথে তার অবস্থান নিয়েছে। সাধারণত স্থিতিশীল হতে ১২দিন সময় নেয়। আমরা আশা করছি দুই-চারদিনের মধ্যে এটি স্বাভাবিক হয়ে যাবে।’

প্রধানমন্ত্রীর তথ্যপ্রযুক্তি বিষয়ক উপদেষ্টা ও তার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয় বুধবার এক ফেসবুক স্ট্যাটাসে জানিয়েছেন, বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১ এখন বাংলাদেশের উপর তার চূড়ান্ত নির্ধারিত কক্ষপথে পৌঁছে গেছে। স্যাটেলাইটটির সব সিস্টেম যথাযথভাবে কাজ করছে।

গত ১২ মে বাংলাদেশ সময় মধ্যরাতে মহাকাশে তীব্র গতিতে ছুটে যায় বাংলাদেশের প্রথম কৃত্রিম যোগাযোগ উপগ্রহ বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট। এই স্যাটেলাইটটির নির্দিষ্ট কক্ষপথ হলো ১১৯ দশমিক ১ ডিগ্রি পূর্ব দ্রাঘিমাংশ। যুক্তরাষ্ট্রের উৎক্ষেপণস্থল থেকে এই কক্ষপথের দূরত্ব ৩৬ হাজার কিলোমিটার।

উৎক্ষেপণের পরপরই স্যাটেলাইটটি ৩৫ হাজার ৭০০ কিলোমিটার অতিক্রম করে। এরপর ১০ দিনে ৩০০ কিলোমিটার অতিক্রম করে স্যাটেলাইটটি তার বর্তমান স্থানে পৌঁছেছে।

জেনে নিন কোন দেশের কতটি স্যাটেলাইট রয়েছেঃ

স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণ ও এর গতিবিধি নিয়ে কাজ করে এন২ওয়াইও.কম ওয়েবসাইটের তথ্য মতে, সাবেক সোভিয়েত রাশিয়া ভুক্ত দেশগুলোর (কমনওয়েলথ অব ইন্ডিপেন্ডেন্ট স্টেটস) সম্মিলিত স্যাটেলাইট সংখ্যা ১৫০৪টি, যুক্তরাষ্ট্রের ১৬১৬টি, চীনের ২৯৮টি, জাপানের ১৭২টি, ফ্রান্সের ৬৮টি (জার্মানির সঙ্গে যৌথভাবে ১টি), ভারতের ৮৮টি, জার্মানির ৫২টি, কানাডার ৪৮টি, যুক্তরাজ্যের ৪২টি, ইতালির ২৭টি, দক্ষিণ কোরিয়ার ২৪টি, স্পেনের ২৩টি, অস্ট্রেলিয়ার ২১টি, আর্জেন্টিনার ১৮টি, ইসরাইলের ১৭টি, ব্রাজিলের ১৭টি (যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যৌথভাবে ১টি এবং চীনের সঙ্গে যৌথভাবে ৩টি), ইন্দোনেশিয়ার ১৬টি, তুরস্কের ১৪টি, সৌদি আরবের ১৩টি, মেক্সিকোর ১২টি, সুইডেনের ১২টি,  সিঙ্গাপুরের ৯টি, ডেনমার্কের ৯টি, তাওয়ানের ৯টি, সংযুক্ত আরব আমিরাতের ৯টি, থাইল্যান্ডের ৯টি, নরওয়ের ৮টি, মালয়েশিয়ার ৬টি, কাজাখস্তানের ৬টি, আলজেরিয়ার ৬টি, নাইজেরিয়ার ৬টি, দক্ষিণ আফ্রিকার ৬টি, নেদারল্যান্ডসের ৬টি, গ্রীসের ৪টি, লুক্সেমবার্গের ৪টি। পাকিস্তান, চিলি, ভেনিজুয়েলা, ভিয়েতনামের ৩টি করে; বেলারুশ ইকুয়েডর মিশর, চেক রিপাবলিক, উত্তর কোরিয়া ফিলিপিন্স, পোল্যান্ড এবং পর্তুগালের ২টি করে;আজারবাইজান, বলিভিয়া, বুলগেরিয়া, এস্তোনিয়া, ইরাক, ইরান, লাটভিয়া, লাওস, লিথুনিয়া, মরক্কো, পেরু, স্লোভাকিয়া এবং উরুগুয়ের ১টি করে স্যাটেলাইট রয়েছে।

এছাড়া বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থার অনেকগুলো স্যাটেলাইট বর্তমানে কক্ষপথে অবস্থান করছে। এগুলোর মধ্যে ইউরোপিয়ান অর্গানাইজেশন ফর দ্যা এক্সপ্লয়টেশন অব মেরিওরোলজিক্যাল স্যাটেলাইটসের ৮টি, গ্লোবারস্টারের ৮৪টি, ইউরোপিয়ান স্পেস এজেন্সির ৮২টি, ইউরোপিয়ান টেলিকমিউনিকেশনস স্যাটেলাইট অর্গানাইজেশনের ৫১টি, আরব স্যাটেলাইট কমিউনিকেশন অর্গানাইজেশনের ১৩টি, এশিয়া স্যাটেলাইট টেলিকমিউনিকেশনস কোম্পানির ৮টি, ইন্টারন্যাশনাল মোবাইল স্যাটেলাইট অর্গানাইজেশনের ১৭টি, ইন্টারন্যাশনাল স্পেস স্টেশনের ৭টি, নিউইকোর ১টি, ন্যাটোর ৮টি, ওথ্রিবি নেটওয়ার্কের ১৬টি, অর্বকমের ৪১টি স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণ করেছে। আর ৫৭তম দেশ হিসেবে মহাকাশে স্যাটেলাইট উৎক্ষেপনের গৌরব অর্জন করলো বাংলাদেশ-১।

স্যাটেলাইটে কী সুবিধা পাবে বাংলাদেশঃ
বর্তমানে দেশের টেলিভিশন চ্যানেলগুলো সিঙ্গাপুরসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে স্যাটেলাইট ভাড়া নিয়ে তাদের কার্যক্রম পরিচালনা করছে। এজন্য বছরে ব্যয় হয় প্রায় ১২৫ কোটি টাকা। বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট চালু হলে অনেকাংশেই কমে আসবে এ ব্যয়। শুধু তাই নয়, একই সঙ্গে দেশের টাকা থেকে যাবে দেশেই।

স্যাটেলাইটের তরঙ্গ ভাড়া দিয়ে বৈদেশিক মুদ্রা আয়েরও সম্ভাবনা রয়েছে। টেলিভিশন চ্যানেল ছাড়াও ইন্টারনেট সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠান, ভি-স্যাট ও বেতারসহ ৪০ ধরনের সেবা পাওয়া যাবে এ স্যাটেলাইটের মাধ্যমে।

যেকোনো ধরনের প্রাকৃতিক দুর্যোগে টেরিস্ট্রিয়াল অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হলেও বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট দেশে নিরবচ্ছিন্ন যোগাযোগ ব্যবস্থা এবং পরিবেশ যোগাযোগ মাধ্যম হিসেবে ই-সেবা নিশ্চিত করবে।

স্যাটেলাইটের কার্যক্রম পুরোপুরিভাবে শুরু হলে আশপাশের কয়েকটি দেশে টেলিযোগাযোগ ও সম্প্রচার সেবা দেয়ার জন্য জিয়োসিক্রোনাস স্যাটেলাইট সিস্টেমের গ্রাউন্ড সিস্টেমসহ সব ধরনের সেবা পাওয়া যাবে।

এছাড়া আবহাওয়ার পূর্বাভাস, টেলিমেডিসিন, ই-লার্নিং, ই-রিসার্চ, ভিডিও কনফারেন্স প্রতিরক্ষা ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সম্পর্কে ভালো তথ্য-উপাত্ত পাওয়া যাবে এ স্যাটেলাইটের মাধ্যমে। নতুন দিগন্ত খুলে যাবে অন্যান্য বিভিন্ন খাতেও।

প্রতিবেশী দেশ ভারত, পাকিস্তান ও শ্রীলঙ্কার নিজস্ব স্যাটেলাইট রয়েছে। এ স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণের ফলে নেপাল, মিয়ানমার, ভুটান ও অন্যান্য দেশের কাছে সেবা ভাড়া দিতে পারবে বাংলাদেশ। এর মাধ্যমে বছরে প্রায় ৫০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার আয় করা যাবে।

বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইটের মোট ৪০টি ট্রান্সপন্ডার থাকবে। এর মধ্যে ২০টি ট্রান্সপন্ডার বাংলাদেশের ব্যবহারের জন্য রাখা হবে। বাকি ২০টি ট্রান্সপন্ডার বিদেশি কোনো প্রতিষ্ঠানের কাছে বিক্রির জন্য রাখা হবে।

প্রাথমিক এসব সুবিধা শুধুমাত্র বাংলাদেশ এবং প্রতিবেশী দেশগুলোকে দেয়া সম্ভব হলেও পরে এর পরিসর বিস্তৃতি ঘটবে। দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া, ইউরোপ, মধ্যপ্রাচ্য, উত্তর ও পূর্ব আফ্রিকার দেশগুলোর কাছে স্যাটেলাইট সুবিধা ভাড়া অথবা বিক্রি করতে পারবে বাংলাদেশ।

এ স্যাটেলাইট বাংলাদেশকে দীর্ঘমেয়াদে সেবা প্রদান করবে; যার পরিসর হবে বৃহৎ, বিশ্বমানের, নির্ভরযোগ্য, বহুমুখী এবং সুপার পারফরম্যান্স নির্ভর।

আপনার মন্তব্য

আলোচিত