শিরোনাম

  ভুটানকে ৫-০ গোলে উড়িয়ে ফাইনালে বাংলাদেশের মেয়েরা   খাগড়াছড়িতে সেটেলার কর্তৃক পাহাড়ী নারীকে ধর্ষণ চেষ্ঠা   গুলো-গুলি || আলোময় চাকমা   বঙ্গবন্ধুর সমাধিতে ফুল দিয়ে প্রধানমন্ত্রীর শ্রদ্ধা   মহালছড়িতে আবার ৩ গ্রামবাসীকে অপহরণ করেছে সন্ত্রাসীরা   আজ খালেদা জিয়ার জন্মদিন!   বাঙালির শোকের দিন আজ   বঙ্গবন্ধুর শোক দিবসে ২১০টি গরু জবাই দিয়ে কাঙালি ভোজ আয়োজন !   পিসিপি ২৬ তম কাউন্সিল ও ছাত্র সম্মেলন সম্পন্ন , নিপন ত্রিপুরাকে সভাপতি ও অমর শান্তি চাকমাকে সাধারণ সম্পাদক   পার্বত্য চুক্তি বাস্তবায়ন : অর্থনৈতিক না রাজনৈতিক সমস্যা ?   খাগড়াছড়িতে ৪ গ্রামবাসীকে মুক্তি দেওয়া হয়েছে   শান্তি চুক্তির পর পাহাড়ে যে উন্নয়ন হয়েছে তা টেলিটক থেকে মেসেজ করে আমরা পৌঁছে দেব : তারানা হালিম   এবার বিশ্বের মধ্যে খারাপ শহরের তালিকায় ২য় স্থানের নাম লিখেছে ঢাকা , বাংলাদেশ   জিয়াউর রহমানই পাহাড়ে সমতল থেকে মানুষ নিয়ে অশান্তির বীজ বপন করেছিল   সরকারি চাকরিজীবীরা বেতন-বোনাস পাচ্ছেন বৃহস্পতিবার   নেপালকে ৩-০ গোলে হারিয়ে সেমিফাইনালে মারিয়া মান্দার দল বাংলাদেশ   দৈনিক সমকালের সম্পাদক গোলাম সারওয়ার আর নেই   শহিদুলের মুক্তির দাবি জানিয়েছেন নোবেলজয়ী স্টিগলিজসহ ১৩ বরেণ্য ব্যক্তিত্ব   খাগড়াছড়িতে ৪ গ্রামবাসীকে অপহরণ করেছে সন্ত্রাসীরা   রিমান্ড শেষে অসুস্থ হয়ে পড়েছেন অভিনেত্রী নওশাবা
প্রচ্ছদ / ফিচার / 'নাপ্পি' পাহাড়ি আদিবাসীদের প্রিয় খাবার, যেভাবে তৈরি করা হয়

'নাপ্পি' পাহাড়ি আদিবাসীদের প্রিয় খাবার, যেভাবে তৈরি করা হয়

প্রকাশিত: ২০১৮-০৫-১৪ ১২:৪২:২৬

   আপডেট: ২০১৮-০৫-১৪ ১২:৪৬:৪৭

বান্দরবানে এক নাপ্পি বিক্রেতা, ফটোঃ আনকর্নেড মার্কেট।

সোমা তালুকদার

পার্বত্য চট্টগ্রামের বসবাসরত আদিবাসীদের প্রিয় খাবারের মধ্য 'নাপ্পি' ও বেশ জনপ্রিয়। এসব অঞ্চলের পাহাড়ি জুম্মরা যুগে যুগে ঐতিহ্যবাহী খাবার 'নাপ্পি' খেয়ে আসছেন। রাখাইনরা নাপ্পি বললেও তবে চাকমারা এটিকে 'চিদোল' বলে অভিহিত করে। এছাড়া অন্যান্য আদিবাসী সম্প্রদায় তাদের নিজেদের ঐতিহ্যগত ভাষায় অভিহিত করে থাকে।অনেক সময় কক্সবাজার,রাঙ্গামাটি,খাগড়াছড়ি ও বান্দবানে ভ্রমণে আসা বিদেশী পর্যটকরাও নাপ্পি খেতে আগ্রহী হয়ে উঠেন।

সামুদ্রিক চিংড়ি ও অন্যান্য গুঁড়া মাছ থেকে এই 'নাপ্পি' নামক খাবাটি তৈরি হয়ে থাকে।সঙ্গে যোগ হয় কিছু বাড়তি উপাদান। তীব্র গন্ধ যুক্ত হলেও যেকোনো তরকারির বাড়তি স্বাদ এর জুড়ি নেই।কলাপাতায় মুড়িয়ে সামান্য পুড়িয়ে শক্ত করে তরকারিতে দেওয়া হয় নাপ্পি। আবার পানিতে গুলিয়ে এবং সরাসরি ব্যবহার করা যায় তরকারির সঙ্গে। তরকারিতে মেশালে স্বাদ বাড়ে দ্বিগুণ। শুটকি মাছের মতো সব তরকারিতেই ব্যবহার করা যায়।

কক্সবাজারের সমুদ্র উপকূলের বিভিন্ন রাখাইন পল্লিতে নাপ্পি তৈরি করা হয়। কক্সবাজারে নাপ্পি ব্যবসা হচ্ছে রাখাইনদের জীবিকার একমাত্র ভরসা।

ঐতিহ্যবাহী এই খাবারের একটা বড় অংশ তৈরি হয় কক্সবাজারের চৌফলদণ্ডী, খুরুশকুল, মহেশখালী, কুতুবদিয়া, টেকনাফসহ বিভিন্ন উপকূলীয় এলাকার রাখাইন পল্লিতে। জেলার আট হাজার রাখাইনসহ অন্তত ৩০ হাজার মানুষ নাপ্পি উৎপাদন ও বিপণনে জড়িত।

তাদের সামাজিক বিভিন্ন অনুষ্ঠানে এই নাপ্পি খাবারের তালিকায় রাখা হয়ে থাকে। শুধু রাখাইন নয়, আদিবাসীদের বহু গোষ্ঠী নাপ্পি পছন্দ করেন বেশি। তাই দেশের পার্বত্য চট্টগ্রামসহ উত্তর বঙ্গের অনেক এলাকা এবং ভারত শ্রীলঙ্কা, সিঙ্গাপুরসহ বিভিন্ন দেশে ঐ সম্প্রদায়ের খাদ্য উপাদান হিসেবে নাপ্পির কদর আকাশ ছোঁয়া বলা যায়।

কক্সবাজার ও পার্বত্য চট্টগ্রামে প্রতি কেজি নাপ্পি বিক্রি হয় ৩০০থেকে ৪০০ টাকায়। তবে গুণগত মান অনুযায়ী মাঝে মধ্যে 'নাপ্পির' দাম চড়া হয়ে থাকে।

সাগর থেকে ধরে আনা কাঁচা চিংড়ি খোলা মাঠে ১২ ঘণ্টা রোদে শুকিয়ে শুঁটকি করা হয়। ওই শুঁটকি ঘরে নিয়ে ঢেঁকিতে চূর্ণ করা হয়। তারপর ওই শুঁটকির গুঁড়া আরও ২৪ ঘণ্টা রোদে শুকানো হয়। এই গুঁড়া করা শুঁটকির সঙ্গে পানি, লবণ ও নানা দ্রব্য মিশিয়ে তৈরি করা হয় নাপ্পি। এরপর ২০ কেজি ওজনের ঝুড়ি বোঝাই করে ওই নাপ্পি গুদামজাত করা হয়।

প্রতি সপ্তাহে কক্সবাজারের বিভিন্ন রাখাইন পল্লী থেকে অন্তত ৫০০ মণ নাপ্পি বিভিন্ন জায়গায় সরবরাহ করা হয়। যেমন-রাঙ্গামাটি,খাগড়াছড়ি,বান্দরবান ইত্যাদি জেলাতে বিভিন্ন বাজারে ব্যবসায়ীরা 'নাপ্পি' বানিজ্যিক উদ্দেশ্যে সরবরাহ করে থাকে।

বিশেষ করে পার্বত্য চট্টগ্রামের আদিবাসীদের এটি প্রিয় খাবার হওয়ায় জুম্মদের ঘরে ঘরে এই 'নাপ্পি' দেখতে পাওয়া যায়। 'নাপ্পি' বিভিন্ন তরিতরকারীতে মিশিয়ে খাওয়া যায়। আদিবাসী মেয়েরা যুগে যুগে 'নাপ্পি' দিয়ে বিভিন্ন খাবার তৈরি করার অভ্যস্ত হওয়ায় পরিবারে প্রায় সবসময় বিভিন্ন সবজির সাথে বা আগুনে পুড়ে মরিচের সাথে 'নাপ্পি' খাবার খেয়ে থাকে। কালের পরিক্রমায় বর্তমানে পার্বত্য জেলার বাঙ্গালিরাও অনেকে পাহাড়ীদের খাবার 'নাপ্পি' খাওয়া অভ্যস্ত হয়ে গেছে।যা অনেক বাঙালি পাহাড়িদের মতন রেসিপি দিয়ে খেতে ভালোবাসে।

'নাপ্পি' চাহিদা ও লাভজনক হওয়াতে রাখাইন সম্প্রদায়ের জেলে এবং ব্যবসায়ীদের পাশাপাশি মুসলিমরাও কয়েক বছর থেকে নাপ্পি প্রস্তুত ও বাজারজাতকরণের সঙ্গে জড়িয়ে পড়েছে।এছাড়া আন্তর্জাতিকভাবে 'নাপ্পি' চাহিদা থাকাই বিদেশেও বাণিজ্যিক উদ্দেশ্যে রপ্তানি করা হচ্ছে।

আপনার মন্তব্য

আলোচিত